
বাংলাদেশের সোশ্যাল কমার্স ইকোসিস্টেম দ্রুতগতিতে বড় হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় দুই লাখ মার্চেন্ট এই খাতে ব্যবসা করছেন, যা দেশের মোট ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্ডার, গ্রাহক, সেলস চ্যানেল ও অপারেশনাল টুলস ম্যানেজ করতে হয়।
মার্চেন্টরা যাতে সহজে এবং দক্ষতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা ও বড় করতে পারেন, সে জন্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘পাঠাও’ নিয়ে এল ‘পাঠাও কমার্স’। এটি একটি অল-ইন-ওয়ান প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্টোরফ্রন্ট, সেলস চ্যানেল, অর্ডার, ইনভেন্টরি, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও কাস্টমার কমিউনিকেশন—সবকিছু এক জায়গাতেই পাওয়া যাবে।
বর্তমান মার্চেন্টদের তিনটি মূল চাহিদা—ম্যানেজমেন্ট, এফিশিয়েন্সি এবং গ্রোথকে কেন্দ্র করে পাঠাও কমার্স তৈরি করা হয়েছে। এটি মার্চেন্টদের ম্যানুয়াল কাজ কমিয়ে, দৈনন্দিন অপারেশন সহজ করে এবং ব্যবসাকে বড় করার দিকে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।
পাঠাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, বহু বছর ধরে মার্চেন্টরা ডেলিভারির হ্যাসেল কমাতে এবং নিরাপদে গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পাঠাও-এর ওপর আস্থা রেখেছেন। পাঠাও কমার্স-এর মাধ্যমে আমরা সেই কমিটমেন্টের পরিধি ডেলিভারির বাইরেও নিয়ে যাচ্ছি। আমরা মার্চেন্টদের একটি সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম দিচ্ছি, যেখানে তাঁরা স্টোরফ্রন্ট ও অর্ডার থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি, সেলস, পেমেন্ট, ডেলিভারি এবং কাস্টমার কমিউনিকেশন, সবকিছু একসঙ্গে ম্যানেজ করতে পারবেন।
ফাহিম আহমেদ আরও বলেন, ‘একাধিক টুলস ব্যবহারের ঝামেলা দূর করে আমরা মার্চেন্টদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস দিচ্ছি, যাতে তাঁরা কাস্টমারদের ওপর মনোযোগ দিতে পারেন, নিজেদের বিজনেসকে ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে পারেন এবং নতুন সুযোগগুলোকে বড় বিজনেসে রূপান্তর করতে পারেন।’
বিজনেস চালানোর জন্য মার্চেন্টদের যেসব টুলস প্রয়োজন, তার সবকিছুই একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে পাঠাও কমার্স। মার্চেন্টরা একটি সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্ম থেকেই তাদের প্রোডাক্ট ক্যাটালগ, অর্ডার, পেমেন্ট, ইনভেন্টরি ও ডেলিভারি ম্যানেজ করতে পারবেন এবং একটি প্রফেশনাল অনলাইন স্টোরফ্রন্টও তৈরি করতে পারবেন।
এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটি শপিফাই, উও–কমার্স এবং দারাজের মতো থার্ড-পার্টি সেলস চ্যানেলের সঙ্গে সহজেই যুক্ত হতে পারে। ফলে মার্চেন্টরা তাঁদের বর্তমান সেলস অপারেশনগুলো পাঠাও কমার্স-এ নিয়ে আসতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মে সেলস, অর্ডার, ইনভেন্টরি ও ইনকাম-সংক্রান্ত সব তথ্য অটোমেটিক আপডেট হয়ে যায়, যা মার্চেন্টদের পুরো বিজনেসের ওপর পরিষ্কার ধারণা ও নিয়ন্ত্রণ দেয়। একাধিক আলাদা টুলসের ওপর নির্ভর না করে মার্চেন্টরা এখন এক জায়গা থেকেই সবকিছু ম্যানেজ করতে পারবেন।
অনেক অনলাইন মার্চেন্টদের জন্য একটিমাত্র সেল সম্পন্ন করতে ফেসবুক মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম ডিএম, হোয়াটসঅ্যাপ, স্প্রেডশিটস এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বারবার অদলবদল করতে হয়। এতে প্রায়ই একই তথ্য একাধিকবার লিখতে হয়।
