ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পশ্চিমবঙ্গ সফরের সময় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি থেকে ইচ্ছা করে বাদ দেওয়া হয়েছে পুলিশের শীর্ষস্থানীয় মুসলমান কর্মকর্তাদের। সম্প্রতি জাতিসংঘের ‘স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার অন মাইনরিটি ইস্যুজ’-এর উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে এমনই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস (মমতাপন্থী) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র।
এই মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মহুয়া মৈত্র। এ কথাও তিনি জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুক্রবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বিষ্ণুপুর থানায় তলব করে সমন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি মহুয়া মৈত্রের। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি।
১ সেপ্টেম্বর নিজস্ব এক্স হ্যান্ডেল থেকে টুইট করে মহুয়া অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে অমিত শাহর সফর চলাকালে বেছে বেছে মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাদের সব সরকারি অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ সফরের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজাকে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সফরে কোনো সরকারি অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রিত হননি স্পেশাল টাস্কফোর্সের মহানির্দেশক জাভেদ শামিম। উচ্চপর্যায়ের সরকারি বৈঠক চলাকালীন কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) প্রবীণ অফিসার খলিল আহমেদকেও। টুইটে রাজ্য প্রশাসনের এ ধরনের ‘অর্থহীন সাম্প্রদায়িক আচরণের বিরুদ্ধে’ প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য।
সেই টুইটের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ডায়মন্ড হারবারে মহুয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার ক্রাইম পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। তবে এসব প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে মহুয়া মৈত্র জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ‘অফিস অব দ্য হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস’-এর সংখ্যালঘুবিষয়ক স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নিকোলাস লেভরাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধি অধ্যাপক লেভরাট মূলত বিশ্বজুড়ে জাতীয়, জাতিগত, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাধা শনাক্তকরণের দায়িত্বে রয়েছেন। মহুয়া মৈত্র তাঁর চিঠিতে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে অমিত শাহর তিনবারের পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে এই তিন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে হয় বৈঠক ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, নয়তো সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
অধ্যাপক লেভরাটকে লেখা চিঠিতে মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সহকর্মীরা যখন নির্দ্বিধায় ও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুমতি পান, তখন শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সব অনুষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এই তিন কর্মকর্তাকে শুধু তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দূরে রাখা হয়েছে। এই প্রশাসনিক বর্জনকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখেননি; বরং তাঁর মতে, এই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল সরাসরি সরকারি প্রটোকল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।
চিঠিতে মহুয়া মৈত্র এই পুরো ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক বর্জনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ যদি সরকারি ও প্রশাসনিক স্তরে চলতে থাকে, তবে দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসনের ওপর সাধারণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জাতিসংঘের ‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র’ এবং ‘আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি’র বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে দাবি করেন, এ ঘটনা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করেছে।
তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় এমন ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁর মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ পুলিশিব্যবস্থা, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো যাঁর অধীন রয়েছে, সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় এমন ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় একই সঙ্গে তিন মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে ইচ্ছা করে বাদ দেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে ভারত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির দ্বারস্থ হয়েছেন মহুয়া মৈত্র। চিঠিতে তিনি আরও অনুরোধ করেছেন, ভবিষ্যতে কোনো সরকারি অনুষ্ঠান বা কার্যক্রমে কোনো কর্মকর্তাকে শুধু তাঁর ধর্মের ভিত্তিতে যেন বাদ না দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশের পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের দায়িত্ব পালন করে, তা-ও সুনিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন মহুয়া। পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণের সুরক্ষার স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলা সফরসংক্রান্ত সব সিসিটিভি ফুটেজ, কর্মকর্তাদের ট্যুর ডায়েরি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি অবিলম্বে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পরিশেষে নিজের বার্তার সমর্থনে মহুয়া মৈত্র জাতিসংঘের সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রতিনিধিকে তাঁর পদের এখতিয়ার এবং নিজস্ব নির্দেশিকা মেনে এ বিষয়ে উপযুক্ত যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।