যুদ্ধ শেষ হলে শুধু বন্দুক আর কামানের শব্দ থামে, কিন্তু ইতিহাসের যুদ্ধ শুরু হয় যুদ্ধ বন্ধের পর থেকে। বিজয়ীরা ঘরে ফেরে পতাকা হাতে। পরাজিতরা ঘরে ফিরে যায় নীরবতা সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু কয়েক বছর কিংবা দশক পর যখন নতুন প্রজন্ম সেই যুদ্ধের কথা জানতে চায়, তখন তাদের সামনে পড়ে একটি গল্প, একটি নির্দিষ্ট বয়ান, নির্দিষ্ট কিছু নাম, নির্দিষ্ট কিছু নায়ক এবং খলনায়ক।
একটি প্রবাদ আছে, ‘বিজয়ীরাই ইতিহাস লেখে’। এই কথাটি শুধু একটি প্রবাদ নয়, বরং এটি ইতিহাস ও ক্ষমতার পালাবদলের গল্পের কথা।
ইতিহাসের বীরত্বের কিংবা পরাজয়ের গল্পগুলো কাঁরা লেখে?
যে হাতে তরবারি থাকে, সেই হাত যখন কলমও ধরে, তখন ইতিহাসের ভাষা বদলে যেতে পারে। একটি যুদ্ধের বিজয়ী পক্ষের হাতে থাকে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের হাতে থাকে প্রশাসন, শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি নথিপত্র, সংবাদমাধ্যম এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ক্ষমতা। ফলে তারা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের বিজয়ী থাকে না, অনেক সময় তারা হয়ে ওঠে মানুষের স্মৃতিরও বিজয়ী।
কোনো রাজা যদি নিজের বিজয়কে সভ্যতার বিস্তার বলে লিখিয়ে রাখেন, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো সেটিই পড়বে। যে শহরটি রাজা জয় করেছিলেন, সেই শহরের মানুষেরা হয়তো ঘটনাটিকে বলত ‘বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ’। কিন্তু তাদের কণ্ঠ যদি হারিয়ে যায়, তাহলে ইতিহাসের পাতায় থেকে যায় শুধু বিজয়ীর ভাষা। ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম দিকগুলোর একটি এখানেই। যারা কথা বলার ক্ষমতা হারায়, অনেক সময় তারাই ইতিহাসে সবচেয়ে কম দৃশ্যমান হয়ে পড়ে।
ইতিহাসের সব গল্প কি তাহলে মিথ্যা কিংবা বানোয়াট? না। ‘বিজয়ীরা ইতিহাস লেখে’—এই কথাকে আক্ষরিক সত্য ধরে নিলে আমরা আরেকটি ভুল করব। কারণ, বিজয়ীর লেখা প্রতিটি কথা মিথ্যা নয়, যেমন পরাজিতের প্রতিটি কথা সত্য নয়। একজন বিজয়ী সেনাপতিও সত্য বলতে পারে। একজন পরাজিত রাজাও মিথ্যা বলতে পারে। ইতিহাসের সত্য কোনো পতাকার মালিকানাধীন নয়। সত্যকে খুঁজে পেতে হলে আমাদের তাকাতে হয় দলিলের দিকে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের দিকে, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণের দিকে, চিঠিপত্র, ডায়েরি, সংবাদপত্র ও অসংখ্য বিচ্ছিন্ন স্মৃতির দিকে।
একটি কণ্ঠ হয়তো পক্ষপাতদুষ্ট। কিন্তু শত শত বিচ্ছিন্ন কণ্ঠ যখন একে অপরকে ছেদ করে, তখন অতীতের একটি তুলনামূলক স্পষ্ট ছবি ধীরে ধীরে সামনে আসে। ইতিহাস কোনো একক ব্যক্তির লেখা গল্প নয়, এটি সত্যের দিকে মানুষের এক দীর্ঘ অনুসন্ধান। একটা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি, রোম জয়ের ঘটনা নিয়ে। প্রাচীন রোমের ইতিহাস পড়লে আমরা রোমের সামরিক শক্তি, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাম্রাজ্য বিস্তারের অসংখ্য গল্প পাই। কিন্তু আদিবাসী রোমে যারা পরাজিত হয়েছিল? তাদের নিজেদের কণ্ঠ কতটা আমাদের কাছে পৌঁছেছে? যে জনগোষ্ঠীর শহর ধ্বংস হয়ে গেছে, যে সংস্কৃতির লিখিত দলিল সংরক্ষিত হয়নি, যে মানুষগুলো ইতিহাস লেখার মতো ক্ষমতা বা সুযোগ কোনোটিই পায়নি, তাদের গল্প পুনর্লিখন কতটা কঠিন? এখানে বিজয়ীর ক্ষমতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে শেষ হয়নি, সে ক্ষমতা পৌঁছে গেছে ভবিষ্যতের স্মৃতিতেও।
