দেশের জীবন বিমা খাতে সামগ্রিকভাবে বেড়েছে ব্যবসা। তবে ১৩টি কোম্পানির আর্থিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে উদ্বেগজনক অবনতি। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও জীবন তহবিল দুই ক্ষেত্রেই সংকোচন হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসার পাশাপাশি জীবন তহবিল কমার এ চিত্রকে ‘ক্যানসার আক্রান্ত’ বলছেন জীবন বিমা বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, কোনো কোম্পানির ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা এবং একই সঙ্গে জীবন তহবিল কমে যাওয়া ভালো লক্ষণ নয়। এ ধরনের পরিস্থিতি অনেকটা শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধার মতো। শুরুতেই রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা না হলে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইভাবে বিমা কোম্পানিগুলোর সমস্যাও দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিমা খাতে পড়বে।

ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা ও জীবন তহবিল কমে যাওয়ার তালিকায় সমস্যাগ্রস্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, গোল্ডেন লাইফ ও বায়রা লাইফের পাশাপাশি মেঘনা লাইফ, পপুলার লাইফ, রূপালী লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো কোম্পানিও রয়েছে। এ তালিকায় আরও আছে- হোমল্যান্ড লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, সান লাইফ, প্রগ্রেসিভ লাইফ ও প্রটেক্টিভ লাইফ।
ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড কমার কারণ হিসেবে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- বিগত দিনে কিছু জীবন বিমা কোম্পানি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। ফলে কয়েকটি কোম্পানি গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে এ খাতে এক ধরনের ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। যে কারণে মানুষ বিমা করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
পাশাপাশি সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে কমেছে ব্যবসা। তবে ব্যবসা কমলেও কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে, তাই কমেছে লাইফ ফান্ড বা জীবন তহবিল।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালে দেশে ব্যবসা করা জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত ব্যবসা ছিল ৯ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১০২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে এ খাতের ব্যবসা বেড়েছে তিন হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির বিপরীতে বেশ কয়েকটি কোম্পানি পিছিয়ে পড়েছে।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যবসায় বড় ধরনের পতন হয়েছে মেঘনা লাইফের। ২০২০ সালে মেঘনা লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় বা ব্যবসা ছিল ৪২২ কোটি টাকা। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৫ সালে ২৮৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, ছয় বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা কমেছে ১৩৯ কোটি টাকা।
ব্যবসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির জীবন তহবিলেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির জীবন তহবিল ছিল ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। ২০২৫ সাল শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, জীবন তহবিল কমেছে ৩২০ কোটি টাকা।
ব্যবসা ও জীবন তহবিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পপুলার লাইফেরও। ২০২০ সালে পপুলার লাইফের ব্যবসা ছিল ৫৯১ কোটি টাকা। এরপর ২০২৩ সালে কোম্পানিটি ৬৭৭ কোটি টাকার ব্যবসা করলেও ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৫০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ১৭৬ কোটি এবং ছয় বছরের ব্যবধানে ৯০ কোটি টাকা ব্যবসা কমেছে কোম্পানিটির।
একই সময়ে কোম্পানিটির জীবন তহবিলেও বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২০ কোম্পানিটির জীবন তহবিল ছিল ১ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ২০২৫ সাল শেষে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ছয় বছরে জীবন তহবিল কমেছে ২৬০ কোটি টাকা।
