জাতীয়

ভারতের ট্রফিগুলো নাকভি কোথায় রাখছেন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ভারতের ট্রফিগুলো নাকভি কোথায় রাখছেন
ভারতের ট্রফিগুলো নাকভি কোথায় রাখছেন

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের চেয়ে মহসিন নাকভির পারফরম্যান্স ভালো।

সেটা শিরোপার হিসাবে। ছেলেদের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ট্রফি নেই। মেয়েদের এশিয়া কাপে নেই পাকিস্তানেরও। কিন্তু মহসিন নাকভির আছে। একটি নয়, দুটি ট্রফি এবং তাতে ভারতের অবদান অনেক।

খেলাধুলায় আসলে জেতাই শেষ কথা। সেটা যেমন মাঠের খেলায়, তেমনি রাজনীতির খেলায়। মাঠে যেমন ধরুন গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপ জিতেছিল ভারত। মাঠের বাইরে রাজনীতির খেলায় তখন ভারত-পাকিস্তান এখনকার মতোই মুখোমুখি। আর এশিয়া কাপের আয়োজক এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ছিলেন মহসিন নাকভি। তখনকার বৈরী সম্পর্কের জেরেই নাকভির কাছ থেকে এশিয়া কাপের সেই ট্রফিটি নেননি সূর্যকুমার যাদবরা। ট্রফিটি থেকে যায় নাকভির কাছেই।

তো একটু রসিকতার ছলে তো বলাই যায়—রাজনীতির সে খেলায় ক্রিকেট হারলেও নাকভির সেই ট্রফি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল ভারতই। পরিস্থিতি পাল্টায়নি গত পরশু দুবাইয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপের ফাইনাল শেষেও। বিজয়ী দল হিসেবে ভারতের মেয়েদের হাতে ট্রফিটি তুলে দিতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এসিসি সভাপতি নাকভি। কিন্তু ওই যে দুই প্রতিবেশীর রাজনীতির খেলায় এবারও ভারতের ক্রিকেট দল ট্রফিটি নাকভির কাছে রেখেই দেশে ফিরেছে।

রাজনীতির এই খেলার প্রসঙ্গে পরে আসা যাবে। তার আগে বলুন তো, ভারতের এ দুটি ট্রফি নাকভি রেখেছেন কোথায়?

পিসিবি ও এসিসি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি

চাইলে গোয়েন্দা ঠিক করতে পারেন। কিন্তু সূর্যকুমারদের জেতা এশিয়া কাপ ট্রফির হদিস আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। গত বছর সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে ফাইনাল শেষে অক্টোবরে জানা যায়, দুবাইয়ে এসিসি সদর দপ্তর থেকে এশিয়া কাপের ট্রফিটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আবুধাবির এক অজানা ঠিকানায়, যেটা মহসিন নাকভি ছাড়া আর কেউ জানেন না।

সূর্যকুমাররা মঞ্চে নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাঁর নির্দেশে সেটি নিয়ে যাওয়া হয় দুবাইয়ে এসিসির সদর দপ্তরে। এসিসি সভাপতি নাকভি শর্ত দেন, ট্রফি নিতে হলে ভারতীয় দলের কাউকে এসিসি দপ্তরে এসে নিতে হবে। ফাইনালের দুই দিন পর এসিসির মুলতবি সভায় ট্রফির প্রসঙ্গ উঠলেও সমাধান মেলেনি।

সেই অক্টোবরেই ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, এসিসির সদর দপ্তর থেকে ট্রফি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আবুধাবির কোনো এক জায়গায়। সেখানে ট্রফিটি নাকভির হেফাজতে রয়েছে। এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা এসিসি দপ্তরে গিয়ে দেখেন, ট্রফি সেখানে নেই। এসিসির কর্মীরা তাঁকে জানান, ট্রফি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আবুধাবিতে, তবে ঠিক কোথায় আছে, সেটা নাকভি ছাড়া কেউ জানেন না।

এরপর সূর্যকুমারদের জেতা সেই ট্রফির বিষয়ে আর কিছু জানা যায়নি।

সেই দৃশ্য, ২০২৫ এশিয়া কাপ ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন ভারতের অদৃশ্য ট্রফি নিয়ে উদ্‌যাপন

ছেলেদের সেই এশিয়া কাপের ফাইনালে মঞ্চে তবু এশিয়া কাপের ট্রফিটি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু পরশু দুবাইয়েই মেয়েদের টুর্নামেন্টে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কিন্তু মঞ্চে ট্রফিটি দেখা যায়নি। কারণটা বোঝা গেছে পরে। হারমানপ্রীত কৌরের দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে পদক এবং ট্রফি ছাড়াই মাঠ ছাড়ার পর ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে একটি বিবৃতি দেন বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া।

