নতুন প্রজন্মের প্রেমের গল্পে কি যৌনতার জায়গা দখল করছে খেলাধুলা? নেটফ্লিক্সের নতুন টিন ড্রামা ‘ক্রু গার্ল’–এর জনপ্রিয়তা এবং সাম্প্রতিক আরও কিছু রোমান্টিক সিরিজের দিকে তাকালে এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। এসব গল্পে প্রেম আছে, আকর্ষণ আছে, শরীরী টানও আছে; কিন্তু তা প্রকাশ পাচ্ছে নৌকাবাইচ, হকি, রাগবি, আইস ড্যান্সিং, সাঁতার কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার মধ্য দিয়ে।
প্রেমিক-প্রেমিকার ঘনিষ্ঠতা দেখাতে এখন আর সব সময় চুম্বন বা যৌন দৃশ্যের প্রয়োজন হচ্ছে না। একই দলে খেলা, একসঙ্গে অনুশীলন করা, প্রতিযোগিতার চাপ ভাগ করে নেওয়া, কিংবা কোনো হ্রদের ধারে পাশাপাশি বসে থাকাও হয়ে উঠছে প্রেমের ভাষা। বিশেষ করে জেন–জি দর্শকদের জন্য তৈরি সিরিজে এই পরিবর্তনটি বেশ স্পষ্ট।
‘ক্রু গার্ল’–এর গল্পে প্রেম, অর্থ আর নৌকাবাইচ
নেটফ্লিক্সের ‘ক্রু গার্ল’–এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ১৬ বছর বয়সী টিগান তাও। সে একা নৌকাবাইচে অংশ নেওয়া চ্যাম্পিয়ন। খেলাটির প্রতি তার নিষ্ঠা প্রবল। কিন্তু হোটেল ব্যবসায়ী বাবা আর্থিক অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে গেলে টিগানের জীবন একমুহূর্তে বদলে যায়।
মা এলাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যেতে হয়। নতুন ঠিকানা নিউ ইংল্যান্ডের একটি পুরোনো, প্রায় ভেঙে পড়া বাড়ি। পরিচিত জীবন, বন্ধু, স্কুল—সবকিছু পেছনে ফেলে নতুন জায়গায় শুরু করতে হয় টিগানকে।
বাবার তৈরি একটি শিক্ষা ট্রাস্টের সহায়তায় টিগান ভর্তি হয় ইস্টন প্রেপ স্কুলে। কিন্তু সেখানে মেয়েদের কোনো নৌকাবাইচ দল নেই। ফলে নিজের পছন্দের খেলাটি চালিয়ে যেতে তাকে ছেলেদের দলে যোগ দিতে হয়। দলের মূল খেলোয়াড় না হয়ে সে ‘কক্সওয়েন’ হিসেবে কাজ করে—নৌকায় বসে অন্যদের গতি, ছন্দ ও সমন্বয় ঠিক রাখার দায়িত্ব নেয়।

নতুন স্কুলে টিগানের সামনে শুধু খেলাধুলার চ্যালেঞ্জ নয়, তৈরি হয় প্রেমের জটিলতাও। দলের দুই ছেলের প্রতি তার আকর্ষণ তৈরি হয়। একজন ক্যাম ডিলিংগার। সে ছোট শহরের শ্রমজীবী পরিবারের ছেলে। শান্ত, ভদ্র ও সহানুভূতিশীল ক্যাম টিগানের প্রতি আন্তরিক। অন্যদিকে জশ রেজিস ধনী পরিবারের সন্তান। সে দাম্ভিক, উচ্ছৃঙ্খল এবং নিজের অবস্থান নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী।
জশের পরিবার বিমান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। নিজের চাচাতো ভাই রাইডারের সঙ্গে পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে তার প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে জশের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রেম, অর্থ ও পারিবারিক ক্ষমতার লড়াই একসঙ্গে কাজ করে।
টিগানের গল্পের বাইরে সিরিজে আরও কিছু সম্পর্কের রেখা আছে। নৌকাবাইচ দলের সদস্য বালু গোপনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে টিগানের মা এলার জীবনেও তৈরি হয় আলাদা এক প্রেমের গল্প। পুরোনো এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে দর্শক ভাবতে থাকেন—তাঁরা কি শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে হবেন?
