জাতীয়

খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, প্রসাধনী, ঘরেই যেভাবে সব তৈরি করেন সংগীত-কাব্যা দম্পতি

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, প্রসাধনী, ঘরেই যেভাবে সব তৈরি করেন সংগীত-কাব্যা দম্পতি
খাবার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, প্রসাধনী, ঘরেই যেভাবে সব তৈরি করেন সংগীত-কাব্যা দম্পতি

এমন যদি হয়, সকালবেলা সবজি কিনতে বাজারে যেতে হলো না, নিজের হাতে বাগান থেকে তুলে নিজেই রান্না করছেন। রান্নার চুলায় যে জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও বাড়ির ফেলে দেওয়া জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে। আর সন্ধ্যার পর ঘর আলোকিত করছে সূর্যের আলো থেকে তৈরি বিদ্যুৎ।

নিজের বাগানের সবজি, জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি জ্বালানি আর সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতে চলছে সংগীত ও কাব্যার সংসার।

ভারতের কেরালার সংগীত ও কাব্যা দম্পতির বাড়িতে এমন ব্যবস্থাই চলছে দিনের পর দিন। সঞ্চয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ দিয়ে তৈরি এ বাড়ি বাইরে থেকে দেখতে আর দশটি বাড়ির মতোই সাধারণ—চারপাশে গাছপালা, সবজির বাগান, গরু-মুরগি।

কিন্তু বাড়িটির আসল বিশেষত্ব একটু ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে। এখানে বাগান শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, গরু-মুরগি শুধু পালনের জন্য নয়, আর রান্নাঘরের বর্জ্যও নিছক ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়। বাড়ির প্রতিটি অংশকে অন্যটির সঙ্গে যুক্ত করে সংগীত ও কাব্যা গড়ে তুলেছেন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর স্বনির্ভর এক ব্যবস্থা।

বাড়ির বাগানে সব ধরনের সবজি চাষ করেন সংগীত ও কাব্যা

গল্পের শুরু ভ্রমণ থেকে

এ বাড়িতে বসবাস শুরুর আগে দশ বছরের বেশি সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করেছেন সংগীত ও কাব্যা। চাকরি তাঁদের দীর্ঘ ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে দুজনই চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্স কাজ করা শুরু করেন। ভ্রমণে তাঁদের জীবনযাপনের ধরন ছিল প্রচলিত পর্যটকদের চেয়ে আলাদা। গাড়িতেই রান্না করতেন, সঙ্গে রাখতেন প্রয়োজনীয় খাবার, তাঁবু ও অল্প কিছু কাপড়। হোটেল বা রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মতো করে চলতেন।

অনেক সময় কোনো জলাশয় বা পুকুরে কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে আবার যাত্রা। প্রতিদিনের খরচও তাঁরা যতটা সম্ভব সীমিত করে এনেছিলেন। ভ্রমণের পথে কম জিনিসে চলা, নিজের খাবার নিজে তৈরি করা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেঁচে থাকার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, বাড়িতে থিতু হয়ে সেটিই যেন আরও স্থায়ী রূপ পেয়েছে। রাস্তায় গাড়ির ছোট পরিসরে যেসব কাজ করতেন, সেগুলোই এখন নিজেদের জমি ও বাড়িকে ঘিরে করছেন।

বাড়িতেই মাশরুম চাষ করেন

বাগান থেকেই রান্নাঘরের জোগান

বাড়ির বাগানে সব ধরনের সবজি চাষ করেন সংগীত ও কাব্যা। মাছও চাষ করেন। ধান ফলানোর চেষ্টাও চলছে। বাড়িতে কৃষিকাজের পাশাপাশি তাঁরা পশুপালনও করেন। রয়েছে গরু ও মুরগি। গরু থেকে মিলছে দুধ, মুরগি থেকে ডিম। ফলে প্রতিদিনের খাবারের অনেকখানি অংশের জোগান তাঁরা বাড়ি থেকে পান।

মাস শেষে তাই বাজারের খরচ অনেকটাই কমে যায়। নিজের হাতে ফলানো সবজি তুলে রান্না করা কিংবা বাড়ির উৎপাদিত খাবার খাওয়ার আনন্দই আলাদা। তার চেয়ে বড় কথা, খাবারের জোগান যখন বাড়ি থেকেই আসে, তখন বাজারের ওপর নির্ভরতাও অনেকখানি কমে যায়।

বাড়িতে কৃষিকাজের পাশাপাশি তাঁরা পশুপালনও করেন

ফেলনা জিনিসই জ্বালানি

গরুর গোবরও তাঁদের এ স্বনির্ভর ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান, যা ব্যবহৃত হচ্ছে রান্নার জ্বালানি বায়োগ্যাস তৈরিতে। সংগীত-কাব্যার বাড়ির একটি অংশে রয়েছে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য ও গরুর গোবর সেখানে দেওয়া হয়। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে অণুজীবের মাধ্যমে এসব জৈবপদার্থ ভাঙার প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় বায়োগ্যাস। রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় সেই গ্যাস।

