সংসারে টানাপোড়েন থেকে কিছু একটা করার চেষ্টা। মনস্থির করলেন কাঠের ঘানিতে খাঁটি শর্ষের তেল উৎপাদন করবেন। সংকল্প ছিল তেল রাখবেন ভেজালমুক্ত। কেটে গেছে ৪৫ বছর। সেই প্রতিজ্ঞায় এখনো অনড় প্রত্যন্ত গ্রামের এক ‘সরল মানুষ’ মো. লস্কর আলী (৭১)। ঘানির তেলে তাঁর সংসারে এসেছে সচ্ছলতা, নিজেও পেয়েছেন সম্মাননা।
লস্কর আলীর বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণতলা গ্রামে। জেলা সদর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। একেবারে সীমান্তঘেঁষা। সবুজ–শ্যামল গ্রামের মানুষ খাঁটি শর্ষের তেলের জন্য লস্কর আলীকে যেমন চেনেন, তেমনি তাঁর এই ভেজালমুক্ত তেলের খবর জানেন শহরের মানুষও।
বহুদিন ধরে গ্রাম–শহরে লস্কর আলী খাঁটি শর্ষের তেল বিক্রি করেন। লস্কর আলীর জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে ঘানি ঘরে। বয়স হয়েছে, ২৯ বছরের দফাদারের চাকরি ছেড়েছেন। তবে ঘানিতে তেল উৎপাদনের কাজ ছাড়েননি। একমাত্র ছেলে হেলাল মিয়া (৩২) এখন তাঁর সঙ্গে সময় দেন। বাপ–ছেলে মিলেই জারি রেখেছেন গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঘোড়ার ঘানিতে খাঁটি শর্ষের তেল ভাঙানোর ব্যবসা।
লস্কর আলীর বাপ–দাদার পেশা মূলত কৃষি। স্বাধীনতার পরপর নরসিংদী থেকে তাঁরা সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এসে বসতি গড়েন। তখন লস্কর আলীর বয়স ১৪ বছর। ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন। কনে একই গ্রামের ফুলজান বিবি। ফুলজানদের বাড়িতে ঘানিতে শর্ষের তেল ভাঙানোর কাজ হতো। ঘোড়া নয়, গরু দিয়ে টানা হতো ঘানি। কখনো মানুষেরাও ঘানি টানতেন।
বিয়ের বছরই সংসারে অভাব দেখা দেয়। কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না লস্কর আলী। টানাপোড়েনের টানে অনেকটা দিশাহারা তিনি। স্বামীর এই হতাশা দেখে একদিন ফুলজান বিবি পরামর্শ দেন ঘানিতে তেল ভাঙানোর কাজ শুরু করার। কিন্তু লস্কর তো এই কাজ জানেন না। তবে ফুলজান বিবি পারেন। এরপর দুজনে মিলে শুরু করেন।
ওই সময় গ্রামের আরও কিছু জায়গায় এভাবে শর্ষের তেল ভাঙানো হতো। তবে তেলে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ ছিল কারও কারও বিরুদ্ধে। তাই ফুলজান বিবির এক কথা, তাঁরা তেলে ভেজাল দেবেন না। ব্যবসায়ে সততা ধরে রাখবেন। এরপর স্বামী–স্ত্রী মিলে কঠোর পরিশ্রম করতে থাকেন।
শর্ষের আবাদ, কাটা–মাড়াই, শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করা—সবই স্বামী–স্ত্রী দুজনে মিলে করেন। ঘানি ঘরে দিনরাত পরিশ্রম করেন লস্কর আলী ও ফুলজান বিবি। বাজার ঘুরে ঘুরে তেল বিক্রি করতেন লস্কর আলী। এভাবে চলতে থাকে। এখনো চলছে। এখন অবশ্য বাজারে যেতে হয় না। অনেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। আবার জেলা সদরে যাঁরা নিয়মিত ক্রেতা, তাঁদের তেল নিজেই পৌঁছে দেন লস্কর আলী।

গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় লস্কর আলীর বাড়িতে। ১৫ আগস্ট বিকেলে ওই বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটি গাছগাছালিতে ভরা। ৭৫ শতকের বাড়ির চারপাশ ঘিরে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, জাম্বুরা, কামরাঙাসহ কত ফলের গাছ। উঠানের পূর্ব দিকে আধা পাকা বসতঘর। পশ্চিমে ১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের বাঁশের খুঁটির ওপর টিনের চালার আরেকটি ঘর। এটিই ঘানি ঘর।
ঘরের ভেতর কাঠের ঘানি কাঁধে নিয়ে একটি ঘোড়া ঘুরছিল। কাঠের তক্তার ওপর বসে ছিলেন লস্কর আলীর ছেলে হেলাল মিয়া। ঘোড়ার চোখ বিশেষভাবে ঢেকে দেওয়া। ঘুরছে সেটি। মাঝখানে গাছের গুঁড়ির গর্তে শর্ষে দেওয়া আছে। ঘানি ঘুরতে থাকায় এখানে চাপ সৃষ্টি হয়ে নিচ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা শর্ষের তেল পড়ছে।
সাদা পাঞ্জাবি গায়ে দিতে দিতে মূল ঘর থেকে এগিয়ে আসেন লস্কর আলী। ঘানিতে দেওয়া শর্ষে নাড়তে নাড়তে বলেন, ‘সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আর বেশি সময় থাকব না। সন্ধ্যার আগেই আমরা কাজ শেষ করি।’ তিনি জানালেন, দুই বেলা ঘানিতে তেল ভাঙান তাঁরা। দুবারে ১০ কেজি শর্ষে দিয়ে ছয় কেজি তেল হয়। সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। এই তেল পরে ছেঁকে পরিষ্কার করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়। প্রতি কেজি তেল বিক্রি করেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।
