সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনই শিশু।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ এলাকায় হুতিদের একটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এতে সৌদি আরবে বসবাসকারী ইয়েমেনি এক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে দুজন।
হুতিরা হামলা জোরদার করার পর চলতি মাসে সৌদি আরবে এই প্রথম কোনো প্রাণহানির ঘটনা প্রকাশ করা হলো।
ইয়েমেনে হুতিরা গতকাল দাবি করেছে, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান তাইজ প্রদেশে তিনটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে।
হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, তাইজে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ইয়েমেনের আবস শহরে হামলায় একজন আহত হয়েছেন।
পরে হুতিদের সমর্থক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি-সমর্থিত ‘ভাড়াটে যোদ্ধাদের’ হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন ইয়েমেনি নাগরিক আহত হয়েছেন। ‘ভাড়াটে যোদ্ধা’ বলতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারপন্থী বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে।
ইরানের অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হুতি হামলার পর সৌদি আরব বেইজিংয়ের কাছে সহায়তা চাওয়ায় চীন গোপনে ইরানি কর্মকর্তাদের হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।
তাইফে হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কুয়েত ও বাহরাইন। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করেছে। বাহরাইনও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা এবং তাইফে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি হুতিদের ‘সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করেছেন।

সৌদি আরবের দাবি, হুতিরা মক্কার দিকে একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
তবে হুতিদের নেতা আবদুল-মালিক আল-হুতি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। গতকাল টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার।’ হুতিরা ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে—সৌদি আরবের এমন দাবিকে তিনি ‘বড় ধরনের প্রচারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
আল-হুতি বলেন, মক্কার পবিত্রতা ইয়েমেনের মানুষের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে সৌদি আরব ‘মিথ্যাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইউসুফ মাওরি বলেন, আল-হুতির ভাষণ শুধু ইয়েমেনের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববাসীর কাছেও তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছেন যে সৌদি আরবের দাবি অনুযায়ী হুতিরা পবিত্র শহর মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।
এ উত্তেজনা অন্য আঞ্চলিক পক্ষগুলোকেও সংঘাতে টেনে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা অংশীদার পাকিস্তান ও তুরস্ক। গত মাসে দেশ দুটির সঙ্গে সৌদি আরব একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে।
ভাষণে আল-হুতি আরও বলেন, ইয়েমেনে সংঘাতের সর্বশেষ পর্ব সৌদি আরব শুরু করেছে এবং হুতিরা আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে লড়াই করছে।
অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি বলেছেন, তাইজ, মারিব, লাহজ, আল-জাওফ, হাজ্জাহ, আল-বায়দা ও আল-দালেতে হুতিদের বাহিনী বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে আল-আলিমি বলেছেন, লোহিত সাগর উপকূলে হুতিরা যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা সাময়িক। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গতকাল এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে মক্কার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন ‘নিন্দনীয় কাজ’।
তবে ‘মক্কার পথে থাকা’ একটি ড্রোন প্রতিহত করার ‘শুধু একটি দাবি’ হুতিদের ওই হামলার জন্য অভিযুক্ত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ইসমাইল বাঘাই।
ইসরায়েলের দিকে ইঙ্গিত করে বাঘাই আরও বলেন, ‘আমাদের এটিও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমাদের অঞ্চল “ফলস ফ্ল্যাগ” অভিযানের বহু ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে।’
এদিকে ইরানের অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হুতি হামলার পর সৌদি আরব বেইজিংয়ের কাছে সহায়তা চাওয়ায় চীন গোপনে ইরানি কর্মকর্তাদের হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।
বেইজিং প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ এবং নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ্য অবস্থানের চেয়ে আরও কঠোর ছিল।
এ উত্তেজনা অন্য আঞ্চলিক পক্ষগুলোকেও সংঘাতে টেনে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা অংশীদার পাকিস্তান ও তুরস্ক। গত মাসে দেশ দুটির সঙ্গে সৌদি আরব একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সাম্প্রতিক হুতি হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ বাস্তবায়নের সময় এসেছে।
গতকাল পাকিস্তানি গণমাধ্যমকে দেওয়া আসিফের এ বক্তব্যের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি’ নিয়ে কথা বলেছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফুটবলের দেশ উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দলও তারা। কিন্তু ভারতের মাটিতে পা রাখতেই যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গেল ফুটবল। ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেটেই মেতে উঠলেন উরুগুয়ের তারকা ফুটবলাররা।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নেশার টাকা জোগাড় করতে সাড়ে চার মাস বয়সী আপন ভাগ্নেকে বিক্রি করেছেন মামা জিয়ারুল ইসলাম (২১)। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিয়ারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার ও বিক্রি করা শিশুকে উদ্ধার করেছে।