বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে। এতে দৈনিক আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।
দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দিকে ঝুঁকছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বাড়তি চাহিদা জোগান দিতে পূর্বপরিকল্পনার অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
পিডিবি ও বিপিসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের শুরুতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে (আইপিপি) পুরোনো পাওনা পরিশোধের জন্য ছয় হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। এতে নিজস্ব উদ্যোগে ফার্নেস অয়েল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী বিপিসি ৩৫ দিনে ফার্নেস অয়েলের সাতটি পার্সেল আমদানি করছে।
তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইপিপিগুলো আমদানি করে নিজেরা। অনেকে পিডিবির মাধ্যমে বিপিসি থেকে তেল নিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখে। বিপিসি আমদানির মাধ্যমে চাহিদামাফিক পিডিবিকে তরল জ্বালানি সরবরাহ করে। তবে বিগত বছরগুলোতে চাহিদা দিয়েও পিডিবি ফার্নেস অয়েল না নেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় বিপিসিকে।
২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পিডিবি এক চিঠিতে ২০২৬ সালের জন্য মাসওয়ারি ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দিয়ে চিঠি দেয় বিপিসিকে। ওই চিঠিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য আট লাখ ২৬ হাজার ২শ টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়।
এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য চাহিদা রয়েছে ৮৮ হাজার ২৯৮ টনের। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পিডিবির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ চার হাজার টনের ফার্নেস অয়েলের সংশোধিত চাহিদা দেয়। এতে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে বিপিসি।
এর আগে গত ২১ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে দৈনিক গড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
পিডিবির ৭-৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগের তিনদিনে রাত ৯টায় পিক আওয়ারে ১৭শ ৭১ থেকে ২৫শ ৬১ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এর মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ৮ সেপ্টেম্বর পিক আওয়ার রাত ৯টায় ডিমান্ড ছিল ১৭ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ওই সময়ে পিডিবির ৯ জোনে লোডশেডিং হয়েছে ১৭৭১ মেগাওয়াট।
এর মধ্যে ঢাকা জোনে সর্বোচ্চ ৪৪৭ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহ জোনে ৩৭৬ মেগাওয়াট, খুলনা জোনে ৩০৭ মেগাওয়াট, কুমিল্লা জোনে ২৯০ মেগাওয়াট, সিলেট জোনে ১৪২ মেগাওয়াট, রাজশাহী জোনে ১১৮ মেগাওয়াট, রংপুরে ৭৬ মেগাওয়াট, বরিশালে ১২ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন ৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, আগের দিন ৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশে দুই হাজার ৫৬১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওইদিন ঢাকায় লোডশেডিং হয় সর্বোচ্চ ৬৯৬ মেগাওয়াট। ৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ২১শ ১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কথা বলেছে পিডিবি। এর মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৮১৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।
৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর পিডিবির গ্রিড লাইনে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৩৫২ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ কয়লা থেকে ১২৩ দশমিক শূন্য ৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

পাশাপাশি গ্যাসে ১১৫ দশমিক ৮১ মিলিয়ন কিলোওয়াট, আমদানি থেকে ৫৩ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ফার্নেস অয়েলে ৪৫ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ডিজেল থেকে ৫ দশমিক ৭২ মিলিয়ন কিলোওয়াট, পানি থেকে ৫ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট, সোলার থেকে ৩ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট এবং বায়ু থেকে দশমিক ১১ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর পিডিবির গ্রিড লাইনে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৩৪৫ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট/ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গ্যাস থেকে ১১৯ দশমিক ২৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। পাশাপাশি কয়লায় ১১৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট, আমদানি থেকে ৫২ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ফার্নেস অয়েলে ৪২ দশমিক ১৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট, ডিজেল থেকে ৬ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট, পানি থেকে ৫ দশমিক ৩১ মিলিয়ন কিলোওয়াট, সোলার থেকে ৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট এবং বায়ু থেকে দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
পেট্রোবাংলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে নেমেছে। দেশের ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ গ্যাসনির্ভর। এর মধ্যে সারাদেশে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে দুই হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু তথ্য বলছে, পেট্রোবাংলার ছয় বিতরণ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৮৫৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ৯ সেপ্টেম্বর ৮৬১ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে।