‘ক্রু গার্ল’ শুধু কিশোর-কিশোরীদের প্রেমের গল্প নয়। এখানে আছে পারিবারিক সংকট, শ্রেণিগত পার্থক্য, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্বসহ অনেক কিছুই।

পরিচিত গল্প
‘ক্রু গার্ল’–এর গল্পে নতুনত্ব খুব বেশি নেই। ত্রিভুজ প্রেম, ছোট শহর, নতুন স্কুলে আসা, ধনী ও সাধারণ পরিবারের ছেলেদের মধ্যে পার্থক্য—এসব টিন ড্রামার পরিচিত উপাদান। টিগান একই সঙ্গে বহিরাগত এবং প্রতিভাবান। নতুন জায়গায় তাকে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়। এই পথেই প্রেম, বন্ধুত্ব ও প্রতিযোগিতা একসঙ্গে এগোয়।
সমালোচকেরা সিরিজটির এই পরিচিত কাঠামো নিয়ে একমত হলেও খেলাধুলার ধরনটিকে কিছুটা নতুন সংযোজন হিসেবে দেখেছেন। এত দিন টিন স্পোর্টস রোমান্সে হকি, বাস্কেটবল বা ফুটবল বেশি দেখা গেলেও ক্রু গার্ল বেছে নিয়েছে নৌকাবাইচকে।
ডিসাইডারের সমালোচনায় বলা হয়েছে, সিরিজটি হকির বদলে নৌকাবাইচকে সামনে এনেছে। গল্পে পুরোনো ত্রিভুজ প্রেম, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্কুলজীবনের নানা পরিচিত উপাদান থাকলেও নৌকাবাইচের মতো তুলনামূলক কম ব্যবহৃত একটি খেলাকে কেন্দ্রীয় জায়গায় বসানো সিরিজটির আলাদা বৈশিষ্ট্য। সমালোচকের মতে, মিকু মার্তিনোর অভিনয়ে টিগান চরিত্রটি প্রাণবন্ত হয়েছে।
তবে সবাই এতটা প্রশংসা করেননি। ভ্যারাইটির সমালোচনায় বলা হয়েছে, ‘ক্রু গার্ল’ দেখতে সুন্দর হলেও বাস্তবতার অভাব, খাপছাড়া সংলাপ এবং একই ধরনের বিষয় বারবার ফিরে আসায় সিরিজটি শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে রটেন টমেটোজ–এ প্রকাশিত সমালোচনাগুলোতে সিরিজটির পরিচিত গল্পের মধ্যেও আকর্ষণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ক্রু গার্ল’ নতুন কিছু যোগ না করলেও পরিচিত গল্পকে রোমান্টিক টান ও নৌকাবাইচের রোমাঞ্চ দিয়ে এগিয়ে নেয়।
সিরিজটির প্রধান অভিনেত্রী মিকু মার্তিনোও গল্পের এই মিশ্রণ নিয়ে কথা বলেছেন। নেটফ্লিক্সের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কৈশোরের সময়টা যেমন অগোছাল, তেমনই সুন্দর। বন্ধুত্ব, প্রেম, পরিবার—সবকিছু একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতাই সিরিজটির মূল বিষয়।
মার্তিনোর মতে, ‘ক্রু গার্ল’ শুধু কিশোর দর্শকদের জন্য নয়; ত্রিশ, চল্লিশ বা তার বেশি বয়সী দর্শকেরাও এতে নিজেদের কৈশোরের স্মৃতি খুঁজে পেতে পারেন। তাঁর কাছে এটি মূলত বড় হয়ে ওঠার গল্প—যেখানে প্রেমের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধুত্ব ও নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার বিষয়ও আছে।
সিরিজটির নির্মাতা ভিভিয়ান লিন। গল্পে টিগানকে এমন এক জগতে রাখা হয়েছে, যেখানে তাকে প্রথমে ‘বাইরের মানুষ’ হিসেবে দেখা হয়। ছেলেদের দলে জায়গা করে নিতে তাকে শুধু নিজের ক্রীড়া দক্ষতা প্রমাণ করলেই হয় না; তাকে দলের সদস্যদের আস্থা অর্জন করতে হয়। এই জায়গায় খেলাধুলা হয়ে ওঠে মেয়েটির আত্মপরিচয় তৈরির পথ।
ত্রিভুজ প্রেমের পুরোনো ছক
টিগানের প্রেমের গল্পে ক্যাম ও জশ দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। ক্যাম সাধারণ পরিবারের ছেলে। তার মধ্যে আছে নির্ভরতা ও আন্তরিকতা। জশের আছে অর্থ, সামাজিক ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়, পারিবারিক চাপ ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।

এ ধরনের চরিত্র টিন রোমান্সে নতুন নয়। একদিকে থাকে নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক, অন্যদিকে থাকে বিপজ্জনক কিন্তু তীব্র আকর্ষণ। দর্শককে ভাবতে হয়, নায়িকা কাকে বেছে নেবে—যে তাকে বুঝতে পারে, নাকি যে তাকে চ্যালেঞ্জ করে?
