জাতীয়

সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ, অতীতে কে কতটি পেয়েছে

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে
বিরোধ, অতীতে কে কতটি পেয়েছে
সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ, অতীতে কে কতটি পেয়েছে

অতীতে বিরোধী দলে থাকতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি তুলেছিল বিএনপি। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও যখন বিরোধী দলে ছিল, একই দাবি করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সেই দাবি পূরণে উদ্যোগী হয়নি কোনো দলই। সপ্তম সংসদে বিএনপি চেয়েছিল আসনসংখ্যার অনুপাতে কমিটির সদস্যপদ। অষ্টম সংসদে আওয়ামী লীগ দাবি করেছিল ১০টি কমিটির সভাপতি পদ। প্রায় তিন দশক পরও সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি রাজনৈতিক সমঝোতা ও ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের টানাপোড়েনের একটা বড় কারণ ছিল সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুসারে বিরোধী দল ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ দাবি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা পেয়েছে শুধু সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ।

অতীতের বিভিন্ন সংসদেও এ নিয়ে বিরোধ হয়েছে। কখনো বিরোধী দল কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে, কখনো সংসদ বর্জন করেছে। আবার রাজনৈতিক সমঝোতার পর কমিটিতে যোগ দিয়েছে। তবে বিরোধী দলকে আনুপাতিক হারে সদস্য ও সভাপতি পদ দেওয়ার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

এবারের বিরোধ যেখানে

চলতি সংসদে ৫০টি স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক কমিটি ১১টি ও মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি ৩৯টি। সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে।

বিরোধী দলের দাবি ছিল, জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুসারে তাদের ১০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিসহ মোট ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনা হয়। সরকারি দলের বক্তব্য, এবার অতীতের রীতি অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন হলে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও সব কমিটিতেই বিরোধী দলের একাধিক সদস্য রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলো ১০ সদস্যের। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এসব কমিটির সভাপতি হতে পারেন না। সভাপতি হন বেসরকারি সদস্যরা, অর্থাৎ মন্ত্রী নন এমন সংসদ সদস্যরা। বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি কমিটির সভাপতি পদাধিকারবলে নির্ধারিত।

অন্য কমিটিগুলোর সভাপতি কোন দল থেকে হবেন কিংবা সদস্য কোন দলের কতজন থাকবেন, তা সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্ধারণ করে দেওয়া নেই। সংসদে কণ্ঠভোটে কমিটি গঠিত হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারি দলের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পায়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদ

আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ। দুই ক্ষেত্রেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা এবং অনিয়ম ও গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপারিশ করাও সংসদীয় কমিটির কাজ।

সংসদবিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন দেশে সংসদীয় কমিটিতে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে পদ দেওয়া প্রচলিত রীতি। সভাপতি কমিটির সব সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, এমন নয়। তবে সাধারণত সরকারি দলের সংসদ সদস্য সভাপতি হলে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অনেক বিষয় আলোচনায় আনতে চান না। সরকারি দলের সদস্যদেরও কমিটিতে খুব একটা উদ্যোগী হতে দেখা যায় না। বিরোধী দল থেকে সভাপতি করা হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসার সুযোগ বাড়ে।

সপ্তম সংসদে পরিবর্তন ও বিরোধ

১৯৯১ সালে গঠিত পঞ্চম সংসদে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি হতেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা। তখন প্রশ্ন উঠেছিল, মন্ত্রী নিজেই সভাপতি হলে কমিটি নির্বাহী বিভাগের ওপর কতটা নজরদারি করতে পারবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

১৯৯৬ সালে গঠিত সপ্তম সংসদে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রীদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়। তবে ওই সংসদেই কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

কার্যপ্রণালি বিধি সংশোধনের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিতে বিএনপির ৩ জন সদস্য ছিলেন। তখন বিএনপির মূল দাবি ছিল দুটি—সংসদীয় কমিটি ১২ সদস্যের করা এবং সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে কমিটিতে সদস্য রাখার বিধান করা। ১৯৯৭ সালের ১৪ মে বিশেষ কমিটি যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে এই দুটি দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ওই বছরের ১০ জুন সংসদে প্রতিবেদনটি পাস হয়। দাবি না মানার প্রতিবাদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সেদিন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এরপর কয়েকটি কারণে দীর্ঘদিন সংসদ বর্জন করে দলটি। এর একটি ছিল সংসদীয় কমিটিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দাবি।

