রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে চলছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। মূল গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই কোথাও নানা ধরনের খাবারের আয়োজন, আবার একটু এগোলেই ভেতরের হলে চলছে প্রযুক্তি, গবেষণা আর নতুন নতুন ভাবনার প্রদর্শনী।
রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে চলছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। মূল গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই কোথাও নানা ধরনের খাবারের আয়োজন, আবার একটু এগোলেই ভেতরের হলে চলছে প্রযুক্তি, গবেষণা আর নতুন নতুন ভাবনার প্রদর্শনী। এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরে দেখলেই বোঝা যায়, আয়োজনটি শুধু প্রযুক্তির প্রদর্শনী নয়; এখানে তরুণদের ভাবনা, গবেষণা আর সৃজনশীলতারও জায়গা হয়েছে।

‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় অংশ নিয়েছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্ভাবক ও গবেষকেরা।

প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও ধারণা তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। তবে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি নানা প্রকল্প। নতুন কী তৈরি হয়েছে, কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং সেটি মানুষের কাজে কীভাবে লাগতে পারে—এসব জানতে আগ্রহ নিয়ে স্টলগুলো ঘুরছেন দর্শনার্থীরা।
কোথাও চলছে রোবটের প্রদর্শনী, কোথাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির পরিচয়। আবার কোনো স্টলে পরিবেশবান্ধব নতুন ধারণা নিয়ে ব্যস্ত তরুণ উদ্ভাবকেরা।

শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রতিটি কাজের মধ্যেই যেন নিজেদের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির একটি উদ্যোগ যেমন সহজেই নজর কাড়ে।

‘সুপার রুফ ফর ঢাকা’ নামের এই ধারণায় ঢাকার ভবনের ছাদকে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ছাদ-কৃষির মাধ্যমে শহরকে আরও সবুজ করে তোলার পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে। শহরের ভবনের ছাদ যে শুধু একটি খোলা জায়গা নয়, সেটিকে নানা কাজে ব্যবহার করা সম্ভব—এই ভাবনাটিই এখানে নতুনভাবে সামনে আসে।
আরেকটি উদ্যোগে দেখা যায় সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব ভ্রাম্যমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প। গ্রামীণ এলাকা বা দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে পানি বিশুদ্ধ করার কাজে এই ধরনের উদ্যোগ কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেটিও তুলে ধরা হচ্ছে মেলায়।


জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে আবার অন্য রকম অভিজ্ঞতা। গবেষণার উদ্দেশ্যে ল্যাবে সংরক্ষিত বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ও সাপের নমুনা প্রদর্শন করা হয়েছে সেখানে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রদর্শিত সাপ ও মাছের প্রজাতিগুলো বাংলাদেশে নতুন; এর আগে এগুলো কেউ দেখেনি। স্টলটিতে তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহও ছিল বেশ। একেকটি স্টল যেন একেকটি আলাদা গল্প বলছে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগও বেশ চোখে পড়ে। ‘শূন্য’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আখের ছোবড়া থেকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্লেট ও গ্লাস প্রদর্শন করছে। ফেলে দেওয়া আখের অংশ ব্যবহার করে একবার ব্যবহারযোগ্য এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।


আছে ওটস দিয়ে তৈরি খেয়ে ফেলা যায় এমন কাপও। ফেলে দেওয়া উপকরণকে কীভাবে নতুনভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই ভাবনাটিই এই উদ্যোগকে আলাদা করে তোলে।
শুধু বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির মধ্যেই অবশ্য মেলার গল্প আটকে নেই। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির একটি স্টলে শিক্ষার্থীদের নকশা করা ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পের কিছু সৃজনশীল কাজও দেখা যায়। ফলে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে যেতে যেতে কখনো প্রযুক্তি, কখনো গবেষণা, আবার কখনো নকশা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে।

