অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ইসরায়েলের এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে, এই মুহূর্তে পাল্টাপাল্টি এ ঘটনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যসহ মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে; যদিও ইসরায়েলের ক্ষোভের সবচেয়ে বড় ধাক্কা যুক্তরাজ্যকেই সামলাতে হচ্ছে।
লন্ডনের কর্মকর্তারা সব সময়ই জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জেরে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি।
ইসরায়েল গত সপ্তাহে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার থেকেও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়েছে, যা খুবই বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট থেকে পশ্চিম তীরে অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা হতো।
লন্ডনের কর্মকর্তারা সব সময়ই জানতেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজেদের নীতির এমন নাটকীয় পরিবর্তনের জেরে ইসরায়েলের কাছ থেকে বৈরী প্রতিক্রিয়া আসবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া যে এত দ্রুত ও তীব্র হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি।
আর গত বছর প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টারটির কাজ ছিল, গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফেরানো ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করা।
এ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাজ্য ও আরও ১১টি দেশের নেওয়া পদক্ষেপে ইসরায়েল কতটা গভীর উদ্বিগ্ন। যদিও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্য ইসরায়েলের মোট রপ্তানির খুব বড় অংশ নয়। কিন্তু এসব পণ্যকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক।
পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডাও রয়েছে।

বহু বছর ধরেই যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সরকার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ বলে মনে করে আসছে, তবে এত দিন তারা এসব বসতিতে উৎপাদিত বা চাষ করা পণ্য নিষিদ্ধ করার পথে যায়নি।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্ব বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত ঘোষণা করেছে।
এখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলছেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও এটির (পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব বেআইনি মনে করা) প্রতিফলন থাকা উচিত।
তবে শুধু পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বসতিগুলোয় নির্মাণকাজ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা অর্থায়নে সহায়তা করে—এমন কোম্পানিগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে এমন অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেগুলো দখলদারত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
এসব পদক্ষেপ অনেকের কাছে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর মনে হয়েছে।
এড মিলিব্যান্ড নিজে একজন গর্বিত ব্রিটিশ ইহুদি। তিনি সব সময় ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি নিজের অবিচল সমর্থন প্রকাশ করেছেন। এরপরও তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের প্রায় সবার চেয়ে খোলাখুলি ও স্পষ্ট ভাষায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সমালোচনা করেছেন।
মিলিব্যান্ড বলেছেন, ‘ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের জন্য এরাই দায়ী। আর ইসরায়েল সরকার এ বিষয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, এটা সত্যিই বিস্ময়কর।’
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এক রায়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতিসহ পুরো দখলদারত্ব বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্য ওই রায়ের সঙ্গে একমত ঘোষণা করেছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির ওপর যুক্তরাজ্যের এ নিষেধাজ্ঞাকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে এক ‘নতুন শুরুর’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করছেন মিলিব্যান্ড।
যদিও ইসরায়েল–যুক্তরাজ্যের গত সপ্তাহের ঘোষণাগুলো শুনে অনেকের কাছে মনে হয়েছে, এটি যেন তাদের নীতিতে একেবারে আমূল পরিবর্তন। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।
