ভুট্টোকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়েছিল ‘এস্টাবলিশমেন্ট’। ইমরানও অনুরূপ পরিণতির পথে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আলতাফ পারভেজ
ইমরান খানের মতো জুলফিকার আলী ভুট্টোও একসময় পাকিস্তানের সামরিক আমলাতন্ত্রের প্রিয়ভাজন ছিলেন। ভুট্টো সমস্যায় পড়েন, যখন পারমাণবিক বোমা নিয়ে কিসিঞ্জারের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। পার্শ্বফল হিসেবে ১৯৭৭ সালের জুলাইয়ে প্রথমে ক্ষমতাচ্যুত এবং কিছুদিন পর বন্দী হন। সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টা আগেও জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন ভুট্টো। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও বুঝতে পারেননি সামনে কী ঘটতে চলেছে।
১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভুট্টোকে আটক করা হয়। পরের ঘটনাবলি বিশ্ব জানে। ১৯৭৮ সালের মার্চে ফাঁসির আদেশ হয়। পরের বছরের ২৪ মার্চ সেই আদেশ উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। তারপরের মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডি কারাগারে সেটা কার্যকর হয়। দুঃশাসকদের ইতিহাসভীতি থাকে। জেনারেল জিয়া ১৯৮৮ সালে রাওয়ালপিন্ডির ওই কারাগারও ভেঙে ফেলেন। সেখানে বানানো হয় এখনকার ‘জিন্নাহ পার্ক’।
রাজনীতিবিদদের অতি জনপ্রিয়তা পাকিস্তানে সেনা-আমলাতন্ত্রের পছন্দ নয়। তাতে নীতিগত অনেক সিদ্ধান্তে তাঁদের পুরোনো একাধিপত্য বাধা পড়ে।
সামরিক আমলাতন্ত্র, ভুট্টো ও শরিফ বংশ মিলে একটা শক্তিশালী ত্রিভুজ তৈরি হয় এবং তাতে ওয়াশিংটনের শুভকামনা থাকায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে সেটা।
আদালতে ভুট্টোর ফাঁসির রায়ের পরও সাধারণ পাকিস্তানিরা মনে করত এটা বদলাবে। ভুট্টোও এ রকম কিছু বিশ্বাস করতেন। তবে ফাঁসির আগেই প্রিয়ভাজন জেনারেলের নির্মমতা দেখেছেন তিনি। আটক ও ফাঁসির মাঝের সময়টিতে কারাগারে তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছিল ভুট্টোকে। মাসের পর মাস আলো-বাতাসহীন একটা কক্ষে রাখা হয়। খাবারে কাচের গুঁড়া মিশিয়ে দেওয়া হতো, যাতে মুখে ক্ষত তৈরি হয়। এভাবে ফাঁসির আগেই আধমরা হয়ে যান তিনি। মারাত্মকভাবে ওজন কমে যায়। চিকিৎসাসুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। পাশাপাশি চলছিল পিপলস পার্টির কর্মী-সংগঠকদের ওপর নির্যাতন।
অনেকটা অনুরূপ ইতিহাসের দেখা মিলছে এখন ইমরানের বেলায়। দেশটির তরুণ-তরুণীরা একসময় তাঁর নেতৃত্বে ‘হাকিকি আজাদি’র (প্রকৃত স্বাধীনতা) স্বপ্ন দেখত। কিন্তু সামরিক আমলাতন্ত্র তখন শরিফ ও ভুট্টো বংশকে কোণঠাসা করতে তাঁকে কাজে লাগানোর কৌশল নেয়। এখন ওই দুই বংশকে দিয়েই নিশ্চিত করা হচ্ছে তাঁর কারাভোগ ও নিপীড়ন।

প্রতিহিংসার শিকার ইমরান
রাওয়ালপিন্ডিতে পুরোনো যে জেলা কারাগারে ভুট্টোর ফাঁসি হয়, সেখান থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে ১৯৮৬ সালে নতুন একটা কারাগার বানানো হয়। সেখানেই এখন আছেন ইমরান। স্থানীয় লোকজন এটাকে ‘আদিয়ালা জেল’ বলে। এখানেই গত আগস্টে ইমরান খানের বন্দিত্বের তিন বছর পূর্ণ হলো।
রাজনীতিবিদদের জন্য কারাজীবন অভিনব নয়। তবে ইমরানের বেলায় উদ্বেগের কারণ স্বাস্থ্যের অবনতি। পাকিস্তানে অনেকের ধারণা, তিনি ইতিমধ্যে অন্তত একটা চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে চলেছেন। বিচার বিভাগের নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁকে চিকিৎসা নিতেও দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইমরানের সুচিকিৎসার দাবিতে খ্যাতিমান ক্রিকেটাররা নজিরবিহীন এক বিবৃতি দিয়েছেন সম্প্রতি। তাও পরিস্থিতির হেরফের হয়নি।
এ পর্যন্ত ইমরানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। মাঝেমধ্যে এসব মামলার কোনো কোনোটিতে সাজা হচ্ছে। সেসব সাজা উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিত বা বাতিল হচ্ছে, কিন্তু ছাড়া পাচ্ছেন না পাকিস্তানিদের প্রিয় ‘ক্যাপ্টেন খান’। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সুনির্দিষ্ট প্রতিহিংসার মুখে তিনি। মামলা ও বন্দিত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়নি তাঁর স্ত্রীকেও।

জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের ‘দুর্ভাগ্যে’র নানা দিক
রাজনীতিবিদদের অতি জনপ্রিয়তা পাকিস্তানে সেনা-আমলাতন্ত্রের পছন্দ নয়। তাতে নীতিগত অনেক সিদ্ধান্তে তাঁদের পুরোনো একাধিপত্য বাধা পড়ে। তবে সেনা-আমলাতন্ত্র এককভাবে এ রকম রাজনীতিবিদদের লাগাম টেনে ধরতে পারে না, যদি বহির্বিশ্বের মদদ না থাকে। ভুট্টোর সময় জেনারেল জিয়া যেভাবে সেই সহায়তা পান, ইমরানের বেলাতেও তেমনটা ঘটেছে। এ রকম পুনরাবৃত্তি বেশ বিস্ময়কর। বেদনাবিধুরও বটে।
পারমাণবিক বোমার প্রযুক্তি আয়ত্ত করা নিয়ে ১৯৭৬-৭৭ সালে হেনরি কিসিঞ্জারের অপছন্দনীয় হয়ে উঠলেও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তরুণ ভুট্টোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুদ্ধের মধ্যে ১১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে ভুট্টোর সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণা করে কিসিঞ্জার স্মৃতিকথায় (হোয়াইট হাউস ইয়ার্স) লিখেছেন, ‘ভুট্টো ছিল মার্জিত, বাক্পটু ও সূক্ষ্ম বুদ্ধির...আমি তাকে দেখেছি মেধাবী ও আনন্দদায়ক হিসেবে। তার ধারণাগুলো ছিল বিশ্বমানের...সহজে বোকা বনে যাওয়ার লোক সে ছিল না।’
হ্যাঁ, কিসিঞ্জারই ভুট্টোকে বোকা বানিয়েছিলেন।
ভুট্টোকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে থামাতে ১৯৭৬ সালের আগস্টে পাকিস্তানে আসেন কিসিঞ্জার এবং অসন্তুষ্ট চিত্তে ফেরেন। লাহোর গভর্নর হাউসে ১০ আগস্ট তাঁদের বৈঠক হয়। সেখানে কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘এই কর্মসূচি ত্যাগ না করলে ভয়ংকর উদাহরণ (হরিবল এক্সামপল) অপেক্ষা করছে।’
কিসিঞ্জারের এই সফরের কয়েক মাস পরই ভুট্টো ক্ষমতাচ্যুত হন। মাঝের সময়টিতে ভুট্টোবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশ দ্রুততার সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে দেখা যায়। আহলে সুন্নত নামের প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠনটিকে দেখা যায় এই মর্মে ফতোয়া দিতে—ভুট্টোবিরোধী আন্দোলনে যারা গুলিতে মরছে, তারা সবাই শহীদ। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শরিয়াহ আইন চালুর দাবি উঠতে শুরু করে। সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলন হঠাৎই ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়। জিয়া-উল-হক দ্রুত পরিস্থিতির সুযোগ নেন।
রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের দিনই যুক্তরাষ্ট্র একে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিক্রিয়া জানায়। নতুন শাসক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে বিজয়ীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ১১ বছর ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। তার মধ্যে ওই নির্বাচন হয়নি।
