জাতীয়

‘লাইনটা সত্যিই চালু আছে কি না দেখলাম’, সারের কন্ট্রোলরুমে অদ্ভুত সব কল

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
‘লাইনটা সত্যিই চালু আছে কি না দেখলাম’, সারের কন্ট্রোলরুমে অদ্ভুত সব কল
‘লাইনটা সত্যিই চালু আছে কি না দেখলাম’, সারের কন্ট্রোলরুমে অদ্ভুত সব কল

‘হ্যালো, এটা কি সারের কন্ট্রোল রুম? আচ্ছা, আসলে আমার কোনো সমস্যা নেই; লাইনটা সত্যিই চালু আছে কি না তা একটু পরীক্ষা করে দেখলাম!’

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এমন একটি কল আসে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুমে। ওপার থেকে নিজের ঠিকানা না দিয়ে পরিচয় তাপস মন্ডল জানিয়ে ফোন কেটে দেওয়া হয়।

তার এমন অদ্ভুত কথা শুনে কিছুটা বিব্রত কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। ঠিক ওই ঘটনা যখন ঘটে, জাগো নিউজের প্রতিবেদক সেখানে নিউজের তথ্যের জন্য নিজেই উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ওই শিফটে কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (পরিকল্পনা) আব্দুল আওয়াল জাগো নিউজকে বলেন, কন্ট্রোল রুম ১১ সেপ্টেম্বর চালু হলো। এরপর এখন পর্যন্ত অসংখ্য কল আসে। কিন্তু যে কারণে এটি খোলা হয়েছে, সে ধরনের প্রয়োজনে কল আসে এখন পর্যন্ত ৩০টি। বাঁকি বেশিরভাগ অপ্রয়োজনীয়।

অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে সার নিয়ে কোনো অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ফোন করা মানুষের সংখ্যা অপ্রয়োজনীয় ফোনের চেয়ে কম।

মূলত, দেশের নানা এলাকার সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি তদারকিতে এ ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সরকারের দেওয়া এই বিশেষ সেবাটি কৃষক ও প্রান্তিক পর্যায়ের কতটা পৌঁছাতে পেরেছে, কতটা কার্যকর সেটার একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে এবার।

আরও পড়ুন

ইউপি মেম্বারের বাড়িতে মিললো ৩৪ বস্তা সার

দেখা গেছে, কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়ে অনেকে ভুয়া অভিযোগও দিচ্ছেন। ওইদিন সকালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা থেকে হাবিবুর রহমান মহসিন পরিচয়ে একজন অভিযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগ নথিভুক্তও হয়।

ফোনে অভিযোগ করা হয়েছিল, তার এলাকার ডিলার নজরুল কৃষকদের সার দিচ্ছেন না। এরপর কন্ট্রোল রুম থেকে ওই এলাকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ফয়সালকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, অভিযোগকারী মিথ্যা বলেছেন, তার অভিযোগ সত্য নয়।

কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধানের জন্য সবাই সচেষ্ট। তবে কিছু অপ্রয়োজনীয় ফোন আসছে এটাও সত্য- কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক।

এরপর জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঙ্গে। তিনি ফোনে জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেখানে যান। এরপর অভিযোগকারীকে সার নিতে আসতে বললে, তিনি আসেননি। তিনি কৃষক কি না সেটাও জানা যায়নি।

আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, সেখানে নজরুল ডিলার বলতে মেসার্স আওয়াল অ্যান্ড ব্রাদার্সের কথা বলা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নজরুল। অভিযোগকারী বলেছিলেন, সেখানে সকাল থেকে ৪০-৫০ জন কৃষক সার না পেয়ে ফিরে গেছেন, সেটাও সত্য নয়। আমরা অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সকাল থেকে বিতরণের তালিকাও যাচাই করেছি।

আরও পড়ুন

সার ডিলারদের কমিশন বাড়ছে, কৃষক পর্যায়ে দাম অপরিবর্তিত

সারের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন একাধিক কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সার সরবরাহ, মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতির তথ্য জানতে চাওয়া কিংবা কোন অভিযোগ না দিয়ে কন্ট্রোল রুমে অনেকেই কীভাবে ডিলার হবেন, অন্য এলাকার বরাদ্দ, সার্বিক মজুতসহ নানা তথ্য চাচ্ছেন। অনেকে নিজের পরিচয় গোপন করে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।