৯ সেপ্টেম্বর বিপিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের মজুত একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। বিগত বছরের হিসাবে মাত্র পাঁচদিনের মতো ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে বিপিসির হাতে। তথ্য বলছে, ৯ সেপ্টেম্বর বিপিসিতে সমাপনী মজুত ছিল ৯ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তিন মাসে বিপিসির বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনিক গড়ে ২১শ ৮৮ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি করেছিল। এতে বর্তমান মজুতে মাত্র পাঁচদিনের কম সরবরাহ দিতে সমর্থ হবে বিপিসি।
এমনিতে পিডিবি আগে চাহিদামাফিক ফার্নেস অয়েল নিতো না। এখন সংকটকালীন সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ টনের চাহিদা দিয়েছে পিডিবি। তাদের চাহিদা পাওয়ার পর থেকে আমরা দ্রুত অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিকল্পনার বাইরেও এ মাসে ফার্নেস অয়েলের দুটি পার্সেল বেশি আনা হয়েছে।-বিপিসির পরিচালক (বিতরণ) আসাদুল হক
বিপিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি সূচি অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি পার্সেলে দুই লাখ টনের মতো ফার্নেস অয়েল আনবে বিপিসি। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম পার্সেল, ১৬-১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়, ২০-২২ সেপ্টেম্বর তৃতীয়, ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর চতুর্থ, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে পঞ্চম, ৬-৮ অক্টোবর ষষ্ঠ এবং ১৫-১৭ অক্টোবর আসবে সপ্তম পার্সেল। পাশাপাশি বেসরকারি আইপিপিগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানির ঋণপত্র খুলেছে।

এ বিষয়ে কথা হলে ফার্নেস অয়েল নিয়ে আশার কথা জানিয়েছেন বিপিসির পরিচালক (বিতরণ) আসাদুল হক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমনিতে পিডিবি আগে চাহিদামাফিক ফার্নেস অয়েল নিতো না। এখন সংকটকালীন সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখ টনের চাহিদা দিয়েছে পিডিবি। তাদের চাহিদা পাওয়ার পর থেকে আমরা দ্রুত অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছি। পরিকল্পনার বাইরেও এ মাসে ফার্নেস অয়েলের দুটি পার্সেল বেশি আনা হয়েছে। আশা করছি পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোতে ফার্নেস অয়েল সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না।’
আমরা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখের কিছু বেশি ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য চাহিদা দিয়েছি। আমরা যে পরিমাণ চেয়েছি, তাৎক্ষণিক সে পরিমাণ সরবরাহ দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিপিসিরও নেই। তারাও বাড়তি ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছেন। সবাই মিলে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।-পিডিবির উপ-সচিব (উৎপাদন) হেলালুর রহমান
পিডিবির উপ-সচিব (উৎপাদন) হেলালুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফার্নেস অয়েল বেশিরভাগ আমদানি করতে হয়। আমরা চলতি মাসের ৩ তারিখ সরকার থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা পেয়েছি। ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে আইপিপিগুলোকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। তারাও ফার্নেস অয়েল আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খুলছে। তাদের এলসি খোলার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে চলতি মাসে আরও এক হাজার কোটি টাকার মতো আনুপাতিকভাবে পরিশোধ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দুই লাখের কিছু বেশি ফার্নেস অয়েল সরবরাহের জন্য চাহিদা দিয়েছি। আমরা যে পরিমাণ চেয়েছি, তাৎক্ষণিক সে পরিমাণ সরবরাহ দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিপিসিরও নেই। তারাও বাড়তি ফার্নেস অয়েল আমদানির পদক্ষেপ নিয়েছেন। সবাই মিলে চেষ্টা করছি। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, ‘২১ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোন কোন প্ল্যান্টের কী পরিমাণ ফার্নেস সরবরাহ করা দরকার, তার একটি তালিকা আমরা বিপিসিকে দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে সেপ্টেম্বরে লোড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফার্নেস অয়েল আমদানির চালানগুলো শিগগির আসা শুরু হবে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে লোড বাড়বে। সবমিলিয়ে বিদ্যুতের সংকট সমাধানে আমরা সবাই মিলে এগোচ্ছি।
এমডিআইএইচ/এএসএ/ এমএফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. মো. আতিকুর রহমান তালুকদারকে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় জুলেখা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন।
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ৫, ৬ ও ৭ অক্টোবরের আয়োজনে ওয়ালটনের প্রদর্শনীকেন্দ্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে লিফট। বিভিন্ন ধরনের লিফটের পাশাপাশি এগুলোর উৎপাদন ও পরীক্ষার সক্ষমতাও তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লিফট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।