জাতীয়

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ক্রমেই নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে কানাডার। দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পথে এগোচ্ছে কানাডা। এমনকি ইইউয়ের ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় ভাঙনের পর কানাডার কর্মকর্তারা ইইউয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক জোটকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন কানাডিয়ান ও ইইউয়ের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কানাডাকে ‘অ্যাসোসিয়েট মেম্বার’ বা সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব নিয়েও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এদিকে, ঐতিহাসিকভাবে ইইউ পৃথক দেশকে এ ধরনের নমনীয় সদস্যপদের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিচিত নয়। ফলে কানাডার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা তৈরি হলে তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম।

এ ধরনের কোনো চুক্তি হলে কয়েক দশকের মধ্যে কানাডার অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে। কারণ, বহু বছর ধরে কানাডার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশই গেছে দক্ষিণ সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ওয়াশিংটনের ওপর এই বিপুল বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকে পড়া কানাডার জন্য বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি হলে কানাডা ও ইইউয়ের মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে। এর আওতায় আর্কটিক অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ইউরোপে সার পরিবহন ও নতুন প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের মতো প্রকল্পও থাকতে পারে। এতে ইউরোপের রুশ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য নয়, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতেও কানাডা-ইইউ সহযোগিতা বাড়তে পারে। দুই পক্ষ নতুন সমুদ্রতলের কেবল স্থাপন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। আটলান্টিকের দুই পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন এই সহযোগিতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ইউরোপের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কও রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন ও ২০১৩-২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন।
জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্নি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। কানাডীয়দের ইউরোপে ভিসা ছাড়াই বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

কার্নি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি ‘স্টাডি অ্যাব্রড প্রোগ্রাম’-এ কানাডাকে যুক্ত করারও চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়।

আগামী সপ্তাহে কার্নির ইউরোপ সফরও তাই বিশেষ নজরে রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের লিভারপুল ও ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ সফর করবেন। সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ ভাষণে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তায় কানাডার সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কার্নি। তবে এই সফরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার বিষয়ে নতুন কোনো ঘোষণা দেবেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইইউর সঙ্গে এই আলোচনার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ। আগস্টে কার্নি কানাডীয় আলোচকদের মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে সরে আসার নির্দেশ দেন। এরপর দুই দেশই একে অপরের পণ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওয়াশিংটন সংঘাত আরও বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার কিছু দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহলসহ অন্যান্য পণ্য নিষিদ্ধ করেছেন। একই সঙ্গে কানাডীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা বোম্বার্ডিয়ারের বিদেশে তৈরি বিমান যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

২০২৫ সালে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প কানাডাকে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ ও উপহাস করে আসছেন। বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই আগস্টে তিনি অন্টারিও লেকের (হ্রদ) সরকারি নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেন। ফলে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই টানাপোড়েন এখন শুধু শুল্ক ও বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত দূরত্বও যুক্ত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কানাডার জন্য ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কেবল নতুন বাজার খোঁজার বিষয় নয়। এটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঝুঁকি কমানো, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে নতুন অংশীদার তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তায় কানাডার বিকল্প পথ তৈরির কৌশল হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বিপুল বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে এই পুনর্বিন্যাস কতটা দ্রুত ও কতটা গভীরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

এসএএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মারা গেছেন বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী
মারা গেছেন বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

শুক্রবার রাতেই আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি
শুক্রবার রাতেই আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি

শনিবার যেকোনো সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে রূপপুরে নেওয়া হবে এ জ্বালানি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। 

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
যাত্রীদের মরতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট

যাত্রীদের মরতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট

রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণের ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর

রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণের ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১
কুড়িগ্রামে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান মিঠু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

0 Comments