জাতীয়

যেভাবে বিকশিত হলো টর প্রজেক্ট

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
যেভাবে বিকশিত হলো টর প্রজেক্ট
যেভাবে বিকশিত হলো টর প্রজেক্ট

প্রযুক্তির দুনিয়ায় গোপনীয়তা আজ এক বড় প্রশ্ন। ইন্টারনেটের পথচলা শুরু হয়েছিল উন্মুক্ত আলোর বার্তা নিয়ে। কিন্তু সেখানেও লুকিয়ে আছে নজরদারির কালো ছায়া। সামরিক গবেষক আর হ্যাকারদের অদ্ভুত এক জোটের নাম টর (দ‍্য অনিয়ন রাউটিং) প্রজেক্ট। এই প্রকল্পই এখন বিশ্বজুড়ে রক্ষা করে চলেছে মানুষের ডিজিটাল স্বাধীনতা।

টর সাধারণত ডার্ক ওয়েব বা ডার্ক নেট হিসেবেও এখন পরিচিত। অপরাধের আখড়া হিসেবে পরিচিত হলেও এটি তৈরি করা হয়েছে  মার্কিন সরকারের অনুদানে। সহজ কথায় টর হলো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল অবকাঠামো, যা অনলাইন পরিচয় গোপন রাখে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সার্ভারের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক কাজ করে। টর প্রজেক্টের ওয়েবসাইট থেকে এই ব্রাউজার বিনা মূল্যে ডাউনলোড করা যায়। ব্রাউজার ব্যবহারের সময় ইন্টারনেট সিগন্যাল এনক্রিপ্ট হয়ে বিশ্ব ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছায়। এর ফলে বিভন্ন সরকারের পক্ষে অনলাইন কার্যক্রম ট্র্যাক করা কঠিন হয়।

আজকের ডিজিটাল সমাজে ভিপিএন এবং এনক্রিপ্টেড মেসেঞ্জার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা পেতে এই প্রযুক্তিগুলো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নজরদারি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় থাকায় সংঘাত লেগেই থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট রোধ করতে নানা আইন প্রণয়ন করছে। বিকৃত বা উগ্র কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সামাজিক নীতির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, করপোরেট লোভ এবং উগ্র মানসিকতাও দায়ী।

টর নেটওয়ার্কের পেছনের ইতিহাস ঘাঁটলে গত ৩০ বছরে নানা ধরনের তথ্য জানা যায়। নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক ইন্টারনেটের শুরুর সময়টি ছিল বেশ সম্ভাবনাময় ও সংঘাতপূর্ণ। সেই সময় সাইফারপাঙ্ক নামে পরিচিত হ্যাকার ও কম্পিউটারবিজ্ঞানীরা সামরিক এনক্রিপশন উন্মুক্ত করেন। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইন্টারনেট স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করতে পারে। তাঁদের বিশ্বাস ছিল এনক্রিপশন ইন্টারনেটের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ইন্টারনেটের মূল স্থপতিরা এনক্রিপশনকে সিস্টেম সচল রাখতে জরুরি মনে করলেও নিজেদের বৈশ্বিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গোপনীয়তা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেয়।

মার্কিন সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে তখন ইন্টারনেট নিয়ে একচেটিয়া ধারণা কাজ করছিল। সীমানাহীন বাজারে অবাধ তথ্যপ্রবাহের মাধ্যমে পুঁজিবাদী ধারণা বিজয়ী হবে বলে বিশ্বাস করা হতো। স্নায়ুযুদ্ধের অবসরের পর মার্কিন সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের পারদ ছিল শীর্ষে। এই বিশৃঙ্খল ও উচ্চ ঝুঁকির পরিবেশেই ডার্ক ওয়েবের প্রযুক্তির জন্ম হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি থেকে টরের যাত্রা শুরু হয়। টরের মূল ভিত্তি তৈরি হয় সাধারণ একটি কম্পিউটার ল্যাবে। ডেভিড গোল্ডশ্লাগ, মাইক রিড এবং পল সাইভারসন নামের তিন গবেষক কাজ শুরু করেন। বাণিজ্যিক ইন্টারনেটের উত্থান সামরিক ব্যবহারকারীদের জন্য নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বার্তা সুরক্ষিত রাখতে এনক্রিপশন প্রযুক্তি আগেই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কনটেন্টের বাইরে নেটওয়ার্কের নিজস্ব নিরাপত্তা সমস্যা রয়ে গিয়েছিল। ইন্টারনেটের ট্রাফিক রাউটিং সিস্টেমে মেটাডেটা ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা ছিল।

