জাতীয়

মা যদি আর্থিক প্রতারণা করেন সন্তানের করণীয় কী

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মা যদি আর্থিক প্রতারণা করেন সন্তানের করণীয় কী
মা যদি আর্থিক প্রতারণা করেন সন্তানের করণীয় কী

পৃথিবীতে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও ভালোবাসার স্থান হলেন মা। কিন্তু সেই মা-ই যদি সন্তানের সঙ্গে মিথ্যা বলেন, প্রতারণামূলক আর্থিক দেনা তৈরি করেন কিংবা মানসিক কষ্টের কারণ হন—তখন সন্তানের মনের অবস্থা কেমন হয়? মাতৃত্বের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে তখন এক জটিল নৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। 

এমন সংবেদনশীল পারিবারিক সংকটে সন্তানের করণীয় কী? কীভাবে সম্মান বজায় রেখে এই অন্যায়ের প্রতিকার করা যায়? ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। একদিকে ইসলাম পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, অন্যদিকে যে কারও প্রতারণাকে অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত করে।

পিতা-মাতার ভুলত্রুটি নীরবে সহ্য করে নিজেকে ও সন্তানদের সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া ইসলামের আদব নয়; বরং প্রজ্ঞা, নম্রতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সীমারেখা নির্ধারণ করাই ইসলামের নির্দেশ।

ইসলাম পিতা-মাতাকে নিষ্পাপ বলে ঘোষণা করেনি। বয়সের ভার, একাকীত্ব কিংবা মানসিক বিচ্যুতির কারণে অনেক সময় পিতা-মাতা আর্থিক লোভ বা অনিয়মে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

মায়ের মর্যাদা ও মানবিক সীমাবদ্ধতা

ইসলামে মায়ের স্থান সবার ঊর্ধ্বে। এক ব্যক্তি নবীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার উত্তম সাহচর্য পাওয়ার সর্বাধিক হকদার কে?’ তিনি তিনবার বললেন, ‘তোমার মা’; অতঃপর চতুর্থবারে বললেন, ‘তোমার পিতা’। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭১)

কোরআনে পিতামাতার সঙ্গে সর্বদা কোমল ভাষায় কথা বলার এবং সামান্য ‘উহ’ শব্দটিও উচ্চারণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩)।

তবে ইসলাম পিতা-মাতাকে নিষ্পাপ (মাসুম) বলে ঘোষণা করেনি। বয়সের ভার, একাকীত্ব কিংবা মানসিক বিচ্যুতির কারণে অনেক সময় পিতা-মাতা আর্থিক লোভ বা অনিয়মে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

মুমিন সন্তানের দায়িত্ব হলো—ব্যক্তি মায়ের প্রতি হৃদয়ে শ্রদ্ধা ও দয়া বজায় রাখা, কিন্তু তাঁর পাপ বা অন্যায় কর্মকাণ্ডকে কোনো অবস্থাতেই মেনে বা প্রশ্রয় না দেওয়া।

ভরণপোষণের ফিকহি অগ্রাধিকার

ফিকহশাস্ত্রে ভরণপোষণের একটি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার কাঠামো রয়েছে। যখন কোনো ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য সীমিত থাকে, তখন তার উপার্জিত সম্পদের ওপর সর্বপ্রথম নিজের এবং নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক পোষ্য সন্তানদের হক বর্তায়; এরপর উদ্বৃত্ত থাকলে পিতা-মাতার দায়িত্ব আসে।

ইমাম নববী (রহ.) ইসলামের সর্বসম্মত অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন, “কোনো ব্যক্তির আর্থিক সঙ্গতি যদি সীমিত হয় এবং সে সবার খরচ একসঙ্গে চালাতে অপারগ হয়, তবে আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইজমা) অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ক্রম হবে: প্রথমে নিজের প্রয়োজন, দ্বিতীয়ত নিজের নাবালক সন্তান ও স্ত্রীর ভরণপোষণ, এবং এরপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ।” (ইমাম নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহিহি মুসলিম,  ৭/৮২–৮৪, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত)

সন্তানের সম্পদে পিতা-মাতার অধিকারের সীমা

নবীজি একটি হাদিসে সন্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন “তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার।” (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৯১)

অনেকে এই হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করে মনে করেন পিতা-মাতা সন্তানের সম্পদে যেভাবে ইচ্ছা তছরুপ করতে পারেন। কিন্তু চার মাজহাবের ফকিহগণ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত যে এই অধিকার শর্তহীন নয়।

হাম্বলি মাজহাবের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ ইমাম ইবনে কুদামাহ (রহ.) উল্লেখ করেছেন, পিতা-মাতা তখনই সন্তানের সম্পদ থেকে নিতে পারেন যখন তাঁরা বাস্তব অর্থেই অভাবগ্রস্ত হন, এবং সেই গ্রহণ যেন কোনো অবস্থাতেই সন্তানের ক্ষতিসাধন না করে কিংবা সন্তানের ওপর ঋণ ও দেনার বোঝা চাপিয়ে না দেয়। (ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি, ৮/২৭২–২৭৫, দারু আলমিল কুতুব, রিয়াদ, ১৯৯৭ খ্রি.)