অনেক ইসরায়েলিও মনে করেন, বসতি স্থাপনকারীদের কারও কারও সহিংস ও উগ্র মতাদর্শ ভীষণ উদ্বেগজনক। কেউ কেউ তাঁদের দেশের জন্য লজ্জার কারণ বলেও মনে করেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে তোলা ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ মনে করেন।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গত বছর তাঁর উত্তরসূরি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ‘আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে রাষ্ট্রে’ পরিণত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। অধিকাংশ ইসরায়েলিই যে তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
তবে আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, সেটি ইসরায়েলিরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এ পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকছেন।
আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দার চাপ যে ক্রমেই নেতানিয়াহুকে ঘিরে ফেলছে, সেটি তাঁরা অনুভব করতে পারেন। ইউরোভিশন কিংবা বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং এখন বসতিগুলোয় উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে এ পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে এবং তাঁরা আত্মরক্ষামূলক মনোভাবের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি লক্ষ্যপূরণের পথে দারুণ অগ্রগতি মনে হতে পারে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত এবং ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট ব্রিটিশ সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে ‘যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাষ্ট্রদূত জোমলট বলেন, ‘ব্রিটেনের সাহসী পদক্ষেপগুলো ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথ সুগম করতে সহায়তা করবে।’
কিন্তু জোমলট জানেন, বাস্তবতা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ৫৯ বছরের দখলদারত্ব শেষ হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। এমনকি এতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনও আসেনি।
একটি কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত ক্ষীণ। আর আপাতদৃষ্টিতে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার যে অনিবার্য প্রক্রিয়া চলছে, ১২টি দেশের সম্মিলিত পদক্ষেপে তা থামবে—এমন লক্ষণও এ পর্যন্ত খুব কম। এমন প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের আছে।
১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক শামিরের সরকারের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের নিশ্চয়তা আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কারণ, কট্টরপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত শামির যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যে তাঁর সরকার এ অর্থ দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কাজে ব্যবহার করবে না।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ঠেকানোর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে আগ্রহ দেখাননি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নেপালে আরও প্রাণঘাতী ভূমিধস: পর্বত থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হচ্ছে ট্রেকারদের হিমালয়কন্যা নেপালে নতুন করে আঘাত হেনেছে ভূমিধস ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে প্রায় ৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর আগে আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশটিতে ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে ১৯০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৪০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাট, ইমারত ও সেতু ভেসে গেছে। নেপাল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্নপূর্ণা সার্কিটের শত শত ট্রেকারকে তাদের হাইকিং বা পদযাত্রা সংক্ষিপ্ত করে নিরাপদে ফিরে আসতে হয়েছে। সাধারণত যে পথ পরিক্রমা শেষ করতে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে, সেই মানাং ও মুস্তাং জেলা থেকে অনেক ট্রেকারকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকার মানুষ তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসছেন। কাঠমাণ্ডুর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বাত্তার এলাকার একটি স্যাঁতসেঁতে নীল তাঁবুতে বসে বিবিসি নেপালীকে বুটি তামাং বলেন, "আমরা একটা কুঁড়েঘরে থাকতাম, কিন্তু এখন আর কিচ্ছু নেই। আমরা