তাহলে এ সারের কন্ট্রোল রুমে কোনো উপকার মিলছে না? এমনটাও নয়। সেখানে উপস্থিত থাকতে নাম প্রকাশ না করে রাজশাহী গোদাগাড়ী এলাকা থেকে একজন বলেন, তিনি সার নিতে গিয়ে পাননি। শোভন ট্রেডার্সের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে অভিযোগ তদন্তে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বলা হয়।

আরও পড়ুন

খোলাবাজারে সার বিক্রি করায় ডিলারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

এরপর ফোনে উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ওই ডিলার প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবেন না বলে তিনি অঙ্গীকার করেছেন। তবে অভিযোগকারী নিজের পরিচয় গোপন করায় তিনি সার পেয়েছেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫২৮ নম্বর কক্ষে কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম চলছে। এজন্য ২৭টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে একজন কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন। কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই শিফটে চলবে। প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা এবং দ্বিতীয় শিফট বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।

কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক জাগো নিউজকে বলেন, কন্ট্রোল রুম থেকে প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সমাধানের জন্য সবাই সচেষ্ট। তবে কিছু অপ্রয়োজনীয় ফোন আসছে এটাও সত্য।

তিনি বলেন, গত একমাসের মধ্যে সার নিয়ে কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এমন একটা ঘটনা কিন্তু সম্প্রতি এ কন্ট্রোল রুম থেকে সমাধান হয়েছে। গাইবান্ধা ফুলছড়িতে সম্প্রতি ডিলারের দোকান খোলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ৪০-৫০ জন স্থানীয় লোক ও কৃষক জড়ো হয়ে হট্টগোল করে। পরে ফোনের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তাসহ প্রশাসন দিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।

আরও পড়ুন

কৃষকের সার গুদামে আছে, মাঠে নেই

এছাড়া ফোনে সার পরিবহনে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুত, কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে- যেটা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো জেলা বা উপজেলায় সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিলে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করছে কন্ট্রোল রুম। মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রতিটি অভিযোগের প্রতিকার ও প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে প্রতিবেদন আকারে। প্রতিদিনের সার পরিস্থিতি, পাওয়া অভিযোগ, গৃহীত ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন

গুদামে সার, মাঠে সংকট—সমস্যা কোথায়?

এবার সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের জন্য ০৫০৩৫১ ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।

এনএইচ/এমআইএইচএস

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নড়াইলে ১১৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ
নড়াইলে ১১৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ

নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলায় ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। লোহাগড়া উপজেলায় ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৬টিতে এবং কালিয়া উপজেলায় ১৫৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫১টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
গৃহবধূ হত্যা মামলায় শ্বশুর গ্রেপ্তার

গৃহবধূ হত্যা মামলায় শ্বশুর গ্রেপ্তার

ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি

ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি

চবির ২৫ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

চবির ২৫ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

কুড়িগ্রামে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ
কুড়িগ্রামে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভোটাংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. ওমর আলীর গোয়ালঘরে মফিজুল হকসহ কয়েকজন প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে ওমর আলী বাইরে বের হলে মফিজুলকে ধরে ফেলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মফিজুল কৌশলে পালিয়ে যান।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
বেরোবিতে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান কর্মসূচি

বেরোবিতে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান কর্মসূচি

মেসির আন্তর্জাতিক যাত্রার শেষ অর্কেস্ট্রা

মেসির আন্তর্জাতিক যাত্রার শেষ অর্কেস্ট্রা

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট, তবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ তীব্র গরম

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট, তবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ তীব্র গরম

রাবিতে সাংবাদিক হামলা: ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ বৃহস্পতিবার
রাবিতে সাংবাদিক হামলা: ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ বৃহস্পতিবার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
শ্রীপুরে এক রাতেই তিন গোয়ালঘরে হানা, চার গরু চুরি

শ্রীপুরে এক রাতেই তিন গোয়ালঘরে হানা, চার গরু চুরি

‘আর্তনাদ’ স্মৃতিস্তম্ভে ঢাবির গণরুম-গেস্টরুমের নিপীড়নের স্মৃতি

‘আর্তনাদ’ স্মৃতিস্তম্ভে ঢাবির গণরুম-গেস্টরুমের নিপীড়নের স্মৃতি

আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ

আউটসোর্সিং কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে বিক্ষোভ

0 Comments