অনুরূপভাবে হানাফি মাজহাবের প্রামাণ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া শামিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে পিতা-মাতার জন্য সন্তানের সম্পদে অনধিকার চর্চা, মিথ্যাচার বা প্রতারণামূলক দেনা তৈরি করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলা আদ–দুররিল মুখতার, ৩/৬২১–৬২৪, দারুল ফিকর, বৈরুত)

ক্ষতি নিরসনে আইনি সুরক্ষা গ্রহণ

মা যদি সন্তানের নাম ব্যবহার করে কোনো জালিয়াতি, ভুয়া ঋণ বা আর্থিক কেলেঙ্কারি করেন, তবে তা মুখ বুজে মেনে নেওয়া তাকওয়া নয়। ইসলামি ফিকহের একটি মূলনীতি হলো, ‘ক্ষতি অবশ্যই দূরীভূত করতে হবে’।

এই মূলনীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্যের অনিষ্টের শিকার হয়ে নিঃস্ব হতে পারে না। (ইমাম সুয়ুতি, আল-আশবাহ ওয়ান নাজায়ির, পৃষ্ঠা: ৮৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

নবীজি বলেছেন, “ইসলামে নিজের ক্ষতি করা যেমন বৈধ নয়, অন্য কারো ক্ষতিসাধন করাও বৈধ নয়।” (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩৪০)

তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, “স্রষ্টার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১০৯৫)

অতএব, মা যেন ভবিষ্যতে সন্তানের পরিচয়পত্র বা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে কোনো প্রতারণা করতে না পারেন, সে জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আলাদা করা কিংবা আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা কোনো শিষ্টাচার বহির্ভূত নয়; বরং এটি ইসলামসম্মত অপরিহার্য আত্মরক্ষা।

আইনি ও বাস্তবিক সুরক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানের উচিত মায়ের সঙ্গে মমতা নিয়ে মুখোমুখি কথা বলা। পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতিই অনেক সময় সম্পর্কের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ায়।

সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে খোলামেলা আলোচনা

আইনি ও বাস্তবিক সুরক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানের উচিত মায়ের সঙ্গে মমতা নিয়ে মুখোমুখি কথা বলা। পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতিই অনেক সময় সম্পর্কের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ায়।

একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, মা কেন এমন করছেন? প্রবীণ বয়সে স্বামী হারানোর পর নিরাপত্তাহীনতার ভয় থেকেও মানুষ অনেক সময় অর্থ কুক্ষিগত করতে চায়। সন্তান যদি মায়ের মৌলিক খাবার, ওষুধ ও মর্যাদাপূর্ণ হাতখরচের নিশ্চয়তা দেয় এবং তাঁকে নিয়মিত সময় ও মানসিক সঙ্গ প্রদান করে, তবে মায়ের এই মনস্তাত্ত্বিক বিচ্যুতি অনেকটাই দূর হতে পারে।

পিতামাতার প্রতি সদাচরণ (ইহসান) ইসলামের এক মহান স্তম্ভ, তবে সেই সদাচরণের সীমানা কখনোই জুলুম, জালিয়াতি বা নিজের সন্তানদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে না।

মায়ের ব্যক্তিগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে, তাঁর জন্য দোয়া ও সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাঁর অন্যায় আর্থিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করাই কোরআন, সুন্নাহ ও প্রামাণ্য ফিকহের অকাট্য বিধান।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মিরপুরে সরকারি আবাসন প্রকল্পের লিফট ছিঁড়ে আহত ৩
মিরপুরে সরকারি আবাসন প্রকল্পের লিফট ছিঁড়ে আহত ৩

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনে লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
তেল-চিনিতে বাড়তি দাম, সবজিতেও স্বস্তি নেই

তেল-চিনিতে বাড়তি দাম, সবজিতেও স্বস্তি নেই

বড় জয়ে রোনালদো পরবর্তী যুগ শুরু করল পর্তুগাল

বড় জয়ে রোনালদো পরবর্তী যুগ শুরু করল পর্তুগাল

হাঁটু মুড়ে বসে শুভশ্রীর হাতে দেবের চুম্বন, ইধিকারও যত্ন নিলেন অভিনেতা

হাঁটু মুড়ে বসে শুভশ্রীর হাতে দেবের চুম্বন, ইধিকারও যত্ন নিলেন অভিনেতা

ঢাকার অলিগলিতে অটোরিকশার দাপট, নেপথ্যে কারা?
ঢাকার অলিগলিতে অটোরিকশার দাপট, নেপথ্যে কারা?

রাজধানী ঢাকার অলিগলি, আবাসিক এলাকার সড়ক, বাজারের প্রবেশমুখ এমনকি অধিকাংশ প্রধান সড়কে এখন চোখে পড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
এলপিজি সিলিন্ডারে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ৯১৫ টাকা 

এলপিজি সিলিন্ডারে গুণতে হচ্ছে বাড়তি ৯১৫ টাকা 

ডিমের বাজারে বাড়তি চাপ, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ডিমের বাজারে বাড়তি চাপ, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

পিরোজপুরে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজারের বেশি

পিরোজপুরে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩ হাজারের বেশি

0 Comments