জাতীয়

মৌলভীবাজার শহরেই ‘স্বাদ’–এর ১২ আউটলেট

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মৌলভীবাজার শহরেই ‘স্বাদ’–এর ১২ আউটলেট
মৌলভীবাজার শহরেই ‘স্বাদ’–এর ১২ আউটলেট

মৌলভীবাজার জেলা শহরের বাতাস যেন সব সময় মিষ্টি আর তাজা বেকারি পণ্যের সুবাসে ম-ম করে। নদীতীরের এই শহরে আধুনিক করপোরেট কোম্পানিগুলোর প্রবল প্রতিযোগিতার পরও বেকারি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশীয় ও বহুজাতিক ব্র্যান্ডের আগ্রাসনের এই যুগেও নিজস্ব মান ও অবিচল আস্থার জোরে একচেটিয়াভাবে টিকে থাকার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজারকেন্দ্রিক এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যা সত্যিই দেশের অন্যান্য জেলার জন্য অত্যন্ত চমৎকার ও অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত।

একনজরে শহরের সার্বিক বাজারচিত্র বিশ্লেষণ করলে তা বেশ চমকপ্রদ মনে হয়। বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ দখল করে আছে বৃহৎ স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো। এর মধ্যে অন্যতম বেঙ্গল ফুড, স্বাদ অ্যান্ড কোং ও পিউরিয়া। গুণগত মান, ড্রাই কেক, মুচমুচে বিস্কুট এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য এগুলো সব শ্রেণির ক্রেতার কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। বাজারের আরও ২০ শতাংশ রয়েছে ঐতিহ্যবাহী স্থানীয় সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দখলে। রাজমহল সুইটস, মহানগর ও রহমান সুইট মার্ট নামের এসব প্রতিষ্ঠান খাঁটি ছানার মিষ্টি, দই এবং বিয়েসহ যেকোনো উৎসবের বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে সাধারণ থেকে অভিজাত ক্রেতাদের বেশ পছন্দ। অন্য অংশে রয়েছে টেস্টি ট্রিট, মিঠাই ও বনফুলের মতো আধুনিক করপোরেট চেইন শপ, যারা মূলত আধুনিক বার্থডে কেক, প্যাকেটের পণ্য এবং ঝটপট ফাস্ট ফুডের (বার্গার, পিৎজা) বাজারে শহুরে তরুণ প্রজন্মের কাছে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

স্থানীয় সফলতার এই চমৎকার ভিড়ে গুণগত মান আর ক্রেতাদের অবিচল আস্থার এক অনন্য নামের পরিচিতি পেয়েছে ‘স্বাদ অ্যান্ড কোং’। ২০০৫ সালে পশ্চিম বাজারে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি এখন ভোক্তাদের পছন্দের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড। জেলাজুড়ে বর্তমানে তাদের ১৮টি আউটলেট রয়েছে, যা মানসম্মত খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে। এই ব্যবসায়ী পরিবারের ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। পাকিস্তান আমলে স্থানীয় বাজারে তাদের মনিহারি ও পেট্রোলিয়ামের ব্যবসা ছিল। পরবর্তী সময় প্রতিষ্ঠাতা গিয়াস আহমেদ চৌধুরী কুয়েতে ব্যবসা গড়লেও উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে দেশে ফেরেন। ১৯৯৮ সালে দেশে সুপারশপ চালুর পর, ২০০৫ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে তিনি এই বেকারি ব্যবসা শুরু করেন। বাবার সেই সফল উদ্যোগের হাল এখন ধরেছেন ছেলে জাহেদ আহমেদ চৌধুরী।

‘স্বাদ অ্যান্ড কোং’ মূলত জনপ্রিয়তা পেয়েছে নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে তৈরি প্রিমিয়াম মানের বেকারি পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির জন্য। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে স্বাদ ঘি, রসমালাই, লাল মোহন, মালাইকারি, চমচম, ছানার পায়েস, লাড্ডু, ড্রাই কেক, বাদামি বিস্কুট, ক্রিস্পি টোস্ট ও পেস্ট্রি। আধুনিক কনফেকশনারি হিসেবে এখন আউটলেটগুলোয় জুস, লাচ্ছি, শর্মা, স্মোকিং স্যান্ডউইচ ও বার্গার পাওয়া যায়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে তারা এ গ্রেড সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। কেমিক্যাল ও প্রিজারভেটিভমুক্ত খাবারের পাশাপাশি তারা নির্ধারিত গোয়ালার কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে। সম্পূর্ণ হালাল খাবারের এই প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের চাহিদায় কেবল পবিত্র রমজান মাসে বিফ বিরিয়ানি বিক্রি হয়। সেবার মান ও সততার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা কয়েকবার জেলায় শ্রেষ্ঠ ভ্যাট প্রদানকারী নির্বাচিত হয়েছে।

খাদ্য ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে পর্যটনেও বড় ভূমিকা রাখছে পরিবারটি। মৌলভীবাজারে ১১ একর জায়গার ওপর প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা গড়ে তুলেছে দেশের প্রথম ‘বার্ড পার্ক ও রিসোর্ট’। 

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
গঠনমূলক সমালোচনা শুনে ভুল সংশোধনে প্রস্তুত সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী
গঠনমূলক সমালোচনা শুনে ভুল সংশোধনে প্রস্তুত সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
সাতক্ষীরায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, দোকান কর্মচারী আহত

সাতক্ষীরায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, দোকান কর্মচারী আহত

নরসিংদীতে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

নরসিংদীতে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

ব্রাজিলে নির্বাচন: দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া

ব্রাজিলে নির্বাচন: দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া

দুর্গা পূজার আগেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ
দুর্গা পূজার আগেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ

তিনি বলেন, “উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্গা পূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য আগাম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
আজ যেমন থাকবে আবহাওয়া

আজ যেমন থাকবে আবহাওয়া

ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ, বেশির ভাগই অব্যবহৃত

ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ, বেশির ভাগই অব্যবহৃত

এ সপ্তাহের রাশিফল (৩-৯ অক্টোবর)

এ সপ্তাহের রাশিফল (৩-৯ অক্টোবর)

0 Comments