১৯৭৯ সালের শুরুতে ইরানে শাহর পতন এবং একই বছরের শেষের দিকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আর্মির প্রবেশ পাকিস্তানে জিয়ার গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছিল ওয়াশিংটনের কাছে। ‘ইসলাম কায়েমে’ নতুন শাসক জামায়াত-ই-ইসলামি ও মাওলানা মওদুদির মতো প্রভাবশালী শক্তিগুলো থেকে সহযোগিতা পেতে শুরু করেন। এতে জেনারেলের জনবিচ্ছিন্নতা কাটে।
আফগানিস্তানে রুশদের মোকাবিলায় ‘প্রতিরক্ষাব্যূহ’ হিসেবে জেনারেল জিয়া-উল-হককে রক্ষা এবং দেশটিতে ধর্মীয় রাজনীতির প্রসার—দুটিই তখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি ছিল। ১৯৭৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনী ঢোকার চার দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার জেনারেল জিয়াকে ফোন করে ‘একসঙ্গে কাজ করা’র বিষয় নিশ্চিত করেন। কার্টারের পর রিগ্যান এলে সেটা আরও ঘনিষ্ঠতা পায়।
ট্র্যাজেডি ২.০
ক্ষমতায় আসার আগে আফগান তালেবানের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন ইমরান। সামরিক আমলাতন্ত্রের স্বার্থের সঙ্গে সেটা মানানসই ছিল। ২০২১ সালে তালেবানের দ্বারা ন্যাটোর বিতাড়িত হওয়ার সময় তাঁর সরকারকে বেশ উল্লসিতও মনে হচ্ছিল।
এ সময়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান। ২০২১ সালের শেষার্ধে দেশটির বহুল আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মুখ্য পদে নিয়োগে নিজের পছন্দ চাপিয়ে দিতে যান। এতে সেনা আমলাতন্ত্রের বিরাগভাজন হন তিনি। এ সময় থেকে ক্যাপ্টেন খানের বড় কোনো ‘ভুলে’র অপেক্ষা করতে শুরু করে তারা, যাতে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মুরব্বিদেরও সহায়তা মেলে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে সে সুযোগ মিলে যায়। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বাদানুবাদের মধ্যে বিদেশনীতিতে হঠাৎই ‘স্বাধীন’ হয়ে উঠতে চাইলেন ইমরান। কিন্তু সিদ্ধান্তটি নেন ভুল সময়ে। ২৩ বছর পর যা–ও কোনো পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী মস্কো গেলেন, সেটা ঘটল ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিন! পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীর এ রকম দিনে মস্কো সফর ওয়াশিংটনের কাছে ঔদ্ধত্যস্বরূপ ছিল। দেশটির সেনা আমলাতন্ত্র এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিলম্ব করেনি। বহুকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য-সহযোগিতায় তাদের কাঠামোগত বিকাশ ঘটেছে। উভয়ের কৌশলগত স্বার্থের কাছে বলি হয়ে যান ইমরান।
পরবর্তী ঘটনাবলি ঘটেছে সামান্য নতুনত্বসহ ভুট্টোর ঘটনার আদলে। ভুট্টোর সময় বিরোধী দলগুলোকে মাঠে একজোট হতে দেখা গিয়েছিল। ইমরানের বেলায় ২০২২ সালের এপ্রিলে বিরোধীরা জোট বাঁধে পার্লামেন্টে। অনাস্থা ভোটে পরাস্ত হয় পিটিআই। ‘ফাস্ট বোলারসুলভ’ মেজাজে ইমরান এ সময় অনাস্থা প্রস্তাবের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনের অভিযোগ তোলেন।
পাশাপাশি ইমরানের দল এ সময় তাদের রাজনৈতিক পতিত দশার ইন্ধনদাতা হিসেবে প্রকাশ্যে জেনারেলদের নাম উল্লেখ করতে থাকে। শরিফ ও ভুট্টো পরিবার পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক বার্তা বুঝতে ভুল করেনি। ঐতিহাসিক রেষারেষি ভুলে হাত মেলায় তারা। সামরিক আমলাতন্ত্র, ভুট্টো ও শরিফ বংশ মিলে একটা শক্তিশালী ত্রিভুজ তৈরি হয় এবং তাতে ওয়াশিংটনের শুভকামনা থাকায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে সেটা।
