অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে স্টিভেন স্মিথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার স্পষ্ট করে অবসরের তারিখ না জানালেও আগামী বছরের অ্যাশেজে খেলবেন কি না, সেটি নিয়ে বড় সংশয় তৈরি করেছেন। আপাতত সিরিজ ধরে ধরে টেস্ট ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার স্বপ্নও সামনে রেখেছেন।
১২৫ টেস্ট খেলে ৩৭টি সেঞ্চুরি করা স্মিথ বর্তমানে টেস্ট ব্যাটারদের র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুকের পরই তার অবস্থান। তবে ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে প্রতিটি সিরিজ আলাদাভাবে বিবেচনা করছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক।
অ্যাশেজে থাকবেন কি না, জানেন না স্মিথ
আগামী বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে অ্যাশেজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ঐতিহ্যবাহী এই সিরিজে খেলাটা যে স্মিথেরও বড় আকাঙ্ক্ষা, সেটি গোপন করেননি তিনি। তবে সেই সিরিজে তাকে দেখা যাবে কি না, এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
দ্য টেলিগ্রাফকে স্মিথ বলেন, ‘আমি জানিই না, তখন সেখানে থাকব কি না। বেশ কিছুদিন ধরেই আমি সিরিজ ধরে ধরে এগোচ্ছি। এখনো সেই সময়টা আমার জন্য অনেক দূরে। সেখানে একটি সিরিজ জিততে পারলে দারুণ হবে। তবে সেটি বাস্তবে হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।’
স্মিথের এমন মন্তব্যের পরই তার টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, অ্যাশেজের মতো বড় সিরিজের মাত্র এক বছর আগে দাঁড়িয়েও তিনি নিজের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।
অবসর কবে, সেটিও ঠিক করেননি
তবে স্মিথ এখনই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এমন কোনো ইঙ্গিতও দেননি। বরং ক্রিকেট থেকে এখনো আনন্দ পাচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।
গত প্রায় ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে স্মরণ করে স্মিথ বলেন, ‘আমি অনেক কিছু অর্জন করেছি। গত ১৫ বছর বা তার কাছাকাছি সময় দারুণ কেটেছে। অনেক আনন্দ পেয়েছি। এখনো উপভোগ করছি। তাই শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই। দেখা যাক কী হয়।’
তার কথায় পরিষ্কার, আপাতত অবসরের দিনক্ষণ ঠিক করছেন না তিনি। তবে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় যে খুব বেশি দূরে নয়, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
লক্ষ্য এখন ২০২৮ অলিম্পিক
স্মিথের সামনে অবশ্য রয়েছে আরেকটি বড় লক্ষ্য- ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফেরানোর পর প্রথমবারের মতো সেই আসরে খেলার সুযোগ পাবে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা।
স্মিথ জানিয়েছেন, আপাতত তার অন্যতম লক্ষ্য অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়া। আর সেই লক্ষ্যেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেকে সক্রিয় রাখছেন তিনি।
বর্তমানে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে (ইটিপিএল) আমস্টারডাম ফ্লেমসের হয়ে খেলছেন এই ব্যাটার। কেন ইউরোপের এই টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে গেলেন, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
স্মিথ বলেন, ‘এখন সম্ভবত আমার লক্ষ্য শুধু অলিম্পিকে থাকার চেষ্টা করা। আমস্টারডামের হয়ে খেলার অন্যতম কারণ হলো যতটা সম্ভব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়া।’ অর্থাৎ টেস্ট ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে ধরে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
স্মিথের কথায় ভবিষ্যতের আরেকটি সম্ভাব্য চিত্রও ফুটে উঠেছে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে ধীরে ধীরে সরে এলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও কিছুদিন খেলে যেতে চান তিনি।
‘আমি এখনো মনে করি, কিছু সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে পারব। এরপর আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটা নিশ্চিত নই। তবে আশা করি, খেলার জন্য আরও কিছু সময় বাকি আছে,’ বলেন স্মিথ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির বদলে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিই তার জন্য বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
বল টেম্পারিংয়ের পর প্রথম টেস্ট সফর দক্ষিণ আফ্রিকায়
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। আগামী অক্টোবর থেকে দুই দলের মধ্যে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হবে। এই সফর স্মিথের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
২০১৮ সালের কেপটাউন বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে যাবেন তিনি। সেই ঘটনায় এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন স্মিথ। তবে পুরোনো সেই ঘটনা নিয়ে এখন আর বাড়তি আবেগ কাজ করে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্মিথ বলেন, ‘আমার কাছে এটি আরেকটি সিরিজ। যা ঘটেছিল, সেটা অনেক আগের কথা। এরপর আমরা অনেক ক্রিকেট খেলেছি। ওয়ানডে খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ফিরেছি।’
কিংবদন্তির শেষ অধ্যায় কি শুরু হয়ে গেছে?
স্টিভ স্মিথের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ১২৫ টেস্টে ৩৭ সেঞ্চুরি তার ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার বড় প্রমাণ। এখনো টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুইয়ে থাকা এই ব্যাটার যে পুরোপুরি ফুরিয়ে যাননি, সেটিও পরিষ্কার।
তবে বয়স ৩৭ পেরিয়ে যাওয়ায় ক্যারিয়ারের শেষ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাও স্বাভাবিক। আগামী অ্যাশেজে খেলবেন কি না, সেটি নিয়েই যখন স্মিথ নিজে নিশ্চিত নন, তখন তার টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়বেই।
আইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী। অন্যরা পলাতক।
এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৯৪ জনের মৃত্যু হলো।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বিয়ের রাতেই অসুস্থ হয়ে আয়নাল হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।