চিঠির খামের ওপর প্রাপক ও প্রেরকের ঠিকানা লেখার মতো মেটাডেটা কাজ করে। এই মেটাডেটা ইন্টারনেটের ডিজাইনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অবকাঠামো পরিচালনাকারীদের পক্ষে এই তথ্য দেখা স্বাভাবিক বিষয়। রাউটিং ডিজাইন মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে রাষ্ট্র মূল পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবহারকারীর ট্রাফিক নজরদারি করতে পারত। কিন্তু সিআইএ বা গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা বিদেশি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে আইএসপি তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারত। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সামরিক গবেষকেরা নতুন উপায় খুঁজতে শুরু করেন।

গবেষকেরা এমন একটি পথ খুঁজছিলেন, যা সামরিক বাহিনীকে গতির সুবিধা দেবে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্কের মেটাডেটা ঝুঁকি থেকে তাঁদের রক্ষা করবে। এখানেই অনিয়ন রাউটিং ধারণার জন্ম হয়। অনিয়ন রাউটিংয়ের মূলনীতিতে নানা পরিবর্তন এলেও মৌলিক বিষয় একই রয়েছে। ফলে ইন্টারনেটের রাউটিং তথ্য তিনটি স্তরের এনক্রিপশনে লুকিয়ে রাখা হয়। অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অনিয়ন রাউটার বা রিলে সার্ভারের মাধ্যমে ট্রাফিক বাউন্স করানো হয়। প্রতিটি রিলে একটি করে এনক্রিপশন স্তর খুলে পরবর্তী সার্ভারের ঠিকানা প্রকাশ করে। শেষ সার্ভারটি গন্তব্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট ওয়েব সার্ভিসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এর ফলে কোনো সার্ভারের পক্ষেই উৎস ও গন্তব্য একসঙ্গে দেখা সম্ভব হয় না।

গোপনীয়তা রক্ষা করতে হলে টর নেটওয়ার্ক সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে হতো। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই সাইফারপাঙ্ক এবং মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে এক অদ্ভুত জোট গড়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচারের জন্য গবেষকেরা হ্যাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নৌবাহিনীর গবেষকেরা ১৯৯৭ সালে ওকল্যান্ডের ইনফরমেশন হাইডিং কর্মশালায় অংশ নেন। সেখানে খাবার খাওয়ার সময় নামহীন সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। এর ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তার নতুন ধারণা জন্ম নেয়। তখন অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, হ্যাকার এবং সামরিক বাহিনী এক ছাতার নিচে চলে আসে। স্নায়ুযুদ্ধের পটভূমিতে হ্যাকার ও সামরিক বাহিনীর এই মেলবন্ধন এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দেয়। এর মাধ্যমে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের সীমানা নতুন করে নির্ধারিত হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত এআই অবকাঠামোর যুগে টরের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের আশার আলো দেখায়। অনিরাপদ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রাস্ট বা আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই প্রযুক্তি সহায়ক। নিয়ন্ত্রণমূলক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা রাখা জরুরি।

সূত্র: এমআইটি

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মিরপুরে সরকারি আবাসন প্রকল্পের লিফট ছিঁড়ে আহত ৩
মিরপুরে সরকারি আবাসন প্রকল্পের লিফট ছিঁড়ে আহত ৩

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনে লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
তেল-চিনিতে বাড়তি দাম, সবজিতেও স্বস্তি নেই

তেল-চিনিতে বাড়তি দাম, সবজিতেও স্বস্তি নেই

বড় জয়ে রোনালদো পরবর্তী যুগ শুরু করল পর্তুগাল

বড় জয়ে রোনালদো পরবর্তী যুগ শুরু করল পর্তুগাল

হাঁটু মুড়ে বসে শুভশ্রীর হাতে দেবের চুম্বন, ইধিকারও যত্ন নিলেন অভিনেতা

হাঁটু মুড়ে বসে শুভশ্রীর হাতে দেবের চুম্বন, ইধিকারও যত্ন নিলেন অভিনেতা

ঢাকার অলিগলিতে অটোরিকশার দাপট, নেপথ্যে কারা?
ঢাকার অলিগলিতে অটোরিকশার দাপট, নেপথ্যে কারা?

রাজধানী ঢাকার অলিগলি, আবাসিক এলাকার সড়ক, বাজারের প্রবেশমুখ এমনকি অধিকাংশ প্রধান সড়কে এখন চোখে পড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
এলপিজি সিলিন্ডারে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ৯১৫ টাকা 

এলপিজি সিলিন্ডারে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ৯১৫ টাকা 

ডিমের বাজারে বাড়তি চাপ, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ডিমের বাজারে বাড়তি চাপ, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

পিরোজপুরে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজারের বেশি

পিরোজপুরে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজারের বেশি

0 Comments