জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই
প্রধানমন্ত্রীর কাজে জনগণ বুঝতে পারছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক তারাই

ভোগের জন্য নয়, জনগণের সেবার দায়িত্ব হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনগণ যে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক-সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জনগণ তা অনুভব করতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে এই অনুভূতি দিতে সক্ষম হয়েছেন যে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি।

মুখপাত্র সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার একটি জবাবদিহিতামূলক সরকার। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম মানুষের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে গণমাধ্যম। সমাজের দর্পণ হিসেবে গণমাধ্যম প্রতিদিনের ঘটনাগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরছে এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন তথ্য জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের কাছে আসে। জনপ্রতিনিধিরা ও মন্ত্রণালয়গুলোও বিভিন্ন তথ্য জনগণকে জানায়। প্রতি মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নিয়মিতভাবে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কাজ পিএমও বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমেও তথ্য জানানো হয়। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যক্রম তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকা দেখছেন। সেখানে কোনো সমস্যা বা মানুষের কোনো অভিযোগ উঠে এলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণার বিষয়েও তিনি নজর রাখছেন। অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে সরাসরি কথা বলছেন।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ সরকারের ২১২তম দিন চলছে। এরই মধ্যে সরকারের অনেক কাজের ফল মানুষ পেয়েছে, আবার কিছু কাজের ফল পেতে আরও সময় লাগবে। এসব কাজ এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, সেটির ফল পেতে সময় প্রয়োজন। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আমরা মনে করি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শালেহ শিবলী বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আশা করা যায়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের স্বাভাবিক পরিস্থিতির ফল মানুষ খুব শিগগিরই পাবেন।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের আগস্টে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তৎকালীন সরকার বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। স্কুলের ছুটি বাড়ানো, অফিসের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা করা এবং ব্যাংকিং সময় পরিবর্তনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও ওই সরকারকে এমন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল।

সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দায়িত্ব নিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিষয়টি কেন তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মুখপাত্র বলেন, জনজীবনে স্বস্তি, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক-এটি জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে।

জনগণের রাষ্ট্রের মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে শুনি-জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। কিন্তু জনগণকে কীভাবে তা অনুভব করানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন অনুভব করতে শুরু করেছে যে তারাই রাষ্ট্রের মালিক। তারা দেখছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আছেন।

সরকারি ব্যয়ের প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, ১৫০ টাকার খাবার বা ১ হাজার টাকার খাবার-কোনটি খাওয়া হচ্ছে, সেটি বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হচ্ছে, জনগণের হাজার হাজার টাকা একটি খাবারের প্যাকেটের পেছনে ব্যয় না করে জনগণের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫০ টাকার মধ্যে সুশৃঙ্খল ও সুষম খাবারের ব্যবস্থা করা। জনগণের টাকার প্রতি সম্মান দেখানো এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকা-এটাই বড় বিষয়।

তিনি বলেন, জনগণ যাতে মনে করে সরকার তাদের মতো করেই চলছে এবং সরকারকে তারা বিশ্বাস করতে পারে, সে জন্য সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তার দৈনন্দিন কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে অনুভব করাতে সক্ষম হয়েছেন যে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

সালেহ শিবলী বলেন, ক্ষমতা ভোগের জন্য নয়, এটা একটি দায়িত্ব। সরকারের সঙ্গে যারা আছেন তারা যেমন বিষয়টি বুঝছেন, তেমনি জনগণও তা অনুভব করতে শুরু করেছেন।

কেএইচ/কেএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হতে হবে
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হতে হবে

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে বাংলাদেশকে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহাকারী নয়; প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও রপ্তানিকারক হিসেবে হতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের প্রধান মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
গাজীপুরে হঠাৎ ১৩০ শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানায় উত্তেজনা

গাজীপুরে হঠাৎ ১৩০ শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানায় উত্তেজনা

সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে সরকার: অর্থমন্ত্রী

সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে সরকার: অর্থমন্ত্রী

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু

ফেঁসে যা‌চ্ছেন বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ভি‌সিসহ ১২ জন‌
ফেঁসে যা‌চ্ছেন বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ভি‌সিসহ ১২ জন‌

ক্ষমতার অপব‌্যবহার ক‌রে অবৈধপন্থায় প্রভাষক, সহকারী রে‌জিস্ট্রারসহ একা‌ধিক প‌দে নি‌য়োগ, প‌দোন্ন‌তি ও বেতন-ভাতা বাবদ সরকা‌রের বিপুল অং‌কের টাকা আত্মসা‌তে জ‌ড়িত থাকার অভিযোগে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খোন্দকার নাসির উদ্দিন, সাবেক রেজিস্ট্রার ড. মো. নূরুদ্দিন আহমেদ ও মো. আব্দুস সালামসহ মোট ১২ জন‌কে আসা‌মি ক‌রে চার‌টি পৃথক মামলা কর‌বে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন (দুদক)। 

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ধলেশ্বরী নদীতে ১ লাখ পোনা অবমুক্ত 

ধলেশ্বরী নদীতে ১ লাখ পোনা অবমুক্ত 

বিপর্যস্ত হচ্ছে সৌদি আরব

বিপর্যস্ত হচ্ছে সৌদি আরব

কেরানীগঞ্জে আবুল কাশেম মার্কেটে আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে

কেরানীগঞ্জে আবুল কাশেম মার্কেটে আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে

0 Comments