জাতীয়

প্যারিসে বিলাসিতা আর মিলানে ঐতিহ্য, তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরিচয় কী?

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্যারিসে বিলাসিতা আর মিলানে ঐতিহ্য, তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরিচয় কী?
প্যারিসে বিলাসিতা আর মিলানে ঐতিহ্য, তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরিচয় কী?

প্যারিসে বিলাসিতা আর মিলানে ঐতিহ্য, তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরিচয় কী
আজ ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্যাশন–দুনিয়ার নজর থাকবে লন্ডনে। নিউইয়র্কের পর শুরু হচ্ছে লন্ডন ফ্যাশন উইক। যেখানে পুরোনো ঐতিহ্যের পাশাপাশি নতুন করে সামনে আসবে ব্রিটিশ ফ্যাশনের সৃজনশীলতা ও নতুনত্ব। রইল বিস্তারিত...

প্যারিস মানেই বিলাসিতা, মিলান মানেই ঐতিহ্য। তাহলে লন্ডন ফ্যাশন উইককে কোন পরিচয়ে চেনা যায়? প্রশ্নটি এবারের আয়োজন ঘিরে যেন নতুন করে সামনে এসেছে। প্যারিস ও মিলানের দাপটে সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডনের ফ্যাশন দৃশ্য কিছুটা ম্লান হয়েছে। ব্রিটিশ কয়েকটি ব্র্যান্ডও প্রদর্শনীর জন্য লন্ডনের বদলে বেছে নিয়েছে প্যারিস, মিলান কিংবা অন্য শহর। তাই লন্ডনের ফ্যাশন–দুনিয়ায় এখন নতুন এক প্রশ্ন, ব্রিটিশ ব্র্যান্ডগুলো কি আবার ফিরবে নিজেদের শহরে?

ফ্যাশন উইক শিডিউলের ধারাবাহিকতায় ক্রেতা ও ফ্যাশনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাগত জানিয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা দেখানোর পালা যুক্তরাজ্যের রাজধানীর। কাজটি অবশ্য সহজ নয়। কারণ, লন্ডন ফ্যাশন উইকের পরই শুরু হবে মিলান ও প্যারিসের বড় বড় আয়োজন।

তবে লন্ডনের আকর্ষণ অন্য জায়গায়। জাঁকজমকের চেয়ে এই শহরের শক্তি তার সৃজনশীলতা, নতুন ভাবনা আর খানিকটা নিজস্ব ঢঙে এগিয়ে চলায়।

বিশ্বের বড় বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউসগুলোর অনেক সৃজনশীল পরিচালকের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো কেটেছে লন্ডনে। গিভেঞ্চির সারাহ বার্টন, ডিওরের জোনাথন অ্যান্ডারসন কিংবা হার্মেসের পুরুষদের পোশাক বিভাগের প্রধান গ্রেস ওয়েলস বোনার বড় দায়িত্বে যাওয়ার আগে লন্ডনেই নিজেদের নকশার ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছেন। তাই নতুন ডিজাইনারদের উঠে আসার ক্ষেত্র হিসেবে লন্ডনের ভূমিকা কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী লরা ওয়েয়ারের ভাষায়, ‘প্যারিস যদি বিলাসিতা আর মিলান যদি ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত হয়, তাহলে লন্ডন সৃজনশীলতা ও নতুনত্বের শহর।’ তাঁর মতে, অন্য শহরের মতো হওয়ার চেষ্টা না করে লন্ডনের উচিত নিজের শক্তিকেই কাজে লাগানো। এবারের আয়োজনে তাই নজর থাকবে কয়েকজন উদীয়মান ডিজাইনারের দিকেও। তবে নতুন ডিজাইনারদের জন্য শুধু সৃজনশীলতাই যথেষ্ট নয়, টিকে থাকার লড়াইটিও গুরুত্বপূর্ণ।

গত এক দশকে পাইকারি বিক্রি ও একাধিক ব্র্যান্ডের পণ্যের দোকানের পরিসর কমে যাওয়ায় নতুন ব্র্যান্ডগুলোর বড় পরিসরে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগও কমেছে। তাই ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে নিজস্ব বাজার গড়ে তোলার পথটিই অনেক উদীয়মান ব্র্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিলও কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে।

লরা ওয়েয়ার জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারের পরিবর্তন ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর ব্যবসা বড় করার সুযোগে বড় প্রভাব ফেলেছে। লন্ডনে ব্যবসায়িক কর ও বাড়িভাড়ার খরচও একটি সমস্যা। এ কারণে ডিজাইনারদের বিকল্প পথে মার্কেটে পৌঁছানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লন্ডনকে আবারও ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টায় এবারের আয়োজনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের প্রত্যাবর্তন। ২০০০ সাল থেকে প্যারিসে প্রদর্শনী করে আসা ব্র্যান্ডটি এবার ফিরছে লন্ডনে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোয় প্যারিসের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে ব্র্যান্ডটির সৃজন খুব বেশি আলোচনায় আসেনি। সেই দিক থেকে লন্ডনে ফিরে আসার সিদ্ধান্তটি তাদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী রোববার সন্ধ্যায় আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের প্রদর্শনী ঘিরে তাই আগ্রহ থাকবে আরও একটি কারণে। অন্য যেসব ব্রিটিশ ব্র্যান্ড লন্ডনের বদলে মিলান বা অন্য শহরে প্রদর্শনী করছে, তাদের কেউ নিজেদের শহরে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

আগামী সোমবার রাতে লন্ডন ফ্যাশন উইকের সমাপ্তি টানবে বারবেরি। দীর্ঘ দুই বছর কঠিন সময় পার করার পর চলতি বছরের মে মাসে লাভজনক অবস্থানে ফেরার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাজারে বিক্রি বৃদ্ধিই এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ব্রিটিশ পরিচয়কে খানিকটা মজার ও নাটকীয় ভঙ্গিতে তুলে ধরার কৌশল অর্থাৎ ট্রেঞ্চ কোট, অলিভিয়া কোলম্যান আর চায়ের কাপ ব্র্যান্ডটির নতুন ভাবমূর্তির অংশ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে এবারের লন্ডন ফ্যাশন উইক যেন নিজের পরিচয়টিই নতুন করে মনে করিয়ে দিতে চাইছে। প্যারিসের বিলাসিতা কিংবা মিলানের ঐতিহ্যের সঙ্গে পাল্লা না দিয়ে সৃজনশীলতা ও নতুনত্বকে সামনে রেখে নিজের জায়গা তৈরি করাই লন্ডনের শক্তি। আর সেই শক্তির ওপর ভর করেই এবার প্রশ্ন উঠছে, ক্ল্যাসিক ও অভিজাত অথচ নতুনের জয়গান গাওয়া ব্রিটিশ ফ্যাশন কি আবার লন্ডনেই ফিরছে?

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কারাগারে
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব কারাগারে

সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
নীলফামারীতে পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৪ 

নীলফামারীতে পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৪ 

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, থাকছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার 

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার 

ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত
ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট একাই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ভাইয়ের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

ভাইয়ের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

এসআরবির বিরুদ্ধে দুই ছেলেকে ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ অভিযোগ বীর মুক্তিযোদ্ধার

এসআরবির বিরুদ্ধে দুই ছেলেকে ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ অভিযোগ বীর মুক্তিযোদ্ধার

ঢাকাকে বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকাকে বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

আ. লী‌গ নেতা জাফর উল্লাহর ১৫৫ কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ কর‌তে আ‌বেদ‌নের সিদ্ধান্ত দুদ‌কের
আ. লী‌গ নেতা জাফর উল্লাহর ১৫৫ কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ কর‌তে আ‌বেদ‌নের সিদ্ধান্ত দুদ‌কের

নি‌ষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর ১৫৫ কোটি টাকার সম্পদ ফ্রিজ করতে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নি‌য়ে‌ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
৪ দিন ধরে কিয়েভের সেতুগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া

৪ দিন ধরে কিয়েভের সেতুগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া

মুস্তাফিজ পরবর্তী সিরিজেই কামব্যাক করবে: নাজমুল

মুস্তাফিজ পরবর্তী সিরিজেই কামব্যাক করবে: নাজমুল

ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢামেকে বিশেষ চিকিৎসাসেবার উদ্যোগ

ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢামেকে বিশেষ চিকিৎসাসেবার উদ্যোগ

0 Comments