রাত বাড়ে। বাড়তে থাকে ক্লান্তি। অধিকাংশ ঘরে যখন ঘুম নেমে আসে, তখনও জেগে থাকেন রাজধানী ঢাকার অনেক গৃহিণী। তাদের চোখে ঘুম নেই। একটাই অপেক্ষা তাদের, ঘড়ির কাঁটা কখন ছোঁবে রাত ১২টা।
এই অপেক্ষা বিশেষ কোনো উপলক্ষের জন্য নয়, অপেক্ষা রান্নার গ্যাসের জন্য। যত ক্লান্তি, বেদনা, সমস্যা থাক না কেন বাঙালি বাড়িতে তো রান্না হওয়া চাই!
দিনভর চুলা নিভু নিভু জ্বলে। সন্ধ্যার পরেও এমনই থাকে। তবে তাতে রান্না হয় না। সামান্য চা করতেও কেটে যায় আধাঘণ্টা-একঘণ্টা। অগত্যা রাত গভীর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকে না। দিনের বেলায় পাইপলাইনে গ্যাস না থাকা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে ঢাকা শহরে। কখনো রাত ১১টা কখনো রাত ১২টায় গ্যাস আসে। আবার ভোর হতে না হতেই চলে যায়। এর মধ্যেই রান্নার কাজ সারতে হয় গৃহিণীদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক মাস ধরে গ্যাস সরবরাহের এমন সংকট অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাই বদলে দিয়েছে। রান্নার সময় এখন আর পরিবারের সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারিত হয় না, নির্ধারিত হয় গ্যাস কখন আসবে তার ওপর।
একজন গৃহিণীর দিনের হিসাব তাই পাল্টে গেছে। সকালে সন্তানদের স্কুল, স্বামীর অফিস, সংসারের অন্য কাজ- সব সামলে দুপুরে রান্না করতে গিয়ে চুলা জ্বলে না। বিকেলেও একই অবস্থা। সন্ধ্যায়ও গ্যাসের দেখা নেই। শেষ পর্যন্ত রাত বাড়ার অপেক্ষা।
কোনো গ্রাহক যদি গ্যাস সরবরাহই না পান, তাহলে যে সেবা তিনি পাচ্ছেন না, তার জন্য তাকে অর্থ দিতে বাধ্য করা উচিত নয়। সংযোগ সচল রাখার জন্য একটি যৌক্তিক নির্দিষ্ট চার্জ থাকতে পারে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে গ্রাহকের কাছ থেকে গ্যাসের পুরো বিল নেওয়া উচিত নয়।-ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন
মিরপুরের এক গৃহিণী মাহমুদা আক্তার তার ভোগান্তির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আগে ভোরে কিংবা সন্ধ্যায় রান্না করে নিতাম। এখন দিনের সব কাজ শেষ করেও রান্নার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। গ্যাসের চাপ রান্না করার মতো পর্যায়ে আসতে আসতে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা বেজে যায়। তখন রান্না শুরু করি। রান্না শেষ করতে করতে আরও রাত হয়, এরপর ঘুমাতে যাই।’
মাহমুদা বলেন, ‘গ্যাসের জন্য এভাবে প্রতিদিন রাত জাগা খুবই কষ্টকর ও বিব্রতকর। অন্য কাজেও ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারি না। হঠাৎ কোনো অতিথি এলে তাকে স্বাভাবিকভাবে আপ্যায়ন করারও সুযোগ থাকে না। একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপনই যেন গ্যাসের অনিশ্চয়তার কাছে জিম্মি হয়ে গেছে।’
মাহমুদা অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরোপুরি গ্যাস ব্যবহার করতে না পারলেও মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা বিল দিতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করতে হয়। এতে আবার বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়। আমার স্বামীর সীমিত আয়ে এই দুটি খরচ একসঙ্গে বহন করা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই গ্যাসের চাপ বাড়ার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করি।’
মাহমুদার মতো নগরীর হাজারো গৃহিণী গ্যাস সংকটের কারণে এমন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক সময় তাদের মেজাজও খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। সহ্য ক্ষমতা কমছে। অল্প গ্যাসের চাপে মাঝেমধ্যে আধাঘণ্টার রান্না তিন-চার ঘণ্টাও লেগে যায়। কিন্তু এর কোনো সমাধানে যাচ্ছে না সরকার।
‘মাঝে মধ্যে এমন হয় যে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি গ্যাস নেই। রান্না শুরু করি ইন্ডাকশনে। তরকারি আধাসিদ্ধ অবস্থায় বিদ্যুৎও চলে যায়। অনেকসময় রান্নাটাই নষ্ট হয়ে যায়। কোনো উপায় থাকে না ফেলে দেওয়া ছাড়া।’ বলছিলেন রাজধানীর আরেক গৃহিণী শাহানাজ।
তিনি বলেন, ‘আবার এমন হয় যে রান্না শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে যায়, তরকারি প্লেটে নিয়ে খাওয়ার সময় দেখা যায়। কিছু সিদ্ধ হয়েছে, কিছু হয়নি। গ্যাস সংকটের কারণে রান্নার খরচও বেড়েছে অনেক। রান্নায় ঝামেলার পাশাপাশি খরচও বেড়েছে।’
যারা বাড়তি খরচ করে রান্নার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, এমন পরিবারগুলোরও ভোগান্তি কমছে না। রান্নার মাঝপথে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক সময় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। আগে থেকে কোনো ঘোষণা না থাকায় রান্না শুরুর পর বিদ্যুৎ চলে গেলে কাজ থেমে যাচ্ছে।
আমরা বিল পাই ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের, এখন আমরা সাপ্লাই দিতে পারছি ১২০ মিলিয়নের কাছাকাছি। পেট্রোবাংলা আমাদের জানিয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০-২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তখন সংকট কিছুটা কাটতে পারে।-তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান
কুড়িল এলাকার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্ত্রী রান্না শুরু করার কয়েক মিনিট পরই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। রান্না মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তরকারিটি ঠিকমতো সিদ্ধ হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুরো রান্নাটিই ফেলে দিতে হয়েছে।’
গ্যাসের সংকটের কারণে এমনিতেই বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি হচ্ছে। তার ওপর বিকল্প হিসেবে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করেও যদি রান্নার মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত সমস্যার সমাধান করা, জানান আমিরুল।
গ্যাসের সরবরাহ ঠিকঠাক না পেলেও নির্ধারিত মাসিক বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে। আবার রান্না চালিয়ে নিতে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ কিংবা এলপিজি। ফলে একই রান্নার জন্য একদিকে গ্যাসের বিল, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বা এলপিজির খরচ- দুই দিকের ব্যয়ই বহন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। বাড়তি এই খরচ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা নগরবাসীর জন্য যেন দ্বিগুণ বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী বেলাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জুন মাসে প্রিপেইড মিটারে খরচ ছিল এক হাজার ৬৭২ টাকা। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৯৬ টাকায়। রান্নার কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করায় এই অতিরিক্ত খরচ।’ অর্থাৎ ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে তার ব্যয়।
গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করায় ক্রমান্বয়ে বেড়েছে বিল
বেলাল বলেন, ‘আমার পোস্টপেইড গ্যাসের লাইন। গ্যাস প্রয়োজনের সময় থাকে না বললেই চলে। অথচ প্রতি মাসে দুই বার্নারের জন্য এক হাজার ৮০ টাকা নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।’
তার মতে, একদিকে রান্নার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় বিদ্যুৎ বিল বেড়েছে, অন্যদিকে গ্যাস ব্যবহার কম করেও নির্ধারিত বিল দিতে হচ্ছে। কখনো কিনতে হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। অর্থাৎ, একই রান্নার জন্য তাকে কার্যত তিন ধরনের জ্বালানি ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
পাশাপাশি ইন্ডাকশন কুকার ও অন্য উপযোগী রান্নার সরঞ্জাম কিনতেও প্রায় সাত থেকে আট হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে বলে জানান বেলাল।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘কোনো গ্রাহক যদি গ্যাস সরবরাহই না পান, তাহলে যে সেবা তিনি পাচ্ছেন না, তার জন্য তাকে অর্থ দিতে বাধ্য করা উচিত নয়। সংযোগ সচল রাখার জন্য একটি যৌক্তিক নির্দিষ্ট চার্জ থাকতে পারে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে গ্রাহকের কাছ থেকে গ্যাসের পুরো বিল নেওয়া উচিত নয়।’

সেবা না দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা ভোক্তা অধিকারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ বাড়িয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নগর পরিবারের জ্বালানি চাহিদা সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
এ কার্যক্রমে আমাদের দুর্বলতা আছে। এজন্য আমরা সংকটের মধ্যে পড়ি। আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও কাজে থাকতে হবে। সামগ্রিকভাবে এই কাজগুলো করতে পারলে সংকট কাটবে।-জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম
বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮২৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর বিপরীতে বর্তমানে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ৩শ এমএমসিএফডির মতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দৈনিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ১৫শ এমএমসিএফডি।

তবে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ প্রতিদিন ওঠা-নামা করে। সাম্প্রতিক হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ ছিল প্রায় দুই হাজার ৩২৮ এমএমসিএফডি।
পেট্রোবাংলার চাহিদা পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের সবচেয়ে বেশি চাহিদা বিদ্যুৎ খাতে। এ খাতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ৪১৫ এমএমসিএফডি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এরপর শিল্পখাতে চাহিদা প্রায় ৯৮৯ এমএমসিএফডি ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৭৪৩ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ, শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ার- এই তিন খাতেই মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৮২ শতাংশ প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া আবাসিক খাতে প্রতিদিন প্রায় ২৯০ এমএমসিএফডি, সার কারখানায় ২৩০ এমএমসিএফডি এবং সিএনজি খাতে প্রায় ১৩০ এমএমসিএফডি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বাণিজ্যিক ও চা-বাগান খাতে চাহিদা প্রায় ২৮ এমএমসিএফডি। সব মিলিয়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় তিন হাজার ৮২৫ এমএমসিএফডি।
আবাসিকে গ্যাস সংকট নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঢাকায় প্রচুর অবৈধ সংযোগ আছে। এজন্য প্রকৃত ডিমান্ড বলা যাচ্ছে না। আমরা বিল পাই ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের, এখন আমরা সাপ্লাই দিতে পারছি ১২০ মিলিয়নের কাছাকাছি।’
তিনি বলেন, ‘পেট্রোবাংলা আমাদের জানিয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০-২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তখন সংকট কিছুটা কাটতে পারে।’
কথা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবৈতনিক অধ্যাপক, ভূতত্ত্ববিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্যাস সংকট আজকের সমস্যা নয়, এটা বহু পুরোনো। এই সমস্যা সমাধানে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান-উত্তোলনের কার্যক্রম বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ কার্যক্রমে আমাদের দুর্বলতা আছে। এজন্য আমরা সংকটের মধ্যে পড়ি। আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও কাজে থাকতে হবে। সামগ্রিকভাবে এই কাজগুলো করতে পারলে সংকট কাটবে।’
আইএইচও/এএসএ/এমএফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।