একজন মানুষ নিজের নাম লিখতে পারেন। একটি কাগজে স্বাক্ষরও করতে পারেন। তাহলে কি তিনি সাক্ষর?
প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ শোনালেও আজকের জটিল বাস্তবতায় এর উত্তর আর একরৈখিক নেই। কারণ, সাক্ষরতা মানে কেবল কয়েকটি বর্ণ চিনে টিপসইয়ের বদলে নিজের নাম আঁকতে পারা নয়। সাক্ষরতার প্রকৃত অর্থ হলো—পড়ে অর্থ বুঝতে পারা, তথ্যের সত্যতা যাচাই করা, লিখে নিজের কথা প্রকাশ করা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগানো।
তাহলে বাংলাদেশের বাস্তবতায় আমাদের অবস্থান আসলে কোথায়?
২০২২ সালের জনশুমারির খতিয়ান অনুযায়ী, দেশে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অর্থাৎ, কাগজে-কলমের সংজ্ঞাতেও দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ এখনো সাক্ষরতার বাইরে। কিন্তু আরও অস্বস্তিকর প্রশ্নটি হলো—যাঁরা এই পরিসংখ্যানের ভেতরে ‘সাক্ষর’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের কতজন বাস্তবে কার্যকরভাবে পড়তে ও বুঝতে সক্ষম?
সাম্প্রতিক তথ্য আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ দেয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ‘মিক্স ২০২৫’ (MICS) জরিপ বলছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মৌলিক পড়ার দক্ষতা রয়েছে মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশের; আর মৌলিক গণনার ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে ৩৯ দশমিক ২ শতাংশে। আরও নিচের দিকে তাকালে সংকটটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির উপযোগী শিশুদের মাত্র ২৪ শতাংশের মৌলিক পড়ার এবং ১৮ শতাংশের মৌলিক গণনার দক্ষতা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘লার্নিং পোভার্টি’–সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও একই সুর তোলে। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেই যে শেখা নিশ্চিত হয় না, এই সংখ্যাগুলো তারই নির্মম প্রমাণ।
বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রশ্নটি তাই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা দরকার। প্রশ্নটি কেবল এটি নয় যে দেশে কত শতাংশ মানুষ সাক্ষর? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমাদের কতজন নাগরিক একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিজে পড়ে বুঝতে পারেন? কতজন একটি প্রেসক্রিপশনের সঠিক পাঠ নিতে পারেন?
আমরা দীর্ঘদিন ধরে কেবল ‘সাক্ষরতার হার’ বাড়ানোর পেছনে ছুটেছি। কিন্তু পরীক্ষার পাসের হারের সঙ্গে প্রকৃত বিদ্যার্জনের ফারাক যেমন বিস্তর, তেমনি দাপ্তরিক খাতায় ‘সাক্ষর’ হওয়ার সঙ্গে জীবন পরিচালনার উপযোগী শিক্ষা পাওয়ার দূরত্বও বিশাল। তাই শতভাগ সাক্ষরতার পুরোনো সংকীর্ণ লক্ষ্য থেকে সরে এসে আমাদের এখন ভাবতে হবে ‘শতভাগ কার্যকর সাক্ষরতা’ (Functional Literacy) অর্জনের বিষয়ে। আর এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রচলিত স্কুলকেন্দ্রিক ভাবনার বাইরে এসে প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখানে একটি বড় অনুঘটক হতে পারে।
বাংলাদেশে আজ প্রায় সাড়ে ১২ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, আর হাতে হাতে পৌঁছে গেছে স্মার্টফোন। নিরক্ষর বা অল্পশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে নতুন করে প্রথাগত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। তবে তাঁদের হাতের মুঠোফোনটিকে যদি একটি ব্যক্তিগত পাঠশালায় রূপান্তর করা যায়, তবে সমীকরণটি বদলে যেতে পারে।
সরকার চাইলে একটি জাতীয় ‘ডিজিটাল সাক্ষরতা প্ল্যাটফর্ম’ চালু করতে পারে। একজন মানুষ তাঁর মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে যুক্ত হবেন। কোনো ভীতিকর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা নয়; কয়েক মিনিটের সহজ বাংলা ভয়েস-ভিত্তিক আলাপচারিতা, ছবি শনাক্তকরণ এবং মৌলিক হিসাবের মাধ্যমে এআই তাঁর তাৎক্ষণিক শেখার স্তরটি বুঝে নেবে। এখানে সবার জন্য এক ছাঁচের পাঠক্রম থাকবে না; শিক্ষা হবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। যিনি বর্ণ চেনেন কিন্তু যুক্তাক্ষর পড়তে হোঁচট খান, তাঁর পাঠ এক রকম। যিনি পড়তে পারেন কিন্তু ওষুধের প্রেসক্রিপশন ও মোড়কের নির্দেশনা বা মোবাইলে আসা ব্যাংকের বা সরকারি নোটিশের এসএমএস বুঝতে পারেন না, তাঁর অনুশীলন আরেক রকম। আবার যিনি সংখ্যা চেনেন কিন্তু পাইকারি বা খুচরা বাজারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খান, তাঁর জন্য তৈরি হবে ভিন্ন মডিউল। প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের অডিও, ভিজ্যুয়াল বা ইন্টারঅ্যাকটিভ পাঠ। এআই ব্যবহারকারীর উচ্চারণ শুনে ভুল ধরবে, উৎসাহ দেবে এবং তাঁর অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পাঠ সাজাবে।