প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইমরান খান কেবল ক্ষমতাচ্যুতই নন, তাঁর দলকেও ছিন্নভিন্ন করে ফেলা গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও ক্ষমতা দেওয়া হয়নি তাদের। তাঁর মুক্তিও অনিশ্চিত এবং জীবনহানির শঙ্কাও একদম অমূলক নয়। অনেক ভাষ্যকার তখনকার এবং এখনকার সামরিক আমলাতন্ত্রের তুলনা করে এ–ও বলেন, পাকিস্তানের ইতিহাসের এই অধ্যায় জিয়া-উল-হক আমলের মতো দীর্ঘায়িত হতে পারে।
জিয়াউল হক ও আসিম মুনিরের মধ্যে অনেক মিল আছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের ব্যাপারে উভয়ে আক্রমণাত্মক। উভয়ে যুক্তরাষ্ট্রবান্ধব। জিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের বিশেষ সুসম্পর্ক ছিল। একই ধরনের ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের। রিগ্যান ও ট্রাম্প উভয়ে রিপাবলিকান পার্টির অতি দক্ষিণপন্থী অংশের নেতা। গাজার গণহত্যা ও ইরানে নির্মম অবরোধের মধ্যেই গত বছরের জুনে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ করেন আসিম মুনির। এই দুজনের ঘনিষ্ঠতার সরাসরি ছাপ পড়ছে পাকিস্তানের সমকালীন রাজনীতি ও বিদেশনীতিতে।
‘হাকিকি আজাদি’র বাসনায়
আসিম মুনির ট্রাম্পের জন্য শান্তি পুরস্কারের প্রত্যাশায় থাকলেও তাঁর দেশে রাজনৈতিক ও জাতিগত অশান্তি বেশ তীব্র এখন। পিটিআইয়ের পুরোনো নেতারা অধিকাংশ কারাগারে বা ভয়ে নিষ্ক্রিয়। এর মধ্যেই দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের ডাক দিয়েছে।
মূল নেতাদের অনুপস্থিতিতে দলটির ঘোষিত এই রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিভ্রান্তিও আছে। বিভিন্ন প্রদেশের সংগঠকদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতায় সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। নতুন অনেক নেতাকে ঘিরে আস্থাহীনতাও আছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা-প্রভাবে এ রকম ঘটছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। পিটিআই ইমরানের জনপ্রিয়তা এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশাকে পুঁজি করে ক্ষমতায় গেলেও দল হিসেবে সুসংগঠিত নয়। সরকারের নিপীড়নে পুরোনো সাংগঠনিক কাঠামোও তছনছ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে না পারলে ইমরান খানকে আরও অনির্দিষ্ট সময় কারাগারেই কাটাতে হবে। তবে মানুষ আপাতত কোণঠাসা অবস্থায় শান্ত থাকলেও ইমরান খানের প্রতি সামাজিক সহানুভূতি বাড়ছে। ফল হিসেবে সামাজিক-রাজনৈতিক ফাটলও বাড়ছে।
পাকিস্তানের অনেকে এ–ও মনে করেন, ইমরানের প্রতি জনতার সহানুভূতির পুরোটা পিটিআইয়ের প্রতি সমর্থন আকারে দেখলে ভুল হবে। এটা আসলে ‘হাকিকি আজাদি’র আকুতি। স্বাধীনতার ৭৯ বছর হয়ে গেলেও নাগরিক সমাজ এখানে মুক্ত নয় আজও। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গ্রেপ্তারের আগে ইমরানও বারবার হাকিকি আজাদির কথা বলতেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে হয়তো তিনি বুঝতে পারেননি সামরিক আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যোগসাজশে সরকার পাল্টানো গেলেও ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’র লড়াই সম্ভব নয়; তবে এখন তাঁর মুক্তি আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হয়ে উঠছে এই শব্দ দুটি।
দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে ‘এস্টাবলিশমেন্টে’র কাছে হাকিকি আজাদি’র অর্থ বেশ অস্বস্তিকর। পাকিস্তানেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
● আলতাফ পারভেজ ইতিহাস বিষয়ে গবেষক
*মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হানিট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।