ফাতেমা (রা.) ছিলেন নবীজির সবচেয়ে কনিষ্ঠ ও প্রিয় কন্যা। নবুয়তের পবিত্র আবহ ও ওহির ঘনিষ্ঠতম পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা। মক্কার চরম সংকটকাল, ইসলামের সূচনাপর্বের নির্মম নির্যাতন, মদিনার রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণ—সবকিছুরই তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
তাঁর পার্থিব জীবন ছিল প্রাচুর্যহীন ও আড়ম্বরহীন, অথচ আত্মিক মর্যাদায় চিরভাস্বর; কায়িক শ্রমে ও কষ্টে ভরা, অথচ ইমানি শক্তিতে পরিপূর্ণ।
গভীর পিতৃস্নেহ
ফাতেমার প্রতি নবীজির পিতৃস্নেহ ছিল অতুলনীয়। তিনি শুধু কন্যার প্রতি পিতাসুলভ মায়াই প্রকাশ করেননি, বরং ফাতেমার ব্যক্তিত্বকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সমাজে নারীর মর্যাদার এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন।
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘কথাবার্তা, চালচলন, গাম্ভীর্য ও ওঠাবসায় রাসুলের সঙ্গে ফাতেমার চেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। ফাতেমা যখন আসতেন, তখন রাসুল পরম স্নেহে উঠে দাঁড়াতেন, তাঁর হাত ধরে চুম্বন করতেন এবং নিজের বসার জায়গায় তাঁকে বসাতেন। আবার নবীজি যখন ফাতেমার ঘরে যেতেন, তখন তিনিও দাঁড়িয়ে পিতাকে অভ্যর্থনা জানাতেন, তাঁর হাতে চুম্বন করতেন এবং নিজের আসনে তাঁকে বসতে দিতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫২১৭)
কন্যার মর্যাদার ঘোষণা দিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফাতেমা আমারই একটি অংশ; যা কিছু তাকে কষ্ট দেয়, তা আমাকেও কষ্ট দেয় এবং যা কিছু তাকে ব্যথিত করে, তা আমাকেও ব্যথিত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭১৪)
কন্যা পরিবারের কোনো অবাঞ্ছিত বোঝা নয়, বরং পিতার হৃদয় ও সম্মানের অংশ—জাহেলি সমাজের বুকে এটি ছিল এক বিপ্লবী ঘোষণা।
মক্কার দুঃসময়ে পিতার পাশে
শৈশবে তিনি বেড়ে উঠেছেন এমন এক ঘরে, যার ওপর পৌত্তলিক কোরাইশরা প্রতিনিয়ত জুলুম চালাচ্ছিল। কিশোরী বয়সেই তিনি নিজের চোখের সামনে পিতাকে অপমানিত হতে দেখেছেন।
একবার রাসুল (সা.) কাবার চত্বরে সেজদারত ছিলেন। মক্কার কোরাইশ নেতারা বাজি ধরে জবাই করা উটের পচা নাড়িভুঁড়ি নবীজির পিঠ ও ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিল। দুর্গন্ধ ও ভারে নবীজি সেজদা থেকে মাথা তুলতে পারছিলেন না, আর মুশরিকরা হাসিতে লুটিয়ে পড়ছিল।
সংবাদ পেয়ে এক কিশোরী বালিকা একাকী নির্ভীক পদক্ষেপে ছুটে এলেন। নিজ হাতে পিতার শরীর থেকে সেই নোংরা আবর্জনা সরিয়ে ফেলে কোরাইশ নেতাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৫৪)
সেই বালিকাটি ছিলেন হজরত ফাতেমা (রা.)। নবুয়তের ঘরে লালিত এই কিশোরী খুব অল্প বয়সেই বুঝে নিয়েছিলেন, হকের পথে চলার অর্থই হলো ত্যাগ ও সংগ্রামের মুখোমুখি হওয়া।
পাথরের ভারী জাঁতা ঘুরিয়ে যব পিষতে পিষতে তাঁর কোমল হাতে কড়া পড়ে গিয়েছিল; চামড়ার মশকভর্তি পানি বয়ে আনতে গিয়ে বুকে দাগ হয়ে গিয়েছিল।
আলীর সঙ্গে দাম্পত্য
মদিনায় হিজরতের পর দ্বিতীয় হিজরিতে রাসুলের চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালেবের সঙ্গে ফাতেমার শুভবিবাহ সম্পন্ন হয়। তাঁদের বৈবাহিক জীবন পার্থিব ধনসম্পদে সমৃদ্ধ ছিল না; কিন্তু তা ছিল পারস্পরিক সম্মান, আন্তরিক দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসায় ভরপুর।
