জাতীয়

প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা
প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা

পরস্পরের সঙ্গে আমাদের বর্তমান জীবনযাপনের ধারায় মৌলিক কিছু একটা ভুল ঘটে চলেছে। আমরা একে অপরের কথা শুনতে দিন দিন কম আগ্রহী হয়ে উঠছি, সুস্থভাবে দ্বিমত পোষণ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছি এবং অপরকে তীব্রভাবে নিন্দা করতে অনেক বেশি তৎপর হয়ে উঠছি। একটি সাধারণ রাজনৈতিক মতবিরোধ রাতারাতি ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপান্তরিত হচ্ছে; একটি ভিন্নধর্মী সামাজিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে সরাসরি উসকানিমূলক আচরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে; এবং একটি যৌক্তিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন তোলাকে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটিমাত্র মন্তব্য বিপুল গালিগালাজ, ব্যক্তিগত অপমান এবং এমনকি শারীরিক বা আইনি হুমকি ডেকে আনছে। এটিকে কেবল ব্যক্তিগত সামাজিক অভদ্রতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আমাদের সামাজিক স্থায়িত্ব সম্পর্কে এক গভীর সতর্কবার্তা।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড নয়; বরং পুরো বিশ্বের সার্বিক প্রেক্ষাপটেরই এক বাস্তব অংশ। ইউরোপ থেকে আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিশ্বের প্রধান সমাজগুলো আজ একে অপরের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্ত ও সন্দিহান হয়ে পড়ছে। মানুষের অন্ধ আনুগত্য দিন দিন কঠোর হচ্ছে, সাধারণ জনপরিসরের বিতর্ক বিদ্বেষে বিষাক্ত হয়ে উঠছে এবং আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো দৈনন্দিন মতবিরোধকে সংঘাত ও ঘৃণায় রূপান্তরিত করছে। এই সংকটের অতি সহজ ব্যাখ্যা হতে পারে যে মানুষ স্বভাবগতভাবেই আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। তবে এর আসল কারণ হলো—আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোই এমন এক রূপ নিয়ে গড়ে উঠছে, যা মানুষের মধ্যকার সুপ্ত অসহিষ্ণুতাকে বহুগুণে বাড়তে সাহায্য করছে।

এই সামাজিক রূপান্তর বুঝতে সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খাইমের একটি ধারণা সহায়ক হতে পারে। যখন কোনো সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে বহু গুণ দ্রুত গতিতে প্রযুক্তিগত ও সামাজিক পরিবর্তন ঘটে, তখন মানুষের স্বাভাবিক নীতিবোধের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এই সামাজিক অনিশ্চয়তার স্পষ্ট ছাপ আজ বাংলাদেশে দৃশ্যমান। আমাদের ঐতিহ্যবাহী পরিবার, স্থানীয় সম্প্রদায়, প্রথাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলো এখন আর আগের মতো নীতি নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারছে না। অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যম রাতারাতি লক্ষ লক্ষ নতুন কণ্ঠস্বরের জন্ম দিয়েছে, যাদের প্রত্যেকেই নিশ্চিত যে কেবল তারা নিজেরাই চূড়ান্ত সত্যের বাহক। ফলে সমাজে চিন্তার উদারতা বাড়ছে না; বরং জন্ম নিচ্ছে বিভ্রান্তি, নিরাপত্তাহীনতা এবং তীব্র সামাজিক ক্ষোভ।

আমাদের একটি সহজ গণতান্ত্রিক বার্তা মনে রাখতে হবে: যে মানুষটি আজ আমার মতের সাথে তীব্র দ্বিমত পোষণ করছে, সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার বা এই রাষ্ট্রের শত্রু নয়। আমরা যদি জাতীয় জীবনের এই অতি মৌলিক শিক্ষাটি ভুলে যাই, তবে সামাজিকভাবে দিন দিন বেড়ে চলা এই অসহিষ্ণুতা আমাদের গণতন্ত্র, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রূপান্তরের জন্য এক চরম বাস্তব হুমকি হয়ে দেখা দেবে।

বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে। আধুনিক জীবন মানুষকে উন্নত শিক্ষা, মর্যাদা এবং মানসম্মত জীবনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করতে উৎসাহিত করে; কিন্তু বাস্তব কাঠামোর অভাবে সবাইকে সমান বা ন্যায্য সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত অগ্রগতি অর্জন করলেও সেই অগ্রগতির সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। তরুণদের একটি ভালো চাকরির জন্য চরম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার খরচের সাথে টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ফলে বাস্তব সুযোগের চেয়ে মানুষের প্রত্যাশা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত এই অপ্রাপ্তির ক্ষয় অনুভব করেন, তারা মানসিকভাবে চরম হতাশ হয়ে পড়েন; আর এই অবদমিত হতাশা বাইরে প্রকাশের জন্য কোনো না কোনো বলির পাঠা খুঁজে বেড়ায়।

এই সামাজিক ক্ষোভ খুব সহজেই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল, সামাজিক বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দিকে চালিত হয়। ঠিক এখানেই বৈষম্য দূর করার চেয়ে অন্য কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া অনেক সহজ হয়ে ওঠে। 'আমরা বনাম তারা'র ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা উগ্র রাজনীতি এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ফুলেফেঁপে ওঠে, কারণ এটি জটিল সমস্যার সমাধানের বদলে সাধারণ মানুষকে একটি তাৎক্ষণিক ও সহজ শত্রু এনে দেয়।

এর পেছনে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক উপাদান কাজ করছে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কোনো দল, ধর্ম বা সামাজিক গোষ্ঠীর সাথে নিজেদের পরিচয় মিলিয়ে নেয় এবং এই নিজস্ব দল তাদেরকে নিরাপত্তার বোধ দেয়। কিন্তু সমস্যা তখন শুরু হয়, যখন স্বাধীন বিচার-বিবেচনার চেয়ে নিজস্ব দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রধান হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্ত থেকে প্রতিপক্ষের গঠনমূলক সমালোচনাকেও মানুষ সরাসরি নিজেদের ওপর আক্রমণ বলে মনে করে। ভিন্নমতের মানুষটি তখন আর অন্য দৃষ্টিভঙ্গির নাগরিক থাকে না, সে 'শত্রু' হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় যৌথ আপস করাকে নিজ দলের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হয়, অপরের কথা শোনাকে দুর্বলতা গণ্য করা হয় এবং যুক্তিতে নিজের ভুল মতামত পরিবর্তন করাকে আত্মসমর্পণ মনে করা হয়। এই সংকুচিত পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামাজিক মাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এই রূপান্তরকে ভয়াবহ গতিতে ত্বরান্বিত করেছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো শুরুতেই তথ্যমুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো সুস্থ আলোচনার পথ তৈরি করতে পারেনি। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থা তথ্যের সত্যতার চেয়ে মানুষের উত্তেজনা ও মনোযোগকে সবচেয়ে বেশি পুরস্কৃত করে। একটি শান্ত ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যার চেয়ে উগ্র রাগ, তীব্র ক্ষোভ এবং সামাজিক বিভাজন অনেক বেশি দ্রুত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ফলে যেকোনো আলোচনায় যুক্তিসঙ্গত কণ্ঠের চেয়ে উগ্র চিৎকারকারী কণ্ঠটি বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। প্রযুক্তিগত অ্যালগরিদমগুলো প্রতিটি মানুষকে কেবল সেইসব নির্বাচিত তথ্যই বারবার দেখায়, যেগুলোর সাথে তারা আগে থেকেই একমত। ফলে নিজের সংকীর্ণ মতামতটিই সমগ্র বিশ্বের সর্বজনীন সত্য বলে মনে হতে শুরু করে, আর বিরোধীদের বক্তব্যকে মিথ্যা বা চরম বৈরী মনে হতে থাকে।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তির এই আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় শিকার। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিপুল ভুয়া খবর ও ভুল তথ্য তরুণদের মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ। ইন্টারনেটে ছড়ানো অপতথ্য কেবল ভার্চয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা বাস্তব জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভেদ ডেকে আনে। একটি মিথ্যা দাবি মুহূর্তের মধ্যে প্রান্তিক বা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মনে ভয় জাগিয়ে তুলতে পারে; মনগড়া তথ্য সাম্প্রদায়িক বৈরিতা উসকে দিতে পারে; এবং সংগঠিত হয়রানি নারী ও স্বাধীন চিন্তার মানুষদের জনজীবন থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। ফলে অনলাইন আগ্রাসন এবং বাস্তব জীবনের শারীরিক ক্ষতির মধ্যকার ব্যবধান পুরোপুরি মুছে যাচ্ছে।