সমস্যাগ্রস্ত ফারইস্ট লাইফের ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির ব্যবসা ছিল ৯৭৪ কোটি টাকা। সেখান থেকে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা। কোম্পানিটির জীবন তহবিল ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির জীবন তহবিল ছিল ২ হাজার ৩ কোটি টাকা, যা কমে ঋণাত্মক ৮৪৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
প্রাইম লাইফের ব্যবসা ২০২০ সালে ছিল ৪১৪ কোটি টাকা, সেখান থেকে ২০২৫ সালে ৩৮৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, ছয় বছরে ব্যবসা কমেছে ২৬ কোটি টাকা। আর জীবন তহবিল ৮৩৭ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৪৪ কোটি টাকায়।
২০২০ সালে কোম্পানিটির ব্যবসা ছিল ২৪৮ কোটি টাকা। সেখান থেকে কমে ২০২৫ সালে ব্যবসা হয়েছে ২১৫ কোটি টাকা। ব্যবসা কমলেও কোম্পানিটির জীবন তহবিল একই জায়গায় রয়েছে। ২০২০ সালে জীবন তহবিল ছিল ৫০৫ কোটি টাকা, ২০২৫ সালেও রয়েছে তাই।
২০২০ সালে সানফ্লাওয়ার লাইফের ব্যবসা ছিল ৬৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ছয় বছরে ব্যবসা কমেছে ৫০ কোটি টাকা। জীবন তহবিলেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ১৩৮ কোটি টাকা থেকে জীবন তহবিল কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি টাকায়।
হোমল্যান্ড লাইফের ব্যবসায় ভয়াবহ ধস নেমেছে। ২০২০ সালে কোম্পানিটির ব্যবসা ছিল ১০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৫ সালে মাত্র ৯ কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, ছয় বছরে ব্যবসা কমেছে ৯২ কোটি টাকা। একই সময়ে জীবন তহবিলও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। কোম্পানিাটির জীবন তহবিল ২৬১ কোটি টাকা থেকে কমে ১৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গোল্ডেন লাইফের ব্যবসা ২০২০ সালে ছিল ২৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে নেমেছে ১৭ কোটি টাকায়। আর জীবন তহবিল ২০২০ সালে ছিল ২৬১ কোটি টাকা, সেখান থেকে কমে ১৬৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পদ্মা লাইফের ব্যবসা ২০২০ সালে ছিল ৪৯ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে ১৫ কোটি টাকা হয়েছে। আর জীবন তহবিল ১৩ কোটি টাকা থেকে কমে ঋণাত্মক ৩০৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, কোম্পানিটির পক্ষে এখন টিকে থাকাই কঠিন।
বায়রা লাইফের ব্যবসা ২০২০ সালে ছিল ৪ কোটি টাকা। সেখান থেকে ২০২৫ সালে কমে ২ কোটি টাকায় নেমেছে। জীবন তহবিল ৬৬ কোটি টাকা থেকে কমে ঋণাত্মক ৬৫ কোটি টাকা হয়েছে। সান লাইফের ব্যবসা ১০৫ কোটি টাকা থেকে কমে ১৯ কোটিতে নেমেছে। আর ১৮২ কোটি টাকার জীবন তহবিল কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি টাকায়।
প্রগ্রেসিভ লাইফের ব্যবসা ৪২ কোটি টাকা থেকে কমে ৩০ কোটি টাকায় কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির জীবন তহবিল ২৭৩ কোটি টাকা থেকে কমে ৬৯ কোটি টাকায় চলে এসেছে। অর্থাৎ, ছয় বছরের ব্যবধানে জীবন তহবিল কমেছে ২০৪ কোটি টাকা।
নতুন প্রজন্মের জীবন বিমা কোম্পানি প্রটেকটিভ লাইফের ব্যবসা ৩৯ কোটি টাকা থেকে কমে ৩১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর জীবন তহবিল ১০ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামনে কোম্পানিটি গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধ করতে পারবে না।
ব্যবসার পাশাপাশি জীবন তহবিল কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। কারণ বিমা কোম্পানির জন্য শুধু নতুন ব্যবসা অর্জন নয়, জীবন তহবিল ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবন তহবিলের সঙ্গে পলিসিধারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে।
অবশ্য পুরো জীবন বিমা খাত সংকটে রয়েছে- এমন চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে না। একই সময়ে ন্যাশনাল লাইফ, ডেল্টা লাইফ, জীবন বীমা করপোরেশন, প্রগতি লাইফ, সোনালী লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বেড়েছে।
