আইপিএলের মঞ্চে একের পর এক তরুণ প্রতিভার উত্থান। আর পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) সেই ধারাবাহিকতা কোথায়- প্রশ্ন তুললেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। ভারতের বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশীকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে নিজের দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও ক্রিকেট কাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন সূর্যবংশী। আইপিএলে টানা দুই মৌসুম দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের জাতীয় দলেও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্ত খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
সূর্যবংশীর এই উত্থানকেই আইপিএলের সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন আকরাম। বিপরীতে পিএসএল ১০ বছর পার করেও কেন একইভাবে কোনো ব্যাটিং প্রতিভা তৈরি করতে পারছে না- সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ইউটিউবার ফুরকান ভাট্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, ‘পিএসএল শুরু হওয়ার ১০ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু পিএসএল কি একজন ব্যাটারও তৈরি করতে পেরেছে? হ্যাঁ, আমরা কয়েকজন বোলার তৈরি করেছি। কিন্তু বলুন তো, উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যাটিং প্রতিভা কি তৈরি হয়েছে?’
এরপর সূর্যবংশীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ১৪ বছরের (বর্তমানে ১৫) সূর্যবংশীর মতো একজন ব্যাটিং প্রতিভা তৈরি করতে পারব, তখনই উন্নতি দেখতে পাব।’
আকরামের বক্তব্যে মূলত পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোর একটি দীর্ঘদিনের দুর্বলতাই উঠে এসেছে। তার মতে, শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করলেই প্রতিভা তৈরি হয় না। প্রতিভার মূল উৎস খুঁজে বের করতে শক্তিশালী ঘরোয়া ও ক্লাব ক্রিকেট কাঠামো প্রয়োজন।
‘ক্লাব ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে হবে’
পাকিস্তানের ক্রিকেটে উন্নতি করতে হলে ক্লাব ক্রিকেটকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন আকরাম। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে পাকিস্তানের উন্নতির জন্য ক্লাব ক্রিকেটকে অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। আকরাম বলেন, ‘আমরা যদি লাল বলের ক্রিকেটে উন্নতি চাই, তাহলে ক্লাব ক্রিকেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।’
প্রতিভা অন্বেষণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত বলেও মনে করেন সাবেক এই বাঁ-হাতি পেসার। তার প্রস্তাব, ‘পিসিবির উচিত করাচি ও লাহোরে ক্লাব ক্রিকেটের জন্য ১০ কোটি করে পাকিস্তানি রুপি ব্যয় করা। কারণ প্রতিভা আসে ক্লাব ক্রিকেট থেকেই।’
আকরামের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটার তৈরির ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে পিএসএলও তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারবে না। ক্লাব ক্রিকেট থেকেই প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে আসবে, তারা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবে এবং সেখান থেকে জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় তৈরি হবে- এটাই হওয়া উচিত পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামোর পথ।
আইপিএলের সঙ্গে কেন তুলনা?
আইপিএলে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে আকরামের। ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং কোচ ও মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি দুটি আইপিএল শিরোপা জেতে।
অন্যদিকে পিএসএলেও কাজ করেছেন তিনি। ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, মুলতান সুলতানস ও করাচি কিংসের সঙ্গে কোচিং ও মেন্টরিংয়ের দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন আকরাম। ফলে দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ভেতরের কাঠামো সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আইপিএলের প্রতিভা তৈরির ধারার সঙ্গে পিএসএলের তুলনা করেছেন তিনি।
ভারতে আইপিএল শুধু আন্তর্জাতিক তারকাদের মঞ্চ নয়, তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের মেলে ধরার জায়গাও হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা আইপিএলে সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রমাণ করছেন। সূর্যবংশীর মতো ক্রিকেটার সেই ব্যবস্থার সাম্প্রতিকতম আলোচিত উদাহরণ। অন্যদিকে আকরামের মতে, পিএসএল বোলার তৈরিতে কিছুটা সফল হলেও ব্যাটিং প্রতিভা তৈরির ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি।
আকরামের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজে চরম বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই হেরেছে বাবর আজমের দল। ফলে এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টেও হারের শঙ্কায় রয়েছে তারা।
প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর সিরিজে ইতিমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান। শেষ টেস্টেও হারলে ইংল্যান্ডের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবে সফরকারীরা।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। আর সেই আলোচনাতেই আকরামের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো- পিএসএলকে শুধু একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হিসেবে দেখলে চলবে না। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করতে হলে এই লিগের সঙ্গে তৃণমূলের ক্লাব ক্রিকেটের কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।
আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
একাদশ নির্বাচনে বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন, তিন পেসার, নাকি তিন স্পিনার?
এ বছর দেবী ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মাবলম্বীরা। তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমী পেরিয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে সিলেটে দুই দিনের ট্যালেন্ট হান্ট আয়োজন করতে যাচ্ছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার।