জাতীয়

ওসিডি: যে কষ্ট আমরা বুঝতেই শিখিনি

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ওসিডি: যে কষ্ট আমরা বুঝতেই শিখিনি
ওসিডি: যে কষ্ট আমরা বুঝতেই শিখিনি

‘এতবার হাত ধোও কেন?’
‘একই জিনিস বারবার চেক করার কী আছে?’
‘তুমি তো অযথাই বেশি চিন্তা করো!’

বাংলাদেশের অনেক পরিবারে হয়তো এমন কথাগুলো খুব পরিচিত। কেউ বারবার দরজা, গ্যাসের চুলা কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ পরীক্ষা করলে আমরা তাকে বলি, ‘তোমার মাথায় সমস্যা আছে।’ কেউ বারবার হাত পরিষ্কার করলে বলি, ‘এত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কী দরকার?’

কেউ একই প্রশ্ন বারবার করলে বিরক্ত হয়ে যাই। কিন্তু আমরা খুব কমই ভাবি, এর পেছনে কি কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে?

আমাদের দেশে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কথা বলা যতটা স্বাভাবিক, মানসিক অসুস্থতা নিয়ে কথা বলা ততটা স্বাভাবিক নয়। জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া স্বাভাবিক, দাঁতে ব্যথা হলে ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো চিন্তা যদি দিনের পর দিন একজন মানুষকে ভেতর থেকে অস্থির করে রাখে, কোনো ভয় যদি তাকে বারবার একই কাজ করতে বাধ্য করে, তখন অনেকেই সেটিকে চিকিৎসার বিষয় হিসেবে দেখেন না।

এখানেই অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার বা ওসিডি নিয়ে আমাদের অজ্ঞতার একটি বড় জায়গা তৈরি হয়।

ওসিডি আসলে কী?
ওসিডির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—অবসেশন ও কমপালসন।

অবসেশন হলো অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার ফিরে আসা অস্বস্তিকর চিন্তা, ভয় বা মানসিক তাড়না। আর কমপালসন হলো সেই অস্বস্তি বা উদ্বেগ কমানোর জন্য বারবার কোনো কাজ করা বা কোনো মানসিক আচরণ সম্পন্ন করা।

ধরুন, একজন মানুষের মনে বারবার আসছে, ‘দরজাটা ঠিকমতো লক হয়নি’। সে জানে দরজা লক করেছে। তারপরও সন্দেহটা যাচ্ছে না। সে আবার গিয়ে দেখে। কিছুক্ষণ পর আবার সন্দেহ হয়। আবার দেখে। একসময় হয়তো সে নিজেই ভাবতে পারে, ‘আমি তো জানি দরজাটা লক করা। তাহলে আবার কেন দেখছি?’
কিন্তু শুধু বুঝতে পারলেই সেই তাড়নাটা সব সময় বন্ধ হয়ে যায় না। এটাই ওসিডির কষ্টের জায়গাগুলোর একটি।

‘আমি তো পরিষ্কার থাকতে পছন্দ করি, আমারও ওসিডি আছে’
ওসিডি নিয়ে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, যে মানুষ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসে, গোছানো থাকতে পছন্দ করে বা কোনো কাজ বারবার করে, তার ওসিডি আছে।

আসলে বিষয়টি এত সহজ নয়।
পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করা স্বাভাবিক। দরজা লক করেছি কি না, একবার নিশ্চিত হওয়াও স্বাভাবিক। কিন্তু যখন কোনো চিন্তা বা আচরণ এতটাই তীব্র ও পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে ওঠে যে তা একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা, কাজ, সম্পর্ক কিংবা মানসিক শান্তিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা তৈরি করে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাই ওসিডিকে মজা করে ‘পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার রোগ’ বলা উচিত নয়। এতে যাঁরা সত্যিই ওসিডির সঙ্গে লড়ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে ছোট করা হয়।

‘নিজেকে বোঝালেই তো হয়’
আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, ‘নিজেকে শক্ত করো, ‘বেশি চিন্তা কোরো না’, ‘মনকে বোঝাও, সব ঠিক হয়ে যাবে’।

কিন্তু ওসিডিতে সমস্যাটি শুধু বেশি চিন্তা করা নয়। একজন মানুষ হয়তো নিজের চিন্তার অযৌক্তিকতা বুঝতে পারছেন। তবু সেই চিন্তা বারবার ফিরে আসতে পারে। তিনি হয়তো জানেন যে দশবার দরজা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু না করলে ভেতরের অস্বস্তি এতটাই বেড়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত আবার পরীক্ষা করেন।
তাই বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা অদ্ভুত মনে হয়, ভেতর থেকে তা একজন মানুষের জন্য ততটাই ক্লান্তিকর হতে পারে।

আমাদের দেশে সমস্যা আরও বড়। কারণ, আমরা অনেক সময় সমস্যাটাকেই চিনতে পারি না।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা আগের তুলনায় বাড়ছে। তবু অনেক মানুষের কাছে সাইকোলজিস্ট বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারদের কাছে যাওয়া এখনো দৈনন্দিন স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক অংশ হয়ে ওঠেনি। অনেকে জানেই না কখন একজন সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।