সাইকিয়া সেই বিবৃতিতে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় আমরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—সে কথা আমরা আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিলাম।’ সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ফাইনালের আগের দিনই বিসিসিআই জানিয়ে দিয়েছিল মহসিন নাকভি যদি পদক ও ট্রফি তুলে দেন, তবে ভারতীয় দল সেই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না।

এসিসি সভাপতি হিসেবে বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত যেহেতু নাকভি আগেই জানতেন, সে কারণেই কি ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটি রাখা হয়নি? এই প্রশ্নের সঙ্গে উঠতে পারেন আরেকটি প্রশ্নও, ট্রফিটি তাহলে কোথায় আছে?

এশিয়া কাপের আয়োজক এসিসি। তাই এতটুকু আন্দাজ করে নেওয়াই যায়, ট্রফিটি তাহলে হয়তো দুবাইয়ে এসিসির সদর দপ্তরেই আছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছুই জানা যায়নি। ভারত নারী দলের কোচ অমল মজুমদার ফাইনাল শেষে জানান, ট্রফি নিয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য তাঁর জানা নেই। জানতে চাওয়া হয়েছিল, দল কবে এ ট্রফি পেতে পারে? অমল মজুমদারের উত্তর, ‘এ পর্যন্ত কোনো খবর নেই। তাই আমি এ নিয়ে উত্তর দিতে পারছি না।’

এশিয়া কাপ ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় ভারতের ক্রিকেটাররা উপস্থিত হননি

ট্রফির খোঁজে উত্তর আসলে কারও কাছেই নেই। তবে কেন এমন ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রায় সবারই জানা।

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্ক নতুন নয়। সেই আগুনে নতুন করে ঘৃতাহুতি হয় গত বছর এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর। ভারত মনে করে, সেই হামলাকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, তাতে মদদ ছিল নাকভির। এসিসি প্রধানের পাশাপাশি নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। এ কারণে তাঁর কাছ থেকে ছেলেদের সেই আসরের ট্রফি নেননি সূর্যকুমাররা।

এবার মেয়েদের আসরেও ঠিক একই ঘটনা দেখা গেল। কারণ, বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি এসিসি সহসভাপতির হাত থেকে দেওয়া হোক। কিন্তু নাকভি তাতে রাজি হননি। এসিসি প্রধান হিসেবে নাকভি বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারত তাতে রাজি হয়নি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নাকভি রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন। এরপর হঠাৎই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়।

কিন্তু এখানেই কি সব শেষ? সম্ভবত না। শিগগিরই আরেকটি পর্ব দেখা যেতে পারে।

ট্রফি না নেওয়া ভারতীয় ক্রিকেট দলে পরে নিজেদের মতো করে ফটোসেশন করে

জাপানে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এশিয়ান গেমস। এই আসরের ক্রিকেট ইভেন্ট শুরু হবে দুই দিন আগে। ভারতের ছেলে ও মেয়েদের দল অংশ নেবে ক্রিকেটে। বলার অপেক্ষা রাখে না, ছেলে ও মেয়েদের দুটি ইভেন্টে ভারত ফেবারিট। ভারত যদি দুটি কিংবা একটি ইভেন্টের ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে কিন্তু আবারও একই দৃশ্যের অবতারণা হতে পারে। কারণ, এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে এসিসি। মহাদেশীয় এই ক্রিকেট সংস্থার প্রধান হিসেবে নাকভিকে যদি পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে দেখা যায় এবং সেই চ্যাম্পিয়ন দল যদি হয় ভারত, তাহলে?

তাহলে আর কী? দুটি ট্রফির পর হয়তো পদকেরও খোঁজ করতে হবে! আগামী বছর এপ্রিলে এসিসি সভাপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হবে নাকভির। তার আগপর্যন্ত এটাই বুঝি নিয়তি? ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ তো হয় না। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বহুদলীয় টুর্নামেন্টে দুই প্রতিবেশীকে মুখোমুখি হতে দেখা যায়। অর্থাৎ নাকভি যত দিন আছেন, মহাদেশীয় আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে আর নাকভি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বিজয়ী দলকে ট্রফি দেওয়ার জিদটা ধরে রাখলে এটাই নিয়তি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত
আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

0 Comments