মেলার পরিবেশটাও বেশ প্রাণবন্ত। দর্শনার্থীরা স্টলে স্টলে ঘুরছেন, নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গল্প জানতে চাইছেন। তরুণ উদ্ভাবকেরাও নিজেদের তৈরি প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, কোথায় ব্যবহার করা যায় এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আরও উন্নত করা সম্ভব—এসব বিষয় বুঝিয়ে বলছেন। বিশেষ করে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রদর্শনী ঘিরে আগ্রহটা বেশ চোখে পড়ার মতো।
তবে নভোথিয়েটারের নিচতলার এই আয়োজনের বাইরে গিয়ে আরও একটু ঘুরলে পাওয়া যায় মেলার আরেকটি আলাদা দিক। সেখানেই শিল্পী ও উদ্যোক্তারা বসেছেন তাঁদের শিল্প ও নানা ধরনের সৃজনশীল পণ্যের পসরা নিয়ে।

উদ্ভাবন বলতে শুধু বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারকেই বোঝায় না, আমাদের দেশীয় কারুশিল্প ও সৃজনশীল কাজও যে নতুন ভাবনার অংশ হতে পারে, সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই অংশটি।
ছোট পরিসরে এখানে বসেছে ‘স্টুডিও টোকাই’ নামের একটি সৃজনশীল ও নান্দনিক প্ল্যাটফর্ম।


একদিকে চলছে গান ও বাস্কিং, অন্যদিকে দুই পাশে সাজানো বিভিন্ন শিল্পী ও উদ্যোক্তার কাজ।


কোথাও বই ও নানা ধরনের পোস্টার, আবার পছন্দের বই অর্ডার করে আনার সুযোগও রয়েছে।
পাশেই ‘কিচিরমিচির’ নামের একটি উদ্যোগ। নারিকেলের শক্ত অংশ, শুকনো ফল বা বীজ, বাদামের খোসার মতো নানা প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তাঁরা তৈরি করেন লোকজ বাদ্যযন্ত্র।


পাশাপাশি আছে হাতে তৈরি কাঠের নানা নকশা ও রঙের আয়না, প্যাচওয়ার্কের প্যান্ট, ফতুয়া এবং তাঁদের অন্যতম সিগনেচার পণ্য কাপড়ের তৈরি আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল টুপি।
এর পাশেই টি-শার্ট ও ফতুয়ার বাজেটবান্ধব সংগ্রহ নিয়ে বসেছে আরেকটি উদ্যোগ। কোথাও চলছে গ্রাফিতি ও ক্যারিকেচারের আঁকিবুঁকি।


‘হ্যালো পপ স্টুডিও ’-এর উদ্যোগে থাকা ব্যাগ, বটম ও ফতুয়াগুলোও বেশ নজর কাড়ে। সব মিলিয়ে এই অংশটুকু যেন প্রযুক্তি আর উদ্ভাবনের মেলার মধ্যে সৃজনশীলতার আরেকটি ছোট্ট জগৎ তৈরি করেছে।আজ মেলার শেষ দিন।


প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে আয়োজনটি। তাই নতুন প্রযুক্তি, তরুণদের ভাবনা, গবেষণা, সৃজনশীল কাজ আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা—সব একসঙ্গে দেখতে চাইলে নভোথিয়েটারে একবার ঢুঁ মেরে আসাই যায়।

তিন দিনের এই আয়োজনের শেষ দিনে এসে হয়তো আপনিও খুঁজে পাবেন এমন কোনো নতুন ভাবনা, যা মেলা শেষে শুধু চোখে দেখা একটি প্রদর্শনী হয়ে থাকবে না, বরং মনে প্রশ্ন জাগাবে—এই ভাবনাটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরেকটু সহজ, সুন্দর কিংবা পরিবেশবান্ধব করতে পারে কি?
ছবি: হালফ্যাশন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, এই সম্পদ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়। এটি পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের আমানত। এই আমানত সুরক্ষার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বর্তমানে এই সম্পদ বেআইনি হস্তক্ষেপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে।
ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬-এ ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার অর্জন করেছেন।
ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে ‘নসীব’ নামটি বেশ পরিচিত। ১৯৮৪ সালে মোমতাজ আলী পরিচালিত এবং উজ্জ্বল-শাবানা অভিনীত ‘নসীব’ সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল।