মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদন দেয় এলজিইডি।
আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণে ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। ৫৪০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছ। প্রস্তাবিত জায়গায় সরকারি একটি দপ্তরের পুরোনো ভবন অপসারণ না করায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। প্রায় ১৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা না গেলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর কাছে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভবনটি জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল হওয়ায় জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রস্তাবিত স্থানে বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) স্থাপনা অপসারণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
১৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা না গেলে অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদন দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন করতে দরপত্রও আহ্বান করা হয়। তবে প্রস্তাবিত ওই জায়গায় বিআরডিবি ভবন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের তথ্যমতে, ১৯৭৮ সালের ১৩ জুলাই উপজেলা পরিষদের দেড় বিঘা জমি বরাদ্দ দেয় ভূমি প্রশাসন। এরপর ওই জায়গায় বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যালয় এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের গুদাম নির্মাণ করা হয়। উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর ওই জায়গা থেকে ভবন অপসারণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। দুটি দপ্তর নিজেদের স্থাপনা অপসারণ করতে সম্মতি জানালেও বিআরডিবির একতলা ভবনটি অপসারণ করা হচ্ছে না।
এর মধ্যেই গত ১৯ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন আবেদন করেন সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। ইউসিসিএ হচ্ছে বিআরডিবির আওতাধীন একটি তৃণমূল পর্যায়ের সমবায় সংস্থা।
রিটের বিষয়ে আওলাদ হোসেন দাবি করেন, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় প্রথমে অফিসার্স ক্লাবের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। আগের প্রস্তাবিত জায়গায় উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন হলে বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কার্যালয় ও গুদাম অপসারণ করতে হবে না। এসব বিষয় নিয়ে তিনি রিট পিটিশন আবেদন করেছেন।
সদর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলী আজম বলেন, প্রকল্পে আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণে ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিআরডিবি জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। সেই অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত জায়গায় স্থাপনা অপসারণ করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স–সংলগ্ন পূর্ব পাশে প্রস্তাবিত জায়গায় বিআরডিবির একতলা পুরোনো ভবন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের দ্বিতল ভবন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের গুদাম রয়েছে। এ দুটি দপ্তর ও গুদামের মধ্যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন প্রস্তাবিত জায়গায় পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এবং পিআইওর কার্যালয়ের গুদাম অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পত্র দেন।
এ বিষয়ে গত ৫ মার্চ বিআরডিবির মহাপরিচালক সরদার মো. কেরামত আলী মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরডিবির কোনো স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।
ইউএনও মৌসুমী নাসরিন বলেন, বিআরডিবিকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও শর্ত ছিল—জমির মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না এবং ভাড়া প্রদান করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত জায়গা উপজেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, সম্প্রতি তিনি এখানে যোগদান করেছেন। বিস্তারিত জেনে তিনি মন্তব্য করবেন।
উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত নতুন ভবন নির্মাণের স্থবিরতা সমাধানের জন্য গত ১৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে অপর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দুঃখজনক বিষয়। রিটের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এ বিষয়ে সব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এবার দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।
রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, মারা যাওয়া সবার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জামালপুরের একই গ্রামের চারজনের মৃত্যুতে এলাকার সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।