আরেকটি বড় সামাজিক উপাদান হলো অব্যাহত পারস্পরিক তুলনা। মানুষ এখন কেবল নিজের অর্জিত সম্পদ দিয়ে নিজের অবস্থান বিচার করে না; বরং সামাজিক মাধ্যমে অন্যদের জীবনধারা দেখে নিজেদের ভালো-মন্দ নির্ধারণ করে। অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করা একজন নাগরিক প্রতিদিন অনলাইনে অন্যের বিলাসবহুল জীবনযাপনের দৃশ্য দেখছেন। এই অনবরত দৃশ্যমানতা কেবল মানুষের মনে আপেক্ষিক দারিদ্র্যের অনুভূতি তৈরি করে না; এটি সমাজ কাঠামোর প্রতি এক তীব্র অন্যায্যতার বোধ সৃষ্টি করে। মানুষ নিজেদের বাস্তব দুঃখ-কষ্ট সামলে নিতে পারে যদি তারা বিশ্বাস করে যে সমাজব্যবস্থাটি সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু তারা তখনই চরম ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে, যখন দেখে যে রাষ্ট্রীয় সুযোগগুলো কেবল বিশেষ যোগাযোগ বা অবৈধ সুবিধার মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে, আর তাদের পরিশ্রম ও যোগ্যতার কোনো মূল্য দেওয়া হচ্ছে না।

রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে যখন সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যায়, তখন এই ক্ষোভ বিপজ্জনক আকার ধারণ করে। যারা প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতাকে বিশ্বাস করে না, তারা প্রতিটি ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখে। একটি সাধারণ নিয়োগকে স্বজনপ্রীতি মনে হয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক ষড়যন্ত্র মনে হয় এবং প্রতিপক্ষের বিপরীত মতামতকে গোপন অপপ্রচারের অংশ মনে হতে থাকে। এভাবেই যখন পরম সন্দেহ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস যোগাযোগের একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমাজে অনিয়ন্ত্রিত অসহিষ্ণুতা এক স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে।

আসল প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাটি এটি নয় যে মানুষ রাতারাতি চরিত্রগতভাবে কম সহনশীল হয়ে উঠেছে। সমস্যাটির মূল অনেক গভীরে—যে প্রতিষ্ঠানগুলো একসময় সমাজে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি তৈরি করত, সেগুলো আজ তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভেঙে পড়েছে। পারিবারিক যোগাযোগ বদলে যাচ্ছে, স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপ নিয়েছে এবং বৈষম্য আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। আমাদের আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অপরের কথা শোনার বা সম্মান জানানোর মানসিক কারণগুলো সংকুচিত হয়ে গেছে।

ইদানীং ভাষার কাঠামোর ওপর বিশেষ আধিপত্য দেখা যায়—কে সম্মানীয়, কে দেশপ্রেমিক, কার বক্তব্য বৈধ, আর কে তা নয়—তা নির্ধারণ করার একক ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে। শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলো প্রতিপক্ষদের অনায়াসে চরমপন্থি বা দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে চাচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো, সমাজে উগ্র রাগ ও হিংসাত্মক আচরণকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয় মনে করা হচ্ছে। জনপরিসরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চরম অপমান করাকে বিনোদন হিসেবে উদযাপন করা হয়। একটি সমাজ যখন এই চরম বৈরী আচরণগুলোকে পুরস্কৃত করতে শুরু করে, তখন অসহিষ্ণুতা আর ব্যক্তিগত ত্রুটি থাকে না; তা লাভজনক সামাজিক চর্চায় রূপান্তরিত হয়।

ঠিক এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে আমাদের সতর্ক হতে হবে। দেশের অর্জিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অত্যন্ত বাস্তব। কিন্তু কেবল প্রবৃদ্ধি দিয়ে সমাজে জমা হওয়া সামাজিক অবিশ্বাসের ঘাটতি দূর করা সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য পরিবেশ, ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হলো স্থিতিশীলতা, এবং সাধারণ নাগরিকদের আস্থার প্রয়োজন যে যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক মতবিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বাস করতে হবে যে এ দেশে মেধার মূল্য আছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষিত মনে করতে হবে এবং স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। সুতরাং, সামাজিক বিশ্বাস কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি রূপান্তর ও জাতীয় উন্নয়নের প্রধানতম ভিত্তি।

এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে সবাইকে হুবহু একই ধারায় চিন্তাভাবনা করতে হবে। একটি সুস্থ সমাজের বিকাশের জন্য তীব্র মতপার্থক্য ও ভিন্নমত থাকা অত্যন্ত আবশ্যক। গণতন্ত্রের জন্য গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বিতর্কের সুযোগ থাকা প্রয়োজন এবং সংবাদমাধ্যমে ভিন্নমতের নিরপেক্ষ প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। আমাদের মূল কাজ হলো, প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে গণ্য না করে কীভাবে পরম শ্রদ্ধার সাথে নীতিগত দ্বিমত পোষণ করতে হয়, সেই নাগরিক শিষ্টাচারটি নতুন করে চর্চা করা। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতার পরিবর্তন—যাতে তারা ভিন্নমতকে অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ হিসেবে না দেখেন।

সর্বোপরি, আমাদের একটি সহজ গণতান্ত্রিক বার্তা মনে রাখতে হবে: যে মানুষটি আজ আমার মতের সাথে তীব্র দ্বিমত পোষণ করছে, সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার বা এই রাষ্ট্রের শত্রু নয়। আমরা যদি জাতীয় জীবনের এই অতি মৌলিক শিক্ষাটি ভুলে যাই, তবে সামাজিকভাবে দিন দিন বেড়ে চলা এই অসহিষ্ণুতা আমাদের গণতন্ত্র, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রূপান্তরের জন্য এক চরম বাস্তব হুমকি হয়ে দেখা দেবে। আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ এটি নয় যে আমরা ঘনঘন একে অপরের সাথে দ্বিমত পোষণ করি; বরং আসল বিপদ হলো, আমরা সমাজ হিসেবে ধীরে ধীরে ভুলেই যাচ্ছি কীভাবে অপরকে শত্রু না বানিয়ে এবং পরম শ্রদ্ধার সাথে একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়েও গঠনমূলকভাবে দ্বিমত পোষণ করা যায়।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী।

এইচআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

এর আগে, এদিন দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস (৭২০) লাউয়াছড়া এলাকায় চলার সময় হুক ছিঁড়ে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনসহ সামনের অংশ নিয়ে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে চলে যায়।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
শুক্রবার রাতেই আসছে রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি

শুক্রবার রাতেই আসছে রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি

অন্য মরতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট

অন্য মরতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট

রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণের ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর

রংপুর অঞ্চলে শিল্পকারখানায় ৭ শতাংশ সুদে ঋণের ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রামে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

কুড়িগ্রামে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের হুক ছিঁড়ে ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বগিগুলো লাউয়াছড়া বনের ভেতরে রেখে ট্রেনের অপর অংশ শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে চলে গেছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
শেরপুর সীমান্তে সাড়ে ১১ লাখ টাকার কসমেটিক জব্দ

শেরপুর সীমান্তে সাড়ে ১১ লাখ টাকার কসমেটিক জব্দ

সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ

সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প

0 Comments