জাতীয়

জুয়া খেলার ভয়াবহ ৭ ক্ষতি

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
জুয়া খেলার ভয়াবহ ৭ ক্ষতি
জুয়া খেলার ভয়াবহ ৭ ক্ষতি

ইসলামে জুয়াকে ‘মাইসির’ ও ‘কিমার’ বলা হয়। কোনো শ্রম, ব্যবসায়িক বিনিময় বা বৈধ চুক্তি ছাড়া স্রেফ ভাগ্য কিংবা ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে অন্যের সম্পদ হস্তগত করার যেকোনো প্রক্রিয়াকে ইসলাম কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করেছে। 

প্রচলিত ক্যাসিনো, তাসের বাজি কিংবা আধুনিক প্রযুক্তির স্পোর্টস বেটিং ও অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপস—বাহ্যিক রূপ যা-ই হোক না কেন, সবই ইসলামের দৃষ্টিতে জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।

জুয়াকে মানুষের আত্মিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ এবং শয়তানের নোংরা হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি এবং ভাগ্যনির্ধারক তিরসমূহ—এসবই শয়তানের অপবিত্র ও ঘৃণ্য কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা চূড়ান্ত সফলতা লাভ করতে পারো।’ (সুরা মায়িদাহ, আয়াত: ৯০)

জুয়ার ভয়াবহ প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা পুরো পরিবার ও সমাজব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেয়। জুয়া খেলার সাতটি মারাত্মক ক্ষতি নিচে আলোচনা করা হলো:

১. পারস্পরিক শত্রুতা তৈরি

জুয়া মানুষের ভেতর এক অসুস্থ লোভ ও আক্রোশের জন্ম দেয়। পরাজিত ব্যক্তির মনে বিজয়ীর প্রতি তীব্র হিংসা, ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা তৈরি হয়; যার ফলে স্বাভাবিক ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়ে চরম সামাজিক শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এর চেয়েও বড় ক্ষতি হলো, জুয়া মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে পুরোপুরি গাফেল করে দেয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা এই মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় তুলে ধরে বলেন,

‘শয়তান তো শুধু এটাই চায় যে মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিক এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখুক। অতএব, তোমরা কি এখনো নিবৃত্ত হবে না?’ (সুরা মায়িদাহ, আয়াত: ৯১)

২. অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ

জুয়ার মূল চালিকা শক্তি হলো—অন্যকে নিঃস্ব করে নিজের পকেট ভারী করা। অর্থনৈতিক লেনদেনে কোনো বৈধ বিনিময়মূল্য, উৎপাদনশীল শ্রম বা পারস্পরিক সম্মতিপূর্ণ বৈধ ব্যবসা ছাড়া এভাবে সম্পদ কুক্ষিগত করা স্পষ্ট জুলুম।

আল্লাহ–তাআলা সতর্ক করে বলেন: ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের ধনসম্পদ গ্রাস কোরো না; তবে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসা করা বৈধ...’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)

জুয়াড়ির উপার্জিত প্রতিটি পয়সা বাতিল ও অন্যায় আয়ের অন্তর্ভুক্ত।

জুয়ার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ শতভাগ হারাম। আর শরীর যদি হারাম অর্থে গঠিত রক্ত-মাংসে পরিচালিত হয়, তবে তার কোনো আমল বা আহাজারি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না।

৩. দোয়া কবুল না হওয়া

জুয়ার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ শতভাগ হারাম। আর শরীর যদি হারাম অর্থে গঠিত রক্ত-মাংসে পরিচালিত হয়, তবে তার কোনো আমল বা আহাজারি আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না।

রাসুল (সা.) এমন এক ব্যক্তির দৃষ্টান্ত টেনেছেন, যে দূর-দূরান্তে দীর্ঘ সফর করে পরিশ্রমে ধূলিমলিন ও রুক্ষ বেশে আকাশের দিকে হাত তুলে কাতর কণ্ঠে ডাকতে থাকে, ‘হে আমার প্রতিপালক, হে আমার পালনকর্তা’ অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং সে লালিত-পালিত হয়েছে সম্পূর্ণ হারাম উপার্জনে। 

এরপর নবীজি (সা.) প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)

৪. অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব

জুয়ার লোভ মানুষকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। সাময়িক কিছু জয়ের ফাঁদে পড়ে মানুষ আরও বড় বাজি ধরে এবং একপর্যায়ে নিজের জমানো মূলধন, স্থাবর সম্পত্তি এমনকি ভিটেমাটি পর্যন্ত হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়ে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা জুয়ার এই বাস্তব ক্ষতি সম্পর্কে বলেন, ‘তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন—এ দুটোর ভেতর রয়েছে মহাপাপ; যদিও মানুষের জন্য তাতে কিছু (সাময়িক) উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু এগুলোর পাপ ও ক্ষতির দিক উপকারিতার চেয়ে বহুগুণ বড়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৯)