ঘরের প্রতিটি কাজ ফাতেমা (রা.) নিজ হাতে করতেন। পাথরের ভারী জাঁতা ঘুরিয়ে যব পিষতে পিষতে তাঁর কোমল হাতে কড়া পড়ে গিয়েছিল; চামড়ার মশকভর্তি পানি বয়ে আনতে গিয়ে বুকে দাগ হয়ে গিয়েছিল এবং ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে পরিধেয় কাপড় ময়লা হতো।
আলীও বাইরে শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। অভাব-অনটনের মাঝেও তাঁদের সংসারে কখনো অশান্তি বা মর্যাদাহানির কোনো স্থান ছিল না।
নবীজির তাসবিহ উপহার
একবার মদিনায় কিছু যুদ্ধবন্দী আনা হলে আলী (রা.) ফাতেমাকে পরামর্শ দিলেন নবীজির কাছে গিয়ে ঘরের কাজের সহযোগিতার জন্য একজন খাদেম চাইতে। ফাতেমা (রা.) পিতার কাছে গিয়ে নিজের কষ্টের কথা জানালেন। কিন্তু নবীজি কন্যাকে খাদেম না দিয়ে এক চিরস্থায়ী আধ্যাত্মিক উপহার দান করলেন।
বললেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি জিনিসের সন্ধান দেব না, যা একজন সেবকের চেয়েও তোমাদের জন্য বহুগুণ উত্তম হবে? তোমরা যখন রাতে ঘুমাতে বিছানায় যাবে, তখন তোমরা ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহ অতি পবিত্র), ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) এবং ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ) পাঠ করবে। এটি তোমাদের জন্য যেকোনো খাদেমের চেয়েও অধিক কল্যাণকর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭০৫)
নবীকন্যা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবন রাজকীয় বিলাসের ছিল না। বংশমর্যাদা তাঁকে দৈনন্দিন শ্রম থেকে অব্যাহতি দেয়নি; বরং তিনি কায়িক শ্রমের ভেতর দিয়েই আত্মমর্যাদার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
জান্নাতের দুই ফুলের লালন
ফাতেমা (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মা। তিনি হাসান, হোসাইন, মোহসিন (যিনি শৈশবেই মারা যান) জয়নাব ও উম্মে কুলসুমের গর্ভধারিণী। তাঁর পবিত্র কোলেই গড়ে উঠেছিল এই উম্মতের নেতৃত্বের এক অনন্য প্রজন্ম।
রাসুল (সা.) হাসান ও হোসাইনকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। বলতেন, ‘হাসান ও হুসাইন হলো দুনিয়ায় আমার দুটি সুবাসিত ফুল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭৫৩)
অন্য হাদিসে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘হাসান ও হোসাইন হলো বেহেশতের যুবকদের সর্দার।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৭৬৮)
এই সন্তানদের চরিত্র, তাকওয়া ও শাহাদাতের পেছনে ছিল মা ফাতেমার আত্মত্যাগ ও তরবিয়তের গভীর প্রভাব।
আড়ম্বরহীন জীবনাচার
ফাতেমার কাছে সৌন্দর্যের অর্থ কখনোই দামি পোশাক বা স্বর্ণালংকার ছিল না। তাঁর ঘরের আসবাবপত্র ছিল একটি ভেড়ার চামড়ার বিছানা, খড়ের বালিশ ও মাটির কলসি।
জীবনের শেষ সময়ে ফাতেমা (রা.) পিতার শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন। নবীজি অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে তাঁকে কাছে ডেকে কানে কানে কিছু বললেন।
