অষ্টম শতকের অনন্য কীর্তি কুমিল্লার শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘর হারাতে বসেছে তার পুরোনো জৌলুশ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, প্রচারণার অভাব আর অবকাঠামোগত নানা সংকটে কমছে পর্যটক-দর্শনার্থী। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। প্রতিবছর রাজস্ব আয়ও কমছে।
শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের সূত্রমতে, ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দলভিত্তিক ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে দর্শনার্থী বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শালবন বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল চার লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৮ জন। তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৮২১ টাকা। তবে পরের অর্থবছরে (২০২৪-২৫) দর্শনার্থী কমেছে ২২ হাজার ৭৬২ জন। এসময় দর্শনার্থী এসেছে চার লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৬ জন। ওই অর্থবছরে ১১ লাখ ৯৬ হাজার ২০৪ টাকা রাজস্ব কমে আয় হয় এক কোটি ২৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৭ টাকা।
‘আমাদের দেশে হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে শালবন বৌদ্ধ বিহার অন্যতম। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরা উচিত। এতে বিদেশি পর্যটকের আগমন ও রাজস্ব দুটোই বাড়বে। আমার মনে হয়েছে, পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ড থেকে প্রচার-প্রচারণায় ভাটার কারণে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম’
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়ছে চার লাখ ৩ হাজার ২৭২ জনে। রাজস্ব আয় হয়েছে এক কোটি ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬৭ টাকা। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা ও রাজস্ব আয়।

সরেজমিন শালবন বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সবুজ ঘাসের গালিচা। বিভিন্ন রঙের ফুল, পাতাবাহার ও রঙ্গন গাছ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে বৌদ্ধ বিহারে আঙিনায়। ফুল বাগানের পরিচর্যা করছেন মালিরা। দর্শনার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন। বিহারের পশ্চিম পাশে দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চগুলো এবং সিমেন্টের ঢালাই করা পথের অবস্থা বেহাল।
স্ত্রীকে নিয়ে কুমিল্লার বরুড়া থেকে ঘুরতে এসেছেন নাহিদ হাসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘শালবন বৌদ্ধ বিহারে একাধিকবার এসেছি। এর সৌন্দর্য বারবার আমাদের মুগ্ধ করে। তবে কোটবাড়িতে আগের মতো এখন জৌলুশ নেই। তাছাড়া একটা কমন সমস্যা হলো আশপাশে ভালো মানের খাবারের দোকান নেই। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ড এদিকে নজর দিলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করি।’
ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো পুরাকীর্তি শালবন বৌদ্ধ বিহার ঘুরতে এসেছেন সাইফুল ইসলাম ও তার তিন বন্ধু। সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য জানতে হলে এ ধরনের স্থানে ভ্রমণ করা প্রত্যেক মানুষের উচিত। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রথম দিনের শিক্ষা সফর এসব স্থানে হলে শিক্ষার্থীরা সচিত্র ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে সহজেই জানতে পারবে।’

কলেজশিক্ষক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, ‘আমাদের দেশে হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে শালবন বৌদ্ধ বিহার অন্যতম। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরা উচিত। এতে বিদেশি পর্যটকের আগমন ও রাজস্ব দুটোই বাড়বে। আমার মনে হয়েছে, পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ড থেকে প্রচার-প্রচারণায় ভাটার কারণে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম।’
কথা হয় কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবিরের সঙ্গে। তিনি জানান, কুমিল্লার কোটবাড়ি সভ্যতা প্রায় ১২শ বছর আগের। মূলত সমতট অঞ্চল এই সভ্যতাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে।
আহসানুল কবির বলেন, ‘এই সভ্যতাকে ধরে রাখার জন্য এবং পর্যটনকেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সরকারের যতটুকু আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন, আমরা নিকট অতীতে কারও মধ্যে সেই আন্তরিকতা দেখিনি। সমন্বিত পরিকল্পনা করে পাঁচতারকা মানের হোটেলসহ ভালো মানের কিছু হোটেল করা যেতে পারে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নিজস্ব উদ্যোগেও মোটেল করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ দ্রুত করতে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ওভারপাস বা আন্ডারপাস করা খুবই প্রযোজন। কারণ এই স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি। তাছাড়া মহাসড়ক পাড়ি দিতে দীর্ঘসময় অপেক্ষাও করতে হয়। এতে মানুষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’
সন্ধ্যার পর কোটবাড়ি এলাকায় পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন জানিয়ে এই ইতিহাস গবেষক বলেন, ‘পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিসহ আরও নজরদারি জোরদার করা উচিত।’
পর্যাটকদের কাছে শালবন বিহার ও জাদুঘরের গুরুত্ব বাড়াতে বুকলেট, পুস্তিকা, বিলবোর্ড এবং ডিজিটাল প্রচার বাড়ানোর প্রযোজন বলে মনে করেন এই গবেষক।

এ বিষয়ে শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. শাহীন আলম বলেন, ‘২০২৪ সালের পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা ও রাজস্ব আয় কমেছে। তবে দর্শনার্থী ও রাজস্ব আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ময়নামতি জাদুঘরের পাশে একটি শিশু কর্নার স্থাপন করা হচ্ছে। গাড়ি রাখার মাঠের উত্তর পাশে ফুডকোর্ট এবং পশ্চিম পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মিলনায়তন স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আশা করছি রাজস্ব আয় বাড়বে।’
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে জাদুঘরের কাস্টডিয়ান বলেন, সিসিটিভির মাধ্যমেও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। এখন আগের মতো হকার ও ক্যামেরাম্যানদের উৎপাত নেই। পর্যটন পুলিশ, আনসার ও সিভিল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জেডআইপি/এসআর/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রুপালি জগতে গ্ল্যামারের বিকল্প নেই—এ কথা বহু দিন ধরেই প্রচলিত!
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহাকারী নয়; প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হিসেবে হতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধপন্থায় প্রভাষক, সহকারী রেজিস্ট্রারসহ একাধিক পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বিপুল অংকের টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসির উদ্দিন, সাবেক রেজিস্ট্রার ড. মো. নূরুদ্দিন আহমেদ ও মো. আব্দুস সালামসহ মোট ১২ জনকে আসামি করে চারটি পৃথক মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।