জাতীয়

অদৃশ্য এক আবরণ ওজোন স্তর, যেন পৃথিবীর সানস্ক্রিন

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
অদৃশ্য এক আবরণ ওজোন স্তর, যেন পৃথিবীর সানস্ক্রিন
অদৃশ্য এক আবরণ ওজোন স্তর, যেন পৃথিবীর সানস্ক্রিন

নাহিদ হোসাইন

পৃথিবীর আকাশে এমন এক অদৃশ্য আবরণ রয়েছে, যা প্রতিদিন আমাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি বা আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভি) রশ্মির বড় একটি অংশ শোষণ করে পৃথিবীর প্রাণ, উদ্ভিদ ও পরিবেশকে সুরক্ষা দেয় এই ওজোন স্তর। অথচ কয়েক দশক আগেও মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে এই সুরক্ষাকবচ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছিল। সেই সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের দেশগুলো যে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নিয়েছিল, তারই অন্যতম প্রতীক বিশ্ব ওজোন দিবস। আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস বা আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস।

ওজোন স্তর কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ওজোন হলো তিনটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত একটি গ্যাস-O₃। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে, প্রায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতার মধ্যে ওজোনের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। বায়ুমণ্ডলের মোট ওজোনের প্রায় ৯০ শতাংশ এই স্তরেই রয়েছে।

সহজভাবে বললে, ওজোন স্তর পৃথিবীর জন্য একটি বিশাল প্রাকৃতিক ‘সানস্ক্রিন’ বা ছাতা। সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি-বি এবং ইউভি-সি রশ্মির বড় অংশ পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছাতে বাধা দেয়। অতিরিক্ত ইউভি রশ্মি মানুষের ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু মানুষ নয়, উদ্ভিদ, সামুদ্রিক জীব ও বিভিন্ন প্রতিবেশব্যবস্থার ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

ফুটপাতে হলুদ টাইলস বসানোর রহস্য জানেন?

কীভাবে শুরু হয়েছিল বিপদ?

বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শিল্প ও প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, অ্যারোসল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য শিল্পে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লোরোকার্বন বা সিএফসি, হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম ও মিথাইল ব্রোমাইডসহ কিছু রাসায়নিক বায়ুমণ্ডলে গিয়ে ওজোন অণু ভেঙে ফেলতে পারে।

বিশেষ করে সিএফসি ও হ্যালনের মতো দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক পদার্থ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছে সূর্যের বিকিরণের প্রভাবে ক্লোরিন ও ব্রোমিন মুক্ত করে। এগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ওজোন অণু ধ্বংস করতে থাকে। ১৯৮০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা অ্যান্টার্কটিকার ওপর ওজোন স্তরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয় শনাক্ত করেন। পরিচিত হয়ে ওঠে ‘অ্যান্টার্কটিক ওজোন হোল’ বা ওজোন গহ্বর। এর পরই স্পষ্ট হয় সমস্যাটি কোনো একটি দেশের নয়; এটি বৈশ্বিক সমস্যা।

বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ

ওজোন স্তর রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল ১৯৮৫ সালের ভিয়েনা কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব দ্য ওজোন লেয়ার। এর দুই বছর পর, ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিয়লে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক মন্ট্রিয়াল প্রোটোকল অন সাবস্টেন্সেস দ্যট ডিপলেট দ্য ওজোন লেয়ার।

এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ওজোন স্তর ধ্বংসকারী রাসায়নিক পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করা। চুক্তিটি ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হয়। মন্ট্রিয়াল প্রটোকলকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ সহযোগিতার অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর অধীনে প্রায় ১০০ ধরনের নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিকের উৎপাদন ও ব্যবহার পর্যায়ক্রমে কমানো বা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ চুক্তির ফলে নিয়ন্ত্রিত ওজোন-ক্ষয়কারী পদার্থের উৎপাদন ও ব্যবহার ৯৯ শতাংশেরও বেশি পর্যায়ে বন্ধ বা পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৬ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ওজোন দিবস।

আরও পড়ুন

বিবেকের চোখে গণতন্ত্র ও নৈতিকতা

ওজোন স্তর কি সত্যিই সুস্থ হচ্ছে?

দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ফল এখন বিজ্ঞানীরাও দেখতে পাচ্ছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর ওজোন স্তর পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। ২০২৪ সালে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন গহ্বর সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় ছোট ছিল। যদিও কোনো একটি বছরের পরিস্থিতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না, দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রবণতার পেছনে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে ওজোন স্তর ধীরে ধীরে ১৯৮০ সালের কাছাকাছি অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে পুনরুদ্ধারের সময় এক নয় এবং অ্যান্টার্কটিকায় পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা আছে পরিবেশগত সংকটের সমাধান সম্ভব, যদি বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি একসঙ্গে কাজ করে।

কিগালি সংশোধনী

ওজোন রক্ষার সাফল্যের পরও নতুন একটি চ্যালেঞ্জ সামনে আসে। সিএফসি-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক, বিশেষ করে হাইড্রোফ্লোরোকার্বন বা এইচএফসি, ওজোন স্তর ধ্বংস করে না; কিন্তু এগুলো শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখে।

এই সমস্যা মোকাবিলায় ২০১৬ সালে রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে মন্ট্রিয়াল প্রটোকলে যুক্ত হয় কিগালি সংশোধনী। এর লক্ষ্য এইচএফসি-এর উৎপাদন ও ব্যবহার ধাপে ধাপে কমানো এবং পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ প্রযুক্তির দিকে বিশ্বকে এগিয়ে নেওয়া। ২০২৬ সালে কিগালি সংশোধনীর দশ বছর পূর্ণ হচ্ছে। তাই এবারের বিশ্ব ওজোন দিবসে ওজোন সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, কিগালি সংশোধনী পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রায় ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে সহায়তা করতে পারে; জ্বালানি-সাশ্রয়ী শীতলীকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে এটি আরও বড় সুফল দিতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর দেশ। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরবাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহারও বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতের শীতলীকরণ চাহিদা মেটাতে পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। পুরোনো রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার, গ্যাসের অনিয়ন্ত্রিত নিঃসরণ বন্ধ করা এবং প্রশিক্ষিত কারিগর তৈরি করাও জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও সচেতন হতে পারেন। এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা অযথা খুব কম না রাখা, নিয়মিত যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করা, অদক্ষভাবে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস না ছাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বেছে নেওয়া এসব ছোট পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুন

সমকামিতা সম্পর্কে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কী বলছে, এর শাস্তি কী?

আমাদের দায়িত্ব

ওজোন স্তর রক্ষার ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। পরিবেশ রক্ষায় মানুষ যে সংকট তৈরি করেছে, মানুষই আবার বিজ্ঞান ও সহযোগিতার মাধ্যমে তার সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। তবে সাফল্য মানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

ওজোন স্তর রক্ষা মানে শুধু আকাশের একটি স্তর রক্ষা নয়; এর অর্থ মানুষের স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, খাদ্যব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখা। বিশ্ব ওজোন দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই পৃথিবীকে রক্ষা করার কাজটি আকাশের অনেক ওপরে শুরু হলেও এর দায়িত্ব আমাদের সবার হাতে।

কেএসকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত
সিলেটে মাজার-মসজিদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত

পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

শেরপুর সীমান্তে সাড়ে ১১ লাখ টাকার কসমেটিক জব্দ

শেরপুর সীমান্তে সাড়ে ১১ লাখ টাকার কসমেটিক জব্দ

সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ
সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা খেলাধুলায় অত্যন্ত প্রতিভাবান। ক্রীড়াক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে তরুণদের আরও উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরান জড়িত থাকলে কঠোর হামলা: ট্রাম্প

নীল শাড়ি, নীল চুড়িতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন পারসা ইভানা

নীল শাড়ি, নীল চুড়িতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন পারসা ইভানা

ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু

ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু

হারিয়ে যাওয়া ফোনের তথ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ
হারিয়ে যাওয়া ফোনের তথ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, ফোনটি অন্যের হাতে গেলে সেখানে থাকা তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা বা আর্থিক ক্ষতি করা হতে পারে। তাই ফোন হারানো বা চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলার নতুন যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলার নতুন যাত্রা

মৌলভীবাজারে ১৫ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা

মৌলভীবাজারে ১৫ কিলোমিটার দৌড় প্রতিযোগিতা

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার 

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার 

0 Comments