জাতীয়

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওয়াও মার্কেট।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওয়াও মার্কেট।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওয়াও মার্কেট।

প্রথম আয়োজনের সাফল্যের পর আবারও ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে ফিরছে ওয়াও মার্কেট। নারী উদ্যোক্তা, কারুশিল্পী ও সৃজনশীল নারীদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার এই উদ্যোগে থাকছে উদ্যোক্তা, সৃজনশীলতা, সংযোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়।

নারী উদ্যোক্তা, কারুশিল্পী ও সৃজনশীল নারীদের নিয়ে আবারও আয়োজন করা হচ্ছে ‘ওয়াও (W.O.W– Women of Worth and Wonder) মার্কেট’। প্রথম আয়োজনের সাফল্যের পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বসছে এই আয়োজন। নারীর সৃজনশীলতা, উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের মেলায় থাকছে কেনাকাটা, পরিচিতি তৈরি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং সামাজিক কল্যাণের সমন্বয়।

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের ২৫তম তলার বলরুমে ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা। এবারের আয়োজনে থাকছে ৩০টি স্টল, যেখানে প্রায় ৪০ জন নারী উদ্যোক্তা নিজেদের পণ্য ও সৃজনশীল কাজ তুলে ধরবেন। মেলায় পাওয়া যাবে হাতে বোনা ও হাতে তৈরি পোশাক, পাট ও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি নানা পণ্য, ঘরে তৈরি খাবার, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল সামগ্রী। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে ডিমার্ট, বক্স অব অর্নামেন্টস, অরাম বাংলাদেশ, বেনে বৌসহ আরও অনেকে।

গত বছর প্রথম আয়োজনে ছয় শর বেশি দর্শনার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ৫০ জনের বেশি নারী তাদের পণ্য ও দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নতুন ক্রেতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগও পেয়েছেন। এবারের আয়োজনেও নারী উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, নিজেদের পণ্যের গল্প তুলে ধরা এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির সুযোগ পাবেন।

প্রথম আসর ছিল জমজমাট

গতবারের আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কারুকাজের স্বত্বাধিকারী শাহানা আক্তার বলেন, “আমি বরিশাল থেকে পাট ও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি পণ্য নিয়ে এসেছিলাম। প্রথমবার এই মেলায় অংশ নেওয়া আমার জন্য আনন্দের ছিল। ক্রেতাদের প্রশংসা আমাকে উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের সুযোগ পেলে আমরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারি।” ডিমার্টের কানিজ ফাতেমা বলেন, “এ ধরনের আয়োজন নারীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। নারীদের ঘরের বাইরেও সুযোগ দেওয়া হলে তারা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।”

এবারের আয়োজনের বিশেষ সংযোজন হিসেবে থাকছে চ্যারিটি কম্পোনেন্ট যা সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্যোগ। প্রতিটি অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা তাদের স্টলের জন্য তিন হাজার টাকা করে দিচ্ছেন। এই অর্থের পুরোটা সরাসরি অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ মজার স্কুলে দেওয়া হবে। তবে উদ্যোক্তাদের স্টল থেকে হওয়া বিক্রয়ের সম্পূর্ণ অর্থ থাকবে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার কাছেই। নারীর ক্ষমতায়ন, অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে অ্যাকশনএইড এবং অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন। আয়োজনটি আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের ‘গিভিং ফর গুড মান্থ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণে অবদান রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের মহাব্যবস্থাপক কার্থি ভিকে বলেন, “ওয়াও মার্কেটের মূল বিশ্বাস হলো, নারীদের সঠিক মঞ্চ দেওয়া হলে তারা তাদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতাকে অর্থবহ সুযোগে রূপ দিতে পারেন। প্রথম আয়োজনের উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়ার পর আমরা আরও শক্তিশালী উদ্দেশ্য নিয়ে এই আয়োজন ফিরিয়ে আনতে পেরে আনন্দিত। এ বছর সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্যোগের মাধ্যমে মজার স্কুলে অবদান রাখার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করতে পারছি। আমরা এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাই, যেখানে নারীদের উদযাপন করা হবে, তাদের ব্যবসাকে সমর্থন করা হবে এবং একই সঙ্গে সমাজের জন্য কিছু করা হবে।” আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের মেলায় আরও বেশি দর্শনার্থী অংশ নেবেন। নারী উদ্যোক্তা, পরিবার, পেশাজীবী, ক্রেতা এবং বৃহত্তর সমাজের মানুষের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন হয়ে উঠবে উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের মিলনমেলা।

শুধু কেনাবেচার আয়োজন নয়, ওয়াও মার্কেট নারীদের নিজেদের কাজ ও পণ্য তুলে ধরার, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং নিজেদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করতে চায়। একই সঙ্গে সচেতনভাবে কেনাকাটার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে দর্শনার্থীদের। নারী, সৃজনশীলতা ও উদ্দেশ্যকে একসূত্রে মিলিয়ে দেওয়ার ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের মেলা নারীর উদ্যোগ ও সৃজনশীলতা উদযাপনের পাশাপাশি মানুষ, উদ্দেশ্য ও সমৃদ্ধির প্রতি ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের দায়বদ্ধতাও তুলে ধরে।
ছবি: আয়োজক

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৩১৮ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ঢাবিতে ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন
৩১৮ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ঢাবিতে ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন

স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শুরু হয়েছে দিনব্যাপী ‘১১তম চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬’।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
আবাসন সংকট নিয়ে পদক্ষেপের দাবিতে স্পেনজুড়ে বিক্ষোভ

আবাসন সংকট নিয়ে পদক্ষেপের দাবিতে স্পেনজুড়ে বিক্ষোভ

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক: অর্থমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি, ওসিসহ আহত ২ 

কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি, ওসিসহ আহত ২ 

এক যুগ পেরিয়ে ১৩তম বছরে জবি প্রেসক্লাব
এক যুগ পেরিয়ে ১৩তম বছরে জবি প্রেসক্লাব

প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও নিরপেক্ষতার মূলমন্ত্র ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাব গৌরবময় পথচলার এক যুগ পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তানিয়া বৃষ্টি

অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তানিয়া বৃষ্টি

বেতনের টাকায় সড়কে রোপণ করা গাছ কেটে নিলো দুর্বৃত্ত

বেতনের টাকায় সড়কে রোপণ করা গাছ কেটে নিলো দুর্বৃত্ত

ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙার অভিযোগ

ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙার অভিযোগ

0 Comments