এক বছর আগেও বিমানবন্দর দিয়ে আসা চোরাই পণ্যের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ছিল স্বর্ণের বার। পাচারকারী দলের সদস্যরা যাত্রীবেশে লাগেজ, হ্যান্ডব্যাগ এমনকি শরীরের ভেতরে করেও স্বর্ণ নিয়ে আসত। গোপন সংবাদ ছাড়া নিয়মিত তল্লাশিতে কেজি কেজি স্বর্ণের চালান ধরা পড়ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু হাল আমলে চোরাই পণ্যে ভিন্নতা এসেছে। স্বর্ণের বারের জায়গা দখল করেছে বিদেশি সিগারেট। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নিষিদ্ধ কসমেটিকস। তৃতীয় অবস্থানে আছে মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চ শুল্কের পণ্য।
কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, ২০ টাকা পিসের এক শলাকা সিগারেটে শুল্ক পরিশোধ করতে হয় ১৭ টাকার কাছাকাছি। ১০ প্যাকেটের এক কার্টন সিগারেটে লাভ হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি। অত্যধিক লাভের বিপরীতে ঝুঁকিও কম। কারণ, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের যেভাবে আইনের আওতায় আনা যায় সিগারেট চোরাচালানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি সেভাবে কঠোর হওয়ার সুযোগ কম। আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে তারা। এভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতি সিগারেটে প্রায় ১৭ টাকা লাভ করছে চোরাচালানিরা।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, হাল আমলে চোরাকারবারিরা ধরন বদলেছে। তারা এখন স্বর্ণের পরিবর্তে সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। এক বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চালালেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে অল্প কিছুদিন। বিশেষ করে দুবাই থেকে সরাসরি আসা ফ্লাইটগুলোয় চোরাচালানের প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেদ্দা, মক্কা-মদিনা, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি ও মাস্কাট মোট সাতটি রুটের মধ্যে পাঁচটি দিয়েই চোরাই সিগারেট আসছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসছে দুবাই থেকে।
বিমানবন্দর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, স্বর্ণের বার ও সিগারেট ছাড়াও মোট ১৭ ক্যাটাগরির পণ্য চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আসার অপতৎপরতা চালাচ্ছে চোরাকারবারিরা। এর মধ্যে মোবাইল ফোন, ই-সিগারেট, মদ ও মদ জাতীয় দ্রব্য, ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিকস গুডস, সুইট বিউটি ক্রিম, ফাস্ট এইড বক্স, সার্ভার, হুক্কা, পিসিবি, টিভি, পুটকা ও ভ্যাপ। কিছুদিন আগেও বিমানবন্দর দিয়ে আসা চোরাচালান পণ্যের শীর্ষে ছিল স্বর্ণের বার। কিন্তু এখন সবচেয়ে বেশি আসছে সিগারেট। স্বর্ণের বার আনার একই চক্র এখন সিগারেটের দিকে ঝুঁকছে। গত ছয় মাসে ইজি, মন্ড, ওরিচসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও নিষিদ্ধ কসমেটিকস আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ছয় হাজার ৫৪৪ কার্টন সিগারেট ও এক হাজার ৬৪৯টি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম আটক করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এক হাজার ৯৯৭ কার্টন সিগারেট ও ৫৮১ পিস কসমেটিকস, ফেব্রুয়ারি মাসে চার হাজার ৩৩৪ কার্টন সিগারেট ও দুই হাজার ২১৪ পিস কসমেটিকস, মার্চে এক হাজার ৪৫৬ কার্টন সিগারেট ও ৯৪০ পিস কসমেটিকস, এপ্রিলে চার হাজার ১৯১ কার্টন সিগারেট ও ৮৬১ পিস কসমেটিকস, মে মাসে পাঁচ হাজার ৮৩৪ কার্টন সিগারেট ও দুই হাজার ৭৫১ পিস কসমেটিকস আটক করা হয়েছে।
বিমানবন্দর এলাকায় কর্মরত শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিগারেট বেশি ধরা পড়ছে—এর মানে এই নয় যে, স্বর্ণের বার বা মাদক একেবারে আসছে না। এটি একটি কৌশলও হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলা দিতে চোরাকারবারিরা মাঝে মধ্যে প্রোডাক্ট পরিবর্তন করে। কয়েক বছর আগে স্বর্ণের বারের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের নিত্যনতুন মাদক আনা শুরু হয়েছিল। ক’দিন পর ফের স্বর্ণের বারে ফিরে গেছে। এখন সিগারেটের চালান বেশি আনা একটি কৌশল হতে পারে। কারণ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ এখন সিগারেটের দিকে। হয়তো এই সুযোগে স্বর্ণের বার ও মাদকের চালান ঢোকানো হচ্ছে ভিন্ন কৌশলে। আবার বর্তমানে লোকাল ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই কারণে ঝুঁকিও বেড়েছে। এটিও একটি কারণ হতে পারে। আর চোরাই পণ্যের চাহিদা বাড়ে ডিমান্ডের ওপর ভিত্তি করে। সিগারেট এমন একটি পণ্য যার চাহিদা লোকাল বাজারে সবচেয়ে বেশি। বাজারজাত করার প্রক্রিয়াও সহজ। আবার চোরাচালানের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। কিন্তু উচ্চ শুল্কের পণ্য হওয়ায় লাভের অংশ একেবারে কম নয়।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কয়েকটি কৌশলে চোরাই পণ্য বের করে নিয়ে যায় চোরাকারবারিরা। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত বেশ কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ড ও চিহ্নিত ঠিকাদার। মূলত বিমানবন্দরের ভেতরে বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ আছে তাদের। পার্কিং এলাকার দোকান এমএস-১, এমএস-২ ও শাহ আমানত স্ন্যাক্স কর্নারের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের সঙ্গে বাইরের সিন্ডিকেট একাট্টা হয়ে চোরাই পণ্য আনা-নেওয়া করে বিমানবন্দর দিয়ে। এদের সঙ্গে ঢাকার একটি চক্রও জড়িত।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরেজমিনে দেখা যায়, এক কেজি প্যাকেটজাত চিনির গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা লেখা থাকলেও অনেক দোকানে তা ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা প্যাকেট কেটে খোলা চিনি হিসেবে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
সরকার নির্ধারিত ১৫৮৫ টাকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।