‘বাংলাদেশে শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কার্যক্রম গতিশীলকরণ’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বিআইজিডি ও প্রথম আলো।
শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য খেলার সুযোগ, সামাজিক ও আবেগময় বিকাশ, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ (ইসিসিডি) নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। যাতে শিক্ষা, খেলার উপকরণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের জন্য যেভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল, তা বন্ধ না হয়। গতকাল সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।
‘বাংলাদেশে শিশুর সামগ্রিক বিকাশ কার্যক্রম গতিশীলকরণ’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে। অনুষ্ঠানে বলা হয়, শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিয়ে জাতীয় নীতিমালা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আলাদাভাবে কাজ করা যথেষ্ট নয়। শিশুদের বিকাশে শিক্ষক, স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও মায়েদের দেওয়া প্রশিক্ষণ যেন কর্মসূচি শেষে হারিয়ে না যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে সরকারকে।
বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, দেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯। এর বাইরে বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা মিলিয়ে লাখের বেশি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক কোটির বেশি শিশু পড়ছে। প্রাক্–প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের সঠিক বিকাশ হলেই দেশে দক্ষ ও সুষ্ঠু জাতি গড়ে উঠবে। তিনি জানান, সরকার এখন শিশুর সামাজিক উন্নয়ন, আবেগময় বিকাশের দিকে নজর দিচ্ছে। মিড–ডে মিল কার্যকরের পাশাপাশি শিশুদের ইউনিফর্ম, ব্যাগ, জুতা বিনা মূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, দেশে এখন ১৪ হাজার ৪৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। শিশুর বিকাশে এসব ক্লিনিকে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বে ২৭টি বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। তবে দাতাদের চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন সংস্থা বিচ্ছিন্নভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করছে। ফলে কাজগুলো তত্ত্বাবধান করা মন্ত্রণালয়ের জন্য কঠিন হয়ে গেছে। এ জায়গায় সমন্বয়ের ঘাটতি কমানো দরকার। তাঁর মতে, কার্যকর প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিককে গতিশীল করা গেলে চার ভাগের তিন ভাগ শিশুকে এই ক্লিনিক থেকেই সেবা দেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে বিআইজিডির পরিচালক (অপারেশন, কৌশল ও অংশীদারত্ব) মেহ্নাজ রব্বানী বলেন, ‘ইসিসিডি চলমান রাখতে আমাদের হাতে মডেল রয়েছে, বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, সরকারেরও আগ্রহ রয়েছে। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে ডায়রিয়া প্রতিরোধের মতো সফল কার্যক্রম হয়ে উঠবে ইসিসিডি।’
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনার্গোজ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এশা হুসাইন। তিনি বলেন, খণ্ডকালীন গবেষণা ও এককালীন কাজ করে বড় অর্জন করা যায় না। ইসিসিডি নিয়ে কেউ গবেষণা, কেউ প্রশিক্ষণের কাজ করছে। তবে এসব কাজের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। যারা ইসিসিডি বিষয়ে অর্থায়ন করে, তারাও বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। সবার এখন একসঙ্গে কাজ করার সময় এসেছে।
শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে হবে
আইসিডিডিআরবির ইমেরিটাস বিজ্ঞানী জেনা দেরাখশানি হামাদানি বলেন, শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে হবে। তাহলে এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি তৈরি হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো প্ল্যাটফর্ম হতে পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কমিউনিটি ক্লিনিক। তিনি জানান, তাঁর সংস্থা ৬০০ কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের, শিশুর অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (ব্র্যাক আইইডি) কর্মসূচিপ্রধান সৈয়দা সাজিয়া জামান বলেন, নব্বই দশকের শুরুতে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগে একটি মডেল তৈরি করা হয়েছিল। এই কাজগুলোর অভিজ্ঞতা হারিয়ে দিতে দেওয়া যাবে না। সরকারের দিক দিয়ে জবাবদিহি থাকতে হবে। বদলি হয়ে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তার জায়গায় যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন, তিনি যেন কাজটি অব্যাহত রাখেন।
সিনার্গোজ বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রিজওয়ান আহমেদ খান বলেন, তাঁর সংস্থা পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধের কার্যক্রম পালনের সময় দেখেছিলেন, ইসিসিডির গুরুত্ব কতখানি। সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত মা–বাবা ব্যস্ত থাকার সময়ে শিশুদের দেখে রাখলে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব। সে সময় মায়েদের মধ্য থেকে পালা করে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হতো খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে।
বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের কোষাধ্যক্ষ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক সাইদুর রহমান মাশরেকী বলেন, শিশুর বিকাশে কোন জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে ও এসব কার্যক্রমকে কীভাবে টেকসই করা যাবে, তা বুঝতে গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার ফলাফলকে মূল্য দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত ধারণাপত্রে বলা হয়, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউসিডি) কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রোগ্রামের আওতায় ব্র্যাক আইইডি ও ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাধ্যমে শেখা, শিশুদের বিকাশ ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছে। প্রশিক্ষণের পর শিক্ষকদের জ্ঞান ও শিখনপদ্ধতিতে উন্নতি দেখা গেছে। তবে শেখা বিষয় কাজে লাগাতে নিয়মিত সহায়তা ও তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বিআইজিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সমন্বয়কারী ফারাহ মুনীর।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচিপ্রধান মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, সমষ্টি মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুর জামান, ইউনিসেফের শিক্ষাবিশেষজ্ঞ মোসতান জিদা আলনূর, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মানব উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক তানজিনা দিনা, ফুলকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহলাম আহসান, বিআইজিডির জেন্ডার ও সামাজিক উন্নয়ন ক্লাস্টার প্রধান সহকারী অধ্যাপক শায়লা আহমেদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইসিডি কর্মসূচির উপদেষ্টা আহসান মাহমুদ, সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস কে ফয়সাল হুসাইন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী অ্যানি ড্রং ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরান-উল-বাসেত।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।