ইউক্রেনের বেশ কিছু স্কুল এখন কার্যক্রম চালাচ্ছে মাটির নিচে। স্কুলগুলোতে গেলে দেখা যাবে, বাইরে আছে শুধু খেলার মাঠ। কোনো শ্রেণিকক্ষ নেই। অন্য কোনো কার্যক্রমও নেই। তবে স্কুল চলছে। মাটির কয়েক মিটার নিচে চলছে পড়াশোনা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে স্কুলগুলো মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে তৈরি করা হয়েছে এই ব্যবস্থা। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরেই এখন এমন স্কুল কার্যক্রম চলছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণের শহর জাপোরিঝঝিয়ায় এমনই একটি স্কুল হলো সিচোভি কলেজিয়াম। স্কুলটির শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মাটির নিচের কংক্রিটের করিডর আর শ্রেণিকক্ষেই সময় কাটিয়েছে। বিরতির সময় কেউ বসেছে শক্ত কংক্রিটের দেয়ালের পাশে বেঞ্চে, কেউ দাঁড়িয়েছে বাতাস চলাচলের পাইপের কাছে। বাইরে যাওয়ার সুযোগ মেলে শুধু যখন আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বন্ধ থাকে।
ইউক্রেনে পুরোপুরি মাটির নিচে থাকা এমন স্কুলের সংখ্যা এখন ৭৪। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ কত দীর্ঘ যন্ত্রণা বয়ে এনেছে, তার একটা চিত্র যেন এটি। জাপোরিঝঝিয়া শহরটি যুদ্ধে আক্রান্ত জায়গাগুলোর সামনের দিকে। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি এখানে সব সময়ই বেশি।
শহরের বাসিন্দা ওলেক্সান্দর লাগিনের দুই ছেলে মাটির নিচের স্কুলে পড়ে। তাঁর মতে, এখন নিরাপদে পড়াশোনা করতে হলে মাটির নিচে যেতেই হবে। সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর নিরাপত্তা নিয়ে এখন কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
শুনতে বিচিত্র মনে হলেও এখন এটাই ইউক্রেনের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ। যুদ্ধের মধ্যে এসব স্কুলে পড়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করে। কারণ, ইউক্রেনের প্রায় ৩৬ লাখ স্কুলপড়ুয়া শিশুর বেশির ভাগই অনলাইনে অথবা মাটির ওপরে থাকা স্কুলে পড়াশোনা করে। আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠলে তাদের সবাইকে স্কুলের নিচের আশ্রয়কেন্দ্রে নেমে যেতে হয়। সেখানে বিভিন্ন বয়সের অনেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে জড়ো হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

জাপোরিঝঝিয়ার সিচোভি কলেজিয়ামে পড়তে আসা ১৩ বছর বয়সী দামিরেরও একই অভিজ্ঞতা। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠা দামিরকে নিয়ে তাঁর মা ইউলিয়া বারাবাশ স্কুলের মাঠে এসেছিলেন। এরপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে তাঁরা মাটির নিচের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছান।
সেদিন ছিল স্কুলের প্রথম দিন। শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী নকশা করা পোশাক পরে ফুল হাতে স্কুলে এসেছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘প্রথম ঘণ্টা’ও মাটির নিচেই হয়েছে। দামির বলেছে, স্কুলে পড়তে তার ভালো লাগে। শিক্ষকেরা খুব ভালো। এখানে সে নিরাপদ বোধ করে।
গত বছরও সে এই স্কুলে মাটির নিচে বসেই পড়াশোনা করেছে। অনেক দিন তাকে স্কুলের পুরোটা সময় মাটির নিচেই থাকতে হয়। ক্লাসের মাঝখানে বিরতি পেলে কখনো কখনো বাইরে গিয়ে একটু খোলা বাতাস নেওয়ার সুযোগ মেলে। কিন্তু সাইরেন বেজে উঠলেই আবার দ্রুত নিচে ফিরে আসতে হয়। শারীরিক শিক্ষার ক্লাসে দামির ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। তবে আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেতের কারণে খেলা মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেলে তার মন খারাপ হয়।
দামিরের মা ইউলিয়া অবশ্য ছেলের এই স্কুল নিয়ে খুবই খুশি। সকালে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে যাওয়ার পর সারা দিন তিনি অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধের মধ্যে মাটির নিচের এই স্কুলই ছেলের জন্য অনেক নিরাপদ।
জাপোরিঝঝিয়ায় ইউরোপীয় অর্থায়নে ১০টি মাটির নিচের স্কুল তৈরি করা হয়েছে। পুরো অঞ্চলে এমন স্কুলের সংখ্যা ২২। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের তুলনায় জাপোরিঝঝিয়া অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। তবু এসব স্কুল শিশুদের নিরাপদে ক্লাস করার জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো।

