চারদিকে থই থই পানি, মাঝখানে গ্রাম—সেখানেই শিক্ষার বাতিঘর। সকালে বিদ্যালয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। তিনতলা পাকা ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোও খুলে দেওয়া হয়। সবকিছু দেখে মনে হতে পারে, আর দশটি বিদ্যালয়ের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলছে পাঠদান। কিন্তু ক্লাস শুরুর সময় এলেই বদলে যায় চিত্র।
একসঙ্গে সব শ্রেণিতে পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার মতো শিক্ষক নেই। ফলে কখনো এক শ্রেণির পাঠ শেষ করে অন্য শ্রেণিতে যেতে হয়, আবার কখনো শিক্ষক আসার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এমনই। অবকাঠামোর দিক থেকে বিদ্যালয়টি বেশ ভালো। রয়েছে তিনতলা পাকা ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু শিক্ষকসংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের পাঁচটি পদ রয়েছে। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। তাদের একজন প্রধান শিক্ষক। প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তাকেও পাঠদান করতে হয়। ফলে সব সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্যদিকে একজন সহকারী শিক্ষককে দিয়ে কোনো রকমে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
ফলে এক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সময় অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। কখনো আবার দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগও কমে যাচ্ছে।
সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও শ্রেণিকক্ষ থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, ছবি: জাগো নিউজ
সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে পড়ার শব্দ ভেসে আসছে। শ্রেণিকক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে আছে। দুই শ্রেণি মিলিয়ে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে পড়াচ্ছেন সহকারী শিক্ষক সামিউল নিকসন।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন ব্যস্ত ছিলেন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন নথিপত্র, দাপ্তরিক কাজ এবং অন্যান্য দায়িত্ব তাকেই সামলাতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য কার্যত একজন শিক্ষকই থাকছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একসময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৮০ জন, এখন সেখানে শিক্ষার্থী কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে।

শিক্ষকসংকটের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ হারাচ্ছে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে আগ্রহী হচ্ছেন। এভাবে ধীরে ধীরে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত শিক্ষকসংকট দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমতে পারে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হবে, অন্যদিকে গ্রামের শিশুদের শিক্ষাজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে তাকে উপজেলা সদরে যেতে হয়। আবার ক্লাস শেষ করেও বিভিন্ন সময় দাপ্তরিক কাজ করতে হয়। একজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করানোও কষ্টকর বিষয়।
তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষক দিয়ে ছয়টি শ্রেণির পাঠদান করানো অতিরিক্ত চাপের। এর মধ্যে তিনি বদলির জন্য আবেদন করেছেন। শিক্ষক না থাকায় অভিভাবকেরা সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে চান না।’


শিক্ষকসংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় তাদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষক সামিউল নিকসন জাগো নিউজকে বলেন, প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তাকেই একা ছয়টি শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওপরও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্নি আক্তার বলে, ‘আমাদের শিক্ষক মাত্র দুজন। তাদের মধ্যে একজন অফিসের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। ফলে একজন শিক্ষককে দিয়ে সব ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। আমরা ঠিকমতো পড়তে পারছি না, পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে পারছি না। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের পর্যাপ্ত শিক্ষক প্রয়োজন।’
পঞ্চম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী ইজাজুল হক বলে, শিক্ষক না থাকায় ঠিকমতো ক্লাস হয় না। অনেক সময় তারা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষে বসে থাকে। আবার কখনো দুই শ্রেণির ক্লাস একসঙ্গে হয়। শিক্ষকসংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষক দেওয়া হলে তাদের লেখাপড়া আরও ভালো হবে।
সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পড়ছে শিক্ষার্থীরা, ছবি: জাগো নিউজ
শিক্ষকসংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও। তাদের মতে, একটি বিদ্যালয়ে ভবন থাকলেই শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয় না; প্রয়োজন পর্যাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষক না থাকলে শ্রেণিকক্ষ, ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকলেও তার সুফল পাওয়া যায় না।
অভিভাবক কামাল মিয়া বলেন, ‘একজন শিক্ষক কীভাবে এতগুলো ক্লাস নেবেন? শিক্ষকসংকটের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। আমরা খুব চিন্তিত। এভাবে যদি শিক্ষার মান কমতে থাকে, তাহলে আমাদের গ্রামের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘দ্রুত শিক্ষকসংকট দূর করা না হলে অভিভাবকেরা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠাতে বাধ্য হবেন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও বিদ্যালয়টি ছিল এলাকার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ছিল অনেক বেশি। এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে শিক্ষকসংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
তাদের প্রশ্ন, তিনতলা পাকা ভবন থাকলেও যদি পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকেন, তাহলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর সুফল শিক্ষার্থীরা কতটা পাবে? নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয় সম্পর্কে আগ্রহ কমে যাওয়াই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষকসংকট শুধু একটি বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পাঠদানকে ব্যাহত করছে না, এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের শেখার মান, উপস্থিতি ও বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবণতার ওপরও। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায়।


এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যালয়টির শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ শেষ করা হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত শিক্ষকসংকটের সমাধান হবে। কারণ, বিদ্যালয়ের ভবন যতই বড় হোক, পর্যাপ্ত শিক্ষক ছাড়া সেখানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। পাঁচটি শিক্ষকের পদের বিপরীতে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে চলছে সরিষাকান্দা ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা আরও তীব্র হতে পারে।
এমএমএআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক আঘাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এদিকে ক্রমাগত এই শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের সামাজিক জীবন চরম নির্মমতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের দিকে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গবেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এসব শিশু টিকে থাকার লড়াই কিংবা অপরাধী চক্রের প্ররোচনায় চুরি, ছিনতাই, ভিক্ষাবৃত্তিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে সামাজিক জীবনে মানুষকে নানামুখী হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।