লস্কর আলী জানালেন, নিজে কিছু জমিতে শর্ষের আবাদ করেন। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকেও শর্ষে কিনে আনেন তিনি। বছরে তিনি তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার শর্ষে কিনে রাখেন। সুনামগঞ্জের ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে শর্ষে কিনে আনেন। এখন প্রতি কেজি শর্ষে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় কিনতে হয়। এই শর্ষে তিনি সারা বছর ঘানিতে ভাঙান। লস্কর আলী বলছিলেন, ‘এইটাতে পুঁজি, পরিশ্রম আর ধৈর্য লাগে। কঠিন কাম। ঘানিতে ঘোড়ার সঙ্গে একটা মানুষকে তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়।’
ঘানির তেলের ব্যবসায়ে ভর করে এক সময় সংসারে সচ্ছলতা আসে। এরপর ঘর করেছেন। জমিজমা কিনেছেন। চার মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছেন। পাশাপাশি কৃষিকাজও করেন লস্কর আলী। দীর্ঘ ২৯ বছর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দফাদার হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছর এই কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন।
তবে উন্নতির পেছনে ঘানিতে ভাঙানো খাঁটি শর্ষের তেলের ব্যবসা বলে জানান লস্কর আলী। এখনো মাসে সব খরচ বাদে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। জমির যা ধান পান, সেগুলো বিক্রি করে শর্ষে কিনেন। এ ছাড়া আবাদ করেন বাদাম ও আলু।
এসবের পেছনে যিনি মূল প্রেরণা ছিলেন, সেই ফুলজান বিবি মারা যান ২০১৯ সালে। আলাপে লস্কর আলী জানান, তাঁর কোনো দুঃখ নেই। জীবনে কারও কোনো ক্ষতি করেননি। কাউকে ঠকাননি। তবে ফুলজান বিবিকে খুব মনে পড়ে। ‘মানুষটায় (ফুলজান বিবি) কইত, কাউরে ঠকাইতাম না। আমরা তেলও ভেজাল দিতাম না। সত্যে বরকত আছে। এই কথাটা আমার মনও এখনো গাঁথি আছে...’, কথাগুলো বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লস্কর আলী।
কথা বলার ফাঁকেই আসেন গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস (৪৫)। তিনি বলেন, ‘এলাকার সবাই লস্কর চাচার খাঁটি শর্ষের তেলের কথা জানে। আমরাও মাঝেমধ্যে কিনে নিই। সহজ–সরল মানুষ। তাঁর ভেতরে কোনো প্যাঁচ নেই।’ গ্রামের আরেক বাসিন্দা আবদুস সালাম বলছিলেন, ইচ্ছা করলে এই শর্ষের সঙ্গে তিল মেশানো যায়। এটি বোঝা যাবে না। কিন্তু এটি তিনি কখনোই করেননি।
বাড়ির সামনের কাঁচা সড়কের উত্তর পাশে মোহাম্মদ মুসা মিয়ার (৫০) মুদিদোকান। বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে ঢুকে জানতে চাই লস্কর আলীর ঘানিতে ভাঙানো তেল নেওয়া যায় কি না। মুসা মিয়া বলেন, ‘চোখ বুইজ্জা নিতা পারইন। ই–বেটার (লস্কর আলী) তেলে কোনো দুই নম্বরি নাই। টাউনের মাইনষেও নেয়।’
সুনামগঞ্জ শিল্প বণিক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া জানান, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই লস্কর আলীর কাছ থেকে শর্ষের তেল নেন। শহরে তাঁর নিয়মিত গ্রাহক আছেন।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন খাতে ছয় উদ্যোক্তাকে সম্মাননা জানানো হয়। এর মধ্যে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে খাঁটি শর্ষের তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অবদানের জন্য সম্মাননা পান লস্কর আলী।
অনুষ্ঠানে লস্কর আলীর হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননার অর্থ তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা হাতে নিয়ে কথা বলার সময় ব্যবসায়ে সততার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা হিসেবে স্ত্রী ফুলজান বিবিকে স্মরণ করেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন বলেন, জীবনে সফলতা কোনো এক দিনের অর্জন নয়। দীর্ঘদিনের সততা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমেই আসে। গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে লস্কর আলী নিজ কর্মক্ষেত্রে যে দায়িত্বশীলতা ও সততার পরিচয় দিচ্ছেন, সেটি সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এর আগে, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) লাউয়াছড়া এলাকায় চলার সময় হুক ছিঁড়ে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনসহ সামনের অংশ নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে চলে যায়।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের হুক ছিঁড়ে ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বগিগুলো লাউয়াছড়া বনের ভেতরে রেখে ট্রেনের অপর অংশ শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে চলে গেছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।