কিয়েভে কিছুদিন আগে এক শুক্রবারে আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত মোট ১৫৮ মিনিট ধরে চালু ছিল। মানে ছয়টি ক্লাসের মধ্যে প্রায় চারটি ক্লাসই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক দিন ধরে শহরটিতে ড্রোন হামলাও চলছিল। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এমনকি শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানও সতর্কসংকেতের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
ইউক্রেনের অন্য শহরগুলোতেও স্কুলের জন্য মাটির নিচের জায়গা ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে স্কুল তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার সিনেমা হল, হাসপাতাল, শিশুদের দেখাশোনার কেন্দ্র, পানি সরবরাহের পাম্প স্টেশন বা প্রাকৃতিক গ্যাসের অবকাঠামোর মতো জায়গাকে স্কুলে রূপ দেওয়া হয়েছে।
সিচোভি কলেজিয়ামের মাটির নিচের স্কুলটি অনেকটা বাংকারের মতো। সেখানে আধুনিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা আছে, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাব থেকেও বাতাসকে পরিশোধন করতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলে চালু রাখার জন্য আছে ডিজেলচালিত বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থাও।
তবে শুধু নিরাপদ জায়গা তৈরি করলেই তো যুদ্ধের ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায় না। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের শিশুদের পড়াশোনাতেও প্রভাব পড়েছে। দেশটির শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দক্ষতা নির্ধারণী পরীক্ষার ফল খারাপ হয়েছে। দেখা গেছে, যুদ্ধের কারণে শিশুদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগের সঙ্গে পরীক্ষার ফল কমে যাওয়ার সম্পর্ক আছে।
ইউক্রেনে মোট ১১ হাজার ৯৪০টি স্কুল আছে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার স্কুলে শুধু অনলাইনে পড়ানো হয়। বেশির ভাগ স্কুলেই অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের পড়াশোনা চালু আছে। এমনকি রাশিয়ার দখলে থাকা কিছু এলাকাতেও গোপনে অনলাইনের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় শিশুদের পড়ানো হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, ইউক্রেনের কোনো স্কুলে সরাসরি ক্লাস নিতে হলে সেখানে সহজে পৌঁছানো যায় এমন আশ্রয়কেন্দ্র থাকতে হবে। সাধারণত এগুলো হলো স্কুলের নিচের বেজমেন্ট। সেখানে বোমা থেকে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলেও ক্লাস নেওয়ার মতো পরিবেশ থাকে না। তাই কোথাও কোথাও বেজমেন্টেই শ্রেণিকক্ষ তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে।

সিচোভি কলেজিয়ামের প্রধান শিক্ষক হালিনা ভলকোভা মনে করেন, শিক্ষার সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফল দিয়ে বিচার করা যায় না। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, দেশপ্রেম ও সামগ্রিক বিকাশও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ, ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় হয়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।
স্কুলের করিডরে যুদ্ধের আরেকটি চিহ্ন আছে। সেখানে স্কুলের সাবেক চার শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষকের স্মরণে একটি স্মৃতিফলক রাখা হয়েছে। তাঁরা যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে মারা গেছেন। স্মৃতিফলকের পাশে ছিল ফুল।
মাটির নিচে স্কুলে পড়া শিক্ষার্থীদের কাছে মাটির নিচের জায়গাটি শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, এটি তাদের নিরাপদ থাকার জায়গা। ১৪ বছর বয়সী মারিয়া গুচকোভা স্কুলে পড়তে পছন্দ করে। তবে যুদ্ধের কারণে বাইরে যেতে না পারায় তার খারাপ লাগে।
তবু যুদ্ধের মধ্যেও স্কুলটি স্বাভাবিক জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। শিশুরা মাটির নিচে ফুটবল খেলে, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, ক্লাস করে। কখনো সুযোগ পেলে বাইরে বের হয়ে একটু আলো-বাতাসও গায়ে মাখে। কিন্তু আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠলেই আবার তাদের ফিরতে হয় মাটির নিচে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, ভুটভুটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। গাড়িটিতে চারটি গরু ছিল। যাত্রীদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। বাকিদের চিকিৎসা চলছে।
জাপানে বসবাস ও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার খরচ রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ক্রমবর্ধমান বিদেশি অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালায় কড়াকড়ি আনতে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের নতুন নেওয়া সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই ফি বাড়ানো হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করতে নিবন্ধন ফরম ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।