পাঠাও কমার্স একটি ইউনিফায়েড চ্যাট ইনবক্সের মাধ্যমে এই প্রসেসটিকে সহজ করে তুলেছে। মেটার অফিশিয়াল ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে তারা উল্লেখিত সব যোগাযোগ মাধ্যমের কাস্টমার মেসেজগুলো এক জায়গায় নিয়ে এসেছে। মার্চেন্টরা চ্যাটের ভেতরেই অর্ডারের হিস্ট্রি দেখতে পারবেন। সঙ্গে পাঠাও-এর দেশব্যাপী প্রায় এক কোটি ইউনিক অ্যাড্রেসের ডেটাবেজ ব্যবহার করে তৈরি করা এআই–এনাবল্ড সাপোর্টের সাহায্যে খুব দ্রুত ডেলিভারির তথ্য ইনপুট দিতে পারবেন।
মার্চেন্টরা কাস্টমার চ্যাট উইন্ডোর ভেতরেই একটি ‘ইনস্ট্যান্ট চেকআউট’ লিংক তৈরি করতে পারবেন। ফলে কাস্টমাররা এক ধাপেই তাঁদের অর্ডার ও পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। অর্ডার প্লেস হয়ে গেলেই পিকআপ এজেন্ট নিজে থেকেই মার্চেন্টের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। আর কাস্টমারের কাছে সঙ্গে সঙ্গে একটি ট্র্যাকিং লিংক শেয়ার হয়ে যাবে, যা বারবার কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সমস্যা কমাবে।
বারবার প্ল্যাটফর্ম বদলানো, কপি-পেস্ট করা ও ম্যানুয়াল কাজের কো–অর্ডিনেশন কমানোর মাধ্যমে পাঠাও কমার্স কাস্টমারের সঙ্গে কথা বলা থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত পুরো প্রসেসটিকে অনেক বেশি দ্রুত ও সহজ করে তোলে।
দৈনন্দিন অপারেশনের ধাপ পেরিয়ে বিজনেস গ্রো করতে যা দরকার, মার্চেন্টদের সেই টুলগুলো দিয়ে থাকে পাঠাও কমার্স। মার্চেন্টরা তাঁদের স্টোরফ্রন্ট কাস্টমাইজ করতে পারবেন, সেলস ও ইনভেন্টরি ট্র্যাক করতে পারবেন এবং অ্যানালিটিকস দেখে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। শিগগিরই মেটা ক্যাটালগ ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে সরাসরি স্পন্সর্ড ক্যাম্পেইন চালানোর সুবিধাও আসছে।
নিরাপদ পেমেন্ট, পাঠাও পের মাধ্যমে ইন্সট্যান্ট পে-আউট, রিয়েল-টাইম ডেলিভারি ট্র্যাকিং এবং কাস্টমার ট্রাস্ট রেটিং মার্চেন্টদের আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেল করতে সাহায্য করে। হিস্টোরিক্যাল ডাটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ট্রাস্ট রেটিং সোশ্যাল কমার্সে রিটার্নের হার এক সংখ্যার ঘরে আটকে রাখতে সাহায্য করে, যেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসে রিটার্নের হার প্রায় ৩০ শতাংশ।
এ ছাড়া পাঠাও কমার্স-এর মাধ্যমে মার্চেন্টরা তাঁদের পুরো প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ‘পাঠাও শপ’-এ পাবলিশ করতে পারবেন, যা মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই সেলের নতুন একটি মাধ্যম খুলে দেয়। পাশাপাশি পাঠাও-এর ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারির মাধ্যমে মার্চেন্টরা দ্রুত ডেলিভারির অর্ডারগুলো সহজে পারফর্ম করতে পারবেন। এসব কাজ অটোমেট করার জন্য মার্চেন্টরা পাঠাও কমার্স-এর সঙ্গে সরাসরি এপিআই যুক্ত করে নিতে পারবেন।
বাংলাদেশের শীর্ষ ই-কমার্স লজিস্টিকস প্রোভাইডার থেকে দেশের ডিজিটাল কমার্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারে রূপান্তরের পথে পাঠাও কমার্স-এর এই উদ্ভাবন একটি বড় মাইলফলক। লজিস্টিকস, পেমেন্ট, কমিউনিকেশন ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টকে এটি একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
ভিজিট করুন: commerce.pathao.com
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৪০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।
উচ্চশিক্ষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ১২ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরমভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল।