এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এমন কিছু শিক্ষার্থী আছে, যাদের জীবনের গল্প অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার। অদম্য মেধাবীদের নিয়ে প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনে থাকছে চার শিক্ষার্থীর কথা।
অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেছে তারা। কারও বাবা নেই, কারও বাবা প্রবাসে গিয়েও কাজ পাননি। কারও পরিবারের সম্বল সামান্য জমি। আবার কারও সংসার চলে মায়ের একার প্রচেষ্টায়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা থামায়নি তারা। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চারজনই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ভালো ফলের পর তাদের চোখে এখন নতুন স্বপ্ন। কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়; কিন্তু কলেজে পড়াশোনার খরচ কীভাবে চলবে, সেই দুশ্চিন্তাও আছে।
স্কুলে একমাত্র সাদিকাই জিপিএ–৫ পেয়েছে
ফরিদপুর শহরের জোহরা বেগম উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছে। তার নাম সাদিকা আক্তার। তার স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ার; কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে হলে প্রচুর খরচ, এ খরচ বহন করার ক্ষমতা তার মায়ের নেই। এ কথা ভেবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার চিন্তা করছে সাদিকা।
সাদিকা পরিবারের সঙ্গে ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় থাকে। পাঁচ বছর আগে তার মা–বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর থেকে সাদিকা ও আনিশা দুই মেয়েকে কোলেপিঠে করে গড়ে তোলার সংগ্রামে নামেন মা মোহসিনা বেগম। অভাবের সংসার, দুই মেয়ের জন্য বাবার সামান্য টাকা এবং আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দুই মেয়েকে পড়াশোনা করান।
সাদিকা আক্তার বলেন, ‘মা-ই আমাকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আমি জানি, কত অভাব– অনটনের মধ্যে আমাদের চলতে হচ্ছে। গরিব মানুষদের স্বপ্ন দেখাও যেন বিলাসিতা। সংসারের অবস্থা বুঝেই আমি উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক বিভাগে পড়ার কথা ভাবছি।’
সাদিকার মা মোহসিনা আক্তার বলেন, আমার মেয়ে স্বপ্ন দেখেছিল চিকিৎসক হওয়ার। এ জন্য রাত–দিন পরিশ্রম করে সে জিপিএ–৫ পেয়েছে; কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে আমার পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। সামনে কী করব বুঝতে পারছি না।
জোহরা বেগম উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদা খানম বলেন, ‘চলতি বছর এ বিদ্যালয় থেকে সে–ই একমাত্র ছাত্রী, যে জিপিএ–৫ পেয়েছে; কিন্তু আর্থিক কারণে যদি আগামীতে তার পড়াশোনা ব্যাহত হয়, তবে একজন শিক্ষক হিসেবে, একজন অভিভাবক হিসেবে এ দায় আমরা এড়াতে পারব না।’
অনলাইনে ফ্রি ক্লাস করত সানজিনা
অর্থের অভাবে নিয়মিত প্রাইভেট পড়া সম্ভব হতো না। যে কারণে ইউটিউবে খুঁজে খুঁজে ফ্রি ক্লাস করত সানজিনা ইসলাম। স্কুলেও ছিল নিয়মিত। কোথাও আটকে গেলেই শ্রেণিশিক্ষকের সহযোগিতা নিত। পাশাপাশি বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা করত। এভাবেই এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সানজিনা।
সানজিনা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাকের ফকিরপাড়ার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী ছিল।
রফিকুল ইসলাম হাটের ইজারাদারের আদায়কারী হিসেবে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে ছোট্ট একটি দোকান করেছিলেন। প্রায় আট মাস আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান; কিন্তু সেখানে এখনো কোনো কাজ পাননি।
রফিকুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দুই মেয়েকে নিয়ে দিন পার করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভেবেছিলাম, সানজিনার বাবা বিদেশে রোজগার করতে পারলে দেনা শোধ করার পর আমাদের দিন ঘুরে যাবে; কিন্তু এখন একদিকে পাওনাদারের টাকা পরিশোধের চাপ, পাশাপাশি দুই সন্তানের পড়ালেখা চালানো অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’
সানজিনা ইসলাম বলে, ‘পরিবারের অভাব দূর করতে অনেক কষ্টে বাবা সৌদি আরবে গিয়েও ভালো নেই। মায়ের পক্ষে আমার প্রাইভেটের টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। উপায় না পেয়ে বাবার রেখে যাওয়া ফোন দিয়ে ইউটিউব ঘাঁটাঘাঁটি করে পড়াশোনার বিষয় খোঁজ নিতাম, অনলাইনে ফ্রি ক্লাস করতাম।’ ভালো ফল করার পেছনে মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে সানজিদা আরও বলে, ‘গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা আছে; কিন্তু পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে চায় রুবাইয়া
কৃষক বাবার সম্বল বলতে সামান্য কিছু জমি। সেই জমির ফসলেই চলে সংসার। এর মধ্যেই দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হয়। অভাবের এই সংসারে বড় মেয়ে মোছা. রুবাইয়া খাতুন রাকা পড়ালেখায় ভালো ফল করে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
রুবাইয়া সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের তবারিপাড়া গ্রামের কৃষক মো. রাসেল হোসেন সরকার ও গৃহিণী মোছা. ছালমা বেগম দম্পতির মেয়ে। সে উপজেলা সদরের ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অভাবের সংসারে মেয়ের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। এ দম্পতির আরেক সন্তান রেজোয়ান সরকার ধানগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
রুবাইয়ার মা মোছা. ছালমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েটা পড়ালেখায় ছোটবেলা থেকেই ভালো। এসএসসি পরীক্ষাতেও ভালো ফল করেছে। এখন কলেজে পড়ালেখার জন্য খরচ জোগানো নিয়ে আমরা চিন্তায় পড়েছি।’
রুবাইয়ার ইচ্ছা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো পড়ালেখা করে আরেকটি জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। পড়ালেখা শেষ করে মা–বাবার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দুঃখ দূর করার চেষ্টা করবে।
রুবাইয়ার বাবা কৃষক মো. রাসেল হোসেন সরকার বলেন, সম্বল বলতে সামান্য কিছু জমি। তা চাষ করে সংসার চালানোই কঠিন। তারপর মেয়ে ও ছেলের পড়ালেখার খরচ চালানো খুবই কঠিন।
ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনাতন কুমার বলেন, ‘রুবাইয়ার মতো অদম্য মেধাবীর পাশে কোনো হৃদয়বান মানুষ সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবেন বলে আশা করি।’
প্রয়াত বাবার ইচ্ছাপূরণে সুমাইয়ার সংগ্রাম
বাবার ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কেউ একজন চিকিৎসক হবে; কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে মারা যান বাবা। এরপর অভাবের সংসারের হাল ধরেন দুই ভাই। তাঁদের টিউশনির আয়ে চলে মা ও পাঁচ ভাই-বোনের সংসার। সেই সংসারেই বেড়ে ওঠা সুমাইয়া আক্তার সুমী এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সুমাইয়া শেরপুর সদর উপজেলার হালগড়া ফটিয়ামারী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার ফটিকমারী গ্রামে। পরিবারের ৬ শতাংশ জমি ছাড়া আর কোনো আবাদি জমি নেই।
সুমাইয়ার বাবা তোফাজ্জল হোসেন পল্লিচিকিৎসক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর অসুস্থ থাকার পর সুমাইয়া যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে, তখন তিনি মারা যান। বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন মা শাহিনা বেগম। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। পরে শাহিনা বেগম তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া ওয়ারিশি জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সুমাইয়ার বড় দুই ভাই টিউশনি করে নিজেদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচও চালান। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজ বোন তাসলিমা ইয়াসমিন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন।
অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী হলেও পড়াশোনা থামেনি সুমাইয়ার। সে বলে, ‘বাবার স্বপ্ন ছিল আমাদের মধ্যে যে কেউ যেন চিকিৎসক হয়। আমি চিকিৎসক হয়ে বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই; কিন্তু আমাদের যে অবস্থা, তাতে উচ্চশিক্ষার খরচ কীভাবে চালাব, সেটিই বুঝতে পারছি না।’
সুমাইয়ার মা শাহিনা বেগম বলেন, ‘সুমাইয়া বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চায়; কিন্তু টাকার অভাবে সেই স্বপ্ন দেখতেও ভয় লাগে। মেয়ের কলেজে পড়াশোনার খরচ চালানো নিয়ে চিন্তায় আছি।’
হালগড়া ফটিয়ামারী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এ এইচ মুরাদ বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সুমাইয়া ও তার ভাই-বোনেরা কষ্ট করে পড়াশোনা করছে। সুমাইয়া অত্যন্ত মেধাবী। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকই তাকে সহযোগিতা করেছেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে সে ভালো করবে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর, প্রতিনিধি, রাজবাড়ী, শেরপুর ও রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ]
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল থেকে আকাশ ছিল মেঘলা।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিক আঘাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এদিকে ক্রমাগত এই শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশের সামাজিক জীবন চরম নির্মমতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের দিকে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গবেষক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এসব শিশু টিকে থাকার লড়াই কিংবা অপরাধী চক্রের প্ররোচনায় চুরি, ছিনতাই, ভিক্ষাবৃত্তিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে সামাজিক জীবনে মানুষকে নানামুখী হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।