ফলে কেউ যদি বছরের পর বছর অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার একই চিন্তা মাথায় আসা, কোনো কিছু অতিরিক্তভাবে পরীক্ষা করা, জীবাণু বা ময়লা নিয়ে ভয়, একই কাজ বারবার করা কিংবা তীব্র উদ্বেগ নিয়ে বেঁচে থাকেন, তিনি হয়তো সেটিকে নিজের ‘স্বভাব’ বলেই ধরে নেন।
কেউ ভাবেন, ‘আমি এমনই’।
কেউ বলেন, ‘আমার একটু বেশি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস।’
কেউ আবার নিজের চিন্তার জন্য লজ্জিত হন এবং কাউকে কিছু বলেন না। আর পরিবারের মানুষ হয়তো বলেন, ‘এসব কিছুই না। বেশি ভাবলে এমন হয়।’
এভাবে সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার আগেই অনেক সময় বছরের পর বছর কেটে যায়।

সাহায্য চাইতে লজ্জা কেন?
আমরা শরীরের অসুস্থতাকে যতটা সহজে গ্রহণ করি, মনের অসুস্থতাকে ততটা করি না। একজন মানুষ যদি বলেন, ‘আমার পেটে ব্যথা করছে’; আমরা তাকে ডাক্তার দেখাতে বলি।
কিন্তু তিনি যদি বলেন, ‘একই চিন্তা বারবার মাথায় আসছে, আমি খুব অস্থির হয়ে যাচ্ছি’; তখন হয়তো তাকে বলা হয়, ‘এত ভাবো কেন?’
এই পার্থক্যটা আমাদের বদলাতে হবে।

সাইকোলজিস্টের কাছে যাওয়া মানে কেউ পাগল হয়ে গেছে, এমন নয়। যেমন শরীর ভালো রাখার জন্য চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া স্বাভাবিক, তেমনি মানসিক সুস্থতার জন্য একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সাহায্য নেওয়াও স্বাভাবিক।

ওসিডি নিয়ে হাসি নয়, বোঝাপড়া প্রয়োজন
কারও বারবার হাত ধোয়া দেখে হাসার আগে একবার ভাবুন, হয়তো সে নিজেও এই আচরণটি করতে করতে ক্লান্ত।
কারও বারবার দরজা পরীক্ষা করা দেখে বিরক্ত হওয়ার আগে ভাবুন, হয়তো সে জানে এটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি, কিন্তু নিজের অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করছে।
কারও অদ্ভুত মনে হওয়া চিন্তার কথা শুনে তাকে বিচার করার আগে মনে রাখা দরকার, অনিচ্ছাকৃত চিন্তা একজন মানুষের ইচ্ছা, চরিত্র বা পরিচয়ের সরাসরি প্রতিফলন নয়।

সবচেয়ে বড় কথা, ওসিডি কোনো হাসির বিষয় নয়। এটি কোনো ব্যক্তির দুর্বল মানসিকতার প্রমাণও নয়।

সচেতন হতে হবে
ওসিডি সম্পর্কে জানা মানে নিজের বা অন্য কারও ক্ষেত্রে নিজে নিজে পরামর্শ দেওয়া নয়। বরং এর অর্থ হলো, কখন কোনো আচরণ বা চিন্তা স্বাভাবিক অভ্যাসের সীমা ছাড়িয়ে একজন মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে, সেটি বুঝতে শেখা।

যদি কোনো চিন্তা বা আচরণ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি করে, নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনা, কাজ, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। কারণ, মানসিক কষ্টও কষ্ট। তারও গুরুত্ব আছে। চিকিৎসা আছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সাহায্য চাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের আরও অনেক কথা বলা দরকার। কারণ, অনেক মানুষ হয়তো অসুস্থ হয়েও জানেন না যে তাঁদের সাহায্য প্রয়োজন। কেউ হয়তো জানেন না কোথায় যাবেন। আবার কেউ জানলেও সমাজের বিচারভীতিতে চুপ করে থাকেন।

ওসিডি নিয়ে আমাদের প্রথম কাজ তাই কাউকে ‘অদ্ভুত’ বলা নয়। প্রথম কাজ হলো বোঝার চেষ্টা করা। কিছু যুদ্ধ চোখে দেখা যায় না। কিছু মানুষ প্রতিদিন নিজের মনের সঙ্গেই যুদ্ধ করেন, নীরবে, একা। আর হয়তো আমাদের একটি ছোট্ট সচেতন বাক্যই সেই নীরব মানুষটিকে প্রথমবারের মতো বলতে সাহস দিতে পারে, ‘তোমার সমস্যাটা ছোট নয়। প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়া স্বাভাবিক।’

শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ

ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
‘আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম’

‘আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম’

কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় চাহিদার শীর্ষে বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা

কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় চাহিদার শীর্ষে বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা

অপশক্তি মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত: হাবিব

অপশক্তি মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত: হাবিব

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি

পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর

মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল, ফিরলেন লাশ হয়ে

মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল, ফিরলেন লাশ হয়ে

১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭

১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭

মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী
মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

0 Comments