‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা: সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ব্লাস্ট ও প্রথম আলো।
যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর আইন প্রয়োজন, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে—এমন অভিমত বিশেষজ্ঞদের। আইনে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক ও ভুক্তভোগীবান্ধব কাঠামো রাখার প্রস্তাবও করেছেন তাঁরা।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা: সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক গোলটেবিলে এসব কথা উঠে আসে। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় যৌথভাবে গোলটেবিলের আয়োজন করে ব্লাস্ট ও প্রথম আলো। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে যে আইনটি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ হয়েছে, সেটি সংসদে পাস হওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু আইন করলেই হবে না, আইনকে কার্যকর করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাঁর মতে, কোনো কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা হলে মানুষ সেটিকে প্রতিরোধমূলকভাবে দেখে না।
প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি কমিয়ে আনতে আর্থিক শাস্তির পরামর্শ দেন অধ্যাপক শাহনাজ হুদা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করার সুযোগ থাকলেও সেটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট আয়েশা আক্তার। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেন। এ নির্দেশনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে কার্যকর থাকলেও এর বাস্তবায়ন সর্বত্র নিশ্চিত হয়নি।
তাই যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রয়োজন, যা কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কার্যকর হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, নতুন আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন শ্রমজীবী নারী, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, অধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে সরকারের ওপর সমন্বিতভাবে চাপ তৈরি করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক সামিনা লুৎফার মতে, নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই। তবে বর্তমান ব্যবস্থাতেও কিছু কাজ করা সম্ভব। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে বিদ্যমান হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই আলোচনার মধ্যে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন ও নীতিমালা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কঠিন হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও অনেক ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন হয়নি।
ফওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না, আইন সম্পর্কে বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথ ধারণা থাকতে হবে। একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পারিবারিক সহিংসতা-সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধের আইন নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একটি খসড়া আইন অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের আগেই নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় সেটি অধ্যাদেশ হিসেবে কার্যকর হয়নি।
এই সহযোগী অধ্যাপক বলেন, আইনটি এমন হতে হবে, যাতে পোশাকশিল্প, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে তা কার্যকর করা যায়।
ইউএন উইমেনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শ্রবণা দত্ত বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শুধু একটি নীতিমালা বা কমিটি যথেষ্ট নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এর সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইন ও নীতিমালা এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ও যুক্ত।
প্রযুক্তির মাধ্যমে যৌন হয়রানির ঘটনা মোকাবিলায় ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতাও বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন শ্রবণা দত্ত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কারিশমা জাহান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জবাবদিহির ঘাটতি। নির্দেশনায় কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও কমিটি গঠনের পর সেটি কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বাস্তব কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
কারিশমা জাহান বলেন, সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আইনেও যৌন হয়রানির সব ধরনের ঘটনা মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট বিস্তৃত কাঠামো নেই। ফলে বিদ্যমান আইনগুলো দিয়ে সব ধরনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।
অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হলেও তাঁদের সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান আইন বা পরিপত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম। তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের নারীরা পরিবার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও হয়রানির শিকার হলে অনেক সময় বিচার বা প্রতিকার পান না।
উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি আইন প্রয়োজন। তবে আইন না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা ও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌন হয়রানি নিয়ে একধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা মনে করেন, হয়রানির শিকার হলেও প্রতিকার পাওয়া যাবে না। ফলে অনেকেই অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না।
হেমা চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা দরকার। হয়রানির শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।
বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক মানসুরা হোসাইন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সেনাসহ তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
এরপর ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে সড়কের পাশে সরকারি খাসজমিতে তার জন্য চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করা হয়। জীবনের শেষ সময়ে সেই বাড়িতেই শয্যাশায়ী ছিলেন ফুলমতি। তার স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়া ১৯৮৮ সালে মারা যান। স্বামীকে হারানোর পর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুরে দুটি আমবাগানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।