টবে মাটি খুঁড়তে গিয়ে চারটি অচেনা ডিম। আবার নিজের গ্রামের পরিত্যক্ত ঢেঁকিঘরের মাচায় একসঙ্গে ১২টি সাপের ডিম—দুটোই আমার নিজের দেখা। এমন দৃশ্য যে কাউকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে। কিন্তু সাপের ডিম দেখলেই কি ধরে নিতে হবে, আশপাশে সাপ ঘুরছে? সাপ কোথায় ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পর কী হয়, আর হঠাৎ সাপের ডিম চোখে পড়লে কী করা উচিত, জেনে নেওয়া যাক সেসব

টিকটিকির ডিম দেখেছেন নিশ্চয়ই। আমিও দেখেছি। ঘরের পুরোনো আসবাব; অনেক দিন পরা হয়নি, এমন কাপড়ের ভাঁজে ডিম পাড়ে টিকটিকি। নিতান্তই নিরীহ ছোট্ট এই প্রাণীর ছোট ছোট ডিম আমাদের ভয় ধরায় না। কখনো দেখা যায় আস্ত ডিম, কখনোবা ভাঙা, মানে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে গেছে।
তবে সাপের ডিম কি দেখেছেন?
সেদিন টবে আগাছা পরিষ্কার করছি। একটা পুরোনো বালতিতে আম্মা বারোমাসি কালো মরিচের বীজ বুনেছিলেন। টানা তিন বছর একই টবে থেকে ফলন দিয়ে পরে অজানা কারণে গাছটি মারা যায়।
খালি টবে আমি আবারও কিছু মরিচ, মাধুরী পেয়ারা আর দোপাটি ফুলের বীজ বুনি। সঙ্গে ছোট্ট একটা ক্যাকটাস।

একসময় বীজগুলো থেকে চারা মাথা তুলে দাঁড়ায়। চারা বড় হওয়ার পাশাপাশি টবে আগাছাও জন্মায়। সেই আগাছা নিড়ানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিচ্ছিলাম। আর ঠিক তখনই মাটির নিচে আবিষ্কার করলাম ছোট চারটি ডিম।
টিকটিকির ডিমের চেয়ে একটু বড় আর লম্বাটে। ভাবলাম, নিশ্চয়ই কোনো সাপের ডিম হবে!
এই ভেবে ভয়ে ভয়ে যেখানকার ডিম, সেখানে রেখে মাটি চাপা দিলাম। ডিমের মালিক সাপ যাতে টের না পায়। আর সেই থেকে ওই টব থেকে এক শ হাত দূরে থাকারও পণ করলাম। তবে ডিম মাটি চাপা দেওয়ার আগে ছবি তুলেছিলাম। সেই ছবি দিলাম ফেসবুকে। ক্যাপশনে লিখলাম, ‘গাছের ডালে ডিম পাড়ে পক্ষী রানি আর আমার টবে একি দেখি সর্প নাগিনী!’

পোস্টের অনেকের মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারলাম, এই এক হালি ডিম সাপের নয়, বরং অঞ্জনের। যাক বাবা, সাপের ডিম নয়, এই ভেবে স্বস্তি পাওয়া গেল।
অঞ্জন নিরীহ সরীসৃপ। ডোরাকাটা তামাটে রঙের চকচকে শরীর, চার পায়ে দৌড়ে বেড়ায়। আর্জিনা, অ্যাঞ্জন, সাপের আঁচিল, সাপের লাঠি ইত্যাদি নামেও পরিচিত।
ইংরেজি নাম Keeled grass skink। বৈজ্ঞানিক নাম Eutropis carinata। শরীরের মাপ (লেজ বাদে) ১৩ সেমি। লেজ ১৭ সেমি।
শরীরের উপরিভাগটা ধাতব-বাদামি। নিচের রং ক্রিমরঙা অথবা হলুদাভ সাদা। সারা দেশেই দেখা মেলে এদের।

অঞ্জনের ডিম দেখে সাপের ডিম শুধু শুধু ভাবিনি। আমি ‘ঘরপোড়া গরু’, ‘সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয়’ পেতেই পারি। মানে একবার সত্যিই সাপের ডিম দেখেছিলাম। আর সেবারও ভয় পেয়েছিলাম। না পেয়ে উপায় ছিল না। কারণ, ঝোপ-জঙ্গলে নয়, সাপ ডিম পেড়েছিল আমাদের ঘরে।
বিনা ভাড়ায় সংসার পেতেছিল সাপ দম্পতি। ডিম দিয়েছিল, ডিম ফুটিয়ে বাচ্চাও তুলেছিল আমাদের ঢেঁকিঘরে।
আমাদের গ্রাম কুমিল্লা সদরের মৌলভীনগর। মাত্র ৪০ ঘর পরিবার নিয়ে ছোট্ট সুন্দর সবুজ গ্রামে মানুষ আর প্রকৃতির সহাবস্থান। গ্রামের ঠিক উত্তর মাথায় আমাদের বাড়ি। আর বাড়ির উত্তর দিকে ঢেঁকিঘর।