আমাদের এত এত আত্মীয়কে হারিয়েছি।" রামেশ ঘালে, যিনি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তিনি বলেন, "এখন বৃষ্টি হচ্ছে আর তাঁবু দিয়ে পানি পড়ছে, তাই খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।" কয়েকজন ট্রেকার ও তাদের গাইড জানিয়েছেন, পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে আসার এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ভাঙাচোরা রাস্তা ও ভেসে যাওয়া সেতুগুলো পার হতে তাদের তিন থেকে চার দিন সময় লেগেছে। যুক্তরাজ্যের সাফোকের ২১ বছর বয়সী জേക്ക് স্টেসি গত সপ্তাহে উচ্চ মানাংয়ের ইয়াক খাড়কায় ভারী তুষারপাতের কারণে তার গাইডের সাথে আটকা পড়েন এবং সার্কিটের সর্বোচ্চ বিন্দু থোরং লা পাসের দিকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পোকরার বেস ক্যাম্পে মঙ্গলবার রাতে ফিরে আসার পর তিনি বলেন, "আমরা পাহাড়ের ঢালে নিজেদের মতো করে পথ তৈরি করে নিয়েছিলাম। পথটা বেশ চড়াই ছিল এবং আমাদের পা হড়কে ওপরে উঠতে হয়েছিল কারণ নিচে নদী বয়ে যাচ্ছিল... চারপাশটা ভীষণ কাদামাটিযুক্ত ও ভেজা ছিল।" তিনি আরও যোগ করেন, "বহু ট্রেকারকে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করা হয়েছে।" অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যান্ড্রু গ্রাহাম এবং তার গাইড প্রেম কেসি জানান, মানাং গ্রাম থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের ১৫টির বেশি ভূমিধস পার হতে হয়েছে। গ্রাহাম বলেন, "এর মধ্যে কয়েকটি বেশ বিপজ্জনক ছিল, আর এখন তো এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।" গ্রাহাম জানান, তারা যখন ছামে গ্রামে পৌঁছান, তখন ভূমিধসের আশঙ্কায় গ্রামটি খালি করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তারা আটকা পড়েন এবং জঙ্গলে একটি রাত কাটাতে বাধ্য হন। ছামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ওপর একটি বিশাল ভূমিধসের কারণে আংশিক বাঁধ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একটি অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে কর্তৃপক্ষ এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলেও খুব একটা সফল হয়নি। এদিকে ট্রেকিং গাইড সে রিং ডোমা জানান, তাকে এবং তার দলকে ২৮টি ভূমিধস পার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, গত মাসের ভয়াবহ দুর্যোগের কথা টাটকা থাকায় শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক চাপ অনেক বেশি কঠিন ছিল। "এমনকি বজ্রপাতের শব্দ হলেও আমরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বেরিয়ে আসতাম, দেখতাম আমাদের দিকে কিছু আসছে কি না।" তার ক্লায়েন্ট, নরওয়ের এলেন ভালস্ট্রোম বলেন যে দর্শনার্থীরা ভাগ্যবান—তারা কেবল কিছু জিনিসপত্র ফেলে আসতে পেরেছেন, অথচ স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও জমিটারই ঝুঁকি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অনেক ভূমিধস পরিষ্কার করে চলেছে। মানিংয়ে রাস্তার ক্ষতি গুরুতর হলেও এবং কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও, ট্রেকিং অঞ্চলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন প্রধান জেলা কর্মকর্তা মুক্ত প্রসাদ খানাল। তবে তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমলুং পিকের পাদদেশে তুষারধসের পর চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় ট্রেকিং কর্তৃপক্ষ ‘অন্নপূর্ণা কনজারভেশন এরিয়া প্রজেক্ট’-এর একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেকে যাওয়ার জন্য এখনও প্রায় ৭০০ ট্রেকার পোকরায় অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, "ট্রেকিং ইন্ডাস্ট্রির তরফ থেকে রুটটি উন্মুক্ত ঘোষণা করার জন্য আমাদের ওপর চাপ থাকলেও আমরা অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেকে যেতে ইচ্ছুক এই সমস্ত মানুষকে আটকে রেখেছি।" তিনি আরও জানান, হিন্দু তীর্থস্থান প্রাচীন মুক্তিনাথ মন্দিরে যাতায়াতকারী ভারতীয় দর্শনার্থীদের রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে গাড়ির বদলে জোমসোম থেকে পোকরায় বিমানে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক যোগাযোগ চালুর পর থেকে অন্নপূর্ণা সার্কিটের পুরোনো ট্রেকিং ট্রেইলগুলোর বেশিরভাগই অব্যবহৃত ছিল, কেবল মানাং ও মুস্তাং জেলার কিছু ছোট অংশ ছাড়া। তবে প্রধান রাস্তার কিছু অংশ ভেসে যাওয়ায় এখন অপারেটররা বলছেন, অনেক ট্রেকার ফিরে আসার জন্য এই পরিত্যক্ত পথগুলো ব্যবহার করছেন। ====== নেপালে নতুন করে প্রাণঘাতী ভূমিধস: পর্বত থেকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হচ্ছে ট্রেকারদের কাঠমান্ডু, নেপাল: হিমালয়কন্যা নেপালে নতুন করে আঘাত হেনেছে সর্বগ্রাসী ভূমিধস ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে দেশটিতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর আগে আগস্ট মাসের প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশটিতে ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ১৯০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৪০টিরও বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে রাস্তাঘাট, গুরুত্বপূর্ণ ইমারত ও সেতু। বিপাকে পর্যটক ও ট্রেকাররা নেপালের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অন্নপূর্ণা সার্কিটের শত শত ট্রেকারকে আকস্মিক এই দুর্যোগের কারণে তাদের হাইকিং বা পদযাত্রা সংক্ষিপ্ত করে নিরাপদে সরে আসতে হয়েছে। সাধারণত যে পথ পরিক্রমা শেষ করতে তিন সপ্তাহ সময় লাগে, সেই মানাং ও মুস্তাং জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অনেক ট্রেকারকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সাফোকের ২১ বছর বয়সী ট্রেকার জേക്ക് স্টেসি জানান, গত সপ্তাহে উচ্চ মানাংয়ের ইয়াক খাড়কায় ভারী তুষারপাতের মুখে পড়ে তিনি ও তার গাইড আটকা পড়েন এবং সার্কিটের সর্বোচ্চ বিন্দু থোরং লা পাসের দিকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পোকরার বেস ক্যাম্পে ফিরে এসে তিনি বলেন, "আমরা পাহাড়ের ঢালে নিজেদের মতো পথ বানিয়ে নিয়েছিলাম। পথটি বেশ চড়াই ছিল এবং নিচ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়ায় আমাদের বেশ কষ্ট করে ওপরে উঠতে হয়েছে।" অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যান্ড্রু গ্রাহাম ও তার গাইড প্রেম কেসি জানান, মানাং গ্রাম থেকে ফেরার পথে তাদের অন্তত ১৫টি বিপজ্জনক ভূমিধস অতিক্রম করতে হয়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কায় ছামে গ্রামটি আগে থেকেই খালি করে দেওয়ায় তাদের একটি রাত জঙ্গলে কাটাতে হয়। ছামে গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর ওপর বিশাল ভূমিধস একটি অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি করেছে, যা ঘরবাড়ি ও সেতু তলিয়ে দিয়েছে। তিন দিন ধরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পানি ছাড়ার চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মানসিক ট্রমা ও উদ্ধারকাজ ট্রেকিং গাইড সে রিং ডোমা জানান, তাকে এবং তার দলকে ২৮টি ভূমিধস পাড়ি দিতে হয়েছে। গত মাসের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি তাড়া করায় শারীরিক কষ্টের চেয়ে মানসিক চাপ ছিল অনেক বেশি। তার ভাষায়, "বজ্রপাতের শব্দ হলেও আমরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বেরিয়ে আসতাম, দেখতাম আমাদের দিকে কিছু ধেয়ে আসছে কি না।" প্রধান জেলা কর্মকর্তা মুক্ত প্রসাদ খানাল জানিয়েছেন, মানাংয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হলেও ট্রেকিং অঞ্চলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমলুং পিকের পাদদেশে তুষারধসের কবলে পড়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় ট্রেকিং কর্তৃপক্ষ ‘অন্নপূর্ণা কনজারভেশন এরিয়া প্রজেক্ট’ জানিয়েছে, অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেকে যাওয়ার জন্য এখনো প্রায় ৭০০ ট্রেকার পোকরায় অপেক্ষায় আছেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল মহলের চাপ সত্ত্বেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে রুটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকায় মুক্তিনাথ মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যাওয়া ভারতীয় পর্যটকদের সড়কপথের বদলে আকাশপথে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক যোগাযোগ চালুর পর অন্নপূর্ণা সার্কিটের পুরোনো ট্রেইলগুলো মূলত অব্যবহৃতই ছিল। তবে প্রধান সড়কগুলো ভেসে যাওয়ায় বর্তমানে এই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলোকেই ফেরার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন ট্রেকার ও স্থানীয়রা।
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র ছাত্র আন্দোলন ও দুর্নীতিবিরোধী জনরোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা (গ্রীনিচ মান সময় ০১০০) পর্যন্ত নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, মেসেচুসেটস, রোড আইল্যান্ড এবং পেনসিলভানিয়ায় ৬০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন।