সমকাল পত্রিকার বরিশাল অফিসের সাবেক ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জির আত্মহত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। গত বছরের আগস্টে সিনিয়র সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের আত্মহত্যার পরও একই প্রশ্ন উঠেছিল।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল শহরের প্যারারা রোডে সমকাল কার্যালয় থেকে পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ৫৭ বছর বয়সী পুলক চ্যাটার্জি ২০২৩ সাল পর্যন্ত সমকালের ব্যুরোপ্রধান ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। একটি চিরকুটে তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও রোগ-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পারার কথা লিখে তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেছেন। আরেকটি চিরকুটে তিনি সমকালে তার পাওনার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন: ‘যদি পার সমকালে আমার পাওনা টাকা নিয়ে তোমার বৌদিকে পৌঁছে দিও।’
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর সংবাদে সমকাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তার পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সমকালের বিজ্ঞাপন ও আইটি বিভাগের অনাপত্তি নিয়ে তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। গত মাসে দুই বিভাগ অনাপত্তিপত্র হিসাব বিভাগে জমা দেয় এবং তারা হিসাবটি চূড়ান্ত করছিল। প্রশ্ন হলো, ২০২৩ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পরে তার পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বা অনাপত্তিপত্র দিতে এত বছর লাগল কেন? সরকারি অফিসেও কি এই পরিমাণ আমলাতন্ত্র আছে? তাছাড়া যদি গত মাসে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, সেটি কি পুলক চ্যাটার্জি জানতেন না? তার চিরকুটের ভাষায় এটা প্রমাণিত হয় না যে, তার পাওনা পরিশোধের বিষয়ে তিনি আদৌ কিছু জানতেন বা তাকে জানানো হয়েছে। তার মানে নিজের জীবন উৎসর্গ করে পুলককে তার পাওনা আদায় করতে হলো!
তার আত্মহনন এবং চিরকুটে সমকালে পাওনার প্রসঙ্গ না থাকলে কর্তৃপক্ষ এই ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করত কি না, সন্দেহ আছে। কেননা তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পরে সমকালের সাবেক একাধিক সাংবাদিক ফেসবুকে তাদের পাওনা না পাওয়ার গল্প লিখেছেন—যা সমকালের মতো একটি জনপ্রিয় পত্রিকা এবং পত্রিকার মালিকের পেশাদারি ও মানবিকতাকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও সাংবাদিককে বঞ্চিত করার ঘটনায় দেশের সব গণমাধ্যমের চরিত্র কমবেশি একই রকম। হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান পেশাদারি মেনে চলে। নিয়ম মেনে বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেলেও বা চাকরিচ্যুত হলেও ঠিকঠাক তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু গণমাধ্যমে সেই সংখ্যাটি কত বা কত শতাংশ—সেটি বিরাট প্রশ্ন।
পুলক চ্যাটার্জিকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। কৈশোরে আমাদের সাংবাদিকতার শুরুর দিনগুলোয় তিনিসহ বরিশাল শহরে তার সমসাময়িক অন্য সাংবাদিকদের মধ্যে লিটন বাশার, শওকত মিল্টন, আখতার ফারুক শাহীন ও তৌফিক মারুফরা আমাদের কাছে ছিলেন তারকাসমান। তাদের মধ্যে ২০১৭ সালে লিটন বাশারের মৃত্যু হয় আকস্মিকভাবে। তিনি ইত্তেফাকের বরিশাল ব্যুরোর রিপোর্টার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পরে যখন তার সমকালে পাওনা নিয়ে ফেসবুকে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, তখন লিটন বাশারের ছোট ভাই সাংবাদিক ইশতিয়াক ইমনও ফেসবুকে লিখেছেন, লিটন বাশারের পাওনা টাকাও ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেনি। একইভাবে আরও একাধিক পত্রিকার সাবেক সাংবাদিকরাও নিজেদের পাওনা না পাওয়ার কথা লিখেছেন—যা মূলত একটা প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে।
বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রধান চ্যালেঞ্জই হলো পেশাগত অনিশ্চয়তা। যেকোনো সময় যেকোনো অজুহাতে কিংবা যেকোনো কারণে যে কারও চাকরি চলে যেতে পারে। মূলধারার পত্রিকার সাংবাদিক হলে তিনি ওয়েজবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কিছু আর্থিক সুবিধা পেলেও টেলিভিশন এবং অনলাইনে কোনো ওয়েজবোর্ডও নেই। ফলে কেউ তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত হলে কোনো আর্থিক সুবিধা নাও পেতে পারেন। না পেলে তিনি সর্বোচ্চ শ্রম আদালতে যেতে পারেন। যদিও অনেকেই এসব ঝামেলায় যেতে চান না। অনেকে হতাশ হয়ে পেশা ছেড়ে দেন। সম্ভব হলে কেউ দেশও ছাড়েন। পুলক চ্যাটার্জির বন্ধু তৌফিক মারুফ ও শওকত মিল্টন আরও আগেই দেশ ছেড়েছেন। স্বাধীন ও সামাজিকভাবে সম্মানজনক পেশা সাংবাদিকতার এটি সবচেয়ে অন্ধকার দিক—যেটি পুলক চ্যাটার্জি বা বিভুরঞ্জনদের আত্মহননের আগে টের পাওয়া যায় না।
সিনিয়র সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছিল, তাদের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা মূলত তাদের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তাই এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গত পাঁচ দশকের গণমাধ্যম বিকাশে সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার দিকে তেমন নজর দেওয়া হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। তবে তাদের মধ্যে খুব কমই সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধার প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিয়েছে।
যে সাংবাদিকরা অন্যের অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার তথা যেকোনো অধিকার লঙ্ঘনের খবর দেশ ও বিশ্বকে জানান, তাদের নিজেদের অধিকারই প্রতিনিয়ত ভূলুণ্ঠিত হয়। কিন্তু তাদের সেই অধিকার নিয়ে অন্য কোনো পেশার লোক রাস্তায় নামে না বা সেটা বাস্তবসম্মতও নয়। ফলে সাংবাদিকের নিজের অধিকার হরণের খবর সুইসাইড নোট আর ব্যক্তিগত ডায়েরি ছাড়া আর কোথাও সম্ভবত লেখা হয় না।
নির্মম সত্য হলো, যে সাংবাদিকরা অন্যের অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার তথা যেকোনো অধিকার লঙ্ঘনের খবর দেশ ও বিশ্বকে জানান, তাদের নিজেদের অধিকারই প্রতিনিয়ত ভূলুণ্ঠিত হয়। কিন্তু তাদের সেই অধিকার নিয়ে অন্য কোনো পেশার লোক রাস্তায় নামে না বা সেটা বাস্তবসম্মতও নয়। ফলে সাংবাদিকের নিজের অধিকার হরণের খবর সুইসাইড নোট আর ব্যক্তিগত ডায়েরি ছাড়া আর কোথাও সম্ভবত লেখা হয় না।
বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী সব পেশার শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও গত ৫৫ বছরে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এর মূল কারণ, অন্যান্য পেশায় শ্রম আইন যতটা প্রয়োগ হয়েছে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তা একেবারেই অপ্রতুল। সংবাদপত্রের ক্ষেত্রেও নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (কন্ডিশন্স অব সার্ভিস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর বিধানসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়নি। এছাড়া প্রেস কাউন্সিলকেও সাংবাদিকদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার বিষয়ে কোনো ভূমিকা বা এখতিয়ার দেওয়া হয়নি।
সাংবাদিক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সময় ওয়েজ বোর্ড গঠিত হলেও এর বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কিছু পত্রিকা এখনো পঞ্চম ওয়েজ বোর্ডের বেতন কাঠামো অনুসরণ করে, আবার কিছু প্রথম সারির পত্রিকা নির্ধারিত কাঠামোর চেয়ে বেশি সুবিধা দেয়। নবম ওয়েজ বোর্ড ঘোষিত হলেও তা শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসে পূর্ণভাবে এবং ইংরেজি দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে আংশিকভাবে কার্যকর হয়েছে, অন্য কোথাও নয়। সংবাদপত্র মালিক সমিতির মামলায় এর বাস্তবায়ন গত ছয় বছর ধরে আটকে আছে। এছাড়া মালিকদের সংগঠন (নোয়াব) ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে দুর্নীতির কারণে অসম প্রতিযোগিতার অভিযোগ এনেছে।
বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির উচ্চ হার ও অন্যান্য কারণে জীবনযাপনের ব্যয় যে হারে বেড়েছে, সেই তুলনায় সংবাদকর্মীদের প্রকৃত মজুরি মোটেও বাড়েনি। ঢাকার বাইরে জীবনযাপনের ব্যয় কিছুটা কম হলেও সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিদের যে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়, তাও বর্তমান জীবনযাপনের ক্ষেত্রে একেবারেই অপ্রতুল। অনেক ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরের সংবাদদাতাদের কোনো বেতনই দেওয়া হয় না।
সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষায় বেশ কিছু সুপারিশ করেছে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন। যেমন সাংবাদিকদের স্থায়ী চাকরির শুরুতে একটি অভিন্ন ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যা হবে সরকারি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মূল বেতনের সমান; ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যধিক বেশি হওয়ার দরুন ঢাকায় নিয়োজিত সাংবাদিকরা মূল বেতনের সঙ্গে ‘ঢাকা ভাতা’ (অ্যালাউন্স) প্রাপ্য হবেন; মূল বেতনের বাইরে সাংবাদিকরা বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব ভাতা, ঝুঁকি ভাতা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ফোন বিল, ইন্টারনেট বিল, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অবসর ভাতা কিংবা গ্র্যাচুইটি পাবেন; প্রতি বছরের শুরুতে পূর্ব বছরের গড় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবাদিকদের বেতন বাড়বে ইত্যাদি।
এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে সাংবাদিকের পেশাগত অনিশ্চয়তা কমবে এবং তার মধ্য দিয়ে তাদের অন্তত আর্থিক দুশ্চিন্তা হ্রাস পাবে। কিন্তু এই সুপারিশগুলো যে বাস্তবায়ন হবে না, তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই। তখনই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের সমালোচনা এসেছে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের তরফে।
বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আবারও গণমাধ্যম সংস্কারের প্রশ্নটি নানা ফোরামে আলোচিত হচ্ছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন হোক বা না হোক, গণমাধ্যমে পেশাদারি তথা সাংবাদিকদের চাকরির সুরক্ষা এবং একটি মোটামুটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ যাতে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নাহয় আজ বিভুরঞ্জন, কাল পুলক চ্যাটার্জি এবং পরশু অন্য কোনো সাংবাদিককে সুইসাইড নোট লিখে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে পড়তে হবে—যা শুধু গণমাধ্যমের নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের মুখোশটাই খুলে দেবে।
লেখক : সাংবাদিক ও লেখক।
এইচআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দল-মতনির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনটি গঠন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে এই পরিবারের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তাঁর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি।
মাদকদ্রব্যসহ আটক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
করোনা মহামারির সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে এখনো টিটু মিয়ার চোখে ভেসে ওঠে অনিশ্চয়তার ছবি। কাজ না থাকায় সংসার চালানোর মতো টাকাও ছিল না তার কাছে।