একসময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই ঢেঁকিঘর ছিল। ঢেঁকিছাটা চালের জন্য ঢেঁকির ধাপুরধুপুর শব্দ শোনা যেত ঘরে ঘরে। দিনে দিনে এর আবেদন ফুরিয়েছে।
নানি ও আম্মা বেঁচে থাকতে আমাদের ঢেঁকিঘর সচল ছিল। এখন বহুদিন ধরেই ঢেঁকিঘরে আমাদের যাওয়া হয় না। ফলে অযত্ন–অবহেলায় নাজুক হয়ে পড়েছে। ঘরের ওপর বাঁশঝাড়ের বাঁশ পড়ে টিনের চালা ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরটা পানিতে থইথই।
ওই ঘরে ঢেঁকির পাশাপাশি আছে কাঠের চৌকি, আম্মার হাতে তৈরি হাঁটুসমান উঁচু মাটির স্তম্ভ। সেই স্মম্ভের ওপর বাঁশের ছাউনিতে গড়া আরেক চৌকি।
সেই চৌকির নিচে আছে মাটির হাঁড়িপাতিল, কলস, তৈজসপত্র, মুড়ি ভাজার পাত্র, দইয়ের পাত্র, তাওয়াসহ পুরোনো অনেক কিছুই। আর ওপরে রাখা ধান শুকানোর জিনিসপত্র, ধান রাখার গোলা।

একদিন বড় ভাইয়ের সঙ্গে জীর্ণ ঢেঁকিঘর থেকে পুরোনো জিনিসপত্র বের করার অভিযানে নেমে পড়ি। অন্ধকার ঘর। এমনিতেই ভুতুড়ে পরিবেশ, তার ওপর বড় ভাই দিলেন সতর্কবাণী, ‘সাবধান, দেখিস সাপ থাকবার পারে।’
বড় ভাইয়ের কথায় তেমন গা করলাম না।
বাঁশের চৌকির নিচের সব মাটির হাঁড়িপাতিল একে একে বের করলাম। নাহ্, সাপখোপ কিছুই নেই। তবে বাঁশের চৌকির ওপরের অংশে অভিযান চালাতে গিয়েই বড় ভাইয়ের কথা ফলে গেল।
তিন হাত দূরে ছিটকে গেলাম। চোখের সামনে একসঙ্গে আঠার মতো লেগে থাকা ১২টি সাপের ডিম! বাঁশের মাচার ওপর বিছানো বস্তা, তার ওপর ভাঙা টিনের চালা দিয়ে পড়া বাঁশপাতা আর বৃষ্টির পানি পড়ে ভিজে স্যাঁতসেঁতে। আর তাতেই মোক্ষম পরিবেশ পেয়ে ডিম পেড়েছে সাপ।

তবে সব ডিমই ছিল ফুটো, মানে এরই মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চাকাচ্চাও হয়েছে। একেবারে সত্যিকারের ‘বাচ্চা ভয়ংকর কাচ্চা ভয়ংকর’ ব্যাপার!
ডিমগুলো দেখে মনে প্রশ্ন, এসব আসলে কোন জাতের সাপের ডিম?
কৌতূহল থেকে ফেসবুকের ‘ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন ফাউন্ডেশন’ গ্রুপে ছবি পোস্ট করে জানতে পারি, ডিমগুলো বিষধর গোখরা সাপের। কেউ কেউ আরও নির্দিষ্ট করে বললেন, পদ্ম গোখরার ডিম।
এসব পড়েটড়ে আমি আর ঢেঁকিঘরের কাছে যাওয়ার সাহস পেলাম না। বড় ভাই সাবধানে বাসাসহ ডিমের খোসাগুলো দূরে ফেলে দিলেন। কিন্তু দুশ্চিন্তা যায় না, এখন সাপ যদি বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ফেরত এসে বাসা খুঁজে না পায়? যদি প্রতিশোধ নেয়?


হঠাৎ সাপের ডিম চোখের সামনে পড়লে কী করা উচিত? আতঙ্কিত না হয়ে কী করা যেতে পারে? এসব জানতে চেয়েছিলাম গাজীপুরের বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের হারপেটোলজিস্ট (উভচর ও সরীসৃপ বিশারদ) সোহেল রানার কাছে।
সাপের খাবার মূলত ইঁদুর। তাই সাপের উৎপাত কমাতে হলে আগে ইঁদুরের উৎপাত কমাতে হবে। ইঁদুরের উৎপাত ঠেকাতে ঘরে বিড়াল পুষতে পারেন।
মাটির ঘর বা মাটির মেঝেতে ইঁদুরের গর্ত দেখামাত্রই তা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে; কেননা সাপ নিজে গর্ত করতে পারে না, ইঁদুরের গর্তে এসে ডিম পাড়ে, বসতি গড়ে। চাইলে মাটির মেঝে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া যেতে পারে।
বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন।
হাঁস–মুরগি খামারে সাপের আক্রমণ ঠেকাতে চারপাশে নেট বা জাল দিয়ে বেড়া তৈরি করা যায়।
সাপ তাড়াতে কার্বলিক অ্যাসিডের কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে কার্বলিক অ্যাসিড অকার্যকর।

বাড়ির আশপাশে দীর্ঘদিন কোনো কিছু স্তূপ করে রাখা যাবে না।
সাপকে জানতে–বুঝতে ও সতর্ক থাকতে গুগল প্লে থেকে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন ‘সর্প দংশনে সচেতনতা অ্যাপ’।
বাড়িতে সাপ বা সাপের ডিমের উপস্থিতিতে টের পেলে আতঙ্কিত না হয়ে অ্যাপে থাকা ফোন নম্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন বন বিভাগের প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে। সারা দেশের যেকোনো প্রান্তে সেবা পাওয়া যায়।
সাপ নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না, তবে সচেতনতা জরুরি। আমরা নিরাপদ থাকি, নিরাপদ থাকুক প্রকৃতির সাপেরাও।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।