১৯৯৭ সালের নভেম্বরে সংসদীয় কমিটি গঠন শুরু করে আওয়ামী লীগ। তখন স্থায়ী কমিটি ছিল ৩৫টি। শুরুতে বিএনপি কমিটির সদস্য হিসেবে কারও নাম দেয়নি। পরে ১৯৯৮ সালের মার্চে দুই দলের দীর্ঘ বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হলে সংসদে ফেরার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

ওই বছরের ১২ মে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। কমিটিগুলোতে বিএনপিকে মোট ১১১টি সদস্যপদ দেওয়া হয়। তবে কোনো কমিটির সভাপতি পদ পায়নি দলটি।

অষ্টম সংসদে ভূমিকা বদল, বিরোধ একই

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বিরোধী দলে যায় আওয়ামী লীগ। এবারও সংসদীয় কমিটি নিয়ে দুই দলের তীব্র মতবিরোধ হয়। কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

ওই সংসদে আওয়ামী লীগ আসনসংখ্যার অনুপাতে ১০টি সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দাবি করে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপি যুক্তি দেয়, আগের সংসদে তাদের ১১৬ জন সদস্য থাকলেও আওয়ামী লীগ কোনো কমিটির সভাপতি পদ দেয়নি।

অষ্টম সংসদে কমিটি গঠনের সময় আওয়ামী লীগের জন্য কিছু সদস্যপদ খালি রাখা হয়েছিল। তবে দলটি দীর্ঘদিন কমিটি বর্জন করে। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগ সংসদীয় কমিটিতে প্রতিনিধি দেয়। কিন্তু ওই সংসদেও বিরোধী দল কোনো কমিটির সভাপতি পদ পায়নি।

পরের সংসদগুলোতে কী হয়েছিল

পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলকে একাধিক সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেওয়ার নজির আছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২০১৮ সালের ১৭ মে প্রকাশিত ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবম সংসদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে দুটি এবং অন্য বিরোধী দল থেকে একটি কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। দশম সংসদে বিরোধী দল থেকে একটি কমিটির সভাপতি করা হয়।

একাদশ সংসদে সরকারি হিসাব কমিটির পাশাপাশি আরও তিনটি কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছিল বিরোধী দলকে। সেগুলো হলো প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা উচিত। তিনি বলেন, বিএনপি এবার আনুপাতিক হারে বিরোধী দলকে সভাপতি পদ দিলে নিজেদের ভবিষ্যতের পথও খুলে যেত। একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে এখন যে দূরত্ব, তা-ও অনেকটা কমে আসত।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
১০ হাজার সেনাসহ তৃতীয় রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
১০ হাজার সেনাসহ তৃতীয় রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার পর, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সেনাসহ তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ঢাকা থেকে কলকাতা ৬ ঘণ্টায়: সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক মৈত্রী এক্সপ্রেস

ঢাকা থেকে কলকাতা ৬ ঘণ্টায়: সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক মৈত্রী এক্সপ্রেস

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৯ দিনের ছুটি আসছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৯ দিনের ছুটি আসছে

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপটা কি বেশিই শক্তিশালী

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপটা কি বেশিই শক্তিশালী

বীরাঙ্গনা ফুলমতি আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়
বীরাঙ্গনা ফুলমতি আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

এরপর ২০১৭ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে সড়কের পাশে সরকারি খাসজমিতে তার জন্য চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করা হয়। জীবনের শেষ সময়ে সেই বাড়িতেই শয্যাশায়ী ছিলেন ফুলমতি। তার স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়া ১৯৮৮ সালে মারা যান। স্বামীকে হারানোর পর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে একাই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে মুরগিবোঝাই অটোভ্যান উল্টে চালক নিহত

গোপালগঞ্জে মুরগিবোঝাই অটোভ্যান উল্টে চালক নিহত

জামায়াত আর নিষিদ্ধ আ.লীগের ভাষায় পার্থক্য নেই: রাশেদ

জামায়াত আর নিষিদ্ধ আ.লীগের ভাষায় পার্থক্য নেই: রাশেদ

নুসরাত ভারুচার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে

নুসরাত ভারুচার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে গেছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ ককটেল বিস্ফোরণে দুজন আহত, ১১টি ককটেল উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ ককটেল বিস্ফোরণে দুজন আহত, ১১টি ককটেল উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুরে দুটি আমবাগানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ সময় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ছুটির দিনে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

ছুটির দিনে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

কে পাচ্ছেন মেসির ১০ নম্বর জার্সি

কে পাচ্ছেন মেসির ১০ নম্বর জার্সি

কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু

কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু

0 Comments