জাতীয়

বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

D HASAN সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি
বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি

হরমুজের পর লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও এখন নিরাপদ নয়। হামলার ঝুঁকি এড়াতে এরই মধ্যে সৌদি আরব থেকে আসা একটি অপরিশোধিত জ্বালানিবাহী জাহাজ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি পথ ঘুরে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এতে সময় লেগেছে ৫২ দিন।

সরাসরি বাব আল-মান্দেব হয়ে এলে এই যাত্রায় সময় লাগতো ১৩-১৬ দিন। এতে বেড়েছে জ্বালানি পরিবহনের সময়, খরচ ও ঝুঁকি। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

আরও পড়ুন

৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া

ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘দ্বিমুখী অভিঘাত’ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে পোশাক ক্রেতাদের কাছেও বাংলাদেশ কিছুটা অনিশ্চিত উৎসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, অপরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে এমটি নিনেমিয়া নামে একটি ট্যাংকার সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে। বাধ্য হয়ে ওই ট্যাংকার বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে চট্টগ্রামে প্রবেশের পরও ট্যাংকারটি পড়েছে দুর্যোগের মুখে। আল মান্দেব প্রণালির এক পাশে ইয়েমেন ও অন্য পাশে আফ্রিকার দেশ জিবুতি।

অনিরাপদ হয়ে ওঠা আল মান্দেব প্রণালি এখন নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে দেশের বাণিজ্যে। বিশেষত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। এছাড়া রপ্তানি বাণিজ্যের বড় অংশও এই পথে পরিচালিত হয়। ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রে এ পথেও পোশাক রপ্তানি হয়।

‘বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে’

নতুন করে বাব আল-মান্দেব প্রণালির সংকটকে দেশের অর্থনীতির জন্য এক বিপজ্জনক ‘দ্বিমুখী অভিঘাত’ বলে মনে করছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘হরমুজের পর বাব আল-মান্দেব প্রণালির সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক বিপজ্জনক ‘দ্বিমুখী অভিঘাত’। সৌদি আরবের লোহিত সাগরভিত্তিক বিকল্প পথও অনিরাপদ হয়ে পড়ায় এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।’

আরও পড়ুন

রাত ১২টা বাজার অপেক্ষায় থাকেন গৃহিণীরা

বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার বরাত দিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি জানান, প্রতিদিন শতকোটি ডলার বাণিজ্যের এই রুট কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকলেই বৈশ্বিক ক্ষতি শত শত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। তাছাড়া জাহাজগুলো আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হলে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় এবং ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি ফ্রেইট ও বিমা খরচ গুনতে হবে।

আসন্ন শীতে ইউরোপে গ্যাস ও এলএনজির (এলএনজি) বৈশ্বিক চাহিদা আকাশচুম্বী হতে চলায় উন্নত দেশগুলো এখনই চড়া মূল্যে স্পট মার্কেট থেকে কিনে নিজস্ব রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও কৌশলগত রিজার্ভ বাড়াতে না পারলে শীতের পিক টাইমে তীব্র দামের কারণে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনা অসম্ভব হয়ে পড়বে।-ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ

তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘আসন্ন শীতে ইউরোপে গ্যাস ও এলএনজির (এলএনজি) বৈশ্বিক চাহিদা আকাশচুম্বী হতে চলায় উন্নত দেশগুলো এখনই চড়া মূল্যে স্পট মার্কেট থেকে কিনে নিজস্ব রিজার্ভ বাড়াচ্ছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও কৌশলগত রিজার্ভ বাড়াতে না পারলে শীতের পিক টাইমে তীব্র দামের কারণে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

এর সরাসরি প্রভাবে তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে কল-কারখানা বন্ধের মুখে পড়বে, যা রপ্তানি আয়ে ধস নামানোর পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে স্থানীয় মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলে মনে করেন তিনি।

‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। স্পট মার্কেটের অনিশ্চয়তার ফাঁদ এড়াতে সরকারকে এখনই জরুরি কূটনৈতিক তৎপরতায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিশ্চিত করা, আপৎকালীন বাফার স্টক বাড়ানো, আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা, শিপিং ব্যয়ে নীতিসহায়তা দেওয়া এবং একটি সমন্বিত আপৎকালীন জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ যোগ করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।

একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়বে, অন্যদিকে অনিশ্চয়তা

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো জ্বালানি সংকট। ক্রেতারাও বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। এর মধ্যে হরমুজে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের দেশেও ডিজেল ও তেলের সংকট দেখা দিতে পারে। তেলের দামও অনেক বেড়ে গেছে, যা সরকারের জন্য সামাল দেওয়াও কঠিন। পাশাপাশি এলএনজি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

আরও পড়ুন

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ কিছুটা অনিশ্চিত উৎসে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ক্রেতাদের মূল উদ্বেগ হলো, তারা যে অর্ডার দেবে, বাংলাদেশে সেই পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে কি না ও সময়মতো তা সরবরাহ করা যাবে কি না। একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়বে, অন্যদিকে এই অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এর প্রভাব পড়বে।’

তেলের দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে ও চাহিদা কমে যাবে। চাহিদা কমার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা এমন জায়গা থেকে পণ্য নিতে চাইবে, যেখানে কম সময়ে অর্ডার দিয়ে সময়মতো পণ্য পাওয়া যাবে। সেদিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ক্রেতাদের কাছে কিছুটা অনিশ্চিত উৎসে পরিণত হয়েছে।-বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ

তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে ও চাহিদা কমে যাবে। চাহিদা কমার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা এমন জায়গা থেকে পণ্য নিতে চাইবে, যেখানে কম সময়ে অর্ডার দিয়ে সময়মতো পণ্য পাওয়া যাবে। সেদিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ক্রেতাদের কাছে কিছুটা অনিশ্চিত উৎসে পরিণত হয়েছে।’

আমাদেরও খরচের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমনিতেই প্রতিযোগিতামূলক খরচে উৎপাদন করতে পারছি না। সামনে জাহাজ ভাড়া বাড়বে, দেশে মূল্যস্ফীতি বেশি, তেলের দামও বেশি। এর সঙ্গে সরকারের বেতন বাড়ানোর প্রভাবও সামগ্রিক খরচের ওপর পড়বে।’

‘সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের। সরকার যদি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারে, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে। তাই সরকারের জন্য এখন জ্বালানি নিশ্চিত করা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ- এই দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ যোগ করেন বিসিআই সভাপতি।

‘রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হবে’

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ও বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইউরোপমুখী রপ্তানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সুয়েজ খাল ব্যবহার করে পরিচালিত হয়। আর বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়েই সুয়েজ খালে প্রবেশ করতে হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হবে।’

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইয়েমেনের পক্ষ থেকে পুরো নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়নি। তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার কথা বলছে।’

‘এ ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে জাহাজের ইন্স্যুরেন্স কস্টও বেড়ে যায়। পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যয় ও জাহাজ ভাড়াও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জাহাজ ভাড়া ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময়- এই দুটোই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

যদি এটা আসলেই বন্ধ হয়ে যায়, জ্বালানি আমদানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের রপ্তানি লিড টাইম বেড়ে যাবে। অনেক ঘুরে ইউরোপে যেতে হবে। সে পথে ইউরোপে যাওয়া মানে ব্যবসা করার খরচ বেড়ে যাওয়া। যদিও জাহাজ ভাড়া আমরা দিই না। তারপরেও এটা বায়ারের ওপর বর্তাবে। সেক্ষেত্রে জিনিসের দাম বাড়বে।-বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘এখনো ক্রেতাদের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তারা আগে থেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেক ক্রেতা এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে পণ্য আনার ব্যবস্থা করছিলেন। আবার কেউ কেউ বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজ রুট ব্যবহার করছিলেন, মূলত সময়ের বিষয়টি বিবেচনা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতির প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই বলা কঠিন। বুধবার থেকে পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। তখন বোঝা যাবে, রপ্তানি বাণিজ্য, জাহাজ ভাড়া ও পণ্য পরিবহনের সময়ের ওপর এর কতটা প্রভাব পড়ছে।’

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘যদি এটা আসলেই বন্ধ হয়ে যায়, জ্বালানি আমদানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের রপ্তানি লিড টাইম বেড়ে যাবে। অনেক ঘুরে ইউরোপে যেতে হবে। সে পথে ইউরোপে যাওয়া মানে ব্যবসা করার খরচ বেড়ে যাওয়া। যদিও জাহাজ ভাড়া আমরা দিই না। তারপরেও এটা বায়ারের ওপর বর্তাবে। সেক্ষেত্রে জিনিসের দাম বাড়বে। জিনিসের দাম বাড়লে সেটার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে ওখানকার কনজ্যুমারদের। ক্রয়ক্ষমতা যদি কমে যায়, তাহলে আমাদের অর্ডার কমে যাবে।’

মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল আগে থেকেই ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এবার সেই পথেও ঝুঁকি বেড়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও বাব আল-মান্দেবের কৌশলগত পেরিম বা মাইয়ুন দ্বীপ দখল করেছে। দ্বীপটি প্রণালিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে ও এর অবস্থান সবচেয়ে সরু অংশের কাছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে হুতিদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়েছে।

ইএইচটি/এএসএ/ এমএফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

জাতীয়

View more
জামালপুর মেডিকেল কলেজ: ৭ বছরেও শুরু হয়নি হাসপাতাল নির্মাণ
জামালপুর মেডিকেল কলেজ: ৭ বছরেও শুরু হয়নি হাসপাতাল নির্মাণ

২০১৯ সালের জুনে চালু হওয়ার কথা ছিল জামালপুর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি মূল ভবনের নির্মাণকাজ।

D HASAN নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
বাবরকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে নিষেধ করলেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা

বাবরকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে নিষেধ করলেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা

দুই স্বর্ণসহ আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানডোয় রাবির ছয় পদক

দুই স্বর্ণসহ আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানডোয় রাবির ছয় পদক

রক্ত ও কর্নিয়া সংগ্রহে স্বাবলম্বী হতে চায় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রক্ত ও কর্নিয়া সংগ্রহে স্বাবলম্বী হতে চায় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার পেছনে জামায়াত আমিরের উসকানি রয়েছে
শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার পেছনে জামায়াত আমিরের উসকানি রয়েছে

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে অরাজকতা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। 

D HASAN নভেম্বর ২, ২০২৬ 0
তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ডিসেম্বর নিয়ে হাইপ তুলে লাভ হবে না, আজ ফিরলেই আইনের আওতায়

ডিসেম্বর নিয়ে হাইপ তুলে লাভ হবে না, আজ ফিরলেই আইনের আওতায়

যবিপ্রবিতে এএসডিএস বিভাগের অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন

যবিপ্রবিতে এএসডিএস বিভাগের অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন

0 Comments