বায়োগ্যাস তৈরির পর প্ল্যান্টে যে অবশিষ্ট পদার্থ থাকে, সেটিও কৃষিকাজে ব্যবহার করেন তাঁরা। ফলে বাড়িটিতে তৈরি হয়েছে একধরনের ছোট চক্র—গরুর গোবর যাচ্ছে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে, সেখান থেকে তৈরি হচ্ছে রান্নার জ্বালানি আর গ্যাস উৎপাদনের পরের অবশিষ্ট অংশ ফিরে যাচ্ছে কৃষিকাজে। সেই কৃষি থেকেই আবার মিলছে খাবার।

সংগীত ও কাব্যার বাড়ির মাছ

রান্নার পর বিদ্যুতের হিসাব

বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই দম্পতি ব্যবহার করেন সৌরশক্তি। বাড়ির ছাদে থাকা সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সেচের কাজেও ব্যবহার করেন তাঁরা। এখানেও লক্ষ্যটা একই—বাইরের উৎসের ওপর যতটা সম্ভব কম নির্ভরতা। আর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলে তা থেকে আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

অল্প জায়গায় মাশরুম চাষ

বাড়িটির আরেকটি অংশে মাশরুম চাষ করেন সংগীত–কাব্যা। এ ফসলের জন্য বিশাল জমির প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মাশরুমের ক্ষেত্রে উপযুক্ত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে পারলেই তুলনামূলক ছোট জায়গায় মাশরুম চাষ করা সম্ভব। তাঁরা ২৫ দিন অন্তর মাশরুম সংগ্রহ করেন। অর্থাৎ বাড়ির প্রতিটি কোণকে শুধু থাকার জায়গা হিসেবে না দেখে উৎপাদনের কাজে লাগাচ্ছেন তাঁরা।

পরিবেশবান্ধব বাড়ি

মৌমাছির বাক্সে মধুর পাশাপাশি পরাগায়ন

বাড়ির চারপাশে বসানো কাঠের বাক্সে তৈরি করা হয়েছে মৌমাছির বাসা। সেখান থেকে পাওয়া যায় মধু। ফুল থেকে ফুলে ঘুরে বেড়ানোর সময় পরাগায়নেও ভূমিকা রাখে মৌমাছি। ফলে বাগানের ফুল, ফসল ও মৌমাছির মধ্যেও তৈরি হয়েছে একটি প্রাকৃতিক যোগসূত্র।

প্রসাধনপণ্য বাড়ির নারকেল কিংবা কমলা, আমলকীর মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করছেন তাঁরা

ঘরেই হচ্ছে প্রসাধনপণ্য

স্বনির্ভরতার পরিধি শুধু খাবার কিংবা জ্বালানিতে থেমে নেই। সংগীত ও কাব্যা ঘরেই তৈরি করেন দৈনন্দিন ব্যবহার্য্য প্রসাধনপণ্য। কাজল, ময়েশ্চারাইজার ও ফেসওয়াশের মতো ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রী নিজেদের বাড়ির নারকেল কিংবা কমলা, আমলকীর মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করছেন তাঁরা। ফলে বাড়ির গাছগুলো শুধু খাবার বা অক্সিজেনের উৎস নয়; দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটানোরও উৎস।

বাড়ির গাছগুলো শুধু খাবার বা অক্সিজেনের উৎস নয়,সংগীত ও কাব্যার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটানোরও উৎস

প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক

প্রকৃতির সঙ্গে এই দম্পতির সম্পর্ক অবশ্য বাড়ির সীমানায় থেমে নেই। দীর্ঘ ভ্রমণের সময়ও তাঁরা পরিবেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছেন। গত দেড় বছরে ভ্রমণের পথে ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা লাগিয়েছেন তাঁরা।

লাগানো গাছগুলোর অবস্থান জিপিএস ট্র্যাকের মাধ্যমে নজরে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সেগুলোতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন। আগামী পাঁচ বছরে তাঁদের এক লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য।

বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করেন সৌরশক্তি

একটি বাড়ি, অনেকগুলো চক্র

বাগান থেকে আসছে খাবার, গরু থেকে দুধ ও গোবর, গোবর থেকে বায়োগ্যাস, কৃষিতে কাজে লাগছে অবশিষ্ট অংশ। সূর্য থেকে বিদ্যুৎ আর মৌমাছি থেকে মধুর পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে পরাগায়নে সহায়তা। একটি ব্যবস্থার ‘বর্জ্য’ যেন অন্য ব্যবস্থার সম্পদ হয়ে ফিরে আসছে।

সব মিলিয়ে এই বাড়ি যেন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনযাপনের ছবি। বাইরের উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, বাড়ির ভেতরের সম্পদকে বারবার কাজে লাগিয়ে এবং প্রয়োজনকে কিছুটা সীমিত করে ফেলে জীবনযাপনের একটি বিকল্প পথ তৈরি করেছেন সংগীত ও কাব্যা।
তথ্যসূত্র: ইনস্টাগ্রাম, টাইমস লাইফ, দ্য বেটার ইন্ডিয়া

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত
আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

0 Comments