মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও অবৈধ দখল ঠেকানোর পাশাপাশি যানজট ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে ঢাকা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়।
জেলার চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে বিশেষ যৌথ অভিযান, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার, ফুটপাত ও অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং জননিরাপত্তা জোরদারে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ইশরাক হোসেন।
সভায় ঢাকা-১১ আসনের এমপি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (কেরাণীগঞ্জ) সাংগঠনিক সম্পাদক আরফান ইবনে আমান অমি, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১১ আসনের বস্তি এলাকা এবং জেলার অন্যান্য চিহ্নিত মাদক স্পটে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত ২৭৪টি মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময় লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে সাতটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। বাকি লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পদধারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তদারকি আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধান সড়কে অবৈধ সভা-সমাবেশ ও মিছিলের কারণে যানজট সৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কাপ্তান বাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অবৈধ বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জোনভিত্তিক রেস্তোরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে স্পিকার ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৬ এর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, এ আসনে মাদকের সমস্যা বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি সভায় জানান।
গেন্ডারিয়া, ঘুঁটিগড় ও মুনসিরটেকসহ বিভিন্ন এলাকার মাদকসংক্রান্ত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত এবং যেখানে-সেখানে বাস ও অন্যান্য যানবাহন থামিয়ে রাখার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও যানজটের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ড ও সদরঘাটের বিভিন্ন সমস্যা ছাড়াও কাপ্তানবাজার ও মুরগিপট্টির বিষয়টি সভায় তুলে ধরেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। এসব বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করার পরও সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও তিনি সভায় তুলে ধরেন।
সভায় ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের প্রবণতা, মাদকবিরোধী অভিযান, জননিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশের চলমান কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
জেলার বিভিন্ন থানায় পরিচালিত বিশেষ অভিযান, অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের নেওয়া ও চলমান পদক্ষেপগুলো তিনি তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে পুলিশের পেশাদার ও জনমুখী কার্যক্রমের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলা পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পুরো জেলায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিধন অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিটি দপ্তরকে নিজেদের নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে ‘ফিডব্যাক’ আকারে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম বলেন, জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনার ভিত্তিতে সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সদস্যরা জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ দেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে জননিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে গৃহীত ও গৃহীতব্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
এমডিএএ/এমএমকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরেজমিনে দেখা যায়, এক কেজি প্যাকেটজাত চিনির গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা লেখা থাকলেও অনেক দোকানে তা ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা প্যাকেট কেটে খোলা চিনি হিসেবে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
সরকার নির্ধারিত ১৫৮৫ টাকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বাজারে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।