জাতীয়

রাশিয়া-চীন জোট আরও শক্তিশালী, ‘দুর্বল’ যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
রাশিয়া-চীন জোট আরও শক্তিশালী, ‘দুর্বল’ যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?
রাশিয়া-চীন জোট আরও শক্তিশালী, ‘দুর্বল’ যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?

বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত বদলাচ্ছে শক্তির সমীকরণ। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাত, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছে। ইরানের সঙ্গেও দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি ভারতও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর মতো বিষয়।

রাশিয়া-চীন সম্পর্কের নতুন মাত্রা

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতিতে প্রায় একক প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির ফলে সেই একক আধিপত্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া আরও বেশি করে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। চীনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। দুই দেশের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। তিন দেশই পারমাণবিক শক্তিধর হওয়ায় তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইরান যুদ্ধেও বাড়ছে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান ব্রিকসের সদস্য হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাব ব্রিকসের আলোচনাতেও পড়ছে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও দীর্ঘদিনের।

আরও পড়ুন>
সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য
বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব মোদীর

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বাণিজ্য পরিবহনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এ অবস্থায় ইরানের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন

একসময় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ওয়াশিংটনের এশিয়া নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং শুল্কনীতি নিয়ে দিল্লির অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি নিয়েও নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ভারত ও চীনও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ফলে ভারত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রাখছে।

পশ্চিমা জোটেও বাড়ছে বিভাজন

শুধু প্রতিপক্ষ দেশগুলোর উত্থান নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের ভেতরেও নানা মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে শুল্কনীতি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন>
সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য
বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাব মোদীর

ন্যাটো নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাও মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান সবসময় ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। ফলে পশ্চিমা জোট আগের মতো একক অবস্থানে আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ব্রিকস কি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি?

নয়াদিল্লি ঘোষণায় ব্রিকস নেতারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্রিকসের দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে। এর লক্ষ্য সরাসরি ডলারকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থায় বিকল্প তৈরি করা।

ব্রিকস একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছ ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে।

ব্রিকস কি পশ্চিমবিরোধী জোট?

ব্রিকসকে অনেক সময় পশ্চিমবিরোধী জোট হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবতা আরও জটিল। চীন ও রাশিয়া অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ব্রিকসকে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু ভারতসহ অনেক সদস্য দেশ সরাসরি পশ্চিমবিরোধী অবস্থান নিতে আগ্রহী নয়।

ভারতের মূল লক্ষ্য কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা। ফলে ব্রিকস এখনো ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সামরিক বা রাজনৈতিক জোট নয়।

কোন পথে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামনে। রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠতা, ইরানের সঙ্গে সংঘাত, ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্য। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি, বড় সামরিক শক্তি এবং বিস্তৃত মিত্রজোটের অধিকারী। তাই রাতারাতি বিশ্ব নেতৃত্ব হারানোর সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বিশ্ব যে ধীরে ধীরে একক আধিপত্য থেকে বহুমেরু ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

রাশিয়া-চীনের ঘনিষ্ঠতা, ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার নীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন শক্তির কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। ব্রিকস সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। আর এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে কূটনীতি, বাণিজ্য ও মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, এনডিটিভি

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ৪ নেতাকে বহিষ্কার
নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ৪ নেতাকে বহিষ্কার

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চারজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানি সেনারা ইয়েমেন সীমান্ত অতিক্রম করবে না

সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানি সেনারা ইয়েমেন সীমান্ত অতিক্রম করবে না

শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিল ইসরায়েল

শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিল ইসরায়েল

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা, দুই গ্রামে উৎসবের আমেজ

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা, দুই গ্রামে উৎসবের আমেজ

ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
যশোর কারাগারে ভারতীয়র মৃত্যু

যশোর কারাগারে ভারতীয়র মৃত্যু

মার্কিনিদেরকে ইরানের হামলার ভয় দেখালেন ট্রাম্প

মার্কিনিদেরকে ইরানের হামলার ভয় দেখালেন ট্রাম্প

বিকাশের গাড়ি থেকে ৩ কোটি টাকা লুট, গুলিবিদ্ধ ১

বিকাশের গাড়ি থেকে ৩ কোটি টাকা লুট, গুলিবিদ্ধ ১

ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে শরৎ উৎসব
ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে শরৎ উৎসব

শরতের স্নিগ্ধতা ও বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যকে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদযাপিত হয়েছে ‘শরৎ উৎসব-২০২৬’।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১০৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১০৫

সৌদি আরবে বেসামরিক অবকাঠামোয় হুতিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদি আরবে বেসামরিক অবকাঠামোয় হুতিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

আমবাগানে মিলল পিস্তল-গুলি

আমবাগানে মিলল পিস্তল-গুলি

0 Comments