জাতীয়

সাইবার আইনে ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ও ‘গুজব’ বাদ চায় ব্লাস্ট

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সাইবার আইনে ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ও ‘গুজব’ বাদ চায় ব্লাস্ট
সাইবার আইনে ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ও ‘গুজব’ বাদ চায় ব্লাস্ট

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কয়েকটি বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমালোচনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। সংগঠনটি বিশেষ করে আইনের ধারা ২৫ থেকে ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’ বাদ এবং ধারা ২৬ক পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণে সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছতা ও বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানায় ব্লাস্ট।

ব্লাস্ট বলেছে, নারী ও শিশুসহ অনলাইন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধের নামে বৈধ সমালোচনা, সাংবাদিকতা, ব্যঙ্গ, রাজনৈতিক বক্তব্য কিংবা জনস্বার্থের বিতর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। প্রস্তাবিত আইনের ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’, ‘বুলিং’, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-সংক্রান্ত বিধানগুলো ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট বলে মনে করছে সংগঠনটি।

ধারা ২৫ থেকে ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’ বাদ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে ব্লাস্ট জানায়, দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানি এরই মধ্যে ফৌজদারি অপরাধ। এর বাইরে অনলাইনের জন্য পৃথক ও বিস্তৃত অপরাধ তৈরি করা হলে গঠনমূলক সমালোচনা, মতামত, ব্যঙ্গ, সাংবাদিকতা এবং জনস্বার্থের বিষয়ে আলোচনা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। বিশেষ করে ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’ বলতে কারও মর্যাদা, সম্মান, সুনাম বা সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করে এমন বক্তব্য বোঝানোর সুযোগ থাকায় বৈধ সমালোচনা ও অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা থাকবে না বলে মনে করছে ব্লাস্ট।

আরও পড়ুন

সংশোধন হচ্ছে সাইবার আইন / গুজব-অপতথ্য প্রচারে ১০ বছরের জেল, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা

সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডও মানহানির ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধের আওতা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছে। এ কারণে ধারা ২৫ থেকে ‘মানহানি’ ও ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’—দুটিই বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্লাস্ট।

প্রস্তাবিত ‘বুলিং’ বিধান নিয়েও আপত্তি রয়েছে সংগঠনটির। তাদের মতে, বর্তমানে যেভাবে বিষয়টি সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক প্রচারণা, ব্যঙ্গ, ভোক্তার অভিযোগ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, ভিন্নমত কিংবা বৈধ অন্য কোনো বক্তব্যও অপরাধের আওতায় চলে আসতে পারে। তাই বুলিংকে কেবল গুরুতর, ইচ্ছাকৃত ও বারবার সংঘটিত ডিজিটাল হয়রানি, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো আচরণের মধ্যে সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছে ব্লাস্ট। একই সঙ্গে সমালোচনা, ব্যঙ্গ, সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক বক্তব্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচার ও ভিন্নমত প্রকাশকে স্পষ্টভাবে এই অপরাধের বাইরে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত ধারা ২৬ক নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্লাস্ট। এ ধারায় ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’-সংক্রান্ত অপরাধের প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, কোনো তথ্য অযাচাইকৃত বা অসমর্থিত হলেই সেটি মিথ্যা হয়ে যায় না। জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবাধিকার সংকট বা দ্রুত পরিবর্তনশীল কোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সবসময় সম্ভব নয়। এমন তথ্য প্রকাশকে অপরাধের আওতায় আনা হলে সাংবাদিক, গবেষক ও নাগরিকেরা জনস্বার্থের বিষয়ে তথ্য প্রকাশে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

ব্লাস্ট আরও বলেছে, প্রস্তাবিত আইনে ‘মিথ্যা’, ‘বিকৃত’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্যের ধারণাগুলো যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। অথচ এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে অস্পষ্ট সংজ্ঞার সঙ্গে কঠোর শাস্তি যুক্ত হলে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার

অনলাইন তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, স্থানান্তর বা ব্লক করার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্লাস্ট। সংগঠনটির মতে, ‘অপতথ্য’ বা ‘গুজব’, জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য ক্ষতি, মানহানিকর বা রাষ্ট্রকে অপমানজনক মনে হওয়ার মতো বিস্তৃত কারণ দেখিয়ে তথ্য ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হলে তা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে ব্লক করা তথ্যের বিষয়ে বিদ্যমান স্বচ্ছতার বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া এবং ট্রাইব্যুনালের অনুমোদনের সময়সীমা পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ব্লাস্ট। তাদের মতে, তথ্য ব্লক বা অপসারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও বিচারিক তদারকি সরকারের জন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বাধা নয়; বরং নির্বাহী কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ ঠেকাতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা। তাই বিদ্যমান স্বচ্ছতা ও বিচারিক তদারকির ব্যবস্থা বজায় রেখে তা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ব্লাস্টের ভাষ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩-এর অভিজ্ঞতা থেকে সরকারের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। এসব আইনে অনলাইন বক্তব্যসংক্রান্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট বিধান থাকায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সমালোচক ও সাধারণ নাগরিকদের মতপ্রকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাই নতুন আইনে আগের বিতর্কিত বিধানগুলো নতুন নামে ফিরিয়ে না আনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার বুলিংয়ে বিপর্যস্ত নারী শিক্ষার্থীরা

বিজ্ঞপ্তিতে ব্লাস্ট আরও বলেছে, চূড়ান্ত সাইবার আইন এমন হতে হবে, যাতে প্রকৃত সাইবার হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতা, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমালোচনা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারও সুরক্ষিত থাকে। এ জন্য প্রস্তাবিত শাস্তির মাত্রা প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক কি না, তা পর্যালোচনা এবং অনলাইন তথ্য ব্লক ও অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগ ঠেকানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্লাস্ট।

সংগঠনটি মনে করে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন থাকলেও এর নামে বৈধ মতপ্রকাশের পথ সংকুচিত করা উচিত নয়। তাই প্রস্তাবিত সংশোধনী চূড়ান্ত করার আগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এমডিএএ/এসএইচএস

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হারিয়ে যাওয়া ফোনের তথ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ
হারিয়ে যাওয়া ফোনের তথ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, ফোনটি অন্যের হাতে গেলে সেখানে থাকা তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতি করা হতে পারে। তাই ফোন হারানো বা চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলার নতুন যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলার নতুন যাত্রা

মৌলভীবাজারে ১৫ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা

মৌলভীবাজারে ১৫ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার 

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার 

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সহিংস বিক্ষোভে আহত ৪০ জন প্রধান শিক্ষক
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সহিংস বিক্ষোভে আহত ৪০ জন প্রধান শিক্ষক

শিক্ষকের অভাব ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের সহিংস বিক্ষোভে প্রায় ১০০টি স্কুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৪০ জন প্রধান শিক্ষক আহত হয়েছেন। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
হামে মৃত্যু ৪, আক্রান্ত ১২১৪

হামে মৃত্যু ৪, আক্রান্ত ১২১৪

খাজনা মওকুফের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রধান সড়কে মাছ বিক্রির অভিযোগ

খাজনা মওকুফের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রধান সড়কে মাছ বিক্রির অভিযোগ

১০ হাজার সেনাসহ তৃতীয় রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১০ হাজার সেনাসহ তৃতীয় রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা থেকে কলকাতা ৬ ঘণ্টায়: সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক মৈত্রী এক্সপ্রেস
ঢাকা থেকে কলকাতা ৬ ঘণ্টায়: সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির প্রতীক মৈত্রী এক্সপ্রেস

এরপর থেকে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে ভ্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে মৈত্রী এক্সপ্রেস। বিশেষ করে বাংলাদেশের যাত্রীদের কাছে ট্রেনটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে এর চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এখন প্রশ্ন— কবে আবার চালু হবে মৈত্রী এক্সপ্রেস, আর চালু হলে কোন পথে চলবে?

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৯ দিনের ছুটি আসছে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৯ দিনের ছুটি আসছে

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপটা কি বেশিই শক্তিশালী

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপটা কি বেশিই শক্তিশালী

বীরাঙ্গনা ফুলমতি আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

বীরাঙ্গনা ফুলমতি আর নেই, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায়

0 Comments