ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ বুধবার চীন যাচ্ছেন। গত মে মাসে সর্বশেষ চীন সফরে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ওই সফরের অল্প সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে যান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর বেইজিংয়ে এটি হবে আরাগচির দ্বিতীয় সফর। এবারও তিনি ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের পরিকল্পিত বৈঠকের ঠিক আগে দিয়ে বেইজিং যাচ্ছেন। এ মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-সি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমে গত মে মাসে এবং এবার সেপ্টেম্বরে ওই তিন নেতার পৃথক বৈঠকগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে চীনের ভূমিকার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। চীন নিজেকে এমন একটি নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছে, যারা এ সংঘাতের অবসান চায়।
সি ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় সরাসরি ভূমিকা রাখার আগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও, এমন কোনো আসন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেননি।
গত শনিবার ও রোববার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে সি চিন পিং ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে চীন তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
যুদ্ধকালীন কূটনীতি
সি ব্রিকস সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় সরাসরি ভূমিকা রাখার আগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও, এমন কোনো আসন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেননি।
এর পরিবর্তে, চীনের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে তাঁর চার দফা বিস্তৃত পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। এ পরিকল্পনার মূল বিষয় হলো শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, চীন এমন একটি যুদ্ধের অবসান দেখতে চায়, যে যুদ্ধ আর্থিক ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে তৃতীয় কোনো দেশের সংঘাতে নিজেদের গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলা, যেখানে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে—এমন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া চীন ঐতিহ্যগতভাবে এড়িয়ে চলেছে।
সি চিন পিংয়ের সর্বশেষ বক্তব্যের গুরুত্ব নিয়েও ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের মতামত রয়েছে।
এ বিষয়ে ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ গত রোববার বলেন, সি চিন পিংয়ের ‘গঠনমূলক উদ্যোগ উত্তেজনা কমানোর জন্য সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করেছে’ এবং এতে প্রমাণ হয় যে বহুপক্ষীয় কূটনীতিই ‘স্থিতিশীলতা অর্জনে একমাত্র কার্যকর পথ’।
তবে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা সাহিত্যের অধ্যাপক ও চীনবিষয়ক গবেষক হামেদ ভাফায়ি বলেছেন, সি চিন পিংয়ের বক্তব্যকে বাস্তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব হিসেবে দেখাটা ‘অতিরঞ্জিত’ হবে।
পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সহযোগিতা
আরাগচি চীনের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আবারও মনোযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।
চীন এমন একটি যুদ্ধের অবসান দেখতে চায়, যে যুদ্ধ আর্থিক ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে তৃতীয় কোনো দেশের সংঘাতে নিজেদের গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলা, যেখানে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে—এমন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া চীন ঐতিহ্যগতভাবে এড়িয়ে চলেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্র ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ)’ পরিচালনা পর্ষদকে দিয়ে সফলভাবে ইরানের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
সর্বশেষ ২০ বছর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হয়েছিল। তারপর ইরানের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে ছয়টি প্রস্তাব পাস হয় এবং দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যার ফলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

তবে এবার বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার পদক্ষেপকে মূলত প্রতীকী বলেই মনে করা হচ্ছে। চীন ও রাশিয়া এর তীব্র বিরোধিতা করেছে এবং নিরাপত্তা পরিষদে নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবে তাদের ভেটো দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তেহরানের ওপর পশ্চিমা চাপ অন্যদিক থেকেও অব্যাহত রয়েছে। গত বছর ইউরোপীয় দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা (আগে যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল) পুনর্বহাল করায় এ সপ্তাহে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আইএইএর সাধারণ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেননি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ এসলামি।
যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করে চলেছে। ইরান সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে তারা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছে। একই সঙ্গে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে দেশটির ওপর আরও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তা করার অভিযোগে চীন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার, কোম্পানি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমকেও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চীনের বড় কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের বিবৃতিতে চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ভিটিবি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ ব্যাংক। চীনের মূল ভূখণ্ডে একমাত্র এ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত শাখা রয়েছে। এটির মাধ্যমে চীনের জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থায় সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়।
চীন এখনো ইরানের অশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে চীন। দেশটি মার্কিন নৌ অবরোধের আওতার বাইরে মজুত থাকা ইরানি তেলও কিনে চলেছে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতাও এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর আগে ইরান চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ‘হাই রেজোল্যুশনের’ স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছিল। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প ঘটনাটিকে খাটো করে দেখান। কয়েক দিন আগে তিনি এ নিয়ে বলেছিলেন, ‘মূলত আমরা যা করছি, চীনারা সেটাই করছে’।
আলাদাভাবে সি চিন পিং সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি যথেষ্ট যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দিল্লিতে আবারো ভেঙে পড়ল আবাসিক ভবন। একটি পাঁচতলা ভবনের সামনের অংশ বুধবার বিকেলে আচমকা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসাবশেষের নীচে অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা।
কেউ যাচ্ছিলেন বাসায়, কেউবা ঘুরছিলেন রাস্তায়। এমন সময় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৩৩ জন আহত হয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুনত্ব আনতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।