‘ক্রু গার্ল’–এ এই দ্বন্দ্বকে আরও জটিল করেছে খেলাধুলা। কারণ ক্যাম ও জশ শুধু প্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, একই দলের খেলোয়াড়ও। ফলে মাঠের প্রতিযোগিতা ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে মিশে যায়। একজনের সাফল্য অন্যজনের ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার দলের স্বার্থে তাদের একসঙ্গে কাজ করতেও হয়।
টিন রোমান্সে খেলাধুলা এত গুরুত্ব কেন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ দর্শকদের জন্য তৈরি প্রেমের সিরিজে খেলাধুলার উপস্থিতি বেড়েছে। ‘অফ ক্যাম্পাস’ ও ‘হিটেড রাইভালরি’–তে হকি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ, লকাররুম, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা প্রেমের আবহ তৈরি করে। ‘ফাইন্ডিং হার এজ’–এ আইস ড্যান্সিং, ‘হার্টস্টপার’–এ রাগবি এবং ‘ক্রু গার্ল’–এ নৌকাবাইচ একই কাজ করছে।
খেলাধুলা এখানে শুধু আকর্ষণীয় শরীর দেখানোর উপায় নয়। একজন খেলোয়াড় যখন অন্যজনের সঙ্গে একই লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করে, তখন তাদের মধ্যে অন্য ধরনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তারা একসঙ্গে ক্লান্ত হয়, ব্যর্থ হয়, আবার উঠে দাঁড়ায়। একে অপরের শরীরের শক্তি, দুর্বলতা ও সীমা সম্পর্কে জানতে পারে। এই অভিজ্ঞতা প্রেমের গল্পকে আরও গভীর করে।

প্রকৃতির কাছে ফিরে আসা
সাম্প্রতিক টিন রোমান্সে শুধু খেলাধুলা নয়, প্রকৃতির উপস্থিতিও বেড়েছে। হ্রদ, নদী, নৌকা, ঘাট, সাঁতার, রোদে শুয়ে থাকা কিংবা গ্রীষ্মকালীন বাড়ি—এসব দৃশ্য বারবার ফিরে আসে।
‘এভরি ইয়ার আফটার’ ও ‘স্টার্লিং পয়েন্ট’–এর মতো গল্পে প্রকৃতি শুধু পটভূমি নয়; সম্পর্ক তৈরির জায়গা। চরিত্রগুলো অনেক সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। ফলে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন ও অনলাইন জীবনের বাইরে গিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে।
এই বিচ্ছিন্নতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জেন–জি প্রজন্মের বড় একটি অংশ এমন সময়ে বড় হয়েছে, যখন সম্পর্কের বড় অংশই অনলাইনে তৈরি ও পরিচালিত হয়। ফলে নতুন গল্পগুলোতে বাস্তব জায়গা, শরীর ও স্পর্শের ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
কোনো হ্রদের ধারে বসে থাকা, একসঙ্গে সাঁতার কাটা কিংবা অনুশীলনের পর ক্লান্ত শরীরে পাশাপাশি শুয়ে থাকা—এসব দৃশ্যে সরাসরি যৌনতা নেই। কিন্তু সেখানে শরীরী আকর্ষণ, লজ্জা, কৌতূহল ও ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি থাকে।
যৌনতার বদলে ‘নিরাপদ’ ঘনিষ্ঠতা
এই পরিবর্তনের পেছনে জেন–জি দর্শকদের যৌনতা নিয়ে দ্বিধা কাজ করছে বলে মনে করছেন অনেকে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ও আলোচনায় বলা হয়েছে, তরুণ প্রজন্ম পর্দায় যৌন দৃশ্য নিয়ে আগের তুলনায় বেশি অস্বস্তিবোধ করছে। বাস্তব জীবনেও তরুণদের যৌন সম্পর্কে জড়ানোর হার কমেছে—যে প্রবণতাকে অনেক সময় ‘সেক্স রিসেশন’ বলা হয়।
এর পেছনে অতিরিক্ত অনলাইননির্ভর জীবন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার প্রভাব থাকতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বা যৌন অনুভূতি কমে গেছে। বরং যৌনতা নিয়ে লজ্জা, উদ্বেগ ও অস্বস্তি বেড়েছে।
তাই টিন রোমান্সে এমন কিছু দৃশ্যের প্রয়োজন হচ্ছে, যা সরাসরি যৌনতার দিকে না গিয়েও শরীরী ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি করে। সাঁতারের পোশাক, ঘামে ভেজা শরীর, নৌকাবাইচের মেশিন, লকাররুম কিংবা পাশাপাশি অনুশীলন করা সেই মধ্যবর্তী জায়গা তৈরি করছে।
খেলাধুলা যেন একধরনের নিরাপদ অজুহাত। চরিত্রগুলো একে অন্যের শরীরের কাছাকাছি আসে, কিন্তু সেটিকে সরাসরি যৌন আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখানো হয় না। তারা দৌড়ায়, পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়। একে অন্যকে প্রতিযোগিতায় জিততে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আস্থা ও আকর্ষণ।
প্রেমের গল্পে যৌনতা থাকতেই পারে। কিন্তু ঘনিষ্ঠতার একমাত্র ভাষা যৌনতা নয়।সাম্প্রতিক সময়ে ‘যৌনতা এড়িয়ে চলা’ সিরিজগুলোর মতো ‘ক্রু গার্ল’ও সে পথই বেছে নিয়েছে।
টাইমস অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
যাত্রীবাহী পরিবহনের চেচিসে লুকিয়ে আনা ১২০ কেজি গাঁজার বড় চালান ধরা পড়েছে মোংলায়।
দিনাজপুরের বিরামপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মুকুল হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
মালায়ালাম ভাষার বহুল আলোচিত সিনেমা সিরিজ ‘দৃশ্যম’। পূর্বের মতো এ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তির রিমেক হয়েছে বলিউডে।