ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র সংসদ নেতৃবৃন্দ ডাকসুর ঐতিহ্য ও নির্দলীয় চরিত্র বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ডাকসু সদস্যরা কখনো পুলিশের ভূমিকা নিয়েছেন, কখনো ডাকসুকে নিজেদের রাজনৈতিক চিন্তাধারা প্রচারে ব্যবহার করেছেন, আবার কখনোবা শিক্ষকদের সঙ্গে দারুণ হঠকারী ব্যবহার করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ডাকসুতে নানা সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছে, দলীয় লেজুড়বৃত্তিও হয়েছে, আবার ঐতিহ্যগতভাবে নির্দলীয় মনোভাব ধরে রেখে দায়িত্ব পালন করার বড় নজিরও রেখেছে ডাকসু। বাংলাদেশের একাধিক ক্রান্তিলগ্নে সব দলের ছাত্রনেতাদের একত্র করে বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছে ডাকসু।
বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হওয়ায় নানা সময় ডাকসুর নির্দলীয় মনোভাব ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায় পুরোটা শিবির–সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায়, যারা আদর্শিক প্রভাব খাটাতে গিয়ে নানাভাবে বিতর্ক তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব সময় বিভিন্ন মত ও ধারার শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকদের মধ্যে কে ধার্মিক, কে নাস্তিক, কে কমিউনিস্ট—এসব নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে মুখরোচক আলোচনা হতো, কিন্তু কোনো বিরূপতা ছিল না। দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তির কারণে যদিও শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন নিয়ে নানা সময় বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তার ঘটনার কথাও খুব একটা শোনা যায় না। তবে এবার ডাকসু নেতাদের হাতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তার ঘটনা আলোচিত হয়। যদিও এ শিক্ষকের নামে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে; কিন্তু এভাবে হেনস্তার বিষয়টি কোনোভাবে কাম্য ছিল না। চাকসুতেও এ ধরনের শিক্ষক হেনস্তা ঘটে।
লেজুড়বৃত্তির কারণে আমাদের দেশে শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—সব রাজনীতিতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনীতি সব সময় ছিল; আগেও শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করতেন এবং শিক্ষকেরাও। তবে শিক্ষার্থী-শিক্ষক যাঁর যাঁর রাজনীতির পরিসর ছিল ভিন্ন। অনেকের মধ্যেই মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকলেও একটা সমীহ ছিল। শিক্ষকেরা কোথায় কী বিবৃতি দিয়েছেন, কার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন, কী বলেছেন, কী লিখেছেন—এই নিয়ে শিক্ষার্থীদের কারও কারও হয়তো অসন্তোষ ছিল; কিন্তু শিক্ষার্থীরা কখনো শিক্ষকদের সঙ্গে সংঘাত জড়াতেন না। বিগত দেড় দশকের রাজনীতি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি এখানে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেখানে ডাকসুর বিতর্কিত ভূমিকাও আমাদের দেখতে হলো।

ডাকসু এখন ওয়েবসাইট বানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করছে তাদের নিজেদের তৈরি প্রশ্নমালায়। কেউ বলেছেন, এটা শিক্ষক হেনস্তার অংশ। কেউ বলেছেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য কোণঠাসা করার উদ্যোগ। আবার কেউ এতে দেখেছেন অপরিপক্ব সরল প্রয়াস।
তাদের এই উদ্যোগ যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকানুনবিরোধী, সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষকেরা এর মধ্যে উচ্চ স্বরে প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেছেন, ‘শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটা বিশাল সুযোগ এখানে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিক্ষকদের শিক্ষাদানকে মূল্যায়ন করবেন, তার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। সেই মূল্যায়ন অবশ্যই হতে হবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দুই পক্ষেরই গোপনীয়তা বজায় রেখে।
বিদেশে আমার শিক্ষকতাজীবনেও আমার পড়ানো নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতামত দিয়েছেন বিভাগীয় পদ্ধতির মাধ্যমে। সেমিস্টার শেষে একটা কোর্সের শেষ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নমালা বিতরণ করা হতো এবং তাঁদের উত্তর একটা খামে সিল করে চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে গোপনীয়তা বজায় রেখে সেগুলো পর্যালোচনা করে শিক্ষককে তার সারসংক্ষেপ জানানো হতো। এখানে ছাত্র সংসদ বা স্টুডেন্ট বডির কোনো ভূমিকা নেই।
পুরো উদ্দেশ্যটা হলো, কীভাবে একটা কোর্সের শিক্ষাদান হয়েছে, পর্যালোচনা করা এবং কীভাবে এটাকে আরও ভালো করা যায়।
অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পেয়ে আমি দারুণ তৃপ্তি পেয়েছি; আবার অনেক সময় নিরাশ হয়েছি—মনে হয়েছে, কোর্সটা অন্যভাবে পড়ানো যেত কিংবা পরীক্ষাগুলো অন্যভাবে নেওয়া যেত! এ ধরনের মূল্যায়ন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় পক্ষকে উপকৃত করে এবং শিক্ষকদের ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে।
আশা করব, ডাকসু নেতৃবৃন্দ তাঁদের ভুলটা বুঝবেন এবং স্বীকার করে নেবেন যে শিক্ষক মূল্যায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

এবারের ডাকসুর সবচেয়ে বিতর্কিত কার্যক্রম হলো ডাকসুর সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে আলোকিত করে রাখা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনা করা। ইতিহাস বিকৃতি থেকে বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই বের হয়ে আসতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, যাঁরা এখনো ইতিহাস নিয়ে লেখাপড়া করছেন; তাঁদের কে অধিকার দিল ডাকসুতে বিকৃত ইতিহাস সাজাতে?