তবে এই প্রযুক্তির আড়ালে একটি বড় সতর্কতা মাথায় রাখা জরুরি। এআই কখনো রক্ত-মাংসের শিক্ষক বা সহমর্মী মানুষের বিকল্প হতে পারে না। সাক্ষরতা কেবল তথ্য আহরণ নয়; এটি সামাজিক মেলবন্ধন, অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনের একটি মানবিক যাত্রা।
এখানেই প্রয়োজন প্রযুক্তি ও তৃণমূল সমাজের মেলবন্ধন। আশার কথা হলো, এর একটি প্রমাণিত ভিত্তি আমাদের ইতিহাসেই রয়েছে।
নব্বইয়ের দশক থেকে ইউনেসকো-স্বীকৃত ‘গণকেন্দ্র’ বা কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারগুলো প্রমাণ করেছে যে স্থানীয় উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষাকর্মীদের কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে কার্যকর জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গেই যুক্ত হতে পারে নতুন এআই প্রযুক্তি। প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে ৫ থেকে ১০ জনের ছোট দল গঠন করা যেতে পারে। সপ্তাহে এক দিন তাঁরা স্থানীয় স্কুল, গণকেন্দ্র, মসজিদ বা কমিউনিটি সেন্টারে এক ঘণ্টার জন্য একত্র হবেন। একজন স্থানীয় প্রশিক্ষিত সহায়কের কাছে সেন্ট্রাল ড্যাশবোর্ড থাকবে; তিনি জানবেন কে কোথায় আটকে যাচ্ছেন। সেখানে অনুশীলন হবে বাস্তব জীবনের কাজ—সরকারি ফরম পূরণ করা, ডিজিটাল সেবার আবেদন বোঝা কিংবা নাগরিক অধিকারসম্পর্কিত তথ্য পড়া।
পুরো প্রক্রিয়াটি একটি শৃঙ্খলিত বৃত্তে চলতে পারে: শনাক্তকরণ, নিবন্ধন, এআইভিত্তিক পাঠ, স্থানীয় অনুশীলন, যৌথ মূল্যায়ন সনদ—অব্যাহত চর্চা।
এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন অবকাঠামো বা ভবন তুলতে হবে না, কিংবা নির্ভর করতে হবে না স্থানীয় এনজিও সহায়তার। বিদ্যমান কাঠামো আর মানুষের হাতের ডিভাইসেই গড়ে উঠবে সমাধান। হাতে থাকা স্মার্টফোনই হবে প্রথম শ্রেণিকক্ষ, আর স্থানীয় গণকেন্দ্র হবে অনুশীলনের জায়গা। মোটকথা, এটি এমন একটি সাক্ষরতা মডেল হতে পারে, যেখানে সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তির মান এবং ডেটা সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণ করবে; আর মাঠপর্যায়ে বাস্তব কাজের হাল ধরবেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় কর্মীরা। আর সরকারি মনিটরিংয়ের প্রয়োজনে আছে উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর দপ্তর।
বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রশ্নটি তাই নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা দরকার। প্রশ্নটি কেবল এটি নয় যে দেশে কত শতাংশ মানুষ সাক্ষর? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, আমাদের কতজন নাগরিক একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিজে পড়ে বুঝতে পারেন? কতজন একটি প্রেসক্রিপশনের সঠিক পাঠ নিতে পারেন? কিংবা কতজন লিখিত তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের জীবন ও অধিকারের পক্ষে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য রাখেন?
কাগজে স্বাক্ষর করতে পারা একজন মানুষকে পরিসংখ্যানে হয়তো অন্তর্ভুক্ত করা যায়, কিন্তু নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারা মানুষই প্রকৃত অর্থে মুক্ত ও সাক্ষর। শতভাগ কার্যকর সাক্ষরতার সেই কঠিন অথচ জরুরি যাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের বিকল্প নয়, তবে কোটি মানুষের কাছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বল্প ব্যয়ের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর সহযাত্রী হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে এর চেয়ে বড় অঙ্গীকার আর কী হতে পারে?
লেখক: শারীফ অনির্বাণ, শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, তুরস্ক ; ইমেইল: shariful.islam@ogr.deu.edu.tr
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হানিট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।