ন্যাশনাল লাইফের ব্যবসা ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ডেল্টা লাইফের ব্যবসা ৭৩২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৯ কোটি টাকা হয়েছে। জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবসা ৬০১ কোটি টাকা থেকে ৯৭৬ কোটি টাকা, প্রগতি লাইফের ব্যবসা ৩১৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৬৭ কোটি টাকা হয়েছে।
একইভাবে মেটলাইফের ব্যবসা ২ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা থেকে ৩ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, সন্ধানী লাইফের ১৮৬ কোটি টাকা থেকে ২৪৭ কোটি টাকা, সোনালী লাইফের ১৩৫ কোটি টাকা থেকে ৮৬৬ কোটি টাকা, গার্ডিয়ান লাইফের ২৮৩ কোটি টাকা থেকে ৮৮৬ কোটি টাকা এবং জেনিথ লাইফের ১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৭ কোটি টাকা হয়েছে।
জীবন বিমা কোম্পানির ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সেখানে যদি ধারাবাহিকভাবে কোনো কোম্পানির ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড কমতে থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে ওই কোম্পানিগুলো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে।-প্রগতি লাইফের সিইও মো. জালালুল আজিম
অর্থাৎ, একই বাজারে কিছু প্রতিষ্ঠান যখন ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে, তখন অন্য কিছু কোম্পানি ব্যবসা ও জীবন তহবিল দুই দিক থেকেই পিছিয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে প্রগতি লাইফের সিইও মো. জালালুল আজিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জীবন বিমা কোম্পানির ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড ধারাবাহিকভাবে বাড়বে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। সেখানে যদি ধারাবাহিকভাবে কোনো কোম্পানির ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড কমতে থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে ওই কোম্পানিগুলো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসা কমার অর্থ কোম্পানিগুলো সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না এবং গ্রাহকরা কোম্পানিগুলোর ওপর আস্থা পাচ্ছেন না। এটার কারণ হতে পারে কোম্পানিগুলো গ্রাহকের বিমা দাবি সঠিকভাবে দিচ্ছে না। সঠিকভাবে দাবি পরিশোধ করলে গ্রাহকদের আস্থা হারানোর কথা নয়। ধারাবাহিকভাবে ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড কমলে কোম্পানিগুলোর দাবি পরিশোধের সক্ষমতা সামনে আরও কমে যাবে।’
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম হতে পারে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা প্রকাশ্যে আসছে। ক্যানসার আক্রান্ত এই কোম্পানিগুলোর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগে, দাবি পরিশোধে নাকি অন্য কোনো জায়গায় সমস্যা আছে, তা খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোম্পানিগুলোকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা কমার পিছনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কোনো ভূমিকা আছে কি না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যদি ব্যবসা কমতো, তাহলে সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় তার প্রতিফলন থাকতো। কিন্তু কিছু কোম্পানির ব্যবসা তো ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সুতরাং, যে কোম্পানিগুলো ব্যবসা পাচ্ছে না, সেটা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য নয়, তাদের নিজস্ব সমস্যার কারণে ব্যবসা পাচ্ছে না।’
জীবন তহবিল মূলত পলিসি হোল্ডারদের অর্থ। নতুন ব্যবসা ও রিনিউয়াল কমে গেলেও গ্রাহকদের পুরোনো পলিসির টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে জীবন তহবিল থেকে অর্থ বের হয়ে গেছে এবং তহবিল কমেছে।-মেঘনা লাইফের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন
মেঘনা লাইফের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জীবন বিমা কোম্পানিগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুরুর দিকে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতি সরকার, মালিকপক্ষ কিংবা ব্যবস্থাপনা কোনো পক্ষই যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘জীবন বিমা ব্যবসার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গ্রাহকের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়, তার বড় অংশ ১০, ১২ কিংবা ১৫ বছর পর পরিশোধ করতে হয়। এ কারণে অনেক কোম্পানি শুরুতে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার পর ভবিষ্যতের দায়ের কথা যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। কোম্পানি শুরু হওয়ার পরই অনেকে অফিস-দালান করেছে, গাড়ি কিনেছে, নানা খাতে খরচ করেছে। কেউ ২০-২৫টি গাড়ি কিনেছে, কেউ ৪০০-৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প করেছে। কিন্তু যখন পলিসির টাকা পরিশোধের সময় এসেছে, তখন দেখা গেছে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই।’
দেশের পরিস্থিতি ভালো না, মানুষ বিমা করতে চায় না। আমাদের ব্যবসা কমার কারণ আগে যারা ছিল তারা লুটপাট করে চলে গেছে। আমরা এখন গ্রাহকদের টাকা ঠিকমতো দিতে পারছি না। আগে যে লুটপাট হয়েছে, তার ফল এখন আমরা ভোগ করছি। ৮০০-৯০০ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে।-প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আকতার
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়ম ও অপরিকল্পিত ব্যয়ের কারণে অনেক জীবন বিমা কোম্পানি এখন আর্থিক চাপে পড়েছে। গত ১৫ বছরেও জীবন বিমা খাতের এসব বিষয়ে যথাযথ নজরদারি ছিল না। এমনকি রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
মেঘনা লাইফের ব্যবসা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসা কমার পেছনে শুধু কোম্পানির দুর্বলতা দায়ী নয়, বরং অতীতে প্রচলিত কিছু অনিয়মিত ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়াও এর অন্যতম কারণ। আগে কম্পিউটারাইজড ব্যবস্থা ছিল না। এখন হিসাব-নিকাশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম প্রযুক্তিনির্ভর ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়ায় অতীতে যেসব অননুমোদিত বা অনিয়মিত ব্যবসা হতো, সেগুলো অনেকটাই বন্ধ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মেঘনা লাইফের প্রায় ৪শ থেকে ৫শ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ আটকে আছে। ব্যাংকে আটকে থাকার কারণে প্রয়োজনের সময় এই অর্থ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া বিভিন্ন লিজিং কোম্পানিতেও অর্থ আটকে রয়েছে। তুলনামূলক বেশি মুনাফার আশায় কিছু অর্থ লিজিং কোম্পানিতে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীসময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের সংকটের কারণে সেই অর্থও আটকে গেছে।’
জীবন তহবিল কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেঘনা লাইফের চেয়ারম্যান বলেন, ‘জীবন তহবিল মূলত পলিসি হোল্ডারদের অর্থ। নতুন ব্যবসা ও রিনিউয়াল কমে গেলেও গ্রাহকদের পুরোনো পলিসির টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। ফলে জীবন তহবিল থেকে অর্থ বের হয়ে গেছে এবং তহবিল কমেছে।’
নিজাম উদ্দিন দাবি করেন, ‘মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করছে। তবে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অর্থ আটকে থাকায় কোম্পানিকে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।’
ব্যবসা ও লাইফ ফান্ড কমার কারণ হিসেবে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আকতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভালো না, মানুষ বিমা করতে চায় না। আমাদের ব্যবসা কমার কারণ আগে যারা ছিল তারা লুটপাট করে চলে গেছে। আমরা এখন গ্রাহকদের টাকা ঠিকমতো দিতে পারছি না। আগে যে লুটপাট হয়েছে, তার ফল এখন আমরা ভোগ করছি। ৮০০-৯০০ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে।’
এমএএস/এএসএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইউক্রেনের ক্রামাতোরস্কে দুটি বেসামরিক বাসে রাশিয়ার ‘গ্লাইড বোমা’ হামলায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ছয় বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের দায়ে নুর ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে দুটি মামলায় ৩০ বছর করে মোট ৬০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।