৫. মানসিক ভারসাম্যহীনতা

জুয়া হলো এক মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক আসক্তি। ক্রমাগত অর্থ হারানো এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে জুয়াড়ি তীব্র বিষাদ, মানসিক অস্থিরতা ও হতাশায় ভোগে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তার পরিবারে।

জুয়ার টাকার জন্য পরিবারে নিত্যদিন অশান্তি, মারধর ও দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকে; যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদ, পরিবারের অকালপতন এবং জুয়াড়ির আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

জুয়ার ঋণ শোধ করতে কিংবা পুনরায় বাজি ধরার অর্থের জোগান দিতে গিয়ে ব্যক্তি ধীরে ধীরে ভয়ংকর অপরাধের পথে পা বাড়ায়।

৬. অপরাধের বিস্তার

জুয়ার ঋণ শোধ করতে কিংবা পুনরায় বাজি ধরার অর্থের জোগান দিতে গিয়ে ব্যক্তি ধীরে ধীরে ভয়ংকর অপরাধের পথে পা বাড়ায়। ব্যক্তিপর্যায়ের মিথ্যাচার থেকে শুরু করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মতো জঘন্য অপরাধের পেছনে অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে এই জুয়ার নেশা। ফলে সমাজে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

৭. বেহেশত থেকে বঞ্চিত হওয়া

জুয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো পরকালের চিরন্তন ক্ষতি। একজন জুয়াড়ি যদি তওবা ছাড়া এই পাপে অবিচল থেকে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে আল্লাহর রহমত ও জান্নাতের প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

রাসুল (সা.) কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘চার শ্রেণির মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না—পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়াড়ি (কিমারবাজ), দান করে খোঁটা দানকারী এবং সর্বদা মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৫৬৭২)

জুয়ার আহ্বানেও কাফফারা

ইসলাম জুয়াকে কতটা সমূলে উৎপাটন করতে চেয়েছে, তা বোঝা যায় নবীজির একটি হাদিস থেকে। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে নিছক কথার ছলেও বলে, “এসো, আমরা জুয়া খেলি”, সে যেন এর কাফফারা হিসেবে দান-সদকা করে!’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০)

শুধু খেলার প্রস্তাব দেওয়ার কারণেই যদি পাপ মাফের জন্য সদকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে যে ব্যক্তি সরাসরি জুয়া খেলায় মত্ত থাকে, তার অপরাধের গভীরতা কত ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি নিছক বাজির উদ্দেশ্যে ঘুঁটি বা পাশা দিয়ে খেলার ব্যাপারে রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাশা খেলে, সে যেন তার হাতকে শূকরের গোশত ও রক্তে রঞ্জিত করল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬০)

পরিশেষে, জুয়া কোনো আধুনিক বিনোদন বা অর্থ উপার্জনের স্মার্ট পথ নয়; বরং এটি ইহকাল ও পরকালকে ধ্বংস করে দেওয়ার এক নরকীয় ফাঁদ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের প্রকাশ্য ও ডিজিটাল জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং হালাল উপার্জনের পবিত্র পথে ফিরে আসাই প্রতিটি বিশ্বাসী মানুষের আবশ্যিক কর্তব্য।

  • সাইফুল ইসলাম চৌধুরী: শিক্ষার্থী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, ঢাকা

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বড়াইগ্রামে পলিথিনের নিচে থাকা বাবা-ছেলে পেলেন নতুন ঘর
বড়াইগ্রামে পলিথিনের নিচে থাকা বাবা-ছেলে পেলেন নতুন ঘর

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের মানইর গ্রামে পলিথিনের নিচে বসবাস করা বৃদ্ধ কফিল প্রামাণিক (৭০) ও তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে আসমত প্রামাণিক (৫২) অবশেষে পেলেন মাথা গোঁজার ঠাঁই।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
গঠনমূলক সমালোচনা শুনে ভুল সংশোধনে প্রস্তুত সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

গঠনমূলক সমালোচনা শুনে ভুল সংশোধনে প্রস্তুত সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

সাতক্ষীরায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, দোকান কর্মচারী আহত

সাতক্ষীরায় ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, দোকান কর্মচারী আহত

নরসিংদীতে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

নরসিংদীতে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

ব্রাজিলে নির্বাচন: দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া
ব্রাজিলে নির্বাচন: দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। এর ঠিক আগ মূহূর্তে দেশটিতে অবস্থিত নিজের কূটনৈতিক কার্যক্রম আকস্মিকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াও দেশটিতে নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। 

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
দুর্গা পূজার আগেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ

দুর্গা পূজার আগেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিতে হবে: আসিফ মাহমুদ

স্বরূপে ফিরছে ইতালি, রুখে দিলে ফ্রান্সকে

স্বরূপে ফিরছে ইতালি, রুখে দিলে ফ্রান্সকে

আজ যেমন থাকবে আবহাওয়া

আজ যেমন থাকবে আবহাওয়া

0 Comments