আরেকটা উদাহরণ পর্যালোচনা করা যেতে পারে, ১৮৫৭ সালের যুদ্ধ ভারতীয় বয়ানে স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ; কিন্তু ইংরেজদের জন্য সিপাহি বিদ্রোহ। ঘটনা এক, পরিস্থিতি এক, শুধু দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। কিন্তু ১৮৫৭ সালের যুদ্ধ ছিল ইতিহাসের মারপ্যাঁচ। কারণ, ১৮৫৭ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যিটি মানুষের উদ্দেশ্য এক ছিল না। কেউ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ছিল, কেউ স্থানীয় ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিল, কেউ ধর্মীয় বা সামরিক অসন্তোষ থেকে বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল।
সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয় তারা, ইতিহাসে যাদের জোরালো কণ্ঠ নেই। ইতিহাসের বই খুললে দেখা যায় রাজা-রানির কথা, সেনাবাহিনীর দলবলের কথা, কামান–গোলার কথা; কিন্তু কোথাও লেখা থাকে না অসহায় কৃষকের কথা, স্বামীহারা স্ত্রীর কথা, পিতাহারা পুত্রের কথা। সেই শিশুটির গল্প কোথায়, যে শরণার্থী হয়ে সীমান্ত পেরিয়েছিল? সেই শ্রমিকের জায়গা কোথায়, যে কোনো সাম্রাজ্যের অর্থনীতিকে নিজের ঘামের বিনিময়ে সচল রেখেছিল? তাদের জন্য কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নেই, তাদের কোনো ছবি নেই, ইতিহাসে কোথাও তাদের বন্দনা নেই।
তবে ইতিহাসের মোড় বদলায়, সময়ের পরিক্রমায় বাস্তবতা বদলায়। যে ঘটনাকে একসময় ‘বিদ্রোহ’ বলা হয়েছিল, পরবর্তী প্রজন্ম সেটিকে ‘প্রতিরোধ’ হিসেবে দেখতে পারে। অনেক সময় বিজয়ীরা ইতিহাসের প্রথম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী বয়ানটি লেখে। কিন্তু তারা সব সময় ইতিহাসের শেষ কথাটি লিখতে পারে না। ইতিহাসের শেষ অংশটি লেখা হয় শ্রমিকের ঘামে, যুদ্ধে আহত হওয়া সৈনিককের রক্তে অথবা সন্তানহারা পিতার চোখের জলে। মাঝেমধ্যে ইতিহাস হয়তো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করতে।
সহসভাপতি, সিলেট বন্ধুসভা
* মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরে কিশোর অপরাধ দমনে অভিযান চালিয়ে তিন দিনে ৫৪৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৪৬০ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্সের যে বিমানটিতে ভারতীয় পাইলটকে তারই সহ-পাইলট ছুরিকাঘাত করেছিলেন, সেই পাইলট জানিয়েছেন, অন্যদের ভেতরে আসার সুযোগ করে দিতে ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। তিনি যাত্রীদের মরতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে তিনি এ কথা বলেছেন।