এখানে যুক্ত করা হয়েছে শেখ মুজিবের বড় ছেলে শেখ কামালের বিয়ের ছবিও। ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই পারিবারিক ছবি সংগ্রহে রাখার উদ্দেশ্য কী? একজন সাংবাদিক ডাকসুর সংগ্রহশালার সমন্বয়কারীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, শেখ মুজিবের ৭ মার্চ বা স্বাধীনতা আন্দোলনের কোনো ছবি কেন রাখা হয়নি? তাঁর উত্তর ছিল, ‘ইচ্ছে হয়নি, তাই।’ প্রশ্ন উঠতে পারে, তাঁর ইচ্ছামতেই কি বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা হবে?
ডাকসু নেতৃবৃন্দের জিন্নাহপ্রীতি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেননি, তাঁরা ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুর করেন এবং একই স্থানে গোলাম আযমকে জুতাপেটার একটি ছবি টাঙিয়েছেন। কাউকে জুতাপেটার ছবি টাঙানোও ভালো সংস্কৃতি নয়। পুরা ব্যাপারটা সম্ভবত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের অনেক গৌরবময় ইতিহাস আছে এবং সেগুলোর অনেক গৌরবময় স্মৃতি ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেছে। সেই পাতাগুলো ওলটালে বর্তমান ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এই সংগ্রশালাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের অনেক গৌরবময় ইতিহাস আছে এবং সেগুলোর অনেক গৌরবময় স্মৃতি ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেছে। সেই পাতাগুলো ওলটালে বর্তমান ডাকসুর নেতৃবৃন্দ এই সংগ্রশালাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন।
১৯৬৯ সালে ভিপি তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে ডাকসু তৈরি করেছিল সর্বদলীয় ছাত্র পরিষদ, যেখানে এনএসএফ এবং ইসলামী ছাত্র সংঘের মতো ছাত্রসংগঠনও ছিল আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। ১৯৭১ সালে ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রব দীপ্ত হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে প্রথম উত্তোলন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
১৯৯০ সালে এরশাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু ভিপি আমানুল্লাহ আমানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শুরু করেছিল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। শেখ হাসিনাকে শাসনক্ষমতা থেকে সরানোর প্রথম বীজ বপন করেছিলেন নুরুল হক নুর—২০১৮ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে—এ আন্দোলনের পর তিনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।
এগুলো সবই ডাকসুর উজ্জ্বল স্মরণীয় ইতিহাস এবং তখনকার সময় ডাকসু কীভাবে সব শিক্ষার্থীর ঐক্যের প্রতীক ছিল, তার নিদর্শন। সেই তুলনায় ২০২৫-২৬ সালের ডাকসু ইতিহাসে নাম লেখাচ্ছে শিক্ষক হেনস্তা, শিক্ষক মূল্যায়ন, জিন্নাহপ্রীতি এবং জামায়াতের রাজনীতির প্রচারণা—এসব বিতর্কিত পদক্ষেপ দিয়ে।
ডাকসুর ঐতিহ্যকে এভাবে পদায়ন করা খুবই দুঃখজনক। এখনো হয়তো কিছু সময় আছে, বর্তমান ডাকসু নেতৃবৃন্দ কিছু কার্যক্রম নিতে পারেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলমত সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করবে।
সালেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: salehpublic711@gmail.com
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এর আগে, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) লাউয়াছড়া এলাকায় চলার সময় হুক ছিঁড়ে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনসহ সামনের অংশ নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে চলে যায়।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের হুক ছিঁড়ে ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বগিগুলো লাউয়াছড়া বনের ভেতরে রেখে ট্রেনের অপর অংশ শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে চলে গেছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।