জাতীয়

মার্কিন সংবিধানের ২৩৯ বছর: ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষা ও ঢাকার বাস্তবতা

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন সংবিধানের ২৩৯ বছর: ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষা ও ঢাকার বাস্তবতা
মার্কিন সংবিধানের ২৩৯ বছর: ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষা ও ঢাকার বাস্তবতা

১৭ সেপ্টেম্বর ১৭৮৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার স্টেট হাউসে একটি ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন সংবিধান প্রণেতারা।

সেই দলিলই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো লিখিত জাতীয় সংবিধানগুলোর একটি এবং আজও কার্যকর থাকা এক অনন্য সাংবিধানিক দলিল।

২০২৬ সালে এসে এর ২৩৯ বছর পূর্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বিশ্বের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

ফিলাডেলফিয়ার সেই সংবিধান কেবল একটি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার নকশা ছিল না; এটি ছিল ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভারসাম্যে রাখা এবং জনগণের সার্বভৌমত্বকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘস্থায়ী পরীক্ষা।

তবে একই সঙ্গে এর ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় কোনো সংবিধানই নিখুঁত নয় এবং কাগজে লেখা নীতি ও বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে সব সময় একটি দূরত্ব থাকে।

১৭৮৭ সালের সাংবিধানিক কনভেনশন শুরু হয়েছিল কনফেডারেশনভিত্তিক দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারকে সংস্কারের উদ্দেশ্যে।

কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিনিধিরা বিদ্যমান কাঠামো সংশোধনের বদলে একটি নতুন সরকারব্যবস্থার নকশা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেন।

কয়েক মাসের বিতর্ক, মতপার্থক্য ও আপসের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় নতুন সংবিধান।

সংবিধান প্রণয়ন শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত নয়; এটি মতপার্থক্যের মধ্যেও সমঝোতা তৈরির রাজনৈতিক শিল্প।

বড় ও ছোট রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, নির্বাহী বিভাগের কাঠামো এবং রাজ্যগুলোর অধিকার প্রতিটি বিষয়েই তীব্র বিতর্ক ছিল।

শেষ পর্যন্ত আপসের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি হয়। ফলে মার্কিন সংবিধানের ইতিহাস গণতান্ত্রিক আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতারও ইতিহাস।

মার্কিন সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার বিভাজন। রাষ্ট্রক্ষমতা আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে না পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনপ্রিয় সার্বভৌমত্ব, সীমিত সরকার, প্রজাতন্ত্রবাদ এবং ফেডারেলিজম।

অর্থাৎ রাষ্ট্রক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ; সরকার সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ; জনগণের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টিত থাকবে।

এই ধারণাগুলো আজও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার কতটা কার্যকর তার ওপর।

বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঐতিহাসিক ও সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে প্রণীত হয়।

বাংলাদেশের সংবিধান একটি একক, সংসদীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ফেডারেল ও প্রেসিডেনশিয়াল ব্যবস্থা অনুসরণ করে, যেখানে রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান।

মার্কিন সংবিধানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কংগ্রেস সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস ফেডারেল কাঠামোর প্রতিফলন।

বাংলাদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ। আবার যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে; বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রকাঠামো প্রাধান্যশীল।

তবে পার্থক্যের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মিলও রয়েছে। উভয় সংবিধানেই জনগণের সার্বভৌমত্ব, নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব, মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের সাংবিধানিক ভূমিকার গুরুত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্রক্ষমতাকে সাংবিধানিক সীমার মধ্যে রাখার এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো মূলত ব্রিটিশ সংসদীয় ঐতিহ্যের ওপর দাঁড়ালেও বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন সাংবিধানিক চিন্তার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধানকে ব্রিটিশ ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থা ও মার্কিন ধাঁচের শক্তিশালী বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা-এর সমন্বয় হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় সংবিধান বহুবার সংশোধিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে।

তবে এখানেই ঢাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি ভালো সংবিধান থাকলেই ভালো গণতন্ত্র নিশ্চিত হয় না।

সংবিধানের প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করছে, রাজনৈতিক দলগুলো কতটা সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলছে, নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সংসদ কতটা কার্যকর, বিচার বিভাগ কতটা স্বাধীন এবং নাগরিকেরা কতটা অধিকার ভোগ করছে এসবই নির্ধারণ করে সাংবিধানিক শাসনের বাস্তবতা।

বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় সংবিধান বহুবার সংশোধিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা রয়েছে।

এখানে ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবিধান প্রণেতারা শুধু ক্ষমতা সৃষ্টি করেননি; ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থাও তৈরি করেছিলেন।

তাদের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কীভাবে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী হওয়া থেকে ঠেকানো যায়। ২৩৯ বছর পরেও মার্কিন সংবিধান নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়নি।

বরং প্রযুক্তি, সামাজিক বিভাজন, অভিবাসন, নাগরিক অধিকার, নির্বাচনী রাজনীতি, নির্বাহী ক্ষমতা এবং বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান একটি একক, সংসদীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

মার্কিন সংবিধান একটি জীবন্ত রাজনৈতিক ও আইনগত কাঠামো, যার কার্যকারিতা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক সমাজের ওপর। বাংলাদেশের জন্যও শিক্ষা এখানেই।

আমাদের মার্কিন সংবিধানের কোনো কাঠামো হুবহু অনুকরণ করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা আমাদের নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে।

কিন্তু ফিলাডেলফিয়ার কয়েকটি মৌলিক শিক্ষা সর্বজনীন ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক আপসের সংস্কৃতি।

মার্কিন সংবিধানের ২৩৯ বছর পূর্তি তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক দিবস নয়; এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আত্মপর্যালোচনারও একটি সুযোগ।

ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষা আমাদের বলে সংবিধান কেবল রাষ্ট্রের ক্ষমতার দলিল নয়, এটি রাষ্ট্রক্ষমতার সীমারেখাও নির্ধারণ করে। সংবিধান শুধু সরকার গঠন করে না, সরকারকে জবাবদিহির মধ্যেও রাখে।

আর গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন নয়; এটি সংখ্যালঘুর অধিকার, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনেরও নিশ্চয়তা।

ফিলাডেলফিয়ার ১৭৮৭ সালের অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার ২০২৬-এর জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই: একটি সংবিধানের প্রকৃত শক্তি তার পাতায় নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজ কতটা আন্তরিকভাবে তার নীতি ও চেতনাকে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারে তার ওপর নির্ভর করে।

ফিলাডেলফিয়া আমাদের একটি সাংবিধানিক কাঠামোর গল্প বলে; ঢাকা এখনো তার নিজস্ব সাংবিধানিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করার পথে।

  • অধ্যাপক ড. সুজিত কুমার দত্ত, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; আইভিএলপি ফেলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ৬২৮ শতাংশ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ৬২৮ শতাংশ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম ভূঞা বলেন, এই সম্পদ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ নয়। এটি পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের ঘাম ঝরানো সঞ্চয়ের আমানত। এই আমানত সুরক্ষার দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু বর্তমানে এই সম্পদ বেআইনি হস্তক্ষেপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় ভারতীয় মালিকানাধীন ওষুধ কারখানা ধ্বংস

ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় ভারতীয় মালিকানাধীন ওষুধ কারখানা ধ্বংস

খুলনায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকে গুলি করে হত্যা

খুলনায় পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকে গুলি করে হত্যা

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চবি ছাত্রীর মৃত্যু

ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চবি ছাত্রীর মৃত্যু

‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার পেলেন শাখাওয়াত হোসেন
‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার পেলেন শাখাওয়াত হোসেন

ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬-এ ‘বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ’ পুরস্কার অর্জন করেছেন।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট

ঢাবির সূর্যসেন হল ক্যান্টিনে চালু নতুন সুষম ফুড চার্ট

ঢাবির সূর্যসেন হল ক্যান্টিনে চালু নতুন সুষম ফুড চার্ট

আদনানের প্রযোজনায় ‘নসীব’ নির্মাণ করছেন ইকবাল
আদনানের প্রযোজনায় ‘নসীব’ নির্মাণ করছেন ইকবাল

ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে ‘নসীব’ নামটি বেশ পরিচিত। ১৯৮৪ সালে মোমতাজ আলী পরিচালিত এবং উজ্জ্বল-শাবানা অভিনীত ‘নসীব’ সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
দিল্লিতে বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ নারী সংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

দিল্লিতে বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ নারী সংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

রাবিতে খাতা-কলম ছাড়াই পরীক্ষা পদ্ধতি চালু

রাবিতে খাতা-কলম ছাড়াই পরীক্ষা পদ্ধতি চালু

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭০

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১৭০

0 Comments