শিশুর হাসি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটি। ছোট্ট দুটি চোখে যখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন জ্বলে ওঠে, তখন সেই স্বপ্ন শুধু একটি পরিবারের নয়—একটি সমাজ, একটি দেশ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। শিশুরা আমাদের আগামী দিনের নাগরিক। আজ আমরা তাদের যেভাবে গড়ে তুলব, আগামী দিনের সমাজও সেভাবেই গড়ে উঠবে। তাই শিশুদের শুধু ভালো ফলাফল করানো নয়, তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
শৈশব জীবনের সবচেয়ে কোমল সময়। এই সময়ে একটি শিশু যা দেখে, যা শোনে এবং যে পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তার গভীর প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিত্বে। অথচ কী নিদারুণভাবে কত শিশুর শৈশব যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে! বই, খাতা, কোচিং, পরীক্ষা, প্রতিযোগিতা, সেলফোন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যস্ততার মধ্যে অনেক শিশু যেন বাধ্য হয়েই মাঠে দৌড়ানোর আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার আনন্দ কিংবা পরিবারের সঙ্গে নির্ভার সময় কাটানোর সুখ হারিয়ে ফেলছে!
আমরা অনেক সময় সন্তানের ভালো চাইতে গিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দিই। পরীক্ষায় ভালো করতে হবে, সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে হবে, ভালো স্কুলে পড়তে হবে—এমন নানা প্রত্যাশা শিশুর কোমল মনে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু প্রতিটি শিশুর মেধা, আগ্রহ ও সক্ষমতা এক নয়। কেউ পড়াশোনায় ভালো, কেউ ছবি আঁকতে ভালোবাসে, কেউ গান গায়, কেউ খেলাধুলায় দক্ষ, আবার কেউ হয়তো অসাধারণভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ প্রতিভা থাকে। আমাদের দায়িত্ব সেই প্রতিভাটিকে খুঁজে বের করা, তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
শিশুরা ভুল করবে—এটাই স্বাভাবিক। একটি শিশু যখন কোনো ভুল করে, তখন তাকে অপমান না করে ভুল থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে। বারবার বকাঝকা, অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা কিংবা ‘তুমি কিছুই পারো না’—এ ধরনের কথা একটি শিশুর আত্মবিশ্বাসকে ধীরে ধীরে ভেঙে দিতে পারে। তার পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘ভুল হয়েছে, আবার চেষ্টা করো।’ এই একটি বাক্যই হয়তো একটি শিশুর মনে নতুন সাহস তৈরি করতে পারে।
আজকের দিনে শিশুদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শুধু দামি খেলনা বা আধুনিক প্রযুক্তি নয়; প্রয়োজন বাবা-মায়ের সময়। অনেক বাবা-মা সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেন, কিন্তু সন্তানের সঙ্গে বসে দুটো কথা বলার সময় পান না। অথচ শিশুর কাছে বাবা-মায়ের সময়ের মূল্য অনেক বেশি। দিনের শেষে সন্তানকে জিজ্ঞেস করা—‘আজ তোমার দিনটা কেমন গেল?’—এই ছোট্ট প্রশ্নটিই তার মনে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
শিশুর মানসিক জগতকে বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি। সে কেন চুপ করে আছে, কেন রেগে যাচ্ছে, কেন পড়তে চাইছে না, কেন বারবার মোবাইলের দিকে যাচ্ছে—এসবের পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে। শুধু শাসন না করে তার সঙ্গে বন্ধুর মতো কথা বলতে হবে। সন্তান যেন ভয় না পেয়ে নিজের কথা বাবা-মায়ের কাছে বলতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা দরকার। যে পরিবারে ভালোবাসা ও পারস্পরিক বিশ্বাস থাকে, সেখানে শিশুরাও ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।
প্রযুক্তির এই যুগে শিশুদের মোবাইল ও ইন্টারনেট থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা হয়তো সবসময় সম্ভব নয়। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার যেন তাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং তারা যেন প্রযুক্তিকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে শেখে—এটি শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইলের পাশাপাশি বই পড়া, খেলাধুলা, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
শিশুর শৈশব যেন চাপের কাছে হারিয়ে না যায়। তার হাসি যেন প্রতিযোগিতার ভারে ম্লান না হয়। তার স্বপ্ন যেন আমাদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার নিচে চাপা না পড়ে। কারণ একটি শিশুর হাসি শুধু আজকের আনন্দ নয়—সেটিই আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশার আলো।
শিশুদের চরিত্র গঠনে পরিবারের পাশাপাশি বিদ্যালয় ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না; একজন ভালো শিক্ষক একটি শিশুর জীবনকে বদলে দিতে পারেন। একটি উৎসাহের বাক্য, একটি বিশ্বাসের হাত কিংবা একটি ভালো পরামর্শ কখনো কখনো শিশুর ভবিষ্যৎ পথচলার শক্তি হয়ে ওঠে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা শুধু পরীক্ষার খাতা নয়। তারা অনুভূতিশীল মানুষ। তাদেরও কষ্ট হয়, অভিমান হয়, ভয় হয়, স্বপ্ন হয়। তারা ভালোবাসা চায়, প্রশংসা চায়, নিরাপত্তা চায়। তাই সন্তানকে বড় করার অর্থ শুধু তাকে বড় ডিগ্রি অর্জনের পথে এগিয়ে দেওয়া নয়; বরং তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যে অন্যকে সম্মান করবে, অসহায়ের পাশে দাঁড়াবে, নিজের দায়িত্ব বুঝবে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার সাহস রাখবে।
একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা মানে শুধু একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা নয়; বরং একটি দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা। আজকের শিশুরাই একদিন শিক্ষক হবে, চিকিৎসক হবে, প্রকৌশলী হবে, কৃষক হবে, শিল্পী হবে, লেখক হবে, প্রশাসক হবে কিংবা কোনো সাধারণ পেশায় থেকেও সমাজের জন্য অসাধারণ কাজ করবে। তাদের হাতেই থাকবে আগামী দিনের দেশ।
তাই আসুন, আমরা শিশুদের শুধু সফল হওয়ার শিক্ষা না দিয়ে ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিই। তাদের স্বপ্নকে ছোট না করি, বরং স্বপ্ন দেখার সাহস দিই। তাদের ভুলকে অপরাধ না বানিয়ে শেখার সুযোগ দিই। তাদের হাতে শুধু মোবাইল নয়, বই তুলে দিই; শুধু পরীক্ষার প্রশ্ন নয়, জীবনের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শেখাই।
শিশুর শৈশব যেন চাপের কাছে হারিয়ে না যায়। তার হাসি যেন প্রতিযোগিতার ভারে ম্লান না হয়। তার স্বপ্ন যেন আমাদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার নিচে চাপা না পড়ে। কারণ একটি শিশুর হাসি শুধু আজকের আনন্দ নয়—সেটিই আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশার আলো।
লেখক : স্বত্বাধিকারী, উষার স্বাদকাহন।
এইচআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনের আগে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা চালানো হবে না। বৃহস্পতিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেছেন।
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৯২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন আবুল কাশেম মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে গার্মেন্ট পল্লীর মসজিদ মার্কেটসংলগ্ন ওই মার্কেটে আগুন লাগে।