একবার তিনি নিজের ঘরের দরজায় একটি কারুকার্যখচিত নকশাদার পর্দা টাঙিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) ঘরে এসে সেই পর্দার দিকে তাকিয়ে ভেতরে প্রবেশ না করেই ফিরে গেলেন। ফাতেমা (রা.) তৎক্ষণাৎ পিতার অসন্তুষ্টির কারণ বুঝতে পারলেন। তিনি মুহূর্ত বিলম্ব না করে পর্দাটি খুলে ফেললেন এবং তা দান করে দিলেন। নবীজি তা দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বললেন, ‘ফাতেমা তা-ই করেছে যা তার উচিত ছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬১৪)
আল্লাহর রাসুলের একটিমাত্র ইশারায় নিজের পছন্দকে কোরবানি করে দেওয়াই ছিল তাঁর স্বভাব।
বিদায়বেলার অশ্রু
জীবনের শেষ সময়ে ফাতেমা (রা.) পিতার শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন। নবীজি অত্যন্ত দুর্বল কণ্ঠে তাঁকে কাছে ডেকে কানে কানে কিছু বললেন। কথাটি শুনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর নবীজি তাঁকে পুনরায় কাছে ডেকে আবার ফিসফিস করে কিছু বললেন, আর তখনই ফাতেমার মুখে উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠল।
আয়েশা (রা.) এই কান্নাহাসির রহস্য জানতে চাইলে ফাতেমা নবীজির জীবদ্দশায় তা প্রকাশ করেননি।
নবীজির ইন্তেকালের পর তিনি কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রথমে আমাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি এই অসুস্থতাতেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেন; তাই বিচ্ছেদের বেদনায় আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, “আমার পরিবারের মধ্য থেকে তুমিই সবার আগে আমার সঙ্গে মিলিত হবে এবং তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে তুমি হবে মুমিন নারীদের নেত্রী?” এই সুসংবাদ শুনেই আমার মুখে হাসি ফুটেছিল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬২৭)
রাসুলের ওফাতের মাত্র ছয় মাস পরই ১১ হিজরির ৩ রমজান এই মহান নারী মাত্র ২৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করে প্রিয় পিতার সঙ্গে গিয়ে মিলিত হন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২৪০)
এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনাদর্শ
বর্তমান যুগে নারীকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমাজ দুটি চরমপন্থা দেখতে পায়—একদিকে নারীকে নিছক ভোগের পণ্য ও প্রদর্শনীর সামগ্রী বানানোর অসুস্থ সংস্কৃতি; অন্যদিকে তার মাতৃত্ব, পারিবারিক পরিচয় ও শালীনতাকে খাটো করে দেখার একপেশে প্রবণতা।
ফাতেমার জীবন এই দুই চরমপন্থার বাইরে এক পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ পথপ্রদর্শক। তিনি প্রমাণ করে গেছেন—নারীর প্রকৃত আভিজাত্য বিলাসবহুল জীবনে নয়, বরং লজ্জাশীলতা ও চরিত্রে; নারীর সম্মান গৃহকোণকে আলোকময় করে আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাঁচার ভেতরে। তিনি ছিলেন ঘরে আদর্শ কন্যা, স্বামীর বিশ্বস্ত সহযাত্রী এবং সন্তানদের জন্য তাকওয়ার পাঠশালা;
আবার অন্যায়ের সামনে তিনি ছিলেন আপসহীন এক সাহসী কণ্ঠস্বর। ফাতেমার এই অনুপম জীবন যুগে যুগে প্রতিটি বিশ্বাসী নারীর আত্মমর্যাদা ও আত্মশুদ্ধির চিরন্তন আলোকবর্তিকা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে নয়া দিল্লিতে বিদায়ী সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নতুন দিল্লিতে রবিবার এই বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ঢাকা টু খুলনা লং মার্চের দিন পিছিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ১০ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিশ্বদীপ দাশ।