জাতীয়

যশোরের শার্শায় বেড়েছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
যশোরের শার্শায় বেড়েছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
যশোরের শার্শায় বেড়েছে পাট চাষ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কয়েক বছর আগেও যে জমিতে অন্য ফসলের চাষ হতো; এবার সেসব জমির অনেকটাই দখল করেছে পাট। সবুজ পাটগাছ এখন শার্শার মাঠজুড়ে। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। আবার কোথাও কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের সম্ভাবনায় এ বছর পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাজারে ন্যায্যদাম পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চল পাট চাষের উপযোগী। দোআঁশ মাটি, মান ভালো, অনুকূল পরিবেশে রোগবালাই কম। কৃষকদের প্রতি কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধকরণ ও নিয়মিত পরামর্শ, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির বিনামূল্যে বীজ প্রদানসহ অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর ৫০৩ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৫ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ ‌১ বছরে পাট চাষ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।

উপজেলার দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়াও পাটের অনুকূলে ছিল। ফলে অনেক এলাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ ভালো। কৃষকদের আশা, বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত পাট পাওয়া যেতে পারে। চাষকৃত পাট জাতের মধ্যে আছে ভারতীয় কৃষি সেবাইন জাতের পাট বীজ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি ও উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি বাজারে পাট ও পাটখড়ির চাহিদা থাকায় এ ফসলকে লাভজনক মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন

চরাঞ্চলে যে পদ্ধতিতে মসলার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব

তবে ভালো ফলনের পরও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে উৎপাদন খরচ নিয়ে। পাট কাটা, আঁটি বাঁধা ও জাগ দেওয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচও। ফলে বাজারে প্রত্যাশিত দাম না মিললে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

jute

কৃষকেরা বলছেন, শুধু আবাদ ও উৎপাদন বাড়লেই হবে না। উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। কৃষকের ঘরে উঠছে সোনালি আঁশ। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা পরিশ্রমের ফসলের ন্যায্যদামও ঘরে ফিরবে। পাটের আবাদ বাড়ার এই ধারাকে টেকসই করতে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় দাবি।

তারা বলছেন, জন, মজুরি, সার, তেলের দাম বেশি। আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করি। ফসলের ন্যায্যমূল্য পাই না। ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বো। সরকারের কাছে একটাই দাবি, আমরা চাষিরা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পাই। সরকার যেন কৃষকদের দিকে নজর দেয়।

আরও পড়ুন

কৃষিকাজ শুরুর আগে যেসব বিষয়ে জানা জরুরি

শার্শার বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম বলেন, ‌‘পাটের ফলন এবার ভালো হয়েছে। কিন্তু পাট কাটতে ও জাগ দিতে শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তেলের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে ভালো দাম না পেলে কৃষকের লাভ থাকবে না। পাট চাষে পরিশ্রম অনেক। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত একের পর এক খরচ করতে হয়। তাই বাজারে দাম কমে গেলে কৃষকের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।’

পাটচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে পাট চাষ করি। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত অনেক খরচ হয়। বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট জাগ দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজে খরচ বেড়েছে। পাটের ন্যায্যদাম না পেলে কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে পাটসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক।’

jute

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সময় কৃষকেরা অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত উৎপাদক কৃষকেরা ন্যায্যদাম থেকে বঞ্চিত হন।

আরও পড়ুন

কৃষিকাজ কেন কোথায় কীভাবে করবেন

পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয় হয়। জ্বালানি, ঘরের বেড়া, ছাউনি এবং বিভিন্ন কাজে পাটখড়ির ব্যবহার থাকায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা আছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পাটখড়ি পাঠানো হয়। ফলে পাটের বাজারদর কিছুটা কম হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পাটের দাম স্থিতিশীল না থাকলে সামগ্রিকভাবে চাষিদের লাভবান হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটখড়ির চাহিদা থাকায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের মতে, পাটের বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এ ফসল তাদের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে পাটের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাট কাটার পর সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো হবে এবং কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।’

আরও পড়ুন

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও বাজার অস্থিরতা

jute

তিনি বলেন, ‘পাট জাগ দেওয়ার সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত আঁশ উৎপাদন করতে পারলে বাজারে এর চাহিদা ও দাম ভালো থাকবে।’

জেইউডি/এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩২
পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৩২

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এটিকে রাশিয়ার অন্যতম ‘নিকৃষ্ট হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ফ্যাসিবাদী আমলে না লিখলেও পাস করাতে বাধ্য করা হতো

ফ্যাসিবাদী আমলে না লিখলেও পাস করাতে বাধ্য করা হতো

১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা

আমি অবশ্যই অভিনয়ে ফিরতে চাই: তানিয়া বৃষ্টি

আমি অবশ্যই অভিনয়ে ফিরতে চাই: তানিয়া বৃষ্টি

গৃহবধূ হত্যা মামলায় শ্বশুর গ্রেপ্তার
গৃহবধূ হত্যা মামলায় শ্বশুর গ্রেপ্তার

এজাহারে বলা হয়, গত চলতি বছরের (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রাবেয়াকে বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত জুস খাওয়ানোর পর রিকশায় করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বামী, শ্বশুরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি

ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি

চবির ২৫ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

চবির ২৫ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

কুড়িগ্রামে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